শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বর্জ্য থেকে সম্পদ, নাকি জলাভূমির সর্বনাশ? প্রশ্ন উঠেছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে


সিলেট এডিশন ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২১ পিএম

বর্জ্য থেকে সম্পদ, নাকি জলাভূমির সর্বনাশ? প্রশ্ন উঠেছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে
নিজস্ব প্রতিবেদক: একদিকে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রকল্প, অন্যদিকে সেই বর্জ্যের চাপেই হারিয়ে যাচ্ছে বিল-হাওর, কৃষিজমি ও জলজ পরিবেশ—সিলেটের দক্ষিণ সুরমার পারাইচক ডাম্পিং গ্রাউন্ডকে ঘিরে এমন প্রশ্ন এখন স্থানীয়দের। সিলেট সিটি করপোরেশন বলছে, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নগরীর বর্জ্য পৃথকীকরণ করা হচ্ছে, প্লাস্টিক ও পলিথিন বিকল্প জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের জন্য পাঠানো হচ্ছে এবং ডাম্পিং ইয়ার্ডের চারপাশে রিটেনিং ওয়াল নির্মাণ করায় বর্জ্য আর বাইরে ছড়িয়ে পড়ছে না। ডাম্পিং গ্রাউন্ডের পাশের একসময়কার বিস্তীর্ণ ভাড়েরা বিল এখন বর্জ্য, প্লাস্টিক ও আগাছায় প্রায় নিশ্চিহ্ন। কোথাও কোথাও সরু খালের মতো সামান্য পানি থাকলেও তার রং কুচকুচে কালো। নেই আগের মতো মাছ, নেই জলজ প্রাণের স্বাভাবিক উপস্থিতি। বর্ষাকালেও বিলের বড় অংশ হেঁটে পার হওয়া যায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রশ্ন—যদি বর্জ্য এখন আর ডাম্পিং ইয়ার্ডের বাইরে না যায়, তাহলে বিল ও হাওরে বছরের পর বছর জমে থাকা পুরোনো বর্জ্য সরানোর দায়িত্ব কার? আর আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রকল্প চালু হওয়ার পরও কেন ডাম্পিং এলাকায় বর্জ্যের পাহাড় বাড়ছে? স্থানীয়দের দাবি, একসময় প্রায় ২০ একরজুড়ে বিস্তৃত ভাড়েরা বিলের প্রায় ১৫ একর এখন ভরাট হয়ে গেছে। বর্জ্য ও বিভিন্ন ধরনের কঠিন পদার্থ জমে বিলটির স্বাভাবিক জলধারণ ক্ষমতা নষ্ট হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের। গঙ্গারামের চক গ্রামের বাসিন্দা ও সমাজকর্মী শামীম কবির দীর্ঘদিন ধরে ভাড়েরা বিল রক্ষার আন্দোলন করছেন। তিনি বলেন, “সিসিকের বর্জ্যের কারণে ভাড়েরা বিল ও আশপাশের পাঁচ-ছয়টি হাওর প্রায় বিলীন হয়ে গেছে। প্রায় ২০ একরের বিলের ১৫ একরই ভরাট হয়ে গেছে। বাকি অংশে সামান্য পানি থাকলেও তা কুচকুচে কালো। এখানে এখন মাছ নেই, ধান চাষও করা যায় না।” তার অভিযোগ, ডাম্পিং গ্রাউন্ডের বর্জ্য যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা গেলে বিল ও হাওরের এত বড় ক্ষতি হতো না। ভাড়েরা বিলের চারপাশে অন্তত পাঁচটি মৎস্যজীবী গ্রাম রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব গ্রামের বহু মানুষের প্রধান জীবিকা ছিল মাছ ধরা ও মাছ চাষ। ছিটা গোটাটিকর গ্রামের বাসিন্দারা জানান, প্রায় এক দশক আগেও বিলটি ছিল মাছের অন্যতম উৎস। বছরে কয়েক টন মাছ উৎপাদনের পাশাপাশি আশপাশের প্রায় দুই হাজার একর জমিতে ধান চাষ হতো। এখন সেই চিত্র বদলে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, হাওর ও বিলজুড়ে ছড়িয়ে আছে প্লাস্টিক, পলিথিন, কাচসহ নানা ধরনের বর্জ্য। অনেক জায়গায় কৃষকরা নামতেও ভয় পান। কোথাও কোথাও বর্জ্যের মধ্যে থাকা ভাঙা কাচে পা কেটে আহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে মাছ ও কৃষিনির্ভর বহু পরিবার বাধ্য হয়ে বিকল্প পেশার দিকে ঝুঁকছে। সিলেট সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১০ লাখ মানুষের এই নগরীতে প্রতিদিন গড়ে ৫০০ টন বর্জ্য উৎপন্ন হয়। এর মধ্যে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ টন বর্জ্য সংগ্রহ করে দক্ষিণ সুরমার পারাইচক ডাম্পিং গ্রাউন্ডে নেওয়া হয়। বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়ে সিসিক ও লাফার্জ হোলসিম বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে প্রায় ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপন করা হয় দেশের প্রথম ম্যাটেরিয়াল রিকভারি ফ্যাসিলিটি (এমআরএফ) প্ল্যান্ট। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে উদ্বোধন হওয়া প্ল্যান্টটির উদ্দেশ্য ছিল বর্জ্য পৃথকীকরণের মাধ্যমে পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপাদান উদ্ধার, পরিবেশ দূষণ কমানো এবং ডাম্পিং স্টেশনের ওপর চাপ কমানো। সিসিকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতিদিন ১৫০ টনের বেশি বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে। এর মধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৭০ টন প্লাস্টিক ও পলিথিন আলাদা করে ছাতকের লাফার্জ সিমেন্ট কারখানায় পাঠানো হচ্ছে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের জন্য। প্লাস্টিক যাচ্ছে কারখানায়, অবশিষ্ট বর্জ্যের গন্তব্য কোথায়? বর্জ্য থেকে প্লাস্টিক ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপাদান আলাদা করার পর অবশিষ্ট বিপুল পরিমাণ বর্জ্য কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে—এ প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর চান স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, পৃথকীকরণের পরও বিপুল পরিমাণ বর্জ্য ডাম্পিং স্টেশনেই স্তূপাকারে জমা রাখা হচ্ছে। একই জায়গায় অপ্রক্রিয়াজাত বর্জ্যও ফেলা হচ্ছে। ফলে কমার পরিবর্তে বর্জ্যের পাহাড় দিন দিন বড় হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে—এমআরএফ প্ল্যান্ট ডাম্পিং ইয়ার্ডের চাপ কতটা কমাতে পেরেছে? প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য অনুযায়ী বর্জ্যের চূড়ান্ত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত হয়েছে কি না? স্থানীয়দের অভিযোগ, ডাম্পিং এলাকায় জমে থাকা বর্জ্য থেকে নির্গত দূষিত তরল বৃষ্টির পানির সঙ্গে মিশে আশপাশের কৃষিজমি ও জলাশয়ে ছড়িয়ে পড়ছে। এতে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি তাদের। অভিযোগের বিষয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ একলিম আবেদীন বলেন, আগে ডাম্পিং স্টেশনের বর্জ্য আশপাশের হাওর ও বিলে ছড়িয়ে পড়ত। তবে বর্তমানে ডাম্পিং ইয়ার্ডের চারপাশে সীমানা ও রিটেনিং ওয়াল নির্মাণ করায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন, বর্তমানে প্রতিদিন ১৫০ টনের বেশি বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে এবং প্রায় ৫০ টন প্লাস্টিক আলাদা করা সম্ভব হচ্ছে। তবে বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানির কারণে দেয়াল উপচে কিছু বর্জ্য বাইরে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে বলেও তিনি জানান। এই বক্তব্যের পরও স্থানীয়দের প্রশ্ন—যদি বর্ষার পানিতে এখনো বর্জ্য বাইরে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাহলে বিল ও হাওরকে পুরোপুরি সুরক্ষিত রাখতে কী ধরনের স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, রিটেনিং ওয়াল নির্মাণের কারণে এখন আর বর্জ্য ডাম্পিং ইয়ার্ডের বাইরে যায় না। তিনি জানান, সিলেটে দেশের প্রথম ‘বায়োড্রায়িং প্ল্যান্ট’ স্থাপন করা হচ্ছে। উন্নত প্রযুক্তির এ প্ল্যান্ট বাস্তবায়িত হলে নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন আসবে এবং বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন করা সম্ভব হবে। কিন্তু পরিবেশবাদীদের প্রশ্ন, নতুন প্রযুক্তি ও ভবিষ্যৎ প্রকল্পের অপেক্ষার মধ্যে ইতোমধ্যে যে বিল ও হাওর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেগুলো পুনরুদ্ধারের জন্য কী পরিকল্পনা রয়েছে?পরিবেশবাদীদের অভিযোগ: ‘রক্ষার দায়িত্ব যাদের, ক্ষতির অভিযোগও তাদের বিরুদ্ধে’ পরিবেশবাদী সংগঠন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) সিলেটের সদস্য সচিব আব্দুল করিম কিম বলেন, “সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব যেখানে বিল ও হাওর রক্ষা করা, সেখানে অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কারণে এসব জলাভূমি ক্ষতির মুখে পড়ছে।” তার মতে, এর প্রভাব শুধু ধান ও মাছের উৎপাদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তিনি বলেন, নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সুবিধার জন্য নগরের বাইরের বিপুলসংখ্যক মানুষকে পরিবেশগত ঝুঁকির মধ্যে ফেলা কোনো টেকসই সমাধান হতে পারে না। ভাড়েরা বিল ও আশপাশের হাওর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আলমপুর, মনিপুর, ছিটা গোটাটিকর, গঙ্গারামের চক, গোটাটিকর, হবিনন্দী, গঙ্গানগর, পালপুর, কুচাই ও শ্রীরামপুরসহ অন্তত ১০ এলাকার মানুষ ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। একসময় যে বিলের পানি দিয়ে কৃষকরা ধান চাষ করতেন এবং মৎস্যজীবীরা জীবিকা নির্বাহ করতেন, এখন সেই জলাশয়ের পানি ব্যবহার নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় কুচাই ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য সবুজ কুমার বিশ্বাস বলেন, একসময় বক, পানকৌড়ি, চিলসহ নানা পাখির কলকাকলিতে মুখরিত থাকত ভাড়েরা বিল। প্রতিবছর অনুষ্ঠিত হতো পলো বাওয়া উৎসব। তার ভাষায়, “আজ এমন অবস্থা হয়েছে যে বর্তমান প্রজন্ম হয়তো ভাড়েরা বিলকে চিনতেই পারবে না।” সম্প্রতি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিদর্শনে এসে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সিলেট সিটি করপোরেশনের সঙ্গে লাফার্জ সুরমা হোলসিমের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্পটি ২০২৪ সালে চালু হলেও তা পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। তিনি জানান, প্রকল্পটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে বর্জ্য পরিশোধনের পর প্লাস্টিক অংশ বিকল্প জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হবে এবং অবশিষ্ট বর্জ্যকে জৈব সারে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। ১৬ কোটি টাকার আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের পরও কেন ডাম্পিং এলাকায় বর্জ্যের পাহাড়? প্লাস্টিক আলাদা করার পর বাকি বর্জ্যের কার্যকর ব্যবস্থাপনা কোথায়? বছরের পর বছর বিল ও হাওরে জমে থাকা পুরোনো বর্জ্য সরানোর দায়িত্ব কার? আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—যে ভাড়েরা বিল একসময় হাজারো মানুষের মাছ, ধান ও জীবিকার উৎস ছিল, সেটি কি আবার ফিরিয়ে আনার কোনো বাস্তব পরিকল্পনা আছে? স্থানীয়দের দাবি, নতুন প্রকল্পের ঘোষণা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে ডাম্পিং এলাকার পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন, বিল ও হাওরে জমে থাকা বর্জ্য অপসারণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত জলাভূমি পুনরুদ্ধারে দৃশ্যমান ও সময়বদ্ধ উদ্যোগ নিতে হবে। তা না হলে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার নানা প্রকল্পের মাঝেও সিলেট হারাতে পারে তার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি—ভাড়েরা বিল।

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: /৫ ( ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

নগরীতে বাস্তবায়ন হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

নগরীতে বাস্তবায়ন হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

মহানগরীর মোগলাবাজার থানাধীন খালেরমুখ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১০ হাজার ইয়াবাসহ ৩জন গ্রেফতার

মহানগরীর মোগলাবাজার থানাধীন খালেরমুখ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১০ হাজার ইয়াবাসহ ৩জন গ্রেফতার

শাল্লার কান্দিগাঁও গ্রামের ঐতিহ্যবাহ নৌকা বাইচ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন এমপি নাছির উদ্দিন চৌধুরী

শাল্লার কান্দিগাঁও গ্রামের ঐতিহ্যবাহ নৌকা বাইচ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন এমপি নাছির উদ্দিন চৌধুরী

ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুই সেনাসদস্য নিহত

ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুই সেনাসদস্য নিহত

তালাশ টেলিভিশনে নারীকে শিকল পড়িয়ে হাটিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর তোলপাড়: কিশোরীকে নির্যাতনের ঘটনায় আটক ৩

তালাশ টেলিভিশনে নারীকে শিকল পড়িয়ে হাটিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর তোলপাড়: কিশোরীকে নির্যাতনের ঘটনায় আটক ৩

ওয়েস্ট ওয়ার্ল্ড শপিং সেন্টারে অগ্নিকাণ্ডস্থল পরিদর্শনে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ

ওয়েস্ট ওয়ার্ল্ড শপিং সেন্টারে অগ্নিকাণ্ডস্থল পরিদর্শনে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ

ইসিএ এলাকায় তাণ্ডবের বিরুদ্ধে অভিযান, ধ্বংস ১০ ড্রেজার ও ৬ এক্সকেভেটর

ইসিএ এলাকায় তাণ্ডবের বিরুদ্ধে অভিযান, ধ্বংস ১০ ড্রেজার ও ৬ এক্সকেভেটর

২১৭ কোটি টাকার রেল প্রকল্পে ধীরগতি, মেয়াদ শেষেও বাকি ৭৫ শতাংশ কাজ

২১৭ কোটি টাকার রেল প্রকল্পে ধীরগতি, মেয়াদ শেষেও বাকি ৭৫ শতাংশ কাজ

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান: শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে সেবা চালু

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান: শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে সেবা চালু

কনজিউমার রাইটস বাংলাদেশ-সিআরবি' সিলেট বিভাগীয় শাখার কার্যনির্বাহী কমিটির শপথ গ্রহণ

কনজিউমার রাইটস বাংলাদেশ-সিআরবি' সিলেট বিভাগীয় শাখার কার্যনির্বাহী কমিটির শপথ গ্রহণ

নগরীতে বাস্তবায়ন হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

নগরীতে বাস্তবায়ন হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

মহানগরীর মোগলাবাজার থানাধীন খালেরমুখ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১০ হাজার ইয়াবাসহ ৩জন গ্রেফতার

মহানগরীর মোগলাবাজার থানাধীন খালেরমুখ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১০ হাজার ইয়াবাসহ ৩জন গ্রেফতার

১৫ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতির সিলেট সফর, প্রস্তুতিমূলক সভায় মন্ত্রীর নির্দেশনা

১৫ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতির সিলেট সফর, প্রস্তুতিমূলক সভায় মন্ত্রীর নির্দেশনা

ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুই সেনাসদস্য নিহত

ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুই সেনাসদস্য নিহত

তালাশ টেলিভিশনে নারীকে শিকল পড়িয়ে হাটিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর তোলপাড়: কিশোরীকে নির্যাতনের ঘটনায় আটক ৩

তালাশ টেলিভিশনে নারীকে শিকল পড়িয়ে হাটিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর তোলপাড়: কিশোরীকে নির্যাতনের ঘটনায় আটক ৩

ইসিএ এলাকায় তাণ্ডবের বিরুদ্ধে অভিযান, ধ্বংস ১০ ড্রেজার ও ৬ এক্সকেভেটর

ইসিএ এলাকায় তাণ্ডবের বিরুদ্ধে অভিযান, ধ্বংস ১০ ড্রেজার ও ৬ এক্সকেভেটর

ভ্যান সরানো নিয়ে কথা-কাটাকাটি, পরে যুবককে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ

ভ্যান সরানো নিয়ে কথা-কাটাকাটি, পরে যুবককে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ

খাদিমনগরে সরকারি খাস জমিতে অ্যালুমিনিয়াম কারখানা স্থাপনের অভিযোগ

খাদিমনগরে সরকারি খাস জমিতে অ্যালুমিনিয়াম কারখানা স্থাপনের অভিযোগ

খাদিমনগরে খাস জমি দখলের অভিযোগ, পাহাড় কেটে গড়ে উঠছে প্লট

খাদিমনগরে খাস জমি দখলের অভিযোগ, পাহাড় কেটে গড়ে উঠছে প্লট

সিলেট সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৩৬ লাখ টাকার চোরাচালানি মালামাল জব্দ!

সিলেট সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৩৬ লাখ টাকার চোরাচালানি মালামাল জব্দ!

সিলেট এডিশন

শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বর্জ্য থেকে সম্পদ, নাকি জলাভূমির সর্বনাশ? প্রশ্ন উঠেছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে

প্রকাশের তারিখ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
নিজস্ব প্রতিবেদক: একদিকে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রকল্প, অন্যদিকে সেই বর্জ্যের চাপেই হারিয়ে যাচ্ছে বিল-হাওর, কৃষিজমি ও জলজ পরিবেশ—সিলেটের দক্ষিণ সুরমার পারাইচক ডাম্পিং গ্রাউন্ডকে ঘিরে এমন প্রশ্ন এখন স্থানীয়দের। সিলেট সিটি করপোরেশন বলছে, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নগরীর বর্জ্য পৃথকীকরণ করা হচ্ছে, প্লাস্টিক ও পলিথিন বিকল্প জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের জন্য পাঠানো হচ্ছে এবং ডাম্পিং ইয়ার্ডের চারপাশে রিটেনিং ওয়াল নির্মাণ করায় বর্জ্য আর বাইরে ছড়িয়ে পড়ছে না। ডাম্পিং গ্রাউন্ডের পাশের একসময়কার বিস্তীর্ণ ভাড়েরা বিল এখন বর্জ্য, প্লাস্টিক ও আগাছায় প্রায় নিশ্চিহ্ন। কোথাও কোথাও সরু খালের মতো সামান্য পানি থাকলেও তার রং কুচকুচে কালো। নেই আগের মতো মাছ, নেই জলজ প্রাণের স্বাভাবিক উপস্থিতি। বর্ষাকালেও বিলের বড় অংশ হেঁটে পার হওয়া যায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রশ্ন—যদি বর্জ্য এখন আর ডাম্পিং ইয়ার্ডের বাইরে না যায়, তাহলে বিল ও হাওরে বছরের পর বছর জমে থাকা পুরোনো বর্জ্য সরানোর দায়িত্ব কার? আর আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রকল্প চালু হওয়ার পরও কেন ডাম্পিং এলাকায় বর্জ্যের পাহাড় বাড়ছে? স্থানীয়দের দাবি, একসময় প্রায় ২০ একরজুড়ে বিস্তৃত ভাড়েরা বিলের প্রায় ১৫ একর এখন ভরাট হয়ে গেছে। বর্জ্য ও বিভিন্ন ধরনের কঠিন পদার্থ জমে বিলটির স্বাভাবিক জলধারণ ক্ষমতা নষ্ট হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের। গঙ্গারামের চক গ্রামের বাসিন্দা ও সমাজকর্মী শামীম কবির দীর্ঘদিন ধরে ভাড়েরা বিল রক্ষার আন্দোলন করছেন। তিনি বলেন, “সিসিকের বর্জ্যের কারণে ভাড়েরা বিল ও আশপাশের পাঁচ-ছয়টি হাওর প্রায় বিলীন হয়ে গেছে। প্রায় ২০ একরের বিলের ১৫ একরই ভরাট হয়ে গেছে। বাকি অংশে সামান্য পানি থাকলেও তা কুচকুচে কালো। এখানে এখন মাছ নেই, ধান চাষও করা যায় না।” তার অভিযোগ, ডাম্পিং গ্রাউন্ডের বর্জ্য যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা গেলে বিল ও হাওরের এত বড় ক্ষতি হতো না। ভাড়েরা বিলের চারপাশে অন্তত পাঁচটি মৎস্যজীবী গ্রাম রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব গ্রামের বহু মানুষের প্রধান জীবিকা ছিল মাছ ধরা ও মাছ চাষ। ছিটা গোটাটিকর গ্রামের বাসিন্দারা জানান, প্রায় এক দশক আগেও বিলটি ছিল মাছের অন্যতম উৎস। বছরে কয়েক টন মাছ উৎপাদনের পাশাপাশি আশপাশের প্রায় দুই হাজার একর জমিতে ধান চাষ হতো। এখন সেই চিত্র বদলে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, হাওর ও বিলজুড়ে ছড়িয়ে আছে প্লাস্টিক, পলিথিন, কাচসহ নানা ধরনের বর্জ্য। অনেক জায়গায় কৃষকরা নামতেও ভয় পান। কোথাও কোথাও বর্জ্যের মধ্যে থাকা ভাঙা কাচে পা কেটে আহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে মাছ ও কৃষিনির্ভর বহু পরিবার বাধ্য হয়ে বিকল্প পেশার দিকে ঝুঁকছে। সিলেট সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১০ লাখ মানুষের এই নগরীতে প্রতিদিন গড়ে ৫০০ টন বর্জ্য উৎপন্ন হয়। এর মধ্যে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ টন বর্জ্য সংগ্রহ করে দক্ষিণ সুরমার পারাইচক ডাম্পিং গ্রাউন্ডে নেওয়া হয়। বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়ে সিসিক ও লাফার্জ হোলসিম বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে প্রায় ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপন করা হয় দেশের প্রথম ম্যাটেরিয়াল রিকভারি ফ্যাসিলিটি (এমআরএফ) প্ল্যান্ট। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে উদ্বোধন হওয়া প্ল্যান্টটির উদ্দেশ্য ছিল বর্জ্য পৃথকীকরণের মাধ্যমে পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপাদান উদ্ধার, পরিবেশ দূষণ কমানো এবং ডাম্পিং স্টেশনের ওপর চাপ কমানো। সিসিকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতিদিন ১৫০ টনের বেশি বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে। এর মধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৭০ টন প্লাস্টিক ও পলিথিন আলাদা করে ছাতকের লাফার্জ সিমেন্ট কারখানায় পাঠানো হচ্ছে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের জন্য। প্লাস্টিক যাচ্ছে কারখানায়, অবশিষ্ট বর্জ্যের গন্তব্য কোথায়? বর্জ্য থেকে প্লাস্টিক ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপাদান আলাদা করার পর অবশিষ্ট বিপুল পরিমাণ বর্জ্য কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে—এ প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর চান স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, পৃথকীকরণের পরও বিপুল পরিমাণ বর্জ্য ডাম্পিং স্টেশনেই স্তূপাকারে জমা রাখা হচ্ছে। একই জায়গায় অপ্রক্রিয়াজাত বর্জ্যও ফেলা হচ্ছে। ফলে কমার পরিবর্তে বর্জ্যের পাহাড় দিন দিন বড় হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে—এমআরএফ প্ল্যান্ট ডাম্পিং ইয়ার্ডের চাপ কতটা কমাতে পেরেছে? প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য অনুযায়ী বর্জ্যের চূড়ান্ত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত হয়েছে কি না? স্থানীয়দের অভিযোগ, ডাম্পিং এলাকায় জমে থাকা বর্জ্য থেকে নির্গত দূষিত তরল বৃষ্টির পানির সঙ্গে মিশে আশপাশের কৃষিজমি ও জলাশয়ে ছড়িয়ে পড়ছে। এতে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি তাদের। অভিযোগের বিষয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ একলিম আবেদীন বলেন, আগে ডাম্পিং স্টেশনের বর্জ্য আশপাশের হাওর ও বিলে ছড়িয়ে পড়ত। তবে বর্তমানে ডাম্পিং ইয়ার্ডের চারপাশে সীমানা ও রিটেনিং ওয়াল নির্মাণ করায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন, বর্তমানে প্রতিদিন ১৫০ টনের বেশি বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে এবং প্রায় ৫০ টন প্লাস্টিক আলাদা করা সম্ভব হচ্ছে। তবে বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানির কারণে দেয়াল উপচে কিছু বর্জ্য বাইরে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে বলেও তিনি জানান। এই বক্তব্যের পরও স্থানীয়দের প্রশ্ন—যদি বর্ষার পানিতে এখনো বর্জ্য বাইরে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাহলে বিল ও হাওরকে পুরোপুরি সুরক্ষিত রাখতে কী ধরনের স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, রিটেনিং ওয়াল নির্মাণের কারণে এখন আর বর্জ্য ডাম্পিং ইয়ার্ডের বাইরে যায় না। তিনি জানান, সিলেটে দেশের প্রথম ‘বায়োড্রায়িং প্ল্যান্ট’ স্থাপন করা হচ্ছে। উন্নত প্রযুক্তির এ প্ল্যান্ট বাস্তবায়িত হলে নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন আসবে এবং বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন করা সম্ভব হবে। কিন্তু পরিবেশবাদীদের প্রশ্ন, নতুন প্রযুক্তি ও ভবিষ্যৎ প্রকল্পের অপেক্ষার মধ্যে ইতোমধ্যে যে বিল ও হাওর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেগুলো পুনরুদ্ধারের জন্য কী পরিকল্পনা রয়েছে?পরিবেশবাদীদের অভিযোগ: ‘রক্ষার দায়িত্ব যাদের, ক্ষতির অভিযোগও তাদের বিরুদ্ধে’ পরিবেশবাদী সংগঠন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) সিলেটের সদস্য সচিব আব্দুল করিম কিম বলেন, “সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব যেখানে বিল ও হাওর রক্ষা করা, সেখানে অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কারণে এসব জলাভূমি ক্ষতির মুখে পড়ছে।” তার মতে, এর প্রভাব শুধু ধান ও মাছের উৎপাদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তিনি বলেন, নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সুবিধার জন্য নগরের বাইরের বিপুলসংখ্যক মানুষকে পরিবেশগত ঝুঁকির মধ্যে ফেলা কোনো টেকসই সমাধান হতে পারে না। ভাড়েরা বিল ও আশপাশের হাওর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আলমপুর, মনিপুর, ছিটা গোটাটিকর, গঙ্গারামের চক, গোটাটিকর, হবিনন্দী, গঙ্গানগর, পালপুর, কুচাই ও শ্রীরামপুরসহ অন্তত ১০ এলাকার মানুষ ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। একসময় যে বিলের পানি দিয়ে কৃষকরা ধান চাষ করতেন এবং মৎস্যজীবীরা জীবিকা নির্বাহ করতেন, এখন সেই জলাশয়ের পানি ব্যবহার নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় কুচাই ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য সবুজ কুমার বিশ্বাস বলেন, একসময় বক, পানকৌড়ি, চিলসহ নানা পাখির কলকাকলিতে মুখরিত থাকত ভাড়েরা বিল। প্রতিবছর অনুষ্ঠিত হতো পলো বাওয়া উৎসব। তার ভাষায়, “আজ এমন অবস্থা হয়েছে যে বর্তমান প্রজন্ম হয়তো ভাড়েরা বিলকে চিনতেই পারবে না।” সম্প্রতি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিদর্শনে এসে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সিলেট সিটি করপোরেশনের সঙ্গে লাফার্জ সুরমা হোলসিমের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্পটি ২০২৪ সালে চালু হলেও তা পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। তিনি জানান, প্রকল্পটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে বর্জ্য পরিশোধনের পর প্লাস্টিক অংশ বিকল্প জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হবে এবং অবশিষ্ট বর্জ্যকে জৈব সারে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। ১৬ কোটি টাকার আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের পরও কেন ডাম্পিং এলাকায় বর্জ্যের পাহাড়? প্লাস্টিক আলাদা করার পর বাকি বর্জ্যের কার্যকর ব্যবস্থাপনা কোথায়? বছরের পর বছর বিল ও হাওরে জমে থাকা পুরোনো বর্জ্য সরানোর দায়িত্ব কার? আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—যে ভাড়েরা বিল একসময় হাজারো মানুষের মাছ, ধান ও জীবিকার উৎস ছিল, সেটি কি আবার ফিরিয়ে আনার কোনো বাস্তব পরিকল্পনা আছে? স্থানীয়দের দাবি, নতুন প্রকল্পের ঘোষণা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে ডাম্পিং এলাকার পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন, বিল ও হাওরে জমে থাকা বর্জ্য অপসারণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত জলাভূমি পুনরুদ্ধারে দৃশ্যমান ও সময়বদ্ধ উদ্যোগ নিতে হবে। তা না হলে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার নানা প্রকল্পের মাঝেও সিলেট হারাতে পারে তার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি—ভাড়েরা বিল।

সিলেট এডিশন

প্রকাশক ও সম্পাদক:
কামরুল হাসান জুলহাস

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
বর্জ্য থেকে সম্পদ, নাকি জলাভূমির সর্বনাশ? প্রশ্ন উঠেছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে
0:00 / 0:00
1x