শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফলোআপ প্রশাসনের অবহেলায় বারবার উচ্ছেদ ও জরিমানার পরও ভূমিখেকোদের দখলে সরকারি খাস জমি


সিলেট এডিশন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:৫২ পিএম

ফলোআপ প্রশাসনের অবহেলায় বারবার উচ্ছেদ ও জরিমানার পরও ভূমিখেকোদের দখলে সরকারি খাস জমি

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট :: খাদিমে সরকারী জমি দখলের সংবাদ প্রকাশের পর আরো বেপরোয়া ভূমি ও টিলা খেকোরা। এবার তারা দখলীয় জমিতে বাঁশ দিয়ে ঘর বানাচ্ছে। অবৈধ দখলদারদেরকে সহযোগিতা করছেন সিসিক'র ৩৪ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর জয়নাল আবেদীন বলে অভিযেগ উঠেছে।

স্থানীয়রা জানান সাবেক কাউন্সিলর জয়নাল আবেদীন এর ভাই নাছির গাজী সরকারী খাস খতিয়ানের জমিতে বিল্ডিং করতেছেন যাহা সম্পূর্ণ অবৈধ। পাশা-পাশি কাউন্সিলরের কাছের মানুষ ও বিশ্বস্থ হিসেবে পরিচিত কামরুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম (পিতা–মৃত নামর আলী), মানিক (পিতা–কাসেম আলী ওরফে পেনদী), কামাল উদ্দীন কামাল, ভাড়াটিয়া খুনি ও জেলকাটা আসামী মাদকাসক্ত সন্ত্রাসী সুজন সহ একাধিক দখলবাজ।

বিষয়টি সহকারী কমিশনার ভূমি সিলেট সদরকে জানালে তিনি খাদিমপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী তহসিলদারকে সরজমিন পরিদর্শনে পাঠান। তিনি সরেজমিন গিয়ে সত্যতা পেয়ে অভিযুক্তদের নিষেধ করে কাগজপত্র ভূমি অফিসে নিয়ে আসতে বলেন।

কিন্তু তিনি চলে যাওয়ার পর আবারও দখলবাজরা আবারও ঘর নির্মান শুরু করে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এবিষয়ে জানতে খামিমপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের  সহকারী তহসিলদার এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ  করা হলে তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন আমি কাজ বন্ধ করে দিয়েছি এবং তাদের কাগজপত্র নিয়ে আসতে বলেছি। জমি সরকারী সে কি কাগজ দেখাবে জানতে চাইলে তিনি বলেন এসিল্যান্ড সাহেবের সাথে যোগাযোগ করেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে সহকারী কমিশনার ভূমি সিলেট সদর এর সাথে মুঠোফোনে কয়েকবার যোগাযোগ করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি, পরে তাহার ওয়াটসঅ্যাপে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে দখলীয় ভূমির বিষয়ে কথা বলতে চাই বলে বার্তা পাঠালেও কোন উত্তর পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে সিলেট সদর এর ইউএনওকে মুঠোফোনে কল দিলে তিনি ফোনের লাইন কেটে দেন। পরে তাহার ওয়াটসঅ্যাপে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে দখলীয় ভূমির বিষয়ে বক্তব্য নিতে চাই বলে বার্তা পাঠালে তিনি বিস্তারিত জেনে বক্তব্য দিবেন বলে জানালেও আর বক্তব্য দেননি।

উল্লেখ্য গত ২৬ জানুয়ারী "বারবার উচ্ছেদ ও জরিমানার পরও ফের দখলে সরকারি খাস জমি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা চায় সচেতন মহল" শিরোনামে একটি সংবাদ সিলেট এডিশন নামের একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত হয়। দর্শকদের উদ্দেশ্য পুরো সংবাদ হুবহু দেওয়া হলো:- বারবার সরকারি খাস জমি দখলমুক্ত করতে অভিযান, উচ্ছেদ ও জরিমানা আদায়ের পরও পুনরায় দখলের ঘটনা ঘটছে সিলেট সদর উপজেলার খাদিমনগর এলাকায়। এতে করে সরকারি সম্পদ রক্ষা নিয়ে প্রশাসনের কার্যকারিতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডাধীন খাদিমনগর এলাকা, শাহপরাণ (রহ.) থানার অন্তর্ভুক্ত বহর মৌজার (জে.এল নং–৭০) আওতাভুক্ত সরকারি খাস জমিতে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখল ও বেচাকেনার অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট ভূমি রেকর্ড অনুযায়ী, বহর মৌজার ১৪২ নং দাগের মধ্যে মাত্র ৮ একর ৪ শতক জমি বৈধভাবে বন্দোবস্ত লিজ দেওয়া হয় ভারত থেকে বিতাড়িত হয়ে আসা মুহাজির (রিফিউজি) পরিবারগুলোর নামে। অবশিষ্ট প্রায় ৩০ একর ৩০ শতক জমি আজও সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত অবস্থায় রয়েছে।

এছাড়া উছমানী মুক্তিযোদ্ধা আদর্শ গুচ্ছগ্রাম এলাকার ভেতরে ২০০১ নং দাগসহ বিভিন্ন দাগে পাহাড়, টিলা ও পতিত খাস জমি রয়েছে। এসব জমির মধ্যে কেবলমাত্র বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামে নির্দিষ্ট প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অন্য সব জমি এখনো সরকারের মালিকানাধীন খাস জমি হিসেবেই নথিভুক্ত রয়েছে।

ভূমি বন্দোবস্ত সংক্রান্ত দলিল অনুযায়ী, এসব জমি বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পাহাড় বা টিলা কেটে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করতে হলে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র এবং জেলা প্রশাসক, এসিল্যান্ড ও ইউএনও’র পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক। অথচ অভিযোগ রয়েছে—এসব বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে একটি প্রভাবশালী চক্র অনুমোদনবিহীন ও ভুয়া দলিল তৈরি করে সরকারি খাস জমি অবৈধভাবে বেচাকেনা করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বহর কলোনীর কিছু অসাধু ব্যক্তি ও বাইরের প্রভাবশালীরা একত্রিত হয়ে সংঘবদ্ধভাবে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। অভিযোগে উঠে এসেছে কামরুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম (পিতা–মৃত নামর আলী), মানিক (পিতা–কাসেম আলী ওরফে পেনদী), কামরুল উদ্দীন কামালসহ একাধিক দখল কন্ট্রাক্টর গ্রুপের নাম। এরা নিজেদের স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে বাতিল ও অনুমোদনহীন লিজ দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে গত ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখে সরকারি খাস জমিতে অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে খাদিমপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী তহসিলদার ও তার সহযোগীরা। অভিযানে উছমানী মুক্তিযোদ্ধা আদর্শ গুচ্ছগ্রাম এলাকায় অবৈধ কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয় এবং বিষয়টি স্থানীয় সাবেক কাউন্সিলর জয়নাল আবেদীনকে অবহিত করা হয়।

তবে অভিযানের পরও পুনরায় দখলচেষ্টা ও অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ উঠায় স্থানীয় সচেতন মহল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা মনে করছেন, যদি দ্রুত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে সরকারি খাস জমি সম্পূর্ণভাবে প্রভাবশালীদের দখলে চলে যাবে।

এ প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সিলেট জেলা প্রশাসক, এসিল্যান্ড, ইউএনও, তহসিল বিভাগ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সুদৃষ্টি কামনা করা হয়েছে।

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: /৫ ( ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

নগরীতে বাস্তবায়ন হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

নগরীতে বাস্তবায়ন হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

মহানগরীর মোগলাবাজার থানাধীন খালেরমুখ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১০ হাজার ইয়াবাসহ ৩জন গ্রেফতার

মহানগরীর মোগলাবাজার থানাধীন খালেরমুখ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১০ হাজার ইয়াবাসহ ৩জন গ্রেফতার

শাল্লার কান্দিগাঁও গ্রামের ঐতিহ্যবাহ নৌকা বাইচ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন এমপি নাছির উদ্দিন চৌধুরী

শাল্লার কান্দিগাঁও গ্রামের ঐতিহ্যবাহ নৌকা বাইচ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন এমপি নাছির উদ্দিন চৌধুরী

ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুই সেনাসদস্য নিহত

ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুই সেনাসদস্য নিহত

তালাশ টেলিভিশনে নারীকে শিকল পড়িয়ে হাটিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর তোলপাড়: কিশোরীকে নির্যাতনের ঘটনায় আটক ৩

তালাশ টেলিভিশনে নারীকে শিকল পড়িয়ে হাটিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর তোলপাড়: কিশোরীকে নির্যাতনের ঘটনায় আটক ৩

ওয়েস্ট ওয়ার্ল্ড শপিং সেন্টারে অগ্নিকাণ্ডস্থল পরিদর্শনে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ

ওয়েস্ট ওয়ার্ল্ড শপিং সেন্টারে অগ্নিকাণ্ডস্থল পরিদর্শনে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ

ইসিএ এলাকায় তাণ্ডবের বিরুদ্ধে অভিযান, ধ্বংস ১০ ড্রেজার ও ৬ এক্সকেভেটর

ইসিএ এলাকায় তাণ্ডবের বিরুদ্ধে অভিযান, ধ্বংস ১০ ড্রেজার ও ৬ এক্সকেভেটর

২১৭ কোটি টাকার রেল প্রকল্পে ধীরগতি, মেয়াদ শেষেও বাকি ৭৫ শতাংশ কাজ

২১৭ কোটি টাকার রেল প্রকল্পে ধীরগতি, মেয়াদ শেষেও বাকি ৭৫ শতাংশ কাজ

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান: শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে সেবা চালু

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান: শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে সেবা চালু

কনজিউমার রাইটস বাংলাদেশ-সিআরবি' সিলেট বিভাগীয় শাখার কার্যনির্বাহী কমিটির শপথ গ্রহণ

কনজিউমার রাইটস বাংলাদেশ-সিআরবি' সিলেট বিভাগীয় শাখার কার্যনির্বাহী কমিটির শপথ গ্রহণ

নগরীতে বাস্তবায়ন হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

নগরীতে বাস্তবায়ন হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

মহানগরীর মোগলাবাজার থানাধীন খালেরমুখ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১০ হাজার ইয়াবাসহ ৩জন গ্রেফতার

মহানগরীর মোগলাবাজার থানাধীন খালেরমুখ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১০ হাজার ইয়াবাসহ ৩জন গ্রেফতার

১৫ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতির সিলেট সফর, প্রস্তুতিমূলক সভায় মন্ত্রীর নির্দেশনা

১৫ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতির সিলেট সফর, প্রস্তুতিমূলক সভায় মন্ত্রীর নির্দেশনা

ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুই সেনাসদস্য নিহত

ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুই সেনাসদস্য নিহত

তালাশ টেলিভিশনে নারীকে শিকল পড়িয়ে হাটিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর তোলপাড়: কিশোরীকে নির্যাতনের ঘটনায় আটক ৩

তালাশ টেলিভিশনে নারীকে শিকল পড়িয়ে হাটিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর তোলপাড়: কিশোরীকে নির্যাতনের ঘটনায় আটক ৩

ইসিএ এলাকায় তাণ্ডবের বিরুদ্ধে অভিযান, ধ্বংস ১০ ড্রেজার ও ৬ এক্সকেভেটর

ইসিএ এলাকায় তাণ্ডবের বিরুদ্ধে অভিযান, ধ্বংস ১০ ড্রেজার ও ৬ এক্সকেভেটর

ভ্যান সরানো নিয়ে কথা-কাটাকাটি, পরে যুবককে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ

ভ্যান সরানো নিয়ে কথা-কাটাকাটি, পরে যুবককে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ

খাদিমনগরে সরকারি খাস জমিতে অ্যালুমিনিয়াম কারখানা স্থাপনের অভিযোগ

খাদিমনগরে সরকারি খাস জমিতে অ্যালুমিনিয়াম কারখানা স্থাপনের অভিযোগ

খাদিমনগরে খাস জমি দখলের অভিযোগ, পাহাড় কেটে গড়ে উঠছে প্লট

খাদিমনগরে খাস জমি দখলের অভিযোগ, পাহাড় কেটে গড়ে উঠছে প্লট

সিলেট সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৩৬ লাখ টাকার চোরাচালানি মালামাল জব্দ!

সিলেট সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৩৬ লাখ টাকার চোরাচালানি মালামাল জব্দ!

সিলেট এডিশন

শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ফলোআপ প্রশাসনের অবহেলায় বারবার উচ্ছেদ ও জরিমানার পরও ভূমিখেকোদের দখলে সরকারি খাস জমি

প্রকাশের তারিখ : ২৯ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট :: খাদিমে সরকারী জমি দখলের সংবাদ প্রকাশের পর আরো বেপরোয়া ভূমি ও টিলা খেকোরা। এবার তারা দখলীয় জমিতে বাঁশ দিয়ে ঘর বানাচ্ছে। অবৈধ দখলদারদেরকে সহযোগিতা করছেন সিসিক'র ৩৪ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর জয়নাল আবেদীন বলে অভিযেগ উঠেছে।

স্থানীয়রা জানান সাবেক কাউন্সিলর জয়নাল আবেদীন এর ভাই নাছির গাজী সরকারী খাস খতিয়ানের জমিতে বিল্ডিং করতেছেন যাহা সম্পূর্ণ অবৈধ। পাশা-পাশি কাউন্সিলরের কাছের মানুষ ও বিশ্বস্থ হিসেবে পরিচিত কামরুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম (পিতা–মৃত নামর আলী), মানিক (পিতা–কাসেম আলী ওরফে পেনদী), কামাল উদ্দীন কামাল, ভাড়াটিয়া খুনি ও জেলকাটা আসামী মাদকাসক্ত সন্ত্রাসী সুজন সহ একাধিক দখলবাজ।

বিষয়টি সহকারী কমিশনার ভূমি সিলেট সদরকে জানালে তিনি খাদিমপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী তহসিলদারকে সরজমিন পরিদর্শনে পাঠান। তিনি সরেজমিন গিয়ে সত্যতা পেয়ে অভিযুক্তদের নিষেধ করে কাগজপত্র ভূমি অফিসে নিয়ে আসতে বলেন।

কিন্তু তিনি চলে যাওয়ার পর আবারও দখলবাজরা আবারও ঘর নির্মান শুরু করে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এবিষয়ে জানতে খামিমপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের  সহকারী তহসিলদার এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ  করা হলে তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন আমি কাজ বন্ধ করে দিয়েছি এবং তাদের কাগজপত্র নিয়ে আসতে বলেছি। জমি সরকারী সে কি কাগজ দেখাবে জানতে চাইলে তিনি বলেন এসিল্যান্ড সাহেবের সাথে যোগাযোগ করেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে সহকারী কমিশনার ভূমি সিলেট সদর এর সাথে মুঠোফোনে কয়েকবার যোগাযোগ করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি, পরে তাহার ওয়াটসঅ্যাপে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে দখলীয় ভূমির বিষয়ে কথা বলতে চাই বলে বার্তা পাঠালেও কোন উত্তর পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে সিলেট সদর এর ইউএনওকে মুঠোফোনে কল দিলে তিনি ফোনের লাইন কেটে দেন। পরে তাহার ওয়াটসঅ্যাপে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে দখলীয় ভূমির বিষয়ে বক্তব্য নিতে চাই বলে বার্তা পাঠালে তিনি বিস্তারিত জেনে বক্তব্য দিবেন বলে জানালেও আর বক্তব্য দেননি।

উল্লেখ্য গত ২৬ জানুয়ারী "বারবার উচ্ছেদ ও জরিমানার পরও ফের দখলে সরকারি খাস জমি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা চায় সচেতন মহল" শিরোনামে একটি সংবাদ সিলেট এডিশন নামের একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত হয়। দর্শকদের উদ্দেশ্য পুরো সংবাদ হুবহু দেওয়া হলো:- বারবার সরকারি খাস জমি দখলমুক্ত করতে অভিযান, উচ্ছেদ ও জরিমানা আদায়ের পরও পুনরায় দখলের ঘটনা ঘটছে সিলেট সদর উপজেলার খাদিমনগর এলাকায়। এতে করে সরকারি সম্পদ রক্ষা নিয়ে প্রশাসনের কার্যকারিতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডাধীন খাদিমনগর এলাকা, শাহপরাণ (রহ.) থানার অন্তর্ভুক্ত বহর মৌজার (জে.এল নং–৭০) আওতাভুক্ত সরকারি খাস জমিতে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখল ও বেচাকেনার অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট ভূমি রেকর্ড অনুযায়ী, বহর মৌজার ১৪২ নং দাগের মধ্যে মাত্র ৮ একর ৪ শতক জমি বৈধভাবে বন্দোবস্ত লিজ দেওয়া হয় ভারত থেকে বিতাড়িত হয়ে আসা মুহাজির (রিফিউজি) পরিবারগুলোর নামে। অবশিষ্ট প্রায় ৩০ একর ৩০ শতক জমি আজও সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত অবস্থায় রয়েছে।

এছাড়া উছমানী মুক্তিযোদ্ধা আদর্শ গুচ্ছগ্রাম এলাকার ভেতরে ২০০১ নং দাগসহ বিভিন্ন দাগে পাহাড়, টিলা ও পতিত খাস জমি রয়েছে। এসব জমির মধ্যে কেবলমাত্র বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামে নির্দিষ্ট প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অন্য সব জমি এখনো সরকারের মালিকানাধীন খাস জমি হিসেবেই নথিভুক্ত রয়েছে।

ভূমি বন্দোবস্ত সংক্রান্ত দলিল অনুযায়ী, এসব জমি বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পাহাড় বা টিলা কেটে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করতে হলে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র এবং জেলা প্রশাসক, এসিল্যান্ড ও ইউএনও’র পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক। অথচ অভিযোগ রয়েছে—এসব বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে একটি প্রভাবশালী চক্র অনুমোদনবিহীন ও ভুয়া দলিল তৈরি করে সরকারি খাস জমি অবৈধভাবে বেচাকেনা করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বহর কলোনীর কিছু অসাধু ব্যক্তি ও বাইরের প্রভাবশালীরা একত্রিত হয়ে সংঘবদ্ধভাবে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। অভিযোগে উঠে এসেছে কামরুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম (পিতা–মৃত নামর আলী), মানিক (পিতা–কাসেম আলী ওরফে পেনদী), কামরুল উদ্দীন কামালসহ একাধিক দখল কন্ট্রাক্টর গ্রুপের নাম। এরা নিজেদের স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে বাতিল ও অনুমোদনহীন লিজ দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে গত ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখে সরকারি খাস জমিতে অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে খাদিমপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী তহসিলদার ও তার সহযোগীরা। অভিযানে উছমানী মুক্তিযোদ্ধা আদর্শ গুচ্ছগ্রাম এলাকায় অবৈধ কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয় এবং বিষয়টি স্থানীয় সাবেক কাউন্সিলর জয়নাল আবেদীনকে অবহিত করা হয়।

তবে অভিযানের পরও পুনরায় দখলচেষ্টা ও অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ উঠায় স্থানীয় সচেতন মহল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা মনে করছেন, যদি দ্রুত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে সরকারি খাস জমি সম্পূর্ণভাবে প্রভাবশালীদের দখলে চলে যাবে।

এ প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সিলেট জেলা প্রশাসক, এসিল্যান্ড, ইউএনও, তহসিল বিভাগ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সুদৃষ্টি কামনা করা হয়েছে।


সিলেট এডিশন

প্রকাশক ও সম্পাদক:
কামরুল হাসান জুলহাস

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ফলোআপ প্রশাসনের অবহেলায় বারবার উচ্ছেদ ও জরিমানার পরও ভূমিখেকোদের দখলে সরকারি খাস জমি
0:00 / 0:00
1x