শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গোয়াইনঘাট সীমান্তে ‘বুঙ্গাড়ী গোলাম’ সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য


সিলেট এডিশন ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩ জুন ২০২৬, ০২:৫৩ পিএম

গোয়াইনঘাট সীমান্তে ‘বুঙ্গাড়ী গোলাম’ সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য

পশু চোরাচালানের আড়ালে মাদক-অস্ত্র প্রবেশের অভিযোগ, চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ সীমান্তবাসী নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেটের গোয়াইনঘাট সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান, চাঁদাবাজি ও অবৈধ বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার বিছনাকান্দি ও হাদারপাড় সীমান্তজুড়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট ভারতীয় গরু-মহিষ পাচার, চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। সিন্ডিকেটটির নেতৃত্বে রয়েছেন বিছনাকান্দি ইউনিয়নের আলোচিত ব্যক্তি গোলাম হোসেন ওরফে ‘বুঙ্গাড়ী গোলাম’।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানের চিত্রে তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি। বরং নতুন নেতৃত্বে আরও সুসংগঠিত ভাবে চলছে অবৈধ বাণিজ্য। অভিযোগ রয়েছে, গোলাম হোসেনের নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি সিন্ডিকেট বগাইয়া, মনেরতল, দমদমিয়া ও আশপাশের সীমান্ত পয়েন্ট ব্যবহার করে কয়েকশ কোটি টাকার চোরাচালান বাণিজ্য পরিচালনা করছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের অভিযোগ, গোলাম হোসেন নিজেকে স্থানীয় থানার ওসির ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি বা ‘লাইনম্যান’ পরিচয় দিয়ে সীমান্তে প্রভাব বিস্তার করছেন। তার নেতৃত্বাধীন বাহিনী প্রতিটি ভারতীয় গরু ও মহিষ থেকে দুই হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে বলে অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী জানান, সিন্ডিকেট সদস্যরা নিজেদের প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে বলে দাবি করে। ফলে সাধারণ মানুষ ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পান না। একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন,"তারা বলে সব জায়গা ম্যানেজ করা আছে। প্রতিবাদ করলে হামলা-মামলা কিংবা প্রশাসনিক হয়রানির ভয় দেখানো হয়।"

অনুসন্ধানে আরও গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে। স্থানীয়দের দাবি, শুধু গরু-মহিষ নয়, এসব চালানের আড়ালে সীমান্ত দিয়ে দেশে প্রবেশ করছে মাদকদ্রব্য ও অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রও। চোরাই পণ্য পরিবহন ও বৈধতার আড়াল তৈরিতে স্থানীয় কয়েকটি বাজারের রসিদ ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

যদিও এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য নিশ্চিত করা হয়নি, তবুও সীমান্তবাসীর মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক মাস আগে ৪৮ বিজিবি বিছনাকান্দি সীমান্ত থেকে ২৩৭টি গরুর একটি বড় চালান আটক করে। এটি ওই অঞ্চলের সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় জব্দ অভিযান হিসেবে আলোচিত হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই চালানের নেপথ্যেও গোলাম হোসেন, কয়েস ও জালাল মেম্বারের নেতৃত্বাধীন একটি সিন্ডিকেট জড়িত ছিল। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের দাবি, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে গোলাম হোসেন সাবেক মন্ত্রী ইমরান আহমেদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ে সক্রিয় হয়ে ওঠেন এবং নিজেকে বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে প্রচার করছেন।

তবে সংশ্লিষ্ট মহল জানিয়েছে, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত কোনো ব্যক্তির সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও চাঁদাবাজির অভিযোগ থাকলেও দৃশ্যমান কোনো বড় ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

বিজিবির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সীমান্তে চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের কারণে অনেক ক্ষেত্রে তথ্য সংগ্রহ ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে জটিলতা তৈরি হয়।

গোয়াইনঘাটের সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় চোরাচালান সিন্ডিকেট শুধু সরকারের রাজস্ব ক্ষতিই করছে না, বরং মাদক বিস্তারের মাধ্যমে যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং সীমান্তে কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।

সীমান্তবাসীর প্রশ্ন—চোরাচালান, চাঁদাবাজি ও মাদক কারবারের এসব অভিযোগের সত্যতা উদঘাটনে প্রশাসন কি কার্যকর পদক্ষেপ নেবে, নাকি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য আরও বিস্তৃত হবে? এখন সেই উত্তরই খুঁজছে গোয়াইনঘাটের মানুষ।

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: /৫ ( ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

নগরীতে বাস্তবায়ন হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

নগরীতে বাস্তবায়ন হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

মহানগরীর মোগলাবাজার থানাধীন খালেরমুখ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১০ হাজার ইয়াবাসহ ৩জন গ্রেফতার

মহানগরীর মোগলাবাজার থানাধীন খালেরমুখ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১০ হাজার ইয়াবাসহ ৩জন গ্রেফতার

শাল্লার কান্দিগাঁও গ্রামের ঐতিহ্যবাহ নৌকা বাইচ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন এমপি নাছির উদ্দিন চৌধুরী

শাল্লার কান্দিগাঁও গ্রামের ঐতিহ্যবাহ নৌকা বাইচ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন এমপি নাছির উদ্দিন চৌধুরী

ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুই সেনাসদস্য নিহত

ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুই সেনাসদস্য নিহত

তালাশ টেলিভিশনে নারীকে শিকল পড়িয়ে হাটিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর তোলপাড়: কিশোরীকে নির্যাতনের ঘটনায় আটক ৩

তালাশ টেলিভিশনে নারীকে শিকল পড়িয়ে হাটিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর তোলপাড়: কিশোরীকে নির্যাতনের ঘটনায় আটক ৩

ওয়েস্ট ওয়ার্ল্ড শপিং সেন্টারে অগ্নিকাণ্ডস্থল পরিদর্শনে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ

ওয়েস্ট ওয়ার্ল্ড শপিং সেন্টারে অগ্নিকাণ্ডস্থল পরিদর্শনে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ

ইসিএ এলাকায় তাণ্ডবের বিরুদ্ধে অভিযান, ধ্বংস ১০ ড্রেজার ও ৬ এক্সকেভেটর

ইসিএ এলাকায় তাণ্ডবের বিরুদ্ধে অভিযান, ধ্বংস ১০ ড্রেজার ও ৬ এক্সকেভেটর

২১৭ কোটি টাকার রেল প্রকল্পে ধীরগতি, মেয়াদ শেষেও বাকি ৭৫ শতাংশ কাজ

২১৭ কোটি টাকার রেল প্রকল্পে ধীরগতি, মেয়াদ শেষেও বাকি ৭৫ শতাংশ কাজ

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান: শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে সেবা চালু

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান: শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে সেবা চালু

কনজিউমার রাইটস বাংলাদেশ-সিআরবি' সিলেট বিভাগীয় শাখার কার্যনির্বাহী কমিটির শপথ গ্রহণ

কনজিউমার রাইটস বাংলাদেশ-সিআরবি' সিলেট বিভাগীয় শাখার কার্যনির্বাহী কমিটির শপথ গ্রহণ

নগরীতে বাস্তবায়ন হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

নগরীতে বাস্তবায়ন হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

মহানগরীর মোগলাবাজার থানাধীন খালেরমুখ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১০ হাজার ইয়াবাসহ ৩জন গ্রেফতার

মহানগরীর মোগলাবাজার থানাধীন খালেরমুখ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১০ হাজার ইয়াবাসহ ৩জন গ্রেফতার

১৫ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতির সিলেট সফর, প্রস্তুতিমূলক সভায় মন্ত্রীর নির্দেশনা

১৫ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতির সিলেট সফর, প্রস্তুতিমূলক সভায় মন্ত্রীর নির্দেশনা

ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুই সেনাসদস্য নিহত

ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুই সেনাসদস্য নিহত

তালাশ টেলিভিশনে নারীকে শিকল পড়িয়ে হাটিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর তোলপাড়: কিশোরীকে নির্যাতনের ঘটনায় আটক ৩

তালাশ টেলিভিশনে নারীকে শিকল পড়িয়ে হাটিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর তোলপাড়: কিশোরীকে নির্যাতনের ঘটনায় আটক ৩

ইসিএ এলাকায় তাণ্ডবের বিরুদ্ধে অভিযান, ধ্বংস ১০ ড্রেজার ও ৬ এক্সকেভেটর

ইসিএ এলাকায় তাণ্ডবের বিরুদ্ধে অভিযান, ধ্বংস ১০ ড্রেজার ও ৬ এক্সকেভেটর

ভ্যান সরানো নিয়ে কথা-কাটাকাটি, পরে যুবককে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ

ভ্যান সরানো নিয়ে কথা-কাটাকাটি, পরে যুবককে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ

খাদিমনগরে সরকারি খাস জমিতে অ্যালুমিনিয়াম কারখানা স্থাপনের অভিযোগ

খাদিমনগরে সরকারি খাস জমিতে অ্যালুমিনিয়াম কারখানা স্থাপনের অভিযোগ

খাদিমনগরে খাস জমি দখলের অভিযোগ, পাহাড় কেটে গড়ে উঠছে প্লট

খাদিমনগরে খাস জমি দখলের অভিযোগ, পাহাড় কেটে গড়ে উঠছে প্লট

সিলেট সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৩৬ লাখ টাকার চোরাচালানি মালামাল জব্দ!

সিলেট সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৩৬ লাখ টাকার চোরাচালানি মালামাল জব্দ!

সিলেট এডিশন

শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


গোয়াইনঘাট সীমান্তে ‘বুঙ্গাড়ী গোলাম’ সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য

প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুন ২০২৬

featured Image

পশু চোরাচালানের আড়ালে মাদক-অস্ত্র প্রবেশের অভিযোগ, চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ সীমান্তবাসী নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেটের গোয়াইনঘাট সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান, চাঁদাবাজি ও অবৈধ বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার বিছনাকান্দি ও হাদারপাড় সীমান্তজুড়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট ভারতীয় গরু-মহিষ পাচার, চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। সিন্ডিকেটটির নেতৃত্বে রয়েছেন বিছনাকান্দি ইউনিয়নের আলোচিত ব্যক্তি গোলাম হোসেন ওরফে ‘বুঙ্গাড়ী গোলাম’।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানের চিত্রে তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি। বরং নতুন নেতৃত্বে আরও সুসংগঠিত ভাবে চলছে অবৈধ বাণিজ্য। অভিযোগ রয়েছে, গোলাম হোসেনের নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি সিন্ডিকেট বগাইয়া, মনেরতল, দমদমিয়া ও আশপাশের সীমান্ত পয়েন্ট ব্যবহার করে কয়েকশ কোটি টাকার চোরাচালান বাণিজ্য পরিচালনা করছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের অভিযোগ, গোলাম হোসেন নিজেকে স্থানীয় থানার ওসির ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি বা ‘লাইনম্যান’ পরিচয় দিয়ে সীমান্তে প্রভাব বিস্তার করছেন। তার নেতৃত্বাধীন বাহিনী প্রতিটি ভারতীয় গরু ও মহিষ থেকে দুই হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে বলে অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী জানান, সিন্ডিকেট সদস্যরা নিজেদের প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে বলে দাবি করে। ফলে সাধারণ মানুষ ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পান না। একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন,"তারা বলে সব জায়গা ম্যানেজ করা আছে। প্রতিবাদ করলে হামলা-মামলা কিংবা প্রশাসনিক হয়রানির ভয় দেখানো হয়।"

অনুসন্ধানে আরও গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে। স্থানীয়দের দাবি, শুধু গরু-মহিষ নয়, এসব চালানের আড়ালে সীমান্ত দিয়ে দেশে প্রবেশ করছে মাদকদ্রব্য ও অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রও। চোরাই পণ্য পরিবহন ও বৈধতার আড়াল তৈরিতে স্থানীয় কয়েকটি বাজারের রসিদ ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

যদিও এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য নিশ্চিত করা হয়নি, তবুও সীমান্তবাসীর মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক মাস আগে ৪৮ বিজিবি বিছনাকান্দি সীমান্ত থেকে ২৩৭টি গরুর একটি বড় চালান আটক করে। এটি ওই অঞ্চলের সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় জব্দ অভিযান হিসেবে আলোচিত হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই চালানের নেপথ্যেও গোলাম হোসেন, কয়েস ও জালাল মেম্বারের নেতৃত্বাধীন একটি সিন্ডিকেট জড়িত ছিল। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের দাবি, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে গোলাম হোসেন সাবেক মন্ত্রী ইমরান আহমেদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ে সক্রিয় হয়ে ওঠেন এবং নিজেকে বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে প্রচার করছেন।

তবে সংশ্লিষ্ট মহল জানিয়েছে, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত কোনো ব্যক্তির সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও চাঁদাবাজির অভিযোগ থাকলেও দৃশ্যমান কোনো বড় ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

বিজিবির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সীমান্তে চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের কারণে অনেক ক্ষেত্রে তথ্য সংগ্রহ ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে জটিলতা তৈরি হয়।

গোয়াইনঘাটের সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় চোরাচালান সিন্ডিকেট শুধু সরকারের রাজস্ব ক্ষতিই করছে না, বরং মাদক বিস্তারের মাধ্যমে যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং সীমান্তে কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।

সীমান্তবাসীর প্রশ্ন—চোরাচালান, চাঁদাবাজি ও মাদক কারবারের এসব অভিযোগের সত্যতা উদঘাটনে প্রশাসন কি কার্যকর পদক্ষেপ নেবে, নাকি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য আরও বিস্তৃত হবে? এখন সেই উত্তরই খুঁজছে গোয়াইনঘাটের মানুষ।


সিলেট এডিশন

প্রকাশক ও সম্পাদক:
কামরুল হাসান জুলহাস

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
গোয়াইনঘাট সীমান্তে ‘বুঙ্গাড়ী গোলাম’ সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য
0:00 / 0:00
1x