সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

শিক্ষা

৩২ বছরের শিক্ষকতা জীবনের ইতি,আবেগঘন আয়োজনে অধ্যক্ষ আব্দুছ শহীদকে বিদায় সংবর্ধনা

দীর্ঘ ৩২ বছরের শিক্ষকতা জীবনের ইতি টেনে অবসরজনিত বিদায় নিয়েছেন সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পশ্চিম জাফলং উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ মাস্টার মো. আব্দুছ শহীদ। দীর্ঘ কর্মজীবনে শিক্ষা বিস্তার, শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও মূল্যবোধ গঠন এবং সমাজ উন্নয়নে তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বর্ণাঢ্য বিদায়ী সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। প্রিয় শিক্ষকের বিদায়কে ঘিরে সহকর্মী, বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং এলাকাবাসীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় সৃষ্টি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ। শনিবার (৩১ অক্টোবর ২০২৬) সকাল ১১টায় পশ্চিম জাফলং উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ প্রাঙ্গণে প্রাক্তন শিক্ষার্থীবৃন্দ ও গভর্নিং বডির উদ্যোগে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম জাফলং উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের সভাপতি মনজুর আহমদ। প্রধান অতিথি ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের সিলেট অঞ্চলের উপপরিচালক ড. মোহাম্মদ আব্দুল কাদির। সংবর্ধিত অতিথি ছিলেন বিদায়ী অধ্যক্ষ মাস্টার মো. আব্দুছ শহীদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ সুরমা সরকারি কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. আতাউর রহমান।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক কাজী সিরাজ উদ্দিন। যৌথভাবে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাস্তবায়ন কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও প্রধান মিডিয়াবিষয়ক উপকমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংবাদিক আমির উদ্দিন এবং কমিটির সদস্যসচিব আবুল কালাম আজাদ।এ সময় উপস্থিত ছিলেন তোয়াকুল বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্বাস উদ্দিন, গোয়াইনঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক সেলিম উল্লাহ ও বর্তমান প্রধান শিক্ষক সিরাজ উদ্দিন, কুনকিরি উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মামুনুর রশিদ, বারহাল ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা নেছার আহমদ, কোওর বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক নিত্যানন্দ দাস, আলীর গাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সালেহ আহমদ, হাজি সোহরাব আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সোহরাওয়ার্দী হোসেন, পশ্চিম জাফলং উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের দাতা সদস্য মহরম আলী, বাগের সড়ক উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক লুৎফুর রহমান, বীরমঙ্গল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল হাসান, এডভোকেট জেবুন্নাহার সেলিম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজিজুর রহমান এবং পরগনা বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফারুক আহমদ।এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম জাফলং ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাদির, গোয়াইনঘাট উপজেলা জামায়াত নেতা ডা. আজিজুর রহমান, বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক মঈন উদ্দিন, নাজমুল ইসলাম, আব্দুস শুকুর ও শিব্বির আহমদ, সহকারী প্রধান শিক্ষক সয়ফুল ইসলাম, গোয়াইনঘাট প্রেস ক্লাবের সভাপতি আবুল হোসেন, রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি সাদিকুর রহমান, গোয়াইনঘাট অনলাইন প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সুলেমান সিদ্দিকী, সাংগঠনিক সম্পাদক রুবেল আহমেদসহ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত পশ্চিম জাফলং উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম এগিয়ে নিতে অধ্যক্ষ আব্দুছ শহীদের দীর্ঘ ৩২ বছরের কর্মজীবন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। একজন শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে তিনি অসংখ্য শিক্ষার্থীকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করেছেন। পাঠদানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে তাঁর ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। তাঁর কর্মনিষ্ঠা, অভিজ্ঞতা ও অবদান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।অধ্যক্ষ মো. আব্দুছ শহীদের কর্মজীবনের শুরু শিক্ষকতা দিয়ে নয়, বরং প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে। শিক্ষকতা পেশায় যোগদানের আগে তিনি সিলেট সদর উপজেলার হাটখোলা ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে দুই বছর দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে বিশ্বনাথ উপজেলার দেওকলস ইউনিয়ন পরিষদে একই পদে আরও দুই বছর দায়িত্ব পালন করেন। এরপর শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হয়ে দীর্ঘ ৩২ বছর পশ্চিম জাফলং উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে দায়িত্ব পালন করেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি সমাজ উন্নয়নেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।মো. আব্দুছ শহীদ গোয়াইনঘাট উপজেলার ২ নম্বর পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের ঠাকুরবাড়ি গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা। পারিবারিক জীবনে তিনি স্ত্রী মনোয়ারা বেগমের সঙ্গে সংসার করছেন। তাঁদের এক ছেলে মেহেদী হাসান সৌরভ ও এক মেয়ে জাকিয়া তাসনিম শর্মী।অনুষ্ঠানে আগত অতিথিরা তাঁদের বক্তব্যে বিদায়ী অধ্যক্ষের দীর্ঘ কর্মজীবনের নানা স্মৃতিচারণ করেন এবং তাঁর অবসরজীবনের সুস্বাস্থ্য, শান্তি ও কল্যাণ কামনা করেন। প্রাক্তন শিক্ষার্থীরাও তাঁদের প্রিয় শিক্ষকের সঙ্গে কাটানো স্মৃতির কথা তুলে ধরে আবেগঘন বক্তব্য দেন। তাঁরা বলেন, একজন শিক্ষক শুধু পাঠদানই করেন না, বরং শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, আদর্শ ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। অধ্যক্ষ আব্দুছ শহীদ তাঁদের কাছে তেমনই একজন শ্রদ্ধাভাজন শিক্ষক ও অভিভাবকতুল্য ব্যক্তিত্ব।বিদায়ী বক্তব্যে অধ্যক্ষ আব্দুছ শহীদ তাঁর দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের নানা স্মৃতি তুলে ধরেন। এ সময় তিনি সহকর্মী, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও এলাকাবাসীর সহযোগিতার কথা স্মরণ করে সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।অনুষ্ঠানের শেষপর্বে বিদায়ী অধ্যক্ষকে বিভিন্ন ব্যাচের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা, সম্মাননা স্মারক ও নানা উপহারসামগ্রী প্রদান করা হয়। এ ছাড়া প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে ফুলে সজ্জিত গাড়িতে করে তাঁকে বিদায় জানানোর বিশেষ আয়োজন করা হয়। প্রিয় শিক্ষককে শেষবারের মতো বিদায় জানাতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জড়ো হন অসংখ্য শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষী। এ সময় অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। সৃষ্টি হয় এক হৃদয়স্পর্শী দৃশ্যের।দীর্ঘ ৩২ বছরের শিক্ষকতা জীবনের অবসান হলেও তাঁর শিক্ষা, আদর্শ, কর্মনিষ্ঠা ও শিক্ষার্থীদের প্রতি ভালোবাসা আগামী দিনেও স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি, সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা।

৩২ বছরের শিক্ষকতা জীবনের ইতি,আবেগঘন আয়োজনে অধ্যক্ষ আব্দুছ শহীদকে বিদায় সংবর্ধনা