উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট :: খাদিমে সরকারী জমি দখলের সংবাদ প্রকাশের পর আরো বেপরোয়া ভূমি ও টিলা খেকোরা। এবার তারা দখলীয় জমিতে বাঁশ দিয়ে ঘর বানাচ্ছে। অবৈধ দখলদারদেরকে সহযোগিতা করছেন সিসিক'র ৩৪ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর জয়নাল আবেদীন বলে অভিযেগ উঠেছে।
স্থানীয়রা জানান সাবেক কাউন্সিলর জয়নাল আবেদীন এর ভাই নাছির গাজী সরকারী খাস খতিয়ানের জমিতে বিল্ডিং করতেছেন যাহা সম্পূর্ণ অবৈধ। পাশা-পাশি কাউন্সিলরের কাছের মানুষ ও বিশ্বস্থ হিসেবে পরিচিত কামরুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম (পিতা–মৃত নামর আলী), মানিক (পিতা–কাসেম আলী ওরফে পেনদী), কামাল উদ্দীন কামাল, ভাড়াটিয়া খুনি ও জেলকাটা আসামী মাদকাসক্ত সন্ত্রাসী সুজন সহ একাধিক দখলবাজ।
বিষয়টি সহকারী কমিশনার ভূমি সিলেট সদরকে জানালে তিনি খাদিমপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী তহসিলদারকে সরজমিন পরিদর্শনে পাঠান। তিনি সরেজমিন গিয়ে সত্যতা পেয়ে অভিযুক্তদের নিষেধ করে কাগজপত্র ভূমি অফিসে নিয়ে আসতে বলেন।
কিন্তু তিনি চলে যাওয়ার পর আবারও দখলবাজরা আবারও ঘর নির্মান শুরু করে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এবিষয়ে জানতে খামিমপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী তহসিলদার এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন আমি কাজ বন্ধ করে দিয়েছি এবং তাদের কাগজপত্র নিয়ে আসতে বলেছি। জমি সরকারী সে কি কাগজ দেখাবে জানতে চাইলে তিনি বলেন এসিল্যান্ড সাহেবের সাথে যোগাযোগ করেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে সহকারী কমিশনার ভূমি সিলেট সদর এর সাথে মুঠোফোনে কয়েকবার যোগাযোগ করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি, পরে তাহার ওয়াটসঅ্যাপে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে দখলীয় ভূমির বিষয়ে কথা বলতে চাই বলে বার্তা পাঠালেও কোন উত্তর পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে সিলেট সদর এর ইউএনওকে মুঠোফোনে কল দিলে তিনি ফোনের লাইন কেটে দেন। পরে তাহার ওয়াটসঅ্যাপে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে দখলীয় ভূমির বিষয়ে বক্তব্য নিতে চাই বলে বার্তা পাঠালে তিনি বিস্তারিত জেনে বক্তব্য দিবেন বলে জানালেও আর বক্তব্য দেননি।
উল্লেখ্য গত ২৬ জানুয়ারী "বারবার উচ্ছেদ ও জরিমানার পরও ফের দখলে সরকারি খাস জমি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা চায় সচেতন মহল" শিরোনামে একটি সংবাদ সিলেট এডিশন নামের একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত হয়। দর্শকদের উদ্দেশ্য পুরো সংবাদ হুবহু দেওয়া হলো:- বারবার সরকারি খাস জমি দখলমুক্ত করতে অভিযান, উচ্ছেদ ও জরিমানা আদায়ের পরও পুনরায় দখলের ঘটনা ঘটছে সিলেট সদর উপজেলার খাদিমনগর এলাকায়। এতে করে সরকারি সম্পদ রক্ষা নিয়ে প্রশাসনের কার্যকারিতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডাধীন খাদিমনগর এলাকা, শাহপরাণ (রহ.) থানার অন্তর্ভুক্ত বহর মৌজার (জে.এল নং–৭০) আওতাভুক্ত সরকারি খাস জমিতে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখল ও বেচাকেনার অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট ভূমি রেকর্ড অনুযায়ী, বহর মৌজার ১৪২ নং দাগের মধ্যে মাত্র ৮ একর ৪ শতক জমি বৈধভাবে বন্দোবস্ত লিজ দেওয়া হয় ভারত থেকে বিতাড়িত হয়ে আসা মুহাজির (রিফিউজি) পরিবারগুলোর নামে। অবশিষ্ট প্রায় ৩০ একর ৩০ শতক জমি আজও সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত অবস্থায় রয়েছে।
এছাড়া উছমানী মুক্তিযোদ্ধা আদর্শ গুচ্ছগ্রাম এলাকার ভেতরে ২০০১ নং দাগসহ বিভিন্ন দাগে পাহাড়, টিলা ও পতিত খাস জমি রয়েছে। এসব জমির মধ্যে কেবলমাত্র বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামে নির্দিষ্ট প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অন্য সব জমি এখনো সরকারের মালিকানাধীন খাস জমি হিসেবেই নথিভুক্ত রয়েছে।
ভূমি বন্দোবস্ত সংক্রান্ত দলিল অনুযায়ী, এসব জমি বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পাহাড় বা টিলা কেটে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করতে হলে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র এবং জেলা প্রশাসক, এসিল্যান্ড ও ইউএনও’র পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক। অথচ অভিযোগ রয়েছে—এসব বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে একটি প্রভাবশালী চক্র অনুমোদনবিহীন ও ভুয়া দলিল তৈরি করে সরকারি খাস জমি অবৈধভাবে বেচাকেনা করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বহর কলোনীর কিছু অসাধু ব্যক্তি ও বাইরের প্রভাবশালীরা একত্রিত হয়ে সংঘবদ্ধভাবে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। অভিযোগে উঠে এসেছে কামরুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম (পিতা–মৃত নামর আলী), মানিক (পিতা–কাসেম আলী ওরফে পেনদী), কামরুল উদ্দীন কামালসহ একাধিক দখল কন্ট্রাক্টর গ্রুপের নাম। এরা নিজেদের স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে বাতিল ও অনুমোদনহীন লিজ দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে গত ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখে সরকারি খাস জমিতে অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে খাদিমপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী তহসিলদার ও তার সহযোগীরা। অভিযানে উছমানী মুক্তিযোদ্ধা আদর্শ গুচ্ছগ্রাম এলাকায় অবৈধ কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয় এবং বিষয়টি স্থানীয় সাবেক কাউন্সিলর জয়নাল আবেদীনকে অবহিত করা হয়।
তবে অভিযানের পরও পুনরায় দখলচেষ্টা ও অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ উঠায় স্থানীয় সচেতন মহল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা মনে করছেন, যদি দ্রুত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে সরকারি খাস জমি সম্পূর্ণভাবে প্রভাবশালীদের দখলে চলে যাবে।
এ প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সিলেট জেলা প্রশাসক, এসিল্যান্ড, ইউএনও, তহসিল বিভাগ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সুদৃষ্টি কামনা করা হয়েছে।