শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জৈন্তিয়ার ঐতিহ্য ‘ঢুপির সরাইখানা’ অতীতের গৌরব বহন করে


জৈন্তাপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৪ মে ২০২৬, ০৪:২৪ পিএম

জৈন্তিয়ার ঐতিহ্য ‘ঢুপির সরাইখানা’ অতীতের গৌরব বহন করে
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ঢুপি গ্রামে অবস্থিত জৈন্তিয়া রাজ্যের ঐতিহাসিক সরাইখানা বা পান্থশালা আজও অতীতের গৌরব বহন করে দাঁড়িয়ে আছে। জৈন্তিয়ার রাজা দ্বিতীয় রামসিংহের হাতে নির্মিত এই স্থাপনাটি বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ প্রত্ননিদর্শন হলেও এর প্রকৃত ইতিহাস সম্পর্কে অনেকেই অবগত নন। ঐতিহাসিকদের বর্ণনা অনুযায়ী, ১৭৯৭ সালে ঢুপির মঠ নির্মাণের সময়ই রাজা দ্বিতীয় রামসিংহ দূর-দূরান্ত থেকে আগত যাত্রী, ব্যবসায়ী ও পূণ্যার্থীদের বিশ্রামের সুবিধার্থে এই সরাইখানা নির্মাণ করেন। তৎকালীন সময়ে জৈন্তিয়া রাজ্যের সমতল অঞ্চলে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম ছিল নৌপথ। অসংখ্য খাল-বিল, হাওর ও নদী-নালায় সংযুক্ত ছিল পুরো এলাকা। ঢুপি গ্রামের সারীঘাট ছিল সেই নৌ-যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। দক্ষিণ ও পূর্ব জৈন্তিয়ার মানুষ নৌকাযোগে সারীঘাটে এসে সেখান থেকে কয়েক মাইল হেঁটে রাজধানীতে পৌঁছাতেন। ব্যবসায়ীরাও জৈন্তাপুরী হাট থেকে পাহাড়ি পণ্য সংগ্রহ করে এখান থেকেই বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠাতেন। সারীঘাট ছিল জৈন্তিয়ার সবচেয়ে ব্যস্ত নৌবন্দর। পূণ্যার্থী, সাধারণ যাত্রী, ব্যবসায়ী ও রাজস্ব কর্মচারীরা এখানে এসে আহার, বিশ্রাম ও যাত্রার প্রস্তুতি নিতেন। তাদের সুবিধার্থেই রাজা রামসিংহ সারীঘাটের উত্তর পাশে ঢুপির পাহাড়ের পাদদেশে এই সরাইখানা নির্মাণ করেন। স্থাপনাটি মূলত একটি দোচালা ঘর, যেখানে একসঙ্গে ২০ থেকে ২৫ জন লোক থাকার ব্যবস্থা ছিল। পূর্ব পাশে রয়েছে বারান্দা, যার পাঁচটি খিলানে রয়েছে অনন্য কারুকাজ। দক্ষিণ দেয়ালেও দেখা যায় দৃষ্টিনন্দন নকশা। অত্যন্ত মজবুত নির্মাণশৈলীর কারণে ১৮৯৭ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পেও এটি ধ্বংস হয়নি। এখনো প্রায় অক্ষত অবস্থায় টিকে আছে ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি। তবে সরাইখানার সঙ্গে থাকা পাথরে বাঁধানো জলাধারটি ব্রিটিশ আমলে সিলেট-শিলং সড়ক নির্মাণের সময় ভরাট করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক প্রশস্ত করার সময়ও স্থাপনাটি ভেঙে ফেলার আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখে সেটি রক্ষা পায়। বর্তমানে মহাসড়কের দুই পাশ দিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। দীর্ঘদিন ধরে সিলেট অঞ্চলের হারিয়ে যাওয়া ঐতিহাসিক নিদর্শন নিয়ে কাজ করা গবেষক, লেখক ও পরিবেশপ্রেমী আসিফ আযহার বলেন, ‘ঢুপির সরাইখানা’ শুধু একটি স্থাপনা নয়, এটি জৈন্তিয়া রাজ্যের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার জীবন্ত সাক্ষী। যথাযথ সংরক্ষণ ও গবেষণার মাধ্যমে এটিকে জাতীয় ঐতিহ্য হিসেবে তুলে ধরা জরুরি।” সচেতন মহলের দাবি, প্রতিদিন ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে যেকোনো সময় দুর্ঘটনাবশত এই মূল্যবান প্রত্নসম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই দ্রুত প্রত্নতাত্ত্বিক সংরক্ষণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং পর্যটন সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।  

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: /৫ ( ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

নগরীতে বাস্তবায়ন হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

নগরীতে বাস্তবায়ন হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

মহানগরীর মোগলাবাজার থানাধীন খালেরমুখ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১০ হাজার ইয়াবাসহ ৩জন গ্রেফতার

মহানগরীর মোগলাবাজার থানাধীন খালেরমুখ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১০ হাজার ইয়াবাসহ ৩জন গ্রেফতার

শাল্লার কান্দিগাঁও গ্রামের ঐতিহ্যবাহ নৌকা বাইচ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন এমপি নাছির উদ্দিন চৌধুরী

শাল্লার কান্দিগাঁও গ্রামের ঐতিহ্যবাহ নৌকা বাইচ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন এমপি নাছির উদ্দিন চৌধুরী

ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুই সেনাসদস্য নিহত

ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুই সেনাসদস্য নিহত

তালাশ টেলিভিশনে নারীকে শিকল পড়িয়ে হাটিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর তোলপাড়: কিশোরীকে নির্যাতনের ঘটনায় আটক ৩

তালাশ টেলিভিশনে নারীকে শিকল পড়িয়ে হাটিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর তোলপাড়: কিশোরীকে নির্যাতনের ঘটনায় আটক ৩

ওয়েস্ট ওয়ার্ল্ড শপিং সেন্টারে অগ্নিকাণ্ডস্থল পরিদর্শনে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ

ওয়েস্ট ওয়ার্ল্ড শপিং সেন্টারে অগ্নিকাণ্ডস্থল পরিদর্শনে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ

ইসিএ এলাকায় তাণ্ডবের বিরুদ্ধে অভিযান, ধ্বংস ১০ ড্রেজার ও ৬ এক্সকেভেটর

ইসিএ এলাকায় তাণ্ডবের বিরুদ্ধে অভিযান, ধ্বংস ১০ ড্রেজার ও ৬ এক্সকেভেটর

২১৭ কোটি টাকার রেল প্রকল্পে ধীরগতি, মেয়াদ শেষেও বাকি ৭৫ শতাংশ কাজ

২১৭ কোটি টাকার রেল প্রকল্পে ধীরগতি, মেয়াদ শেষেও বাকি ৭৫ শতাংশ কাজ

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান: শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে সেবা চালু

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান: শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে সেবা চালু

কনজিউমার রাইটস বাংলাদেশ-সিআরবি' সিলেট বিভাগীয় শাখার কার্যনির্বাহী কমিটির শপথ গ্রহণ

কনজিউমার রাইটস বাংলাদেশ-সিআরবি' সিলেট বিভাগীয় শাখার কার্যনির্বাহী কমিটির শপথ গ্রহণ

নগরীতে বাস্তবায়ন হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

নগরীতে বাস্তবায়ন হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

মহানগরীর মোগলাবাজার থানাধীন খালেরমুখ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১০ হাজার ইয়াবাসহ ৩জন গ্রেফতার

মহানগরীর মোগলাবাজার থানাধীন খালেরমুখ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১০ হাজার ইয়াবাসহ ৩জন গ্রেফতার

১৫ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতির সিলেট সফর, প্রস্তুতিমূলক সভায় মন্ত্রীর নির্দেশনা

১৫ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতির সিলেট সফর, প্রস্তুতিমূলক সভায় মন্ত্রীর নির্দেশনা

ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুই সেনাসদস্য নিহত

ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুই সেনাসদস্য নিহত

তালাশ টেলিভিশনে নারীকে শিকল পড়িয়ে হাটিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর তোলপাড়: কিশোরীকে নির্যাতনের ঘটনায় আটক ৩

তালাশ টেলিভিশনে নারীকে শিকল পড়িয়ে হাটিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর তোলপাড়: কিশোরীকে নির্যাতনের ঘটনায় আটক ৩

ইসিএ এলাকায় তাণ্ডবের বিরুদ্ধে অভিযান, ধ্বংস ১০ ড্রেজার ও ৬ এক্সকেভেটর

ইসিএ এলাকায় তাণ্ডবের বিরুদ্ধে অভিযান, ধ্বংস ১০ ড্রেজার ও ৬ এক্সকেভেটর

ভ্যান সরানো নিয়ে কথা-কাটাকাটি, পরে যুবককে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ

ভ্যান সরানো নিয়ে কথা-কাটাকাটি, পরে যুবককে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ

খাদিমনগরে সরকারি খাস জমিতে অ্যালুমিনিয়াম কারখানা স্থাপনের অভিযোগ

খাদিমনগরে সরকারি খাস জমিতে অ্যালুমিনিয়াম কারখানা স্থাপনের অভিযোগ

খাদিমনগরে খাস জমি দখলের অভিযোগ, পাহাড় কেটে গড়ে উঠছে প্লট

খাদিমনগরে খাস জমি দখলের অভিযোগ, পাহাড় কেটে গড়ে উঠছে প্লট

সিলেট সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৩৬ লাখ টাকার চোরাচালানি মালামাল জব্দ!

সিলেট সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৩৬ লাখ টাকার চোরাচালানি মালামাল জব্দ!

সিলেট এডিশন

শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


জৈন্তিয়ার ঐতিহ্য ‘ঢুপির সরাইখানা’ অতীতের গৌরব বহন করে

প্রকাশের তারিখ : ০৪ মে ২০২৬

featured Image
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ঢুপি গ্রামে অবস্থিত জৈন্তিয়া রাজ্যের ঐতিহাসিক সরাইখানা বা পান্থশালা আজও অতীতের গৌরব বহন করে দাঁড়িয়ে আছে। জৈন্তিয়ার রাজা দ্বিতীয় রামসিংহের হাতে নির্মিত এই স্থাপনাটি বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ প্রত্ননিদর্শন হলেও এর প্রকৃত ইতিহাস সম্পর্কে অনেকেই অবগত নন। ঐতিহাসিকদের বর্ণনা অনুযায়ী, ১৭৯৭ সালে ঢুপির মঠ নির্মাণের সময়ই রাজা দ্বিতীয় রামসিংহ দূর-দূরান্ত থেকে আগত যাত্রী, ব্যবসায়ী ও পূণ্যার্থীদের বিশ্রামের সুবিধার্থে এই সরাইখানা নির্মাণ করেন। তৎকালীন সময়ে জৈন্তিয়া রাজ্যের সমতল অঞ্চলে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম ছিল নৌপথ। অসংখ্য খাল-বিল, হাওর ও নদী-নালায় সংযুক্ত ছিল পুরো এলাকা। ঢুপি গ্রামের সারীঘাট ছিল সেই নৌ-যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। দক্ষিণ ও পূর্ব জৈন্তিয়ার মানুষ নৌকাযোগে সারীঘাটে এসে সেখান থেকে কয়েক মাইল হেঁটে রাজধানীতে পৌঁছাতেন। ব্যবসায়ীরাও জৈন্তাপুরী হাট থেকে পাহাড়ি পণ্য সংগ্রহ করে এখান থেকেই বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠাতেন। সারীঘাট ছিল জৈন্তিয়ার সবচেয়ে ব্যস্ত নৌবন্দর। পূণ্যার্থী, সাধারণ যাত্রী, ব্যবসায়ী ও রাজস্ব কর্মচারীরা এখানে এসে আহার, বিশ্রাম ও যাত্রার প্রস্তুতি নিতেন। তাদের সুবিধার্থেই রাজা রামসিংহ সারীঘাটের উত্তর পাশে ঢুপির পাহাড়ের পাদদেশে এই সরাইখানা নির্মাণ করেন। স্থাপনাটি মূলত একটি দোচালা ঘর, যেখানে একসঙ্গে ২০ থেকে ২৫ জন লোক থাকার ব্যবস্থা ছিল। পূর্ব পাশে রয়েছে বারান্দা, যার পাঁচটি খিলানে রয়েছে অনন্য কারুকাজ। দক্ষিণ দেয়ালেও দেখা যায় দৃষ্টিনন্দন নকশা। অত্যন্ত মজবুত নির্মাণশৈলীর কারণে ১৮৯৭ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পেও এটি ধ্বংস হয়নি। এখনো প্রায় অক্ষত অবস্থায় টিকে আছে ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি। তবে সরাইখানার সঙ্গে থাকা পাথরে বাঁধানো জলাধারটি ব্রিটিশ আমলে সিলেট-শিলং সড়ক নির্মাণের সময় ভরাট করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক প্রশস্ত করার সময়ও স্থাপনাটি ভেঙে ফেলার আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখে সেটি রক্ষা পায়। বর্তমানে মহাসড়কের দুই পাশ দিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। দীর্ঘদিন ধরে সিলেট অঞ্চলের হারিয়ে যাওয়া ঐতিহাসিক নিদর্শন নিয়ে কাজ করা গবেষক, লেখক ও পরিবেশপ্রেমী আসিফ আযহার বলেন, ‘ঢুপির সরাইখানা’ শুধু একটি স্থাপনা নয়, এটি জৈন্তিয়া রাজ্যের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার জীবন্ত সাক্ষী। যথাযথ সংরক্ষণ ও গবেষণার মাধ্যমে এটিকে জাতীয় ঐতিহ্য হিসেবে তুলে ধরা জরুরি।” সচেতন মহলের দাবি, প্রতিদিন ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে যেকোনো সময় দুর্ঘটনাবশত এই মূল্যবান প্রত্নসম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই দ্রুত প্রত্নতাত্ত্বিক সংরক্ষণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং পর্যটন সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।  

সিলেট এডিশন

প্রকাশক ও সম্পাদক:
কামরুল হাসান জুলহাস

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
জৈন্তিয়ার ঐতিহ্য ‘ঢুপির সরাইখানা’ অতীতের গৌরব বহন করে
0:00 / 0:00
1x