সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

ইটভাটা নিয়ন্ত্রণে শুধু সভা নয়, চাই কঠোর বাস্তবায়ন


প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০৮ পিএম

ইটভাটা নিয়ন্ত্রণে শুধু সভা নয়, চাই কঠোর বাস্তবায়ন

সিলেটে পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৯) যথাযথভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইটভাটা মালিকদের সঙ্গে পরিবেশ অধিদপ্তরের মতবিনিময় সভা নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। দীর্ঘদিন ধরে ইটভাটার ধোঁয়া, অপরিকল্পিত অবস্থান, কৃষিজমির মাটি ব্যবহার এবং জ্বালানি কাঠ পোড়ানোর মতো কর্মকাণ্ড পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে আছে। তাই আইন মেনে ইটভাটা পরিচালনার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সচেতন করা জরুরি।

তবে বাস্তবতা হলো, শুধু সভা, আলোচনা কিংবা সতর্কবার্তা দিয়ে ইটভাটার দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। প্রয়োজন আইনের কার্যকর প্রয়োগ এবং নিয়মিত নজরদারি। বৈধ লাইসেন্স ছাড়া ইটভাটা পরিচালনা, অনুমোদিত উৎসের বাইরে থেকে মাটি সংগ্রহ, জ্বালানি কাঠ ব্যবহার কিংবা নির্ধারিত দূরত্ব ও পরিবেশগত শর্ত অমান্য করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে বৈধভাবে পরিচালিত ইটভাটাগুলোকেও নির্ধারিত পরিবেশগত মান বজায় রাখতে বাধ্য করতে হবে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে পোড়ানো ইটের পরিবর্তে ব্লক ইট উৎপাদনের দিকে যাওয়ার আহ্বান সময়োপযোগী। কারণ নির্মাণ খাতে পরিবেশবান্ধব বিকল্প বাড়ানো না গেলে ইটভাটার ওপর নির্ভরতা কমানো কঠিন হবে। তবে প্রযুক্তিগত রূপান্তরের ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের বাস্তব সক্ষমতা, বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তা এবং পর্যাপ্ত সময়ের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

মতবিনিময় সভায় ইটভাটা মালিকদের পক্ষ থেকেও কয়লার সালফারের মাত্রা, নদীর পলি ও খাল খননের মাটি ব্যবহারের সুযোগ এবং ইটভাটার দূরত্বসংক্রান্ত বিধান নিয়ে বিভিন্ন মতামত দেওয়া হয়েছে। এসব বিষয়কে শুধু দাবি হিসেবে না দেখে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত আইন ও পরিবেশগত বাস্তবতার আলোকে প্রতিটি প্রস্তাব পর্যালোচনা করা। বিশেষ করে নদী ও খাল খননের মাটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে পরিবেশের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব এবং মাটি সংগ্রহের বৈধতা নিশ্চিত করা জরুরি।

ইটভাটা শিল্পের সঙ্গে কর্মসংস্থান ও নির্মাণ খাতের সরবরাহব্যবস্থা জড়িত—এ বাস্তবতাও অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কিন্তু অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার নামে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি মেনে নেওয়া যায় না। উন্নয়ন ও পরিবেশ সুরক্ষার মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠাই হতে হবে নীতিনির্ধারণের মূল লক্ষ্য।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ করতে হবে। কোনো ইটভাটা মালিক যেন প্রভাব, পরিচয় বা অন্য কোনো কারণে ছাড় না পান; আবার বৈধভাবে পরিচালিত উদ্যোক্তারাও যেন অযথা হয়রানির শিকার না হন। নিয়মিত পরিদর্শন, স্বচ্ছ লাইসেন্স ব্যবস্থা, পরিবেশগত মান যাচাই এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা—এই চারটি বিষয় নিশ্চিত করা গেলে পরিস্থিতির বাস্তব পরিবর্তন সম্ভব।

সিলেটে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভাটি তাই কেবল একটি আনুষ্ঠানিক সভা হয়ে না থেকে কার্যকর কর্মপরিকল্পনার সূচনা হওয়া উচিত। অবৈধ ইটভাটা বন্ধ, বৈধ ভাটায় কঠোর পরিবেশগত মান নিশ্চিত এবং ধাপে ধাপে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে রূপান্তরের জন্য প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ। পরিবেশ অধিদপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা এবং ইটভাটা মালিকদের সম্মিলিত দায়িত্বশীল ভূমিকার মাধ্যমেই এ উদ্যোগ সফল হতে পারে।

পরিবেশ রক্ষার প্রশ্নে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। সভায় দেওয়া নির্দেশনা যদি মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়িত হয়, তবেই ইটভাটা নিয়ন্ত্রণে এই উদ্যোগের প্রকৃত সাফল্য আসবে।

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

লিজ থেকে মামলা, মামলা থেকে দখল—বহর মৌজার খাস জমির গল্প

লিজ থেকে মামলা, মামলা থেকে দখল—বহর মৌজার খাস জমির গল্প

বহর-খাদিমনগরে চা-বাগান ও খাস ভূমি নিয়ে দখল-বেচাকেনার অভিযোগ

বহর-খাদিমনগরে চা-বাগান ও খাস ভূমি নিয়ে দখল-বেচাকেনার অভিযোগ

মুক্তিযোদ্ধাদের প্লটেও থাবা, টিলা কেটে চলছে স্থাপনা নির্মাণ

মুক্তিযোদ্ধাদের প্লটেও থাবা, টিলা কেটে চলছে স্থাপনা নির্মাণ

সিলেটে আদালতে মামলা চলমান, তবুও খাস জমি দখল ও স্ট্যাম্পে বেচাকেনার অভিযোগ খোকনের বিরুদ্ধে ‎

সিলেটে আদালতে মামলা চলমান, তবুও খাস জমি দখল ও স্ট্যাম্পে বেচাকেনার অভিযোগ খোকনের বিরুদ্ধে ‎

ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ: আশ্বাসে মেলেনি সমাধান, শহীদ মিনারে কর্মসূচি

ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ: আশ্বাসে মেলেনি সমাধান, শহীদ মিনারে কর্মসূচি

শাল্লার কান্দিগাঁও গ্রামের ঐতিহ্যবাহ নৌকা বাইচ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন এমপি নাছির উদ্দিন চৌধুরী

শাল্লার কান্দিগাঁও গ্রামের ঐতিহ্যবাহ নৌকা বাইচ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন এমপি নাছির উদ্দিন চৌধুরী

ওয়েস্ট ওয়ার্ল্ড শপিং সেন্টারে অগ্নিকাণ্ডস্থল পরিদর্শনে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ

ওয়েস্ট ওয়ার্ল্ড শপিং সেন্টারে অগ্নিকাণ্ডস্থল পরিদর্শনে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ

২১৭ কোটি টাকার রেল প্রকল্পে ধীরগতি, মেয়াদ শেষেও বাকি ৭৫ শতাংশ কাজ

২১৭ কোটি টাকার রেল প্রকল্পে ধীরগতি, মেয়াদ শেষেও বাকি ৭৫ শতাংশ কাজ

মহানগরীর মোগলাবাজার থানাধীন খালেরমুখ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১০ হাজার ইয়াবাসহ ৩জন গ্রেফতার

মহানগরীর মোগলাবাজার থানাধীন খালেরমুখ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১০ হাজার ইয়াবাসহ ৩জন গ্রেফতার

দক্ষিণ সুরমার সিলামে রাসেল হত্যা: ২২ জনের নাম উল্লেখ করে মায়ের মামলা

দক্ষিণ সুরমার সিলামে রাসেল হত্যা: ২২ জনের নাম উল্লেখ করে মায়ের মামলা

দক্ষ যুব গড়ব দেশ সবার জন্য বাংলাদেশ,  জৈন্তাপুরে জাতীয় যুব দিবস পালিত, যুব ঋণের চেক ও সম্মাননা স্মারক  বিতরণ

দক্ষ যুব গড়ব দেশ সবার জন্য বাংলাদেশ, জৈন্তাপুরে জাতীয় যুব দিবস পালিত, যুব ঋণের চেক ও সম্মাননা স্মারক বিতরণ

সিলেটে ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের সাহসী অভিযাত্রায় ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

সিলেটে ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের সাহসী অভিযাত্রায় ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

সিলেটে এক্সিলেন্ট গ্রুপের স্টার সেলিব্রেশন অ্যান্ড বিজনেস অপরচুনিটি সামিট অনুষ্ঠিত

সিলেটে এক্সিলেন্ট গ্রুপের স্টার সেলিব্রেশন অ্যান্ড বিজনেস অপরচুনিটি সামিট অনুষ্ঠিত

৩২ বছরের শিক্ষকতা জীবনের ইতি,আবেগঘন আয়োজনে অধ্যক্ষ আব্দুছ শহীদকে বিদায় সংবর্ধনা

৩২ বছরের শিক্ষকতা জীবনের ইতি,আবেগঘন আয়োজনে অধ্যক্ষ আব্দুছ শহীদকে বিদায় সংবর্ধনা

শাল্লা উপজেলায় নিজগাঁও গ্রামে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১, এলাকায় উত্তেজনা

শাল্লা উপজেলায় নিজগাঁও গ্রামে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১, এলাকায় উত্তেজনা

সিলেট সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী জাঙ্গাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ‘শতবর্ষ পূর্তি উদযাপন’ উপলক্ষে এক প্রচার র‌্যালি

সিলেট সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী জাঙ্গাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ‘শতবর্ষ পূর্তি উদযাপন’ উপলক্ষে এক প্রচার র‌্যালি

সিলেটে সাংবাদিকদের ‘ঐক্যবদ্ধসমাবেশ’ থেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কঠোর হুশিয়ারী

সিলেটে সাংবাদিকদের ‘ঐক্যবদ্ধসমাবেশ’ থেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কঠোর হুশিয়ারী

কানাইঘাট সীমান্তে বিজিবির অভিযান, ১৬ লাখ টাকার অবৈধ পণ্য জব্দ

কানাইঘাট সীমান্তে বিজিবির অভিযান, ১৬ লাখ টাকার অবৈধ পণ্য জব্দ

আলোচনায় ফিফটি ফাইভ পার্সেন্ট! ‘লুজার’ ছকে ‘উজাড়’ যাদুকাটা

আলোচনায় ফিফটি ফাইভ পার্সেন্ট! ‘লুজার’ ছকে ‘উজাড়’ যাদুকাটা

মাদক বিরোধের জেরে শাল্লায় বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট

মাদক বিরোধের জেরে শাল্লায় বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট

সিলেট এডিশন

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬


ইটভাটা নিয়ন্ত্রণে শুধু সভা নয়, চাই কঠোর বাস্তবায়ন

প্রকাশের তারিখ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

সিলেটে পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৯) যথাযথভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইটভাটা মালিকদের সঙ্গে পরিবেশ অধিদপ্তরের মতবিনিময় সভা নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। দীর্ঘদিন ধরে ইটভাটার ধোঁয়া, অপরিকল্পিত অবস্থান, কৃষিজমির মাটি ব্যবহার এবং জ্বালানি কাঠ পোড়ানোর মতো কর্মকাণ্ড পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে আছে। তাই আইন মেনে ইটভাটা পরিচালনার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সচেতন করা জরুরি।

তবে বাস্তবতা হলো, শুধু সভা, আলোচনা কিংবা সতর্কবার্তা দিয়ে ইটভাটার দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। প্রয়োজন আইনের কার্যকর প্রয়োগ এবং নিয়মিত নজরদারি। বৈধ লাইসেন্স ছাড়া ইটভাটা পরিচালনা, অনুমোদিত উৎসের বাইরে থেকে মাটি সংগ্রহ, জ্বালানি কাঠ ব্যবহার কিংবা নির্ধারিত দূরত্ব ও পরিবেশগত শর্ত অমান্য করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে বৈধভাবে পরিচালিত ইটভাটাগুলোকেও নির্ধারিত পরিবেশগত মান বজায় রাখতে বাধ্য করতে হবে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে পোড়ানো ইটের পরিবর্তে ব্লক ইট উৎপাদনের দিকে যাওয়ার আহ্বান সময়োপযোগী। কারণ নির্মাণ খাতে পরিবেশবান্ধব বিকল্প বাড়ানো না গেলে ইটভাটার ওপর নির্ভরতা কমানো কঠিন হবে। তবে প্রযুক্তিগত রূপান্তরের ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের বাস্তব সক্ষমতা, বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তা এবং পর্যাপ্ত সময়ের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

মতবিনিময় সভায় ইটভাটা মালিকদের পক্ষ থেকেও কয়লার সালফারের মাত্রা, নদীর পলি ও খাল খননের মাটি ব্যবহারের সুযোগ এবং ইটভাটার দূরত্বসংক্রান্ত বিধান নিয়ে বিভিন্ন মতামত দেওয়া হয়েছে। এসব বিষয়কে শুধু দাবি হিসেবে না দেখে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত আইন ও পরিবেশগত বাস্তবতার আলোকে প্রতিটি প্রস্তাব পর্যালোচনা করা। বিশেষ করে নদী ও খাল খননের মাটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে পরিবেশের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব এবং মাটি সংগ্রহের বৈধতা নিশ্চিত করা জরুরি।

ইটভাটা শিল্পের সঙ্গে কর্মসংস্থান ও নির্মাণ খাতের সরবরাহব্যবস্থা জড়িত—এ বাস্তবতাও অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কিন্তু অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার নামে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি মেনে নেওয়া যায় না। উন্নয়ন ও পরিবেশ সুরক্ষার মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠাই হতে হবে নীতিনির্ধারণের মূল লক্ষ্য।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ করতে হবে। কোনো ইটভাটা মালিক যেন প্রভাব, পরিচয় বা অন্য কোনো কারণে ছাড় না পান; আবার বৈধভাবে পরিচালিত উদ্যোক্তারাও যেন অযথা হয়রানির শিকার না হন। নিয়মিত পরিদর্শন, স্বচ্ছ লাইসেন্স ব্যবস্থা, পরিবেশগত মান যাচাই এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা—এই চারটি বিষয় নিশ্চিত করা গেলে পরিস্থিতির বাস্তব পরিবর্তন সম্ভব।

সিলেটে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভাটি তাই কেবল একটি আনুষ্ঠানিক সভা হয়ে না থেকে কার্যকর কর্মপরিকল্পনার সূচনা হওয়া উচিত। অবৈধ ইটভাটা বন্ধ, বৈধ ভাটায় কঠোর পরিবেশগত মান নিশ্চিত এবং ধাপে ধাপে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে রূপান্তরের জন্য প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ। পরিবেশ অধিদপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা এবং ইটভাটা মালিকদের সম্মিলিত দায়িত্বশীল ভূমিকার মাধ্যমেই এ উদ্যোগ সফল হতে পারে।

পরিবেশ রক্ষার প্রশ্নে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। সভায় দেওয়া নির্দেশনা যদি মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়িত হয়, তবেই ইটভাটা নিয়ন্ত্রণে এই উদ্যোগের প্রকৃত সাফল্য আসবে।


সিলেট এডিশন

প্রকাশক ও সম্পাদক:
কামরুল হাসান জুলহাস

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ইটভাটা নিয়ন্ত্রণে শুধু সভা নয়, চাই কঠোর বাস্তবায়ন
0:00 / 0:00
1x