শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জ্বালানির উত্তাপ সর্বত্র ল্যবৃদ্ধির প্রভাব এখন দেশজুড়ে


সিলেট এডিশন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০২:২০ পিএম

জ্বালানির উত্তাপ সর্বত্র ল্যবৃদ্ধির প্রভাব এখন দেশজুড়ে
জ্বালানি তেলের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব এখন দেশজুড়ে, যা স্পষ্টভাবে পড়ছে মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। সর্বত্রই এখন জ্বালানির উত্তাপ। গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধি, উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়া, লোডশেডিং এবং সরবরাহব্যবস্থায় চাপ তৈরি হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ থেকে ব্যবসায়ী সবাই। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যও এখন ঊর্ধ্বমুখী। অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা করছেন, জ্বালানির বাড়তি দামের চাপ পড়বে শিল্পকারখানা থেকে শুরু করে বাসাবাড়ি পর্যন্ত। পরিবহন ভাড়ার পাশাপাশি ধাপে ধাপে শিল্প ও কৃষি উৎপাদন, নির্মাণ ও সেবা সরবরাহব্যবস্থায় ব্যয় বাড়িয়ে দেবে। আর সবটাই শেষ পর্যন্ত যাবে ক্রেতা-ভোক্তার পকেট থেকে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানি খরচ বৃদ্ধির সঙ্গে মূল্যস্ফীতির একটা সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি উৎপাদন ও সরবরাহ চেইনের প্রতিটি স্তরে খরচ বাড়ায়, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তাপর্যায়ে গিয়ে পড়বে। গ্রামাঞ্চলেও এর প্রভাব কম নয়। সেচ ও কৃষিকাজে ব্যবহৃত ডিজেলের দাম বাড়ায় উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। ফলে কৃষকের লাভ কমে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে খাদ্যপণ্যের বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘জ্বালানির সংকট যতদিন চলবে ততদিন আমরা কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে যাব। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি করা ছাড়া সরকারের কোনো পথ খোলা ছিল না। তেলের দাম বাড়ানোয় এর প্রভাব এখন সব জায়গায় পড়বে।’ তিনি আরও বলেন, ‘জ্বালানির দাম বাড়া মানে শুধু একটি খাতে চাপ তৈরি হওয়া নয়, এটি পুরো অর্থনীতিতে শৃঙ্খল প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। উৎপাদন, পরিবহন, সরবরাহ সকল পর্যায়ে খরচ বেড়ে যায়; যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ওপরই পড়ে।
এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, পণ্য পরিবহনের খরচ বাড়ায় ব্যবসায়ীরা বাড়তি দামে পণ্য বিক্রি করছেন। বিশেষ করে সবজি, মাছ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যে এর প্রভাব বেশি। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, জ্বালানির দাম বাড়ার কারণে ট্রাক ও পিকআপ ভাড়া বেড়েছে। ফলে কম দামে পণ্য বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। গতকাল মিরপুর-১১ ও মিরপুর-৬ কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, পটোল, ঢ্যাঁড়শ ৬০-৮০, শিম ও শজিনা ৮০-১২০, ঝিঙ্গা, করলা, বরবটি ৮০-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁকরোল বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৩০ টাকায়। কাঁচা মরিচ ৮০-১০০, টম্যাটো ৫০, পেঁপে ৬০-৮০, মিষ্টিকুমড়া ৪০-৫০ ও বেগুন ৭০-৮০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। আলু ২০-২৫, পিঁয়াজ ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি সাইজের লাউ প্রতি পিস ৮০-১০০ টাকা। ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৭০-১৮০, সোনালি মুরগি ৩৫০-৩৬০ টাকা।জ্বালানির উত্তাপ মহাসড়কে : তেলের দামের সঙ্গে সমন্বয় করে বৃহস্পতিবার সড়ক, রেল ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় আন্তজেলা বাসে প্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ১২ পয়সা থেকে ১১ পয়সা বাড়িয়ে ২ টাকা ২৩ পয়সা করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। কিন্তু সরেজমিন গাবতলী বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। তেলের দাম বেড়েছে বলে যাত্রীদের থেকে প্রতি টিকিটে ১৫০-২০০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন পরিবহনের কর্মী সেজে একটি চক্র এ বাড়তি টাকাটা নিচ্ছে। এতে যাত্রীদের যাতায়াত খরচ বাড়ছে।গাবতলী বাস টার্মিনালের সামনে মো. আলতাফ হোসেন বলেন, ‘গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহে যেতে আগে ৫০০ টাকা লাগত, এখন ৭৫০ টাকা নিচ্ছে। দরকষাকষি করে ৬৫০ টাকায় ঈগল পরিবহনের টিকিট কাটলাম।’ এ ব্যাপারে যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘বাসভাড়ার তালিকা তৈরি করে আঞ্চলিক পরিবহন সমিতি। আঞ্চলিক পরিবহন সমিতি থাকে পরিবহন মালিক সমিতির আওতায়। কিলোমিটার বা ভাড়ার রেট নিয়ে টেম্পারিং হচ্ছে কি না দেখার জন্য কোনো মনিটরিং টিম নেই। হলেও এসব মনিটরিং টিমও থাকে মালিক সমিতির আওতায়। আমাদের নিয়ে তালিকা তৈরি, সেবার মান এবং মনিটরিংয়ের জন্য টিম গঠন করলে একসঙ্গে সমস্যা সমাধানে কাজ করতে পারতাম।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাসভাড়া বাড়ালেও সেবার মানে পরিবর্তন আসে না। যাত্রীদের প্রতিনিধি ছাড়াই সরকার শুধু মালিক সমিতি নিয়ে আলোচনা করে। পুরাতন লক্কড়ঝক্কড় বাস রং করে নতুন হিসেবে দেখানো হয়। এসব বাসের মেয়াদ ১০ বছর হলেও ২০-২৫ বছর রাস্তায় থাকে। এসব নিয়ে বলার জন্য সরকার আমাদের সুযোগও দিচ্ছে না।’ রাজধানীর ভিতরে চলাচল করা লোকাল বাসেও বাড়তি ভাড়া আদায় করতে দেখা যায়। মিরপুর-১০ থেকে গাবতলী যেতে ‘রাজধানী’ বাসে যাত্রীদের দিতে হচ্ছে ৩০ টাকা। যাত্রীদের থেকে ১০ টাকা করে বেশি ভাড়া নিচ্ছে। আবার মিরপুর-১০ থেকে কুড়িল চৌরাস্তা পর্যন্ত ভাড়া ২০ টাকা হলেও আদায় করা হচ্ছে ৩০ টাকা। সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন
 

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: /৫ ( ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

নগরীতে বাস্তবায়ন হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

নগরীতে বাস্তবায়ন হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

মহানগরীর মোগলাবাজার থানাধীন খালেরমুখ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১০ হাজার ইয়াবাসহ ৩জন গ্রেফতার

মহানগরীর মোগলাবাজার থানাধীন খালেরমুখ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১০ হাজার ইয়াবাসহ ৩জন গ্রেফতার

শাল্লার কান্দিগাঁও গ্রামের ঐতিহ্যবাহ নৌকা বাইচ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন এমপি নাছির উদ্দিন চৌধুরী

শাল্লার কান্দিগাঁও গ্রামের ঐতিহ্যবাহ নৌকা বাইচ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন এমপি নাছির উদ্দিন চৌধুরী

ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুই সেনাসদস্য নিহত

ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুই সেনাসদস্য নিহত

তালাশ টেলিভিশনে নারীকে শিকল পড়িয়ে হাটিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর তোলপাড়: কিশোরীকে নির্যাতনের ঘটনায় আটক ৩

তালাশ টেলিভিশনে নারীকে শিকল পড়িয়ে হাটিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর তোলপাড়: কিশোরীকে নির্যাতনের ঘটনায় আটক ৩

ওয়েস্ট ওয়ার্ল্ড শপিং সেন্টারে অগ্নিকাণ্ডস্থল পরিদর্শনে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ

ওয়েস্ট ওয়ার্ল্ড শপিং সেন্টারে অগ্নিকাণ্ডস্থল পরিদর্শনে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ

ইসিএ এলাকায় তাণ্ডবের বিরুদ্ধে অভিযান, ধ্বংস ১০ ড্রেজার ও ৬ এক্সকেভেটর

ইসিএ এলাকায় তাণ্ডবের বিরুদ্ধে অভিযান, ধ্বংস ১০ ড্রেজার ও ৬ এক্সকেভেটর

২১৭ কোটি টাকার রেল প্রকল্পে ধীরগতি, মেয়াদ শেষেও বাকি ৭৫ শতাংশ কাজ

২১৭ কোটি টাকার রেল প্রকল্পে ধীরগতি, মেয়াদ শেষেও বাকি ৭৫ শতাংশ কাজ

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান: শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে সেবা চালু

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান: শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে সেবা চালু

কনজিউমার রাইটস বাংলাদেশ-সিআরবি' সিলেট বিভাগীয় শাখার কার্যনির্বাহী কমিটির শপথ গ্রহণ

কনজিউমার রাইটস বাংলাদেশ-সিআরবি' সিলেট বিভাগীয় শাখার কার্যনির্বাহী কমিটির শপথ গ্রহণ

নগরীতে বাস্তবায়ন হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

নগরীতে বাস্তবায়ন হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

মহানগরীর মোগলাবাজার থানাধীন খালেরমুখ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১০ হাজার ইয়াবাসহ ৩জন গ্রেফতার

মহানগরীর মোগলাবাজার থানাধীন খালেরমুখ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১০ হাজার ইয়াবাসহ ৩জন গ্রেফতার

১৫ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতির সিলেট সফর, প্রস্তুতিমূলক সভায় মন্ত্রীর নির্দেশনা

১৫ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতির সিলেট সফর, প্রস্তুতিমূলক সভায় মন্ত্রীর নির্দেশনা

ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুই সেনাসদস্য নিহত

ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুই সেনাসদস্য নিহত

তালাশ টেলিভিশনে নারীকে শিকল পড়িয়ে হাটিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর তোলপাড়: কিশোরীকে নির্যাতনের ঘটনায় আটক ৩

তালাশ টেলিভিশনে নারীকে শিকল পড়িয়ে হাটিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর তোলপাড়: কিশোরীকে নির্যাতনের ঘটনায় আটক ৩

ইসিএ এলাকায় তাণ্ডবের বিরুদ্ধে অভিযান, ধ্বংস ১০ ড্রেজার ও ৬ এক্সকেভেটর

ইসিএ এলাকায় তাণ্ডবের বিরুদ্ধে অভিযান, ধ্বংস ১০ ড্রেজার ও ৬ এক্সকেভেটর

ভ্যান সরানো নিয়ে কথা-কাটাকাটি, পরে যুবককে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ

ভ্যান সরানো নিয়ে কথা-কাটাকাটি, পরে যুবককে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ

খাদিমনগরে সরকারি খাস জমিতে অ্যালুমিনিয়াম কারখানা স্থাপনের অভিযোগ

খাদিমনগরে সরকারি খাস জমিতে অ্যালুমিনিয়াম কারখানা স্থাপনের অভিযোগ

খাদিমনগরে খাস জমি দখলের অভিযোগ, পাহাড় কেটে গড়ে উঠছে প্লট

খাদিমনগরে খাস জমি দখলের অভিযোগ, পাহাড় কেটে গড়ে উঠছে প্লট

সিলেট সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৩৬ লাখ টাকার চোরাচালানি মালামাল জব্দ!

সিলেট সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৩৬ লাখ টাকার চোরাচালানি মালামাল জব্দ!

সিলেট এডিশন

শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


জ্বালানির উত্তাপ সর্বত্র ল্যবৃদ্ধির প্রভাব এখন দেশজুড়ে

প্রকাশের তারিখ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬

featured Image
জ্বালানি তেলের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব এখন দেশজুড়ে, যা স্পষ্টভাবে পড়ছে মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। সর্বত্রই এখন জ্বালানির উত্তাপ। গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধি, উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়া, লোডশেডিং এবং সরবরাহব্যবস্থায় চাপ তৈরি হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ থেকে ব্যবসায়ী সবাই। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যও এখন ঊর্ধ্বমুখী। অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা করছেন, জ্বালানির বাড়তি দামের চাপ পড়বে শিল্পকারখানা থেকে শুরু করে বাসাবাড়ি পর্যন্ত। পরিবহন ভাড়ার পাশাপাশি ধাপে ধাপে শিল্প ও কৃষি উৎপাদন, নির্মাণ ও সেবা সরবরাহব্যবস্থায় ব্যয় বাড়িয়ে দেবে। আর সবটাই শেষ পর্যন্ত যাবে ক্রেতা-ভোক্তার পকেট থেকে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানি খরচ বৃদ্ধির সঙ্গে মূল্যস্ফীতির একটা সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি উৎপাদন ও সরবরাহ চেইনের প্রতিটি স্তরে খরচ বাড়ায়, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তাপর্যায়ে গিয়ে পড়বে। গ্রামাঞ্চলেও এর প্রভাব কম নয়। সেচ ও কৃষিকাজে ব্যবহৃত ডিজেলের দাম বাড়ায় উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। ফলে কৃষকের লাভ কমে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে খাদ্যপণ্যের বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘জ্বালানির সংকট যতদিন চলবে ততদিন আমরা কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে যাব। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি করা ছাড়া সরকারের কোনো পথ খোলা ছিল না। তেলের দাম বাড়ানোয় এর প্রভাব এখন সব জায়গায় পড়বে।’ তিনি আরও বলেন, ‘জ্বালানির দাম বাড়া মানে শুধু একটি খাতে চাপ তৈরি হওয়া নয়, এটি পুরো অর্থনীতিতে শৃঙ্খল প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। উৎপাদন, পরিবহন, সরবরাহ সকল পর্যায়ে খরচ বেড়ে যায়; যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ওপরই পড়ে।
এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, পণ্য পরিবহনের খরচ বাড়ায় ব্যবসায়ীরা বাড়তি দামে পণ্য বিক্রি করছেন। বিশেষ করে সবজি, মাছ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যে এর প্রভাব বেশি। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, জ্বালানির দাম বাড়ার কারণে ট্রাক ও পিকআপ ভাড়া বেড়েছে। ফলে কম দামে পণ্য বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। গতকাল মিরপুর-১১ ও মিরপুর-৬ কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, পটোল, ঢ্যাঁড়শ ৬০-৮০, শিম ও শজিনা ৮০-১২০, ঝিঙ্গা, করলা, বরবটি ৮০-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁকরোল বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৩০ টাকায়। কাঁচা মরিচ ৮০-১০০, টম্যাটো ৫০, পেঁপে ৬০-৮০, মিষ্টিকুমড়া ৪০-৫০ ও বেগুন ৭০-৮০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। আলু ২০-২৫, পিঁয়াজ ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি সাইজের লাউ প্রতি পিস ৮০-১০০ টাকা। ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৭০-১৮০, সোনালি মুরগি ৩৫০-৩৬০ টাকা।জ্বালানির উত্তাপ মহাসড়কে : তেলের দামের সঙ্গে সমন্বয় করে বৃহস্পতিবার সড়ক, রেল ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় আন্তজেলা বাসে প্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ১২ পয়সা থেকে ১১ পয়সা বাড়িয়ে ২ টাকা ২৩ পয়সা করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। কিন্তু সরেজমিন গাবতলী বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। তেলের দাম বেড়েছে বলে যাত্রীদের থেকে প্রতি টিকিটে ১৫০-২০০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন পরিবহনের কর্মী সেজে একটি চক্র এ বাড়তি টাকাটা নিচ্ছে। এতে যাত্রীদের যাতায়াত খরচ বাড়ছে।গাবতলী বাস টার্মিনালের সামনে মো. আলতাফ হোসেন বলেন, ‘গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহে যেতে আগে ৫০০ টাকা লাগত, এখন ৭৫০ টাকা নিচ্ছে। দরকষাকষি করে ৬৫০ টাকায় ঈগল পরিবহনের টিকিট কাটলাম।’ এ ব্যাপারে যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘বাসভাড়ার তালিকা তৈরি করে আঞ্চলিক পরিবহন সমিতি। আঞ্চলিক পরিবহন সমিতি থাকে পরিবহন মালিক সমিতির আওতায়। কিলোমিটার বা ভাড়ার রেট নিয়ে টেম্পারিং হচ্ছে কি না দেখার জন্য কোনো মনিটরিং টিম নেই। হলেও এসব মনিটরিং টিমও থাকে মালিক সমিতির আওতায়। আমাদের নিয়ে তালিকা তৈরি, সেবার মান এবং মনিটরিংয়ের জন্য টিম গঠন করলে একসঙ্গে সমস্যা সমাধানে কাজ করতে পারতাম।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাসভাড়া বাড়ালেও সেবার মানে পরিবর্তন আসে না। যাত্রীদের প্রতিনিধি ছাড়াই সরকার শুধু মালিক সমিতি নিয়ে আলোচনা করে। পুরাতন লক্কড়ঝক্কড় বাস রং করে নতুন হিসেবে দেখানো হয়। এসব বাসের মেয়াদ ১০ বছর হলেও ২০-২৫ বছর রাস্তায় থাকে। এসব নিয়ে বলার জন্য সরকার আমাদের সুযোগও দিচ্ছে না।’ রাজধানীর ভিতরে চলাচল করা লোকাল বাসেও বাড়তি ভাড়া আদায় করতে দেখা যায়। মিরপুর-১০ থেকে গাবতলী যেতে ‘রাজধানী’ বাসে যাত্রীদের দিতে হচ্ছে ৩০ টাকা। যাত্রীদের থেকে ১০ টাকা করে বেশি ভাড়া নিচ্ছে। আবার মিরপুর-১০ থেকে কুড়িল চৌরাস্তা পর্যন্ত ভাড়া ২০ টাকা হলেও আদায় করা হচ্ছে ৩০ টাকা। সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন
 

সিলেট এডিশন

প্রকাশক ও সম্পাদক:
কামরুল হাসান জুলহাস

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
জ্বালানির উত্তাপ সর্বত্র ল্যবৃদ্ধির প্রভাব এখন দেশজুড়ে
0:00 / 0:00
1x