শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফলোআপ: থামছেই না করিমের দৌরাত্ম্য, টাকা না দেওয়ায় আবারও ‘আসামি ধরিয়ে দেওয়ার’ অভিযোগ


সিলেট এডিশন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৪ মে ২০২৬, ০৩:৫৮ পিএম

ফলোআপ: থামছেই না করিমের দৌরাত্ম্য, টাকা না দেওয়ায় আবারও ‘আসামি ধরিয়ে দেওয়ার’ অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় আব্দুল করিমকে ঘিরে বিতর্ক যেন থামছেই না। মামলা বাণিজ্য, চাঁদাবাজি ও পুলিশি প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগের মধ্যেই এবার নতুন করে এক ব্যক্তিকে টাকা না দেওয়ায় পুলিশ দিয়ে গ্রেফতার করানোর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, একটি মামলার ওয়ারেন্টের ভয় দেখিয়ে গত প্রায় দুই বছর ধরে এক ব্যক্তির কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায় করত করিম সিন্ডিকেট। প্রতি মাসে আড়াই হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হতো ওই ব্যক্তিকে। সম্প্রতি তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পুলিশ দিয়ে তাকে গ্রেফতার করানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে একটি বিশ্বস্ত সূত্র। অভিযোগ রয়েছে, করিম কোনো স্বীকৃত বা পেশাদার সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত না থাকলেও নিজেকে কখনো ফটো সাংবাদিক, কখনো পুলিশের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে অর্থ আদায় করে আসছেন। স্থানীয়দের দাবি, তার বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করলেই বিভিন্ন পুলিশ সদস্যের নিয়মিত যাতায়াত ও আপ্যায়নের চিত্র পাওয়া যাবে। এই সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে তিনি এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন বলেও অভিযোগ তাদের। স্থানীয়দের ভাষ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর করিম আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার নাম মামলায় জড়িয়ে মামলা বাণিজ্যের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। দক্ষিণ সুরমার বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকা—জুয়া, মাদক ও তেলচুরি সিন্ডিকেটসহ নানা অবৈধ কর্মকাণ্ডের আস্তানা থেকে করিম নিয়মিত সাপ্তাহিক ও মাসিক বখরা আদায় করেন বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের। তাদের দাবি, এসব উৎস থেকে প্রতি মাসে প্রায় ২ থেকে আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়। এতসব অভিযোগের পরও প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের প্রশ্ন, “পুলিশ কি করিমের বখরার কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে?” উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগে “সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় করিমের দালালির দৌরাত্ম্য: মামলা বাণিজ্য, চাঁদাবাজি ও প্রতারণার অভিযোগে অতিষ্ঠ স্থানীয়রা” শিরোনামে বিভিন্ন অনলাইন ও জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সেখানে করিমের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠে আসে। সংবাদে উল্লেখ করা হয়, কামালবাজার এলাকায় মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে করিম ডিবি পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলেও স্থানীয় জনতা তাকে আটকে দেয়। পরে তিনি নিজেকে প্রয়াত সালিশ ব্যক্তিত্ব চৈল মিয়ার ঘনিষ্ঠ পরিচিত দাবি করে সেখান থেকে বেরিয়ে যান। এছাড়া পুরনো মামলাকে কেন্দ্র করে আপোষের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২১ সালের একটি কাউন্টার মামলার আপোষ করিয়ে দেওয়ার কথা বলে প্রথমে ৭০ হাজার টাকা এবং পরে একই মামলায় আবারও ৯০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। কিন্তু মামলার কোনো নিষ্পত্তি হয়নি। আরও অভিযোগ রয়েছে, গত ১১ এপ্রিল ৯৯৯-এ কল করে পুলিশ ডেকে এনে এক ব্যক্তির মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন জব্দ করান করিম। তিন দিন পর মোবাইল ফোন ফেরত দেওয়া হলেও মোটরসাইকেলটি এখনো থানায় রয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। এদিকে দক্ষিণ সুরমা থানার একটি মামলাকে কেন্দ্র করে এসআই রাজীব ও করিমের বিরুদ্ধে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, নাবালক এক আসামিকে চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ৭০ হাজার টাকা নেওয়া হলেও পরে তাকে চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রাজীব বলেন, “রিজাদ মামলার নথিভুক্ত আসামি, তাই তাকে চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিবাদীদের সঙ্গে আমার কোনো দেখা হয়নি।” টাকা নেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “টাকা নিয়েছি—এর প্রমাণ কী? করিম যদি আমার নাম বলে টাকা নিয়ে থাকে, তাহলে তাকে জিজ্ঞেস করেন। সেও তো সাংবাদিক।” এ ঘটনায় দক্ষিণ সুরমাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত না হলে সাধারণ মানুষের আইন ও বিচার ব্যবস্থার ওপর আস্থা আরও কমে যাবে। এলাকাবাসীর দাবি, অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: /৫ ( ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

নগরীতে বাস্তবায়ন হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

নগরীতে বাস্তবায়ন হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

মহানগরীর মোগলাবাজার থানাধীন খালেরমুখ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১০ হাজার ইয়াবাসহ ৩জন গ্রেফতার

মহানগরীর মোগলাবাজার থানাধীন খালেরমুখ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১০ হাজার ইয়াবাসহ ৩জন গ্রেফতার

শাল্লার কান্দিগাঁও গ্রামের ঐতিহ্যবাহ নৌকা বাইচ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন এমপি নাছির উদ্দিন চৌধুরী

শাল্লার কান্দিগাঁও গ্রামের ঐতিহ্যবাহ নৌকা বাইচ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন এমপি নাছির উদ্দিন চৌধুরী

ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুই সেনাসদস্য নিহত

ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুই সেনাসদস্য নিহত

তালাশ টেলিভিশনে নারীকে শিকল পড়িয়ে হাটিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর তোলপাড়: কিশোরীকে নির্যাতনের ঘটনায় আটক ৩

তালাশ টেলিভিশনে নারীকে শিকল পড়িয়ে হাটিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর তোলপাড়: কিশোরীকে নির্যাতনের ঘটনায় আটক ৩

ওয়েস্ট ওয়ার্ল্ড শপিং সেন্টারে অগ্নিকাণ্ডস্থল পরিদর্শনে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ

ওয়েস্ট ওয়ার্ল্ড শপিং সেন্টারে অগ্নিকাণ্ডস্থল পরিদর্শনে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ

ইসিএ এলাকায় তাণ্ডবের বিরুদ্ধে অভিযান, ধ্বংস ১০ ড্রেজার ও ৬ এক্সকেভেটর

ইসিএ এলাকায় তাণ্ডবের বিরুদ্ধে অভিযান, ধ্বংস ১০ ড্রেজার ও ৬ এক্সকেভেটর

২১৭ কোটি টাকার রেল প্রকল্পে ধীরগতি, মেয়াদ শেষেও বাকি ৭৫ শতাংশ কাজ

২১৭ কোটি টাকার রেল প্রকল্পে ধীরগতি, মেয়াদ শেষেও বাকি ৭৫ শতাংশ কাজ

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান: শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে সেবা চালু

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান: শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে সেবা চালু

কনজিউমার রাইটস বাংলাদেশ-সিআরবি' সিলেট বিভাগীয় শাখার কার্যনির্বাহী কমিটির শপথ গ্রহণ

কনজিউমার রাইটস বাংলাদেশ-সিআরবি' সিলেট বিভাগীয় শাখার কার্যনির্বাহী কমিটির শপথ গ্রহণ

নগরীতে বাস্তবায়ন হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

নগরীতে বাস্তবায়ন হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

মহানগরীর মোগলাবাজার থানাধীন খালেরমুখ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১০ হাজার ইয়াবাসহ ৩জন গ্রেফতার

মহানগরীর মোগলাবাজার থানাধীন খালেরমুখ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১০ হাজার ইয়াবাসহ ৩জন গ্রেফতার

১৫ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতির সিলেট সফর, প্রস্তুতিমূলক সভায় মন্ত্রীর নির্দেশনা

১৫ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতির সিলেট সফর, প্রস্তুতিমূলক সভায় মন্ত্রীর নির্দেশনা

ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুই সেনাসদস্য নিহত

ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুই সেনাসদস্য নিহত

তালাশ টেলিভিশনে নারীকে শিকল পড়িয়ে হাটিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর তোলপাড়: কিশোরীকে নির্যাতনের ঘটনায় আটক ৩

তালাশ টেলিভিশনে নারীকে শিকল পড়িয়ে হাটিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর তোলপাড়: কিশোরীকে নির্যাতনের ঘটনায় আটক ৩

ইসিএ এলাকায় তাণ্ডবের বিরুদ্ধে অভিযান, ধ্বংস ১০ ড্রেজার ও ৬ এক্সকেভেটর

ইসিএ এলাকায় তাণ্ডবের বিরুদ্ধে অভিযান, ধ্বংস ১০ ড্রেজার ও ৬ এক্সকেভেটর

ভ্যান সরানো নিয়ে কথা-কাটাকাটি, পরে যুবককে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ

ভ্যান সরানো নিয়ে কথা-কাটাকাটি, পরে যুবককে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ

খাদিমনগরে সরকারি খাস জমিতে অ্যালুমিনিয়াম কারখানা স্থাপনের অভিযোগ

খাদিমনগরে সরকারি খাস জমিতে অ্যালুমিনিয়াম কারখানা স্থাপনের অভিযোগ

খাদিমনগরে খাস জমি দখলের অভিযোগ, পাহাড় কেটে গড়ে উঠছে প্লট

খাদিমনগরে খাস জমি দখলের অভিযোগ, পাহাড় কেটে গড়ে উঠছে প্লট

সিলেট সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৩৬ লাখ টাকার চোরাচালানি মালামাল জব্দ!

সিলেট সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৩৬ লাখ টাকার চোরাচালানি মালামাল জব্দ!

সিলেট এডিশন

শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ফলোআপ: থামছেই না করিমের দৌরাত্ম্য, টাকা না দেওয়ায় আবারও ‘আসামি ধরিয়ে দেওয়ার’ অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ১৪ মে ২০২৬

featured Image
নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় আব্দুল করিমকে ঘিরে বিতর্ক যেন থামছেই না। মামলা বাণিজ্য, চাঁদাবাজি ও পুলিশি প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগের মধ্যেই এবার নতুন করে এক ব্যক্তিকে টাকা না দেওয়ায় পুলিশ দিয়ে গ্রেফতার করানোর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, একটি মামলার ওয়ারেন্টের ভয় দেখিয়ে গত প্রায় দুই বছর ধরে এক ব্যক্তির কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায় করত করিম সিন্ডিকেট। প্রতি মাসে আড়াই হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হতো ওই ব্যক্তিকে। সম্প্রতি তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পুলিশ দিয়ে তাকে গ্রেফতার করানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে একটি বিশ্বস্ত সূত্র। অভিযোগ রয়েছে, করিম কোনো স্বীকৃত বা পেশাদার সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত না থাকলেও নিজেকে কখনো ফটো সাংবাদিক, কখনো পুলিশের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে অর্থ আদায় করে আসছেন। স্থানীয়দের দাবি, তার বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করলেই বিভিন্ন পুলিশ সদস্যের নিয়মিত যাতায়াত ও আপ্যায়নের চিত্র পাওয়া যাবে। এই সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে তিনি এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন বলেও অভিযোগ তাদের। স্থানীয়দের ভাষ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর করিম আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার নাম মামলায় জড়িয়ে মামলা বাণিজ্যের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। দক্ষিণ সুরমার বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকা—জুয়া, মাদক ও তেলচুরি সিন্ডিকেটসহ নানা অবৈধ কর্মকাণ্ডের আস্তানা থেকে করিম নিয়মিত সাপ্তাহিক ও মাসিক বখরা আদায় করেন বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের। তাদের দাবি, এসব উৎস থেকে প্রতি মাসে প্রায় ২ থেকে আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়। এতসব অভিযোগের পরও প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের প্রশ্ন, “পুলিশ কি করিমের বখরার কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে?” উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগে “সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় করিমের দালালির দৌরাত্ম্য: মামলা বাণিজ্য, চাঁদাবাজি ও প্রতারণার অভিযোগে অতিষ্ঠ স্থানীয়রা” শিরোনামে বিভিন্ন অনলাইন ও জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সেখানে করিমের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠে আসে। সংবাদে উল্লেখ করা হয়, কামালবাজার এলাকায় মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে করিম ডিবি পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলেও স্থানীয় জনতা তাকে আটকে দেয়। পরে তিনি নিজেকে প্রয়াত সালিশ ব্যক্তিত্ব চৈল মিয়ার ঘনিষ্ঠ পরিচিত দাবি করে সেখান থেকে বেরিয়ে যান। এছাড়া পুরনো মামলাকে কেন্দ্র করে আপোষের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২১ সালের একটি কাউন্টার মামলার আপোষ করিয়ে দেওয়ার কথা বলে প্রথমে ৭০ হাজার টাকা এবং পরে একই মামলায় আবারও ৯০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। কিন্তু মামলার কোনো নিষ্পত্তি হয়নি। আরও অভিযোগ রয়েছে, গত ১১ এপ্রিল ৯৯৯-এ কল করে পুলিশ ডেকে এনে এক ব্যক্তির মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন জব্দ করান করিম। তিন দিন পর মোবাইল ফোন ফেরত দেওয়া হলেও মোটরসাইকেলটি এখনো থানায় রয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। এদিকে দক্ষিণ সুরমা থানার একটি মামলাকে কেন্দ্র করে এসআই রাজীব ও করিমের বিরুদ্ধে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, নাবালক এক আসামিকে চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ৭০ হাজার টাকা নেওয়া হলেও পরে তাকে চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রাজীব বলেন, “রিজাদ মামলার নথিভুক্ত আসামি, তাই তাকে চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিবাদীদের সঙ্গে আমার কোনো দেখা হয়নি।” টাকা নেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “টাকা নিয়েছি—এর প্রমাণ কী? করিম যদি আমার নাম বলে টাকা নিয়ে থাকে, তাহলে তাকে জিজ্ঞেস করেন। সেও তো সাংবাদিক।” এ ঘটনায় দক্ষিণ সুরমাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত না হলে সাধারণ মানুষের আইন ও বিচার ব্যবস্থার ওপর আস্থা আরও কমে যাবে। এলাকাবাসীর দাবি, অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

সিলেট এডিশন

প্রকাশক ও সম্পাদক:
কামরুল হাসান জুলহাস

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ফলোআপ: থামছেই না করিমের দৌরাত্ম্য, টাকা না দেওয়ায় আবারও ‘আসামি ধরিয়ে দেওয়ার’ অভিযোগ
0:00 / 0:00
1x