শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনায় জর্জরিত সিকৃবি ‘বেপরোয়া’ ভিসি


সিলেট এডিশন ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯ মে ২০২৬, ০৬:৩৫ পিএম

অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনায় জর্জরিত সিকৃবি ‘বেপরোয়া’ ভিসি
নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনায় জর্জরিত সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (সিকৃবি)। অভিযোগ রয়েছে এসব অনিয়মের মূল কারিগর উপাচার্য অধ্যাপক ড. আলিমুল ইসলাম। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) এ অধ্যাপক ২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর সিকৃবির উপাচার্য হিসেবে নিযুক্ত হন এবং ২০ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর পর থেকেই কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নিজস্ব নিয়মে নিয়োগ বোর্ড গঠন করে দিয়ে গেছেন নিয়োগ। যাকে ইচ্ছা তাকে করেছেন শোকজ। ঠুনকো বিষয়ে বহিষ্কার ও বরখাস্ত করেছেন বেশ কয়েকজন শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে। তার আমলে যেসব শিক্ষককে নিয়োগ দিয়েছেন, তাদের অনেকের আবেদনের যোগ্যতাই নেই। এদিকে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সারা দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় যখন বিএনপিপন্থি শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা হাফ ছেড়ে বেঁচেছেন, তখন সিকৃবিতে ঘটেছে তার উল্টো। অন্তর্বর্তী সরকারের আট মাসে বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের ওপর নেমে এসেছিল খড়্গ। প্রশাসনিক পদগুলোয় বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের বাদ দিয়ে পদায়ন করেছেন আওয়ামী লীগ ও জামায়াতপন্থি শিক্ষকদের। কারাগারে থাকা কর্মকর্তাকে দিয়েছেন অসুস্থতা দেখিয়ে ছুটি। মতের অমিল হওয়ায় এক জ্যেষ্ঠ অধ্যাপককে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে করেছেন বরখাস্ত। উন্নয়নকাজে নানা আর্থিক অনিয়মে জড়িয়েছেন তিনি। এখন বিএনপি ক্ষমতায় এলে আবারও ভোল পাল্টে সেজেছেন বিএনপি। দাবি করছেন, তিনি ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থি শিক্ষক সমিতির সহসভাপতি ছিলেন। তবে সিকৃবি শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বলছেন, উপাচার্যের এসব অনিয়ম তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। নির্বাচনের সময় তড়িঘড়ি করে শিক্ষক-কর্মকর্তা নিয়োগ, অনেকের নেই যোগ্যতা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেন্দ্র করে ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে যখন সারা দেশে ভোটের আমেজ, তখনই নিজের পছন্দের লোকদের নিয়োগে ব্যস্ত ছিলেন উপাচার্য আলিমুল ইসলাম। ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর ও ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি আটজন শিক্ষক ও ২২ জন কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়। এর মধ্যে পাঁচজন সরাসরি জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। জামায়াতপন্থি শিক্ষকদের নিয়ে গোপনে নিয়োগ বোর্ড গঠন করে এ নিয়োগ দেন তিনি। সব শর্ত পূরণ না করেও অনেকে নিয়োগ পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তথ্যমতে, শিক্ষকদের মধ্যে ৫০তম সিন্ডিকেট সভায় অ্যানিমেল ও ফিশ বায়োটেকনোলজি বিভাগ এবং প্লান্ট বিভাগের ড. এনামুল হক, এনভায়রনমেন্টাল বায়োটেকনোলজি বিভাগের ড. মোহাম্মদ এরশাদ আলী এবং বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিস্ট্রি বিভাগের ড. মামুন মিয়াকে সহকারী অধ্যাপক থেকে সহযোগী অধ্যাপক পদে নিয়োগের সুপারিশ অনুমোদন দেওয়া হয়। এ ছাড়া কম্পিউটার সায়েন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে মো. আমিনুল ইসলাম রাফি, সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা বিভাগে মো. নাহিদ হাসান, উদ্যানতত্ত্ব বিভাগে ফাতেমা তুজ জোহুরা, কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগে মাহমুদ হাসান, কৃষি অর্থনীতি ও পলিসি বিভাগে নুসরাত জাহানকে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, মামুন মিয়াকে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি দিয়ে নিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় একাডেমিক যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও পিএইচডি ডিগ্রি নেই। কারণ এ পদে নিয়োগ পেতে হলে পিএইচডি লাগে। অথচ তার এখনো পিএইচডির ফল প্রকাশ হয়নি। ফল প্রকাশের আগেই তিনি নামের আগে ‘ডক্টর’ ব্যবহার করেন বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির অনেক শিক্ষক। এটাকে প্রতারণা বলেও মনে করছেন তারা। আবার ড. এরশাদ আলী ও ড. এনামুল হককে পদোন্নতি দিতে লিখিত আপত্তি ছিল সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক কাজী মেহেতাজুল ইসলামের। তার দাবি, ওই দুই শিক্ষকের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা যাচাই না করে, শুধু উপাচার্যের নিজ এলাকার লোক হওয়ায় তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে তিনি শিক্ষা সচিবকে লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন। প্রভাষক পদে নিয়োগ পাওয়া মাহমুদ হাসান তার সেশনে ৪৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ছিলেন অষ্টম। ফলে প্রচলিত নীতিমালায় তার চাকরির জন্য আবেদনের সুযোগ ছিল না। অথচ উপাচার্যের আশীর্বাদপুষ্ট হওয়ায় মেধাবী ও স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের বাদ দিয়ে মাহমুদ হাসানকে নিয়োগ দেন তিনি। এ ছাড়া ওই সময় নিয়োগ পাওয়া আরও ২২ কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে ১২ জনের বাড়িই উপাচার্যের নিজ এলাকায়। আঞ্চলিকপ্রীতির কারণে তাদের নিয়োগ দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও অ্যাডহক ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর কৃষি পরিসংখ্যান বিভাগের সেকশন অফিসার হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি আজিজুল হক আজাদ ও বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে মো. আবু সাইদ রবিকে নিয়োগ দেওয়া হয়। অথচ ইউজিসি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগ ওই বছরের অক্টোবের এক চিঠিতে অ্যাডহক, দৈনিক কিংবা মাস্টারোলে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রকৌশল দপ্তরের সেকশন অফিসার শহিদুল ইসলামকে চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চিকিৎসা ছুটি দেওয়া হয়। অথচ ওই সময় একটি মামলায় কারাগারে ছিলেন বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র। তার এক সহকর্মী বলেন, ‘ওই শিক্ষকের ফোন বন্ধ পাওয়ায় আমি তার পরিবারের কাছে খোঁজ নিয়ে জেনেছি, তিনি একটি মামলায় কারাগারে আছেন। পরে শুনি তাকে পূর্ণ বেতনে ২৬ দিন চিকিৎসা ছুটি দেওয়া হয়েছে।’ এ বিষয়ে জানতে শহিদুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। উপাচার্যের দায়িত্ব নিয়েই অধ্যাপক আমিনুল বিশ্ববিদ্যালয় জামায়াত-শিবির প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের রক্ষার মিশনে নামেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির ট্রেজারার, ডিন, বিভিন্ন বিভাগের পরিচালক, প্রধান প্রকৌশলী, বিভিন্ন হলের হল প্রভোস্ট ও সহকারী প্রভোস্ট পদে সবচেয়ে বেশি পদায়ন করেছেন জামায়াত ও আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের। বিপরীতে বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের বিভিন্ন পদ থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, প্রশাসনিক ৫১টি পদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩১টি পদে আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের নিয়োগ দেন। এর বাইরে ছয়টি পদে জামায়াত ও ১৪টি পদে বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের পদায়ন করেছেন। বিএনপিপন্থি শিক্ষক ১৪ জনকে বিভিন্ন পদে নিয়োগ দিলেও রেজিস্ট্রারসহ ছয়টি পদ থেকে আবার বাদ দিয়েছেন বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের। তথ্যমতে, ২০২৪ সালের ২০ অক্টোবর জামায়াতের রোকন অধ্যাপক ড. এ টি এম মাহবুব ই এলাহীকে ট্রেজারার, ড. মো. সুলতান আহমদ টিপুকে পরিচালক পরিবহন, অধ্যাপক ড. মো. মোহন মিয়াকে বায়ো টেকনোলজি ও জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন, অধ্যাপক ড. সামিউল আনসানকে ছাত্র পরামর্শ বিভাগের পরিচালক ও অধ্যাপক ড. রুহুল আমিনকে অর্থ ও হিসাব দপ্তরের পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেন। অন্যদিকে বিএনপিপন্থি শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. সিদ্দিকুল ইসলামকে পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন), অধ্যাপক ড. মো. এমদাদুল হককে পরিচালক (ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা), অধ্যাপক ড. মো. আতাউর রহমানকে রেজিস্ট্রার, অধ্যাপক ড. মোজাম্মেল হককে প্রক্টর এবং অধ্যাপক ড. মো. কাজী মেহেতাজুল ইসলামকে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। গত বছরের ৩০ মে জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী এবং ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের অনুষ্ঠান আয়োজনে সরাসরি বাধা দেন উপাচার্য। ক্যাম্পাসে ইফতার আয়োজন করায় ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাকিল আহমদের পরীক্ষার ফল স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন তিনি। যোগদানের পর উপাচার্য পরিকল্পিতভাবে ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবিরের ছেলেদের দিয়ে মব সৃষ্টি করে তৎকালীন প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোজাম্মেল হককে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেন। একসময় ছাত্রদল করার অপরাধে এ পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয় বলে দাবি অধ্যাপক মোজাম্মেলের। একইভাবে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আতাউর রহমানকেও রেজিস্ট্রার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালরের সাদা দলের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোজাম্মেল হক বলেন, ‘ভিসি যোগদান করে পাঁচ দিনের মাথায় আমাকে এবং ১৫ দিনের মাথায় অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আতাউর রহমানকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে সরিয়ে দিয়েছেন। আমরা দুজনই ছাত্রদল করে আসছি, আমাদের বিরুদ্ধে কোনো অনিয়মের অভিযোগ নেই। তিনি তার দুর্নীতি ও অপশাসন কায়েম করতেই আমাদের সরিয়েছেন।’ তার আরও অভিযোগ, ‘এই ভিসির আমলে যত নিয়োগ হয়েছে, সবকটিতে রয়েছে অনিয়ম। জামায়াত ও আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের সঙ্গে আঁতাত করে এসব কাজ করেছেন। বিএনপির শিক্ষকদের নানাভাবে হয়রানি করেছেন, বিভিন্ন দায়িত্ব থেকে সরিয়েছেন।’ পদত্যাগে বাধ্য হওয়া সাবেক রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আতাউর রহমান বলেন, ‘ছাত্রদের দিয়ে বিভিন্নভাবে মব তৈরি করে আমাদের পদত্যাগ করানো হয়েছে। এখানে আসার পর তার কথাই আইনে পরিণত হয়েছে। তার মতের বাইরে গেলে হয়রানি করেছেন।’ বিএনপিপন্থি আরেক শিক্ষক সার্জারি ও থেরিওজেনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নাসরিন সুলতানা লাকিকেও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বরখাস্ত করেছেন উপাচার্য আলিমুল ইসলাম। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করেছেন এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে করা সংবাদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।ব্রেকিং নিউজ সতর্কতা সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছেন, আলিমুল ইসলামের ব্যক্তিগত আক্রোশ ও জেদের কারণে গত বছরের ১০ ডিসেম্বর ভার্চুয়াল সিন্ডিকেট সভা ডেকে ড. নাসরিন সুলতানাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। অথচ এর আগে কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়নি। এমনকি ওই সভায় এ বিষয়ে কোনো এজেন্ডাও ছিল না। বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের হয়রানির অংশ হিসেবেই অধ্যাপক নাসরিনকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে দাবি বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের। অধ্যাপক নাসরিন সুলতানা লাকি বলেন, ‘যে অভিযোগে আমাকে বরখাস্ত করা হয়েছে, সে অভিযোগের প্রমাণ কোথায়? অস্থিতিশীল যে বলেছেন, সেই অস্থিতিশীলতার সংজ্ঞা কী? বিশ্ববিদ্যালয়ে কি কোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল? এসব প্রশ্নের কোনো উত্তর তার (উপাচার্য) কাছে নেই। এরপরও আমার বিষয়টির কোনো সমাধান না করে উল্টো নানাভাবে হয়রানি ও হুমকি দিচ্ছেন।’ রয়েছে আর্থিক অনিয়ম-দুর্নীতিও: অভিযোগ রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটি কোটি টাকার মালপত্র দরপত্রে উচ্চমূল্য দেখিয়ে অত্যন্ত নিম্নমানের সামগ্রী ক্রয় করেছেন, আবার কখনো ক্রয় না করেই টাকা তছরুপ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন কোষাধ্যক্ষ থাকলেও তাকে পাশ কাটিয়ে এসব অপকর্ম করেছেন উপাচার্য। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ক্যাফেটেরিয়া সংস্কার, বিশ্ববিদ্যালয়ে গাছ লাগানো, আসবাব কেনাকাটায় ব্যাপক অনিয়ম করেছেন উপাচার্য। এসব খাত থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন কয়েক কোটি টাকা। এক শিক্ষক বলেন, ‘ভিসি দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই কয়েক লাখ টাকার ফার্নিচার কেনা হয়। কিন্তু এসব ফার্নিচার এত নিম্নমানের যে, কয়েক মাসের মধ্যে অনেক চেয়ার ভেঙে গেছে।’ সিকৃবির বিএনপিপন্থি সাদা দলের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. এমদাদুল হক বলেন, ‘যেসব শিক্ষক ভিসির কথা শোনেননি, তাদের আক্রোশের শিকার হতে হয়েছে। তিনি জামায়াতপন্থি ট্রেজারার নিয়োগ দেওয়ার মধ্য দিয়েই দলীয়করণ শুরু করেন। এখন বিএনপির দিকে ভিড়তে চাচ্ছেন। মনে হয় না, তা পারবেন। আর নিয়োগ-সংক্রান্ত যেসব অভিযোগ এসেছে, তা ডকুমেন্টেড। এটা নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই।’ অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য আলিমুল ইসলাম বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হচ্ছে, তা ভিত্তিহীন। যাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে সবার রেজাল্ট ভালো। যারা তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন, তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির কী যোগ্যতা আছে, তাও দেখা দরকার। আর অ্যাডহকে জরুরি ভিত্তিতে ছয় মাসের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এখন যে যাকে পারছে, ফ্যাসিস্ট-জামায়াত বানানো হচ্ছে, এসবের কোনো সত্যতা নেই।’ কারাগারে থাকা ব্যক্তিকে অসুস্থতা দেখি ছুটি দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মেডিকেল ছুটি নেওয়ার রাইট সবার আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে সে জেলে ছিল, না কোথায় ছিল তা বিশ্ববিদ্যালয়ের দেখার বিষয় নয়।’ তার আমলে কোনো আর্থিক দুর্নীতি হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, ‘বিষয়গুলো আমার নজরে নেই। যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ সৌজন্যে: কালবেলা  

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: /৫ ( ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

নগরীতে বাস্তবায়ন হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

নগরীতে বাস্তবায়ন হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

মহানগরীর মোগলাবাজার থানাধীন খালেরমুখ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১০ হাজার ইয়াবাসহ ৩জন গ্রেফতার

মহানগরীর মোগলাবাজার থানাধীন খালেরমুখ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১০ হাজার ইয়াবাসহ ৩জন গ্রেফতার

শাল্লার কান্দিগাঁও গ্রামের ঐতিহ্যবাহ নৌকা বাইচ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন এমপি নাছির উদ্দিন চৌধুরী

শাল্লার কান্দিগাঁও গ্রামের ঐতিহ্যবাহ নৌকা বাইচ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন এমপি নাছির উদ্দিন চৌধুরী

ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুই সেনাসদস্য নিহত

ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুই সেনাসদস্য নিহত

তালাশ টেলিভিশনে নারীকে শিকল পড়িয়ে হাটিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর তোলপাড়: কিশোরীকে নির্যাতনের ঘটনায় আটক ৩

তালাশ টেলিভিশনে নারীকে শিকল পড়িয়ে হাটিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর তোলপাড়: কিশোরীকে নির্যাতনের ঘটনায় আটক ৩

ওয়েস্ট ওয়ার্ল্ড শপিং সেন্টারে অগ্নিকাণ্ডস্থল পরিদর্শনে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ

ওয়েস্ট ওয়ার্ল্ড শপিং সেন্টারে অগ্নিকাণ্ডস্থল পরিদর্শনে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ

ইসিএ এলাকায় তাণ্ডবের বিরুদ্ধে অভিযান, ধ্বংস ১০ ড্রেজার ও ৬ এক্সকেভেটর

ইসিএ এলাকায় তাণ্ডবের বিরুদ্ধে অভিযান, ধ্বংস ১০ ড্রেজার ও ৬ এক্সকেভেটর

২১৭ কোটি টাকার রেল প্রকল্পে ধীরগতি, মেয়াদ শেষেও বাকি ৭৫ শতাংশ কাজ

২১৭ কোটি টাকার রেল প্রকল্পে ধীরগতি, মেয়াদ শেষেও বাকি ৭৫ শতাংশ কাজ

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান: শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে সেবা চালু

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান: শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে সেবা চালু

কনজিউমার রাইটস বাংলাদেশ-সিআরবি' সিলেট বিভাগীয় শাখার কার্যনির্বাহী কমিটির শপথ গ্রহণ

কনজিউমার রাইটস বাংলাদেশ-সিআরবি' সিলেট বিভাগীয় শাখার কার্যনির্বাহী কমিটির শপথ গ্রহণ

নগরীতে বাস্তবায়ন হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

নগরীতে বাস্তবায়ন হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

মহানগরীর মোগলাবাজার থানাধীন খালেরমুখ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১০ হাজার ইয়াবাসহ ৩জন গ্রেফতার

মহানগরীর মোগলাবাজার থানাধীন খালেরমুখ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১০ হাজার ইয়াবাসহ ৩জন গ্রেফতার

১৫ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতির সিলেট সফর, প্রস্তুতিমূলক সভায় মন্ত্রীর নির্দেশনা

১৫ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতির সিলেট সফর, প্রস্তুতিমূলক সভায় মন্ত্রীর নির্দেশনা

ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুই সেনাসদস্য নিহত

ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুই সেনাসদস্য নিহত

তালাশ টেলিভিশনে নারীকে শিকল পড়িয়ে হাটিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর তোলপাড়: কিশোরীকে নির্যাতনের ঘটনায় আটক ৩

তালাশ টেলিভিশনে নারীকে শিকল পড়িয়ে হাটিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর তোলপাড়: কিশোরীকে নির্যাতনের ঘটনায় আটক ৩

ইসিএ এলাকায় তাণ্ডবের বিরুদ্ধে অভিযান, ধ্বংস ১০ ড্রেজার ও ৬ এক্সকেভেটর

ইসিএ এলাকায় তাণ্ডবের বিরুদ্ধে অভিযান, ধ্বংস ১০ ড্রেজার ও ৬ এক্সকেভেটর

ভ্যান সরানো নিয়ে কথা-কাটাকাটি, পরে যুবককে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ

ভ্যান সরানো নিয়ে কথা-কাটাকাটি, পরে যুবককে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ

খাদিমনগরে সরকারি খাস জমিতে অ্যালুমিনিয়াম কারখানা স্থাপনের অভিযোগ

খাদিমনগরে সরকারি খাস জমিতে অ্যালুমিনিয়াম কারখানা স্থাপনের অভিযোগ

খাদিমনগরে খাস জমি দখলের অভিযোগ, পাহাড় কেটে গড়ে উঠছে প্লট

খাদিমনগরে খাস জমি দখলের অভিযোগ, পাহাড় কেটে গড়ে উঠছে প্লট

সিলেট সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৩৬ লাখ টাকার চোরাচালানি মালামাল জব্দ!

সিলেট সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৩৬ লাখ টাকার চোরাচালানি মালামাল জব্দ!

সিলেট এডিশন

শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনায় জর্জরিত সিকৃবি ‘বেপরোয়া’ ভিসি

প্রকাশের তারিখ : ০৯ মে ২০২৬

featured Image
নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনায় জর্জরিত সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (সিকৃবি)। অভিযোগ রয়েছে এসব অনিয়মের মূল কারিগর উপাচার্য অধ্যাপক ড. আলিমুল ইসলাম। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) এ অধ্যাপক ২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর সিকৃবির উপাচার্য হিসেবে নিযুক্ত হন এবং ২০ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর পর থেকেই কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নিজস্ব নিয়মে নিয়োগ বোর্ড গঠন করে দিয়ে গেছেন নিয়োগ। যাকে ইচ্ছা তাকে করেছেন শোকজ। ঠুনকো বিষয়ে বহিষ্কার ও বরখাস্ত করেছেন বেশ কয়েকজন শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে। তার আমলে যেসব শিক্ষককে নিয়োগ দিয়েছেন, তাদের অনেকের আবেদনের যোগ্যতাই নেই। এদিকে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সারা দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় যখন বিএনপিপন্থি শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা হাফ ছেড়ে বেঁচেছেন, তখন সিকৃবিতে ঘটেছে তার উল্টো। অন্তর্বর্তী সরকারের আট মাসে বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের ওপর নেমে এসেছিল খড়্গ। প্রশাসনিক পদগুলোয় বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের বাদ দিয়ে পদায়ন করেছেন আওয়ামী লীগ ও জামায়াতপন্থি শিক্ষকদের। কারাগারে থাকা কর্মকর্তাকে দিয়েছেন অসুস্থতা দেখিয়ে ছুটি। মতের অমিল হওয়ায় এক জ্যেষ্ঠ অধ্যাপককে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে করেছেন বরখাস্ত। উন্নয়নকাজে নানা আর্থিক অনিয়মে জড়িয়েছেন তিনি। এখন বিএনপি ক্ষমতায় এলে আবারও ভোল পাল্টে সেজেছেন বিএনপি। দাবি করছেন, তিনি ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থি শিক্ষক সমিতির সহসভাপতি ছিলেন। তবে সিকৃবি শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বলছেন, উপাচার্যের এসব অনিয়ম তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। নির্বাচনের সময় তড়িঘড়ি করে শিক্ষক-কর্মকর্তা নিয়োগ, অনেকের নেই যোগ্যতা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেন্দ্র করে ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে যখন সারা দেশে ভোটের আমেজ, তখনই নিজের পছন্দের লোকদের নিয়োগে ব্যস্ত ছিলেন উপাচার্য আলিমুল ইসলাম। ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর ও ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি আটজন শিক্ষক ও ২২ জন কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়। এর মধ্যে পাঁচজন সরাসরি জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। জামায়াতপন্থি শিক্ষকদের নিয়ে গোপনে নিয়োগ বোর্ড গঠন করে এ নিয়োগ দেন তিনি। সব শর্ত পূরণ না করেও অনেকে নিয়োগ পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তথ্যমতে, শিক্ষকদের মধ্যে ৫০তম সিন্ডিকেট সভায় অ্যানিমেল ও ফিশ বায়োটেকনোলজি বিভাগ এবং প্লান্ট বিভাগের ড. এনামুল হক, এনভায়রনমেন্টাল বায়োটেকনোলজি বিভাগের ড. মোহাম্মদ এরশাদ আলী এবং বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিস্ট্রি বিভাগের ড. মামুন মিয়াকে সহকারী অধ্যাপক থেকে সহযোগী অধ্যাপক পদে নিয়োগের সুপারিশ অনুমোদন দেওয়া হয়। এ ছাড়া কম্পিউটার সায়েন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে মো. আমিনুল ইসলাম রাফি, সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা বিভাগে মো. নাহিদ হাসান, উদ্যানতত্ত্ব বিভাগে ফাতেমা তুজ জোহুরা, কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগে মাহমুদ হাসান, কৃষি অর্থনীতি ও পলিসি বিভাগে নুসরাত জাহানকে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, মামুন মিয়াকে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি দিয়ে নিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় একাডেমিক যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও পিএইচডি ডিগ্রি নেই। কারণ এ পদে নিয়োগ পেতে হলে পিএইচডি লাগে। অথচ তার এখনো পিএইচডির ফল প্রকাশ হয়নি। ফল প্রকাশের আগেই তিনি নামের আগে ‘ডক্টর’ ব্যবহার করেন বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির অনেক শিক্ষক। এটাকে প্রতারণা বলেও মনে করছেন তারা। আবার ড. এরশাদ আলী ও ড. এনামুল হককে পদোন্নতি দিতে লিখিত আপত্তি ছিল সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক কাজী মেহেতাজুল ইসলামের। তার দাবি, ওই দুই শিক্ষকের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা যাচাই না করে, শুধু উপাচার্যের নিজ এলাকার লোক হওয়ায় তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে তিনি শিক্ষা সচিবকে লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন। প্রভাষক পদে নিয়োগ পাওয়া মাহমুদ হাসান তার সেশনে ৪৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ছিলেন অষ্টম। ফলে প্রচলিত নীতিমালায় তার চাকরির জন্য আবেদনের সুযোগ ছিল না। অথচ উপাচার্যের আশীর্বাদপুষ্ট হওয়ায় মেধাবী ও স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের বাদ দিয়ে মাহমুদ হাসানকে নিয়োগ দেন তিনি। এ ছাড়া ওই সময় নিয়োগ পাওয়া আরও ২২ কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে ১২ জনের বাড়িই উপাচার্যের নিজ এলাকায়। আঞ্চলিকপ্রীতির কারণে তাদের নিয়োগ দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও অ্যাডহক ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর কৃষি পরিসংখ্যান বিভাগের সেকশন অফিসার হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি আজিজুল হক আজাদ ও বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে মো. আবু সাইদ রবিকে নিয়োগ দেওয়া হয়। অথচ ইউজিসি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগ ওই বছরের অক্টোবের এক চিঠিতে অ্যাডহক, দৈনিক কিংবা মাস্টারোলে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রকৌশল দপ্তরের সেকশন অফিসার শহিদুল ইসলামকে চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চিকিৎসা ছুটি দেওয়া হয়। অথচ ওই সময় একটি মামলায় কারাগারে ছিলেন বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র। তার এক সহকর্মী বলেন, ‘ওই শিক্ষকের ফোন বন্ধ পাওয়ায় আমি তার পরিবারের কাছে খোঁজ নিয়ে জেনেছি, তিনি একটি মামলায় কারাগারে আছেন। পরে শুনি তাকে পূর্ণ বেতনে ২৬ দিন চিকিৎসা ছুটি দেওয়া হয়েছে।’ এ বিষয়ে জানতে শহিদুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। উপাচার্যের দায়িত্ব নিয়েই অধ্যাপক আমিনুল বিশ্ববিদ্যালয় জামায়াত-শিবির প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের রক্ষার মিশনে নামেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির ট্রেজারার, ডিন, বিভিন্ন বিভাগের পরিচালক, প্রধান প্রকৌশলী, বিভিন্ন হলের হল প্রভোস্ট ও সহকারী প্রভোস্ট পদে সবচেয়ে বেশি পদায়ন করেছেন জামায়াত ও আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের। বিপরীতে বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের বিভিন্ন পদ থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, প্রশাসনিক ৫১টি পদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩১টি পদে আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের নিয়োগ দেন। এর বাইরে ছয়টি পদে জামায়াত ও ১৪টি পদে বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের পদায়ন করেছেন। বিএনপিপন্থি শিক্ষক ১৪ জনকে বিভিন্ন পদে নিয়োগ দিলেও রেজিস্ট্রারসহ ছয়টি পদ থেকে আবার বাদ দিয়েছেন বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের। তথ্যমতে, ২০২৪ সালের ২০ অক্টোবর জামায়াতের রোকন অধ্যাপক ড. এ টি এম মাহবুব ই এলাহীকে ট্রেজারার, ড. মো. সুলতান আহমদ টিপুকে পরিচালক পরিবহন, অধ্যাপক ড. মো. মোহন মিয়াকে বায়ো টেকনোলজি ও জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন, অধ্যাপক ড. সামিউল আনসানকে ছাত্র পরামর্শ বিভাগের পরিচালক ও অধ্যাপক ড. রুহুল আমিনকে অর্থ ও হিসাব দপ্তরের পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেন। অন্যদিকে বিএনপিপন্থি শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. সিদ্দিকুল ইসলামকে পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন), অধ্যাপক ড. মো. এমদাদুল হককে পরিচালক (ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা), অধ্যাপক ড. মো. আতাউর রহমানকে রেজিস্ট্রার, অধ্যাপক ড. মোজাম্মেল হককে প্রক্টর এবং অধ্যাপক ড. মো. কাজী মেহেতাজুল ইসলামকে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। গত বছরের ৩০ মে জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী এবং ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের অনুষ্ঠান আয়োজনে সরাসরি বাধা দেন উপাচার্য। ক্যাম্পাসে ইফতার আয়োজন করায় ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাকিল আহমদের পরীক্ষার ফল স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন তিনি। যোগদানের পর উপাচার্য পরিকল্পিতভাবে ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবিরের ছেলেদের দিয়ে মব সৃষ্টি করে তৎকালীন প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোজাম্মেল হককে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেন। একসময় ছাত্রদল করার অপরাধে এ পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয় বলে দাবি অধ্যাপক মোজাম্মেলের। একইভাবে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আতাউর রহমানকেও রেজিস্ট্রার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালরের সাদা দলের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোজাম্মেল হক বলেন, ‘ভিসি যোগদান করে পাঁচ দিনের মাথায় আমাকে এবং ১৫ দিনের মাথায় অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আতাউর রহমানকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে সরিয়ে দিয়েছেন। আমরা দুজনই ছাত্রদল করে আসছি, আমাদের বিরুদ্ধে কোনো অনিয়মের অভিযোগ নেই। তিনি তার দুর্নীতি ও অপশাসন কায়েম করতেই আমাদের সরিয়েছেন।’ তার আরও অভিযোগ, ‘এই ভিসির আমলে যত নিয়োগ হয়েছে, সবকটিতে রয়েছে অনিয়ম। জামায়াত ও আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের সঙ্গে আঁতাত করে এসব কাজ করেছেন। বিএনপির শিক্ষকদের নানাভাবে হয়রানি করেছেন, বিভিন্ন দায়িত্ব থেকে সরিয়েছেন।’ পদত্যাগে বাধ্য হওয়া সাবেক রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আতাউর রহমান বলেন, ‘ছাত্রদের দিয়ে বিভিন্নভাবে মব তৈরি করে আমাদের পদত্যাগ করানো হয়েছে। এখানে আসার পর তার কথাই আইনে পরিণত হয়েছে। তার মতের বাইরে গেলে হয়রানি করেছেন।’ বিএনপিপন্থি আরেক শিক্ষক সার্জারি ও থেরিওজেনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নাসরিন সুলতানা লাকিকেও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বরখাস্ত করেছেন উপাচার্য আলিমুল ইসলাম। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করেছেন এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে করা সংবাদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।ব্রেকিং নিউজ সতর্কতা সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছেন, আলিমুল ইসলামের ব্যক্তিগত আক্রোশ ও জেদের কারণে গত বছরের ১০ ডিসেম্বর ভার্চুয়াল সিন্ডিকেট সভা ডেকে ড. নাসরিন সুলতানাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। অথচ এর আগে কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়নি। এমনকি ওই সভায় এ বিষয়ে কোনো এজেন্ডাও ছিল না। বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের হয়রানির অংশ হিসেবেই অধ্যাপক নাসরিনকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে দাবি বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের। অধ্যাপক নাসরিন সুলতানা লাকি বলেন, ‘যে অভিযোগে আমাকে বরখাস্ত করা হয়েছে, সে অভিযোগের প্রমাণ কোথায়? অস্থিতিশীল যে বলেছেন, সেই অস্থিতিশীলতার সংজ্ঞা কী? বিশ্ববিদ্যালয়ে কি কোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল? এসব প্রশ্নের কোনো উত্তর তার (উপাচার্য) কাছে নেই। এরপরও আমার বিষয়টির কোনো সমাধান না করে উল্টো নানাভাবে হয়রানি ও হুমকি দিচ্ছেন।’ রয়েছে আর্থিক অনিয়ম-দুর্নীতিও: অভিযোগ রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটি কোটি টাকার মালপত্র দরপত্রে উচ্চমূল্য দেখিয়ে অত্যন্ত নিম্নমানের সামগ্রী ক্রয় করেছেন, আবার কখনো ক্রয় না করেই টাকা তছরুপ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন কোষাধ্যক্ষ থাকলেও তাকে পাশ কাটিয়ে এসব অপকর্ম করেছেন উপাচার্য। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ক্যাফেটেরিয়া সংস্কার, বিশ্ববিদ্যালয়ে গাছ লাগানো, আসবাব কেনাকাটায় ব্যাপক অনিয়ম করেছেন উপাচার্য। এসব খাত থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন কয়েক কোটি টাকা। এক শিক্ষক বলেন, ‘ভিসি দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই কয়েক লাখ টাকার ফার্নিচার কেনা হয়। কিন্তু এসব ফার্নিচার এত নিম্নমানের যে, কয়েক মাসের মধ্যে অনেক চেয়ার ভেঙে গেছে।’ সিকৃবির বিএনপিপন্থি সাদা দলের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. এমদাদুল হক বলেন, ‘যেসব শিক্ষক ভিসির কথা শোনেননি, তাদের আক্রোশের শিকার হতে হয়েছে। তিনি জামায়াতপন্থি ট্রেজারার নিয়োগ দেওয়ার মধ্য দিয়েই দলীয়করণ শুরু করেন। এখন বিএনপির দিকে ভিড়তে চাচ্ছেন। মনে হয় না, তা পারবেন। আর নিয়োগ-সংক্রান্ত যেসব অভিযোগ এসেছে, তা ডকুমেন্টেড। এটা নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই।’ অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য আলিমুল ইসলাম বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হচ্ছে, তা ভিত্তিহীন। যাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে সবার রেজাল্ট ভালো। যারা তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন, তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির কী যোগ্যতা আছে, তাও দেখা দরকার। আর অ্যাডহকে জরুরি ভিত্তিতে ছয় মাসের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এখন যে যাকে পারছে, ফ্যাসিস্ট-জামায়াত বানানো হচ্ছে, এসবের কোনো সত্যতা নেই।’ কারাগারে থাকা ব্যক্তিকে অসুস্থতা দেখি ছুটি দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মেডিকেল ছুটি নেওয়ার রাইট সবার আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে সে জেলে ছিল, না কোথায় ছিল তা বিশ্ববিদ্যালয়ের দেখার বিষয় নয়।’ তার আমলে কোনো আর্থিক দুর্নীতি হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, ‘বিষয়গুলো আমার নজরে নেই। যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ সৌজন্যে: কালবেলা  

সিলেট এডিশন

প্রকাশক ও সম্পাদক:
কামরুল হাসান জুলহাস

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনায় জর্জরিত সিকৃবি ‘বেপরোয়া’ ভিসি
0:00 / 0:00
1x