শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সিলেটে বর্ধিত নগরে ৫ বছরেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি বেড়েছে করের বোঝা


সিলেট এডিশন ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২ আগস্ট ২০২৬, ০২:৩৬ পিএম

সিলেটে বর্ধিত নগরে ৫ বছরেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি বেড়েছে করের বোঝা
নিজস্ব প্রতিবেদক: সাড়ে ২৬ বর্গকিলোমিটারের সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) আয়তন এখন সাড়ে ৭৯ কিলোমিটার। বেড়েছে ওয়ার্ডের সংখ্যা। বর্ধিত নগরে যুক্ত হয়েছে সিলেট সদর ও দক্ষিণ সুরমা উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন। নগরের অন্তর্ভূক্ত হওয়া নিয়ে শুরুতে বর্ধিত এলাকার মানুষ ছিলেন উচ্ছ্বসিত। স্বপ্ন ছিল আধুনিক নগরায়নের। কিন্তু সিসিকের আওতাভূক্ত হওয়ার ৫ বছর হয়ে গেলেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি বর্ধিত নগর এলাকায়। উল্টো বেড়েছে দুর্ভোগ। নাগরিক সুবিধা না বাড়লেও গুনতে হচ্ছে বর্ধিত ট্যাক্স। আগে জেলা পরিষদ, উপজেলা প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদ এসব এলাকার উন্নয়ন কাজ পরিচালনা করলেও সিসিকের আওতাভূক্ত হওয়ার পর থমকে গেছে সকল কর্মকাণ্ড। তবে, সিসিক কর্তৃপক্ষ বলছে, বর্ধিত নগরে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছে। যোগাযোগ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নকে প্রাধান্য দিয়েই চলছে কাজ। সড়ক প্রশস্ত ও ড্রেন নির্মাণ করতে গিয়ে কিছুটা প্রতিবন্ধকতায়ও পড়তে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সিসিক সূত্র জানায়, ২০২১ সালের ২৬ জুলাই জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় সিলেট সিটি করপোরেশন সম্প্রসারণ প্রস্তাব অনুমোদন হয়। একই বছরের ৩১ আগস্ট সিসিকের এলাকা সম্প্রসারণ করে গেজেট প্রকাশ করা হয়। এই গেজেটের মাধ্যমে সিসিকের আয়তন বৃদ্ধি পায় ৫৩ বর্গকিলোমিটার। সিসিকের পুরনো আয়তনের সাথে যুক্ত হয় সদর উপজেলার পুরো টুলটিকর ইউনিয়ন এবং টুকেরবাজার ও খাদিমনগরের একাংশ, দক্ষিণ সুরমা উপজেলার পুরো কুচাই ইউনিয়ন এবং বরইকান্দি, তেতলি ও সিলাম ইউনিয়নের একাংশ। নতুন এলাকা যুক্ত হওয়ার পর ২৭ থেকে ৪২ ওয়ার্ডে উন্নিত হয় সিসিক। কিন্তু নগরের আওতায় আসলেও বর্ধিত এই ১৫ ওয়ার্ডের মানুষ এখনো নাগরিক সুবিধাবঞ্চিত। সিসিকের আওতায় আসার পরই বেড়ে গেছে ট্রেড লাইসেন্স ও হোল্ডিং ট্যাক্সসহ সব ধরণের কর। বন্ধ হয়ে গেছে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড। এখন রাস্তাঘাট, কালভার্ট, ড্রেনসহ সবধরণের উন্নয়নের জন্য এখন নতুন নগরের লোকজনকে চেয়ে থাকতে হচ্ছে সিসিকের দিকে। কিন্তু মাস্টারপ্ল্যান পাশ না হওয়া এবং অপ্রতুল বরাদ্দসহ নানা প্রতিবন্ধকতায় কাঙ্খিত উন্নয়ন শুরু করতে পারেনি সিসিক। নতুন নগরের কয়েকটি এলাকার বাসিন্দাদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, বর্ষায় অনেক এলাকার কাচা রাস্তায় কাদা জমে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অনেক পাকা রাস্তার পিচ উঠে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক এলাকার ইট সলিং রাস্তাও বেহাল। এছাড়া বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে না ওঠায় স্থানীয়রা যেখানে সেখানে ময়লার ভাগাড় তৈরি করেছেন। ছড়া ও খালে দেদারছে ফেলছেন ময়লা। বর্ধিত নগরের ময়লা আবর্জনা সংগ্রহ করে তা নির্ধারিত ডাম্পিং স্টেশনে নিয়ে যাওয়ার মতো ব্যবস্থাও করতে পারেনি সিসিক। এতে মারাত্মকভাবে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ। বর্ধিত নগরের কোথাও সেভাবে সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা যায়নি, ঠিক একইভাবে বর্ষায় পানি নিষ্কাশনেরও উপযুক্ত ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। এতে খাবার পানির সাথে জলাবদ্ধতার অভিশাপে ভূগছেন বর্ধিত নগরের বাসিন্দারা। এছাড়া সড়ক বাতির অভাবে সন্ধ্যা হলেই এসব এলাকার রাস্তাঘাট অন্ধকারে ডুবে যায়। তবে সিসিক কর্তৃপক্ষ বলছে, বর্ধিত এলাকা এতোদিন অবহেলিত থাকলেও এখন উন্নয়নের ছোঁয়া লাগছে। বর্তমান প্রশাসক আবদুল কাইয়ূম চৌধুরী দায়িত্ব নেওয়ার পর বেশ কয়েকটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে ধাপে ধাপে নতুন এলাকায় নাগরিক সুবিধা বাড়বে। সিসিকের প্রকৌশল শাখা জানায়, বর্ধিত নগরের উন্নয়নে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার প্রকল্প পাশ হয়। সরকার থেকে বরাদ্দ পাওয়া এ টাকা দিয়ে বর্ধিত এলাকার উন্নয়ন শুরু হয়েছে। শুরুতে সড়ক ও ড্রেন নির্মাণের কাজকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। প্রায় সকল ওয়ার্ডে ড্রেন নির্মাণের কাজ চলছে। ড্রেন হলেই শুরু হবে রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ। এরপর বসানো হবে সড়কবাতি। এই প্রকল্পের কাজ ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও আরও একবছর সময় বাড়ানোর জন্য সময় চেয়েছে সিসিক। সিসিকের প্রধান প্রকৌশলী আলী আকবর জানান, বর্ধিত নগরের জন্য ৪ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন। উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর ডিপিপি প্রস্তুত করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত যে বরাদ্দ পাওয়া গেছে সেগুলো দিয়ে সড়ক ও ড্রেনের কাজ চলছে। কিছু কিছু স্থানে সড়ক ও ড্রেনের কাজ শেষ করে সড়কবাতি বসানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৩৪, ৩৫ ও ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে ড্রেন নির্মাণ কাজের বেশ অগ্রগতি হয়েছে। সিসিক প্রশাসক আবদুল কাইয়ূম চৌধুরী বলেন, বর্ধিত এলাকার প্রায় সবকটি ওয়ার্ডে ড্রেন ও সড়কের কাজ চলছে। মন্ত্রণালয় থেকে ৫০০ কোটি টাকা পাওয়া গেছে। আরও কয়েকটি প্রকল্প পাশের অপেক্ষায় আছে। ড্রেন ও সড়ক নির্মাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু নতুন এলাকার বেশিরভাগ সড়ক ৬ ফুট বা তার চেয়ে কম প্রশস্ত। সিটি করপোরেশনের স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী ড্রেন ও সড়ক মিলিয়ে ২০ ফুট জায়গার প্রয়োজন। অনেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে জায়গা ছেড়ে দিচ্ছেন, আবার কেউ ছাড়তে রাজি নয়। এজন্য কিছুটা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।  

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: /৫ ( ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

নগরীতে বাস্তবায়ন হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

নগরীতে বাস্তবায়ন হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

মহানগরীর মোগলাবাজার থানাধীন খালেরমুখ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১০ হাজার ইয়াবাসহ ৩জন গ্রেফতার

মহানগরীর মোগলাবাজার থানাধীন খালেরমুখ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১০ হাজার ইয়াবাসহ ৩জন গ্রেফতার

শাল্লার কান্দিগাঁও গ্রামের ঐতিহ্যবাহ নৌকা বাইচ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন এমপি নাছির উদ্দিন চৌধুরী

শাল্লার কান্দিগাঁও গ্রামের ঐতিহ্যবাহ নৌকা বাইচ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন এমপি নাছির উদ্দিন চৌধুরী

ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুই সেনাসদস্য নিহত

ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুই সেনাসদস্য নিহত

তালাশ টেলিভিশনে নারীকে শিকল পড়িয়ে হাটিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর তোলপাড়: কিশোরীকে নির্যাতনের ঘটনায় আটক ৩

তালাশ টেলিভিশনে নারীকে শিকল পড়িয়ে হাটিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর তোলপাড়: কিশোরীকে নির্যাতনের ঘটনায় আটক ৩

ওয়েস্ট ওয়ার্ল্ড শপিং সেন্টারে অগ্নিকাণ্ডস্থল পরিদর্শনে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ

ওয়েস্ট ওয়ার্ল্ড শপিং সেন্টারে অগ্নিকাণ্ডস্থল পরিদর্শনে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ

ইসিএ এলাকায় তাণ্ডবের বিরুদ্ধে অভিযান, ধ্বংস ১০ ড্রেজার ও ৬ এক্সকেভেটর

ইসিএ এলাকায় তাণ্ডবের বিরুদ্ধে অভিযান, ধ্বংস ১০ ড্রেজার ও ৬ এক্সকেভেটর

২১৭ কোটি টাকার রেল প্রকল্পে ধীরগতি, মেয়াদ শেষেও বাকি ৭৫ শতাংশ কাজ

২১৭ কোটি টাকার রেল প্রকল্পে ধীরগতি, মেয়াদ শেষেও বাকি ৭৫ শতাংশ কাজ

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান: শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে সেবা চালু

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান: শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে সেবা চালু

কনজিউমার রাইটস বাংলাদেশ-সিআরবি' সিলেট বিভাগীয় শাখার কার্যনির্বাহী কমিটির শপথ গ্রহণ

কনজিউমার রাইটস বাংলাদেশ-সিআরবি' সিলেট বিভাগীয় শাখার কার্যনির্বাহী কমিটির শপথ গ্রহণ

নগরীতে বাস্তবায়ন হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

নগরীতে বাস্তবায়ন হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

মহানগরীর মোগলাবাজার থানাধীন খালেরমুখ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১০ হাজার ইয়াবাসহ ৩জন গ্রেফতার

মহানগরীর মোগলাবাজার থানাধীন খালেরমুখ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১০ হাজার ইয়াবাসহ ৩জন গ্রেফতার

১৫ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতির সিলেট সফর, প্রস্তুতিমূলক সভায় মন্ত্রীর নির্দেশনা

১৫ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতির সিলেট সফর, প্রস্তুতিমূলক সভায় মন্ত্রীর নির্দেশনা

ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুই সেনাসদস্য নিহত

ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুই সেনাসদস্য নিহত

তালাশ টেলিভিশনে নারীকে শিকল পড়িয়ে হাটিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর তোলপাড়: কিশোরীকে নির্যাতনের ঘটনায় আটক ৩

তালাশ টেলিভিশনে নারীকে শিকল পড়িয়ে হাটিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর তোলপাড়: কিশোরীকে নির্যাতনের ঘটনায় আটক ৩

ইসিএ এলাকায় তাণ্ডবের বিরুদ্ধে অভিযান, ধ্বংস ১০ ড্রেজার ও ৬ এক্সকেভেটর

ইসিএ এলাকায় তাণ্ডবের বিরুদ্ধে অভিযান, ধ্বংস ১০ ড্রেজার ও ৬ এক্সকেভেটর

ভ্যান সরানো নিয়ে কথা-কাটাকাটি, পরে যুবককে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ

ভ্যান সরানো নিয়ে কথা-কাটাকাটি, পরে যুবককে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ

খাদিমনগরে সরকারি খাস জমিতে অ্যালুমিনিয়াম কারখানা স্থাপনের অভিযোগ

খাদিমনগরে সরকারি খাস জমিতে অ্যালুমিনিয়াম কারখানা স্থাপনের অভিযোগ

খাদিমনগরে খাস জমি দখলের অভিযোগ, পাহাড় কেটে গড়ে উঠছে প্লট

খাদিমনগরে খাস জমি দখলের অভিযোগ, পাহাড় কেটে গড়ে উঠছে প্লট

সিলেট সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৩৬ লাখ টাকার চোরাচালানি মালামাল জব্দ!

সিলেট সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৩৬ লাখ টাকার চোরাচালানি মালামাল জব্দ!

সিলেট এডিশন

শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সিলেটে বর্ধিত নগরে ৫ বছরেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি বেড়েছে করের বোঝা

প্রকাশের তারিখ : ০২ আগস্ট ২০২৬

featured Image
নিজস্ব প্রতিবেদক: সাড়ে ২৬ বর্গকিলোমিটারের সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) আয়তন এখন সাড়ে ৭৯ কিলোমিটার। বেড়েছে ওয়ার্ডের সংখ্যা। বর্ধিত নগরে যুক্ত হয়েছে সিলেট সদর ও দক্ষিণ সুরমা উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন। নগরের অন্তর্ভূক্ত হওয়া নিয়ে শুরুতে বর্ধিত এলাকার মানুষ ছিলেন উচ্ছ্বসিত। স্বপ্ন ছিল আধুনিক নগরায়নের। কিন্তু সিসিকের আওতাভূক্ত হওয়ার ৫ বছর হয়ে গেলেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি বর্ধিত নগর এলাকায়। উল্টো বেড়েছে দুর্ভোগ। নাগরিক সুবিধা না বাড়লেও গুনতে হচ্ছে বর্ধিত ট্যাক্স। আগে জেলা পরিষদ, উপজেলা প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদ এসব এলাকার উন্নয়ন কাজ পরিচালনা করলেও সিসিকের আওতাভূক্ত হওয়ার পর থমকে গেছে সকল কর্মকাণ্ড। তবে, সিসিক কর্তৃপক্ষ বলছে, বর্ধিত নগরে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছে। যোগাযোগ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নকে প্রাধান্য দিয়েই চলছে কাজ। সড়ক প্রশস্ত ও ড্রেন নির্মাণ করতে গিয়ে কিছুটা প্রতিবন্ধকতায়ও পড়তে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সিসিক সূত্র জানায়, ২০২১ সালের ২৬ জুলাই জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় সিলেট সিটি করপোরেশন সম্প্রসারণ প্রস্তাব অনুমোদন হয়। একই বছরের ৩১ আগস্ট সিসিকের এলাকা সম্প্রসারণ করে গেজেট প্রকাশ করা হয়। এই গেজেটের মাধ্যমে সিসিকের আয়তন বৃদ্ধি পায় ৫৩ বর্গকিলোমিটার। সিসিকের পুরনো আয়তনের সাথে যুক্ত হয় সদর উপজেলার পুরো টুলটিকর ইউনিয়ন এবং টুকেরবাজার ও খাদিমনগরের একাংশ, দক্ষিণ সুরমা উপজেলার পুরো কুচাই ইউনিয়ন এবং বরইকান্দি, তেতলি ও সিলাম ইউনিয়নের একাংশ। নতুন এলাকা যুক্ত হওয়ার পর ২৭ থেকে ৪২ ওয়ার্ডে উন্নিত হয় সিসিক। কিন্তু নগরের আওতায় আসলেও বর্ধিত এই ১৫ ওয়ার্ডের মানুষ এখনো নাগরিক সুবিধাবঞ্চিত। সিসিকের আওতায় আসার পরই বেড়ে গেছে ট্রেড লাইসেন্স ও হোল্ডিং ট্যাক্সসহ সব ধরণের কর। বন্ধ হয়ে গেছে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড। এখন রাস্তাঘাট, কালভার্ট, ড্রেনসহ সবধরণের উন্নয়নের জন্য এখন নতুন নগরের লোকজনকে চেয়ে থাকতে হচ্ছে সিসিকের দিকে। কিন্তু মাস্টারপ্ল্যান পাশ না হওয়া এবং অপ্রতুল বরাদ্দসহ নানা প্রতিবন্ধকতায় কাঙ্খিত উন্নয়ন শুরু করতে পারেনি সিসিক। নতুন নগরের কয়েকটি এলাকার বাসিন্দাদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, বর্ষায় অনেক এলাকার কাচা রাস্তায় কাদা জমে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অনেক পাকা রাস্তার পিচ উঠে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক এলাকার ইট সলিং রাস্তাও বেহাল। এছাড়া বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে না ওঠায় স্থানীয়রা যেখানে সেখানে ময়লার ভাগাড় তৈরি করেছেন। ছড়া ও খালে দেদারছে ফেলছেন ময়লা। বর্ধিত নগরের ময়লা আবর্জনা সংগ্রহ করে তা নির্ধারিত ডাম্পিং স্টেশনে নিয়ে যাওয়ার মতো ব্যবস্থাও করতে পারেনি সিসিক। এতে মারাত্মকভাবে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ। বর্ধিত নগরের কোথাও সেভাবে সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা যায়নি, ঠিক একইভাবে বর্ষায় পানি নিষ্কাশনেরও উপযুক্ত ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। এতে খাবার পানির সাথে জলাবদ্ধতার অভিশাপে ভূগছেন বর্ধিত নগরের বাসিন্দারা। এছাড়া সড়ক বাতির অভাবে সন্ধ্যা হলেই এসব এলাকার রাস্তাঘাট অন্ধকারে ডুবে যায়। তবে সিসিক কর্তৃপক্ষ বলছে, বর্ধিত এলাকা এতোদিন অবহেলিত থাকলেও এখন উন্নয়নের ছোঁয়া লাগছে। বর্তমান প্রশাসক আবদুল কাইয়ূম চৌধুরী দায়িত্ব নেওয়ার পর বেশ কয়েকটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে ধাপে ধাপে নতুন এলাকায় নাগরিক সুবিধা বাড়বে। সিসিকের প্রকৌশল শাখা জানায়, বর্ধিত নগরের উন্নয়নে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার প্রকল্প পাশ হয়। সরকার থেকে বরাদ্দ পাওয়া এ টাকা দিয়ে বর্ধিত এলাকার উন্নয়ন শুরু হয়েছে। শুরুতে সড়ক ও ড্রেন নির্মাণের কাজকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। প্রায় সকল ওয়ার্ডে ড্রেন নির্মাণের কাজ চলছে। ড্রেন হলেই শুরু হবে রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ। এরপর বসানো হবে সড়কবাতি। এই প্রকল্পের কাজ ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও আরও একবছর সময় বাড়ানোর জন্য সময় চেয়েছে সিসিক। সিসিকের প্রধান প্রকৌশলী আলী আকবর জানান, বর্ধিত নগরের জন্য ৪ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন। উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর ডিপিপি প্রস্তুত করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত যে বরাদ্দ পাওয়া গেছে সেগুলো দিয়ে সড়ক ও ড্রেনের কাজ চলছে। কিছু কিছু স্থানে সড়ক ও ড্রেনের কাজ শেষ করে সড়কবাতি বসানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৩৪, ৩৫ ও ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে ড্রেন নির্মাণ কাজের বেশ অগ্রগতি হয়েছে। সিসিক প্রশাসক আবদুল কাইয়ূম চৌধুরী বলেন, বর্ধিত এলাকার প্রায় সবকটি ওয়ার্ডে ড্রেন ও সড়কের কাজ চলছে। মন্ত্রণালয় থেকে ৫০০ কোটি টাকা পাওয়া গেছে। আরও কয়েকটি প্রকল্প পাশের অপেক্ষায় আছে। ড্রেন ও সড়ক নির্মাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু নতুন এলাকার বেশিরভাগ সড়ক ৬ ফুট বা তার চেয়ে কম প্রশস্ত। সিটি করপোরেশনের স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী ড্রেন ও সড়ক মিলিয়ে ২০ ফুট জায়গার প্রয়োজন। অনেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে জায়গা ছেড়ে দিচ্ছেন, আবার কেউ ছাড়তে রাজি নয়। এজন্য কিছুটা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।  

সিলেট এডিশন

প্রকাশক ও সম্পাদক:
কামরুল হাসান জুলহাস

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
সিলেটে বর্ধিত নগরে ৫ বছরেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি বেড়েছে করের বোঝা
0:00 / 0:00
1x