শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সিলেটের মাটিকে কলঙ্কিত করতে এই ওসমানী মেডিকেলই যথেষ্ট!


সিলেট এডিশন ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৭ অক্টোবর ২০২৫, ০৬:০৯ পিএম

সিলেটের মাটিকে কলঙ্কিত করতে এই ওসমানী মেডিকেলই যথেষ্ট!
নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেট এম.এ.জি. ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল—যেখানে রোগী নয়, টাকাই যেন সবচেয়ে বড় কথা! জরুরি বিভাগে রোগী নিয়ে ঢুকতেই প্রথমেই টিকিট নিতে হয়। টিকিটের দাম ১০ টাকা। কিন্তু যদি রোগীকে ভর্তি করতে হয়, বোর্ডে লেখা ১৫ টাকা হলেও বাস্তবে আদায় করা হয় ২০ টাকা। এখানেই শেষ নয়—রোগীকে হুইলচেয়ারে ওয়ার্ডে নিতে দিতে হয় ১০০ টাকা, আর অবস্থা গুরুতর হলে ট্রলিতে নেওয়ার জন্য দিতে হয় ২০০ টাকা। ওয়ার্ডে পৌঁছানোর পরও নতুন নিয়ম—রোগীর সাথে একজনের বেশি প্রবেশ করলে প্রতি জনে ২০ টাকা দিতে হয়। বেডের জন্য দাবি করা হয় ৫০০ টাকা। কিন্তু অনেক সময় “বেড নেই” বলে টাকা নিয়েও মাটিতে শোয়ানো হয় রোগীকে। কেউ একটু ভালো বেড চাইলেই বাড়তি টাকা—যেমন একজন রোগী ১৯৫০ টাকা দিয়ে পেয়েছেন তথাকথিত PN বেড! রোগী ভর্তি শেষ হলে শুরু হয় নতুন অধ্যায়—ডাক্তারের পালা। ডাক্তার এসে প্রাথমিকভাবে অন্তত চারটি পরীক্ষা দেন, সাথে এক বস্তা স্যালাইন ও ঔষধের প্রেসক্রিপশন। রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত চলতে থাকে আরও ঔষধ ও স্যালাইন। আর কেউ প্রশ্ন করলে পুলিশের ভয় দেখানো হয়—যেমনটা এক ভুক্তভোগীর সাথে ঘটেছে। রিপোর্ট আসার পর নতুন ডাক্তার এসে নতুন পরীক্ষা দেন। প্রতিদিন ডাক্তার বদল হয়, আর প্রতিদিন নতুন নতুন পরীক্ষা ও ঔষধ যুক্ত হয়। পরীক্ষায় রোগীকে নিতে হুইলচেয়ারের জন্য ১০০ টাকা, ট্রলির জন্য ২০০ টাকা দিতে হয় ওয়ার্ডবয়কে। রোগীর খোঁজ নিতে আসা স্বজনদেরও প্রতিদিন দারোয়ানকে “খুশি” করতে হয়। সবশেষে যখন অপারেশনের পালা আসে—ডাক্তারের হাতে ৬০০০ থেকে ৭০০০ টাকার ঔষধ কিনে দিতে হয়, যা ফেরতযোগ্য নয়। যদি অপারেশনে রোগী মারা যায়—টাকা, আশা, মানুষ—সব শেষ! আর যদি সফল হয়, তখনও থিয়েটারের বয়, দারোয়ান, নার্স—সবার মুখে হাসি ফোটাতে হয় টাকা দিয়ে। রোগী সুস্থ হলে রিলিজ নিতেও শুরু হয় নতুন খেলা—নার্স, দারোয়ান, ওয়ার্ডবয়—সবার ভাগ আলাদা। শেষমেশ সব “খুশি” করতে করতে রোগীর স্বজনরা প্রায় লেংটা হয়ে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে আসে। বাহিরে এসে চোখে পড়ে বড় ব্যানার— “আমরা সেবা দিই, মানবতার জন্য কাজ করি।” কিন্তু বাস্তবতা যেন এর সম্পূর্ণ উল্টো ছবি! ভুক্তভোগীদের দাবি, “আমরা জানি, এতে করে ওরা একদিনে ঠিক হবে না। কিন্তু এই অন্যায়ের প্রতিবাদ অব্যাহত রাখলে হয়তো ১০০ টাকার জায়গায় ৫০ টাকায় নামবে—এটাও তো একধরনের জয়!” রক্তে যখন ভেজাল ঢুকে যায়, তখন সেটি সহজে নিরাময় হয় না। তবু ন্যায়ের পক্ষে এই প্রতিবাদ চলুক—কারণ ওসমানী মেডিকেল এখন সিলেটের মাটির কলঙ্কে পরিণত হচ্ছে!

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: /৫ ( ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

নগরীতে বাস্তবায়ন হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

নগরীতে বাস্তবায়ন হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

মহানগরীর মোগলাবাজার থানাধীন খালেরমুখ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১০ হাজার ইয়াবাসহ ৩জন গ্রেফতার

মহানগরীর মোগলাবাজার থানাধীন খালেরমুখ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১০ হাজার ইয়াবাসহ ৩জন গ্রেফতার

শাল্লার কান্দিগাঁও গ্রামের ঐতিহ্যবাহ নৌকা বাইচ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন এমপি নাছির উদ্দিন চৌধুরী

শাল্লার কান্দিগাঁও গ্রামের ঐতিহ্যবাহ নৌকা বাইচ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন এমপি নাছির উদ্দিন চৌধুরী

ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুই সেনাসদস্য নিহত

ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুই সেনাসদস্য নিহত

তালাশ টেলিভিশনে নারীকে শিকল পড়িয়ে হাটিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর তোলপাড়: কিশোরীকে নির্যাতনের ঘটনায় আটক ৩

তালাশ টেলিভিশনে নারীকে শিকল পড়িয়ে হাটিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর তোলপাড়: কিশোরীকে নির্যাতনের ঘটনায় আটক ৩

ওয়েস্ট ওয়ার্ল্ড শপিং সেন্টারে অগ্নিকাণ্ডস্থল পরিদর্শনে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ

ওয়েস্ট ওয়ার্ল্ড শপিং সেন্টারে অগ্নিকাণ্ডস্থল পরিদর্শনে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ

ইসিএ এলাকায় তাণ্ডবের বিরুদ্ধে অভিযান, ধ্বংস ১০ ড্রেজার ও ৬ এক্সকেভেটর

ইসিএ এলাকায় তাণ্ডবের বিরুদ্ধে অভিযান, ধ্বংস ১০ ড্রেজার ও ৬ এক্সকেভেটর

২১৭ কোটি টাকার রেল প্রকল্পে ধীরগতি, মেয়াদ শেষেও বাকি ৭৫ শতাংশ কাজ

২১৭ কোটি টাকার রেল প্রকল্পে ধীরগতি, মেয়াদ শেষেও বাকি ৭৫ শতাংশ কাজ

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান: শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে সেবা চালু

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান: শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে সেবা চালু

কনজিউমার রাইটস বাংলাদেশ-সিআরবি' সিলেট বিভাগীয় শাখার কার্যনির্বাহী কমিটির শপথ গ্রহণ

কনজিউমার রাইটস বাংলাদেশ-সিআরবি' সিলেট বিভাগীয় শাখার কার্যনির্বাহী কমিটির শপথ গ্রহণ

নগরীতে বাস্তবায়ন হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

নগরীতে বাস্তবায়ন হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

মহানগরীর মোগলাবাজার থানাধীন খালেরমুখ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১০ হাজার ইয়াবাসহ ৩জন গ্রেফতার

মহানগরীর মোগলাবাজার থানাধীন খালেরমুখ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১০ হাজার ইয়াবাসহ ৩জন গ্রেফতার

১৫ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতির সিলেট সফর, প্রস্তুতিমূলক সভায় মন্ত্রীর নির্দেশনা

১৫ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতির সিলেট সফর, প্রস্তুতিমূলক সভায় মন্ত্রীর নির্দেশনা

ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুই সেনাসদস্য নিহত

ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুই সেনাসদস্য নিহত

তালাশ টেলিভিশনে নারীকে শিকল পড়িয়ে হাটিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর তোলপাড়: কিশোরীকে নির্যাতনের ঘটনায় আটক ৩

তালাশ টেলিভিশনে নারীকে শিকল পড়িয়ে হাটিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর তোলপাড়: কিশোরীকে নির্যাতনের ঘটনায় আটক ৩

ইসিএ এলাকায় তাণ্ডবের বিরুদ্ধে অভিযান, ধ্বংস ১০ ড্রেজার ও ৬ এক্সকেভেটর

ইসিএ এলাকায় তাণ্ডবের বিরুদ্ধে অভিযান, ধ্বংস ১০ ড্রেজার ও ৬ এক্সকেভেটর

ভ্যান সরানো নিয়ে কথা-কাটাকাটি, পরে যুবককে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ

ভ্যান সরানো নিয়ে কথা-কাটাকাটি, পরে যুবককে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ

খাদিমনগরে সরকারি খাস জমিতে অ্যালুমিনিয়াম কারখানা স্থাপনের অভিযোগ

খাদিমনগরে সরকারি খাস জমিতে অ্যালুমিনিয়াম কারখানা স্থাপনের অভিযোগ

খাদিমনগরে খাস জমি দখলের অভিযোগ, পাহাড় কেটে গড়ে উঠছে প্লট

খাদিমনগরে খাস জমি দখলের অভিযোগ, পাহাড় কেটে গড়ে উঠছে প্লট

সিলেট সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৩৬ লাখ টাকার চোরাচালানি মালামাল জব্দ!

সিলেট সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৩৬ লাখ টাকার চোরাচালানি মালামাল জব্দ!

সিলেট এডিশন

শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সিলেটের মাটিকে কলঙ্কিত করতে এই ওসমানী মেডিকেলই যথেষ্ট!

প্রকাশের তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৫

featured Image
নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেট এম.এ.জি. ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল—যেখানে রোগী নয়, টাকাই যেন সবচেয়ে বড় কথা! জরুরি বিভাগে রোগী নিয়ে ঢুকতেই প্রথমেই টিকিট নিতে হয়। টিকিটের দাম ১০ টাকা। কিন্তু যদি রোগীকে ভর্তি করতে হয়, বোর্ডে লেখা ১৫ টাকা হলেও বাস্তবে আদায় করা হয় ২০ টাকা। এখানেই শেষ নয়—রোগীকে হুইলচেয়ারে ওয়ার্ডে নিতে দিতে হয় ১০০ টাকা, আর অবস্থা গুরুতর হলে ট্রলিতে নেওয়ার জন্য দিতে হয় ২০০ টাকা। ওয়ার্ডে পৌঁছানোর পরও নতুন নিয়ম—রোগীর সাথে একজনের বেশি প্রবেশ করলে প্রতি জনে ২০ টাকা দিতে হয়। বেডের জন্য দাবি করা হয় ৫০০ টাকা। কিন্তু অনেক সময় “বেড নেই” বলে টাকা নিয়েও মাটিতে শোয়ানো হয় রোগীকে। কেউ একটু ভালো বেড চাইলেই বাড়তি টাকা—যেমন একজন রোগী ১৯৫০ টাকা দিয়ে পেয়েছেন তথাকথিত PN বেড! রোগী ভর্তি শেষ হলে শুরু হয় নতুন অধ্যায়—ডাক্তারের পালা। ডাক্তার এসে প্রাথমিকভাবে অন্তত চারটি পরীক্ষা দেন, সাথে এক বস্তা স্যালাইন ও ঔষধের প্রেসক্রিপশন। রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত চলতে থাকে আরও ঔষধ ও স্যালাইন। আর কেউ প্রশ্ন করলে পুলিশের ভয় দেখানো হয়—যেমনটা এক ভুক্তভোগীর সাথে ঘটেছে। রিপোর্ট আসার পর নতুন ডাক্তার এসে নতুন পরীক্ষা দেন। প্রতিদিন ডাক্তার বদল হয়, আর প্রতিদিন নতুন নতুন পরীক্ষা ও ঔষধ যুক্ত হয়। পরীক্ষায় রোগীকে নিতে হুইলচেয়ারের জন্য ১০০ টাকা, ট্রলির জন্য ২০০ টাকা দিতে হয় ওয়ার্ডবয়কে। রোগীর খোঁজ নিতে আসা স্বজনদেরও প্রতিদিন দারোয়ানকে “খুশি” করতে হয়। সবশেষে যখন অপারেশনের পালা আসে—ডাক্তারের হাতে ৬০০০ থেকে ৭০০০ টাকার ঔষধ কিনে দিতে হয়, যা ফেরতযোগ্য নয়। যদি অপারেশনে রোগী মারা যায়—টাকা, আশা, মানুষ—সব শেষ! আর যদি সফল হয়, তখনও থিয়েটারের বয়, দারোয়ান, নার্স—সবার মুখে হাসি ফোটাতে হয় টাকা দিয়ে। রোগী সুস্থ হলে রিলিজ নিতেও শুরু হয় নতুন খেলা—নার্স, দারোয়ান, ওয়ার্ডবয়—সবার ভাগ আলাদা। শেষমেশ সব “খুশি” করতে করতে রোগীর স্বজনরা প্রায় লেংটা হয়ে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে আসে। বাহিরে এসে চোখে পড়ে বড় ব্যানার— “আমরা সেবা দিই, মানবতার জন্য কাজ করি।” কিন্তু বাস্তবতা যেন এর সম্পূর্ণ উল্টো ছবি! ভুক্তভোগীদের দাবি, “আমরা জানি, এতে করে ওরা একদিনে ঠিক হবে না। কিন্তু এই অন্যায়ের প্রতিবাদ অব্যাহত রাখলে হয়তো ১০০ টাকার জায়গায় ৫০ টাকায় নামবে—এটাও তো একধরনের জয়!” রক্তে যখন ভেজাল ঢুকে যায়, তখন সেটি সহজে নিরাময় হয় না। তবু ন্যায়ের পক্ষে এই প্রতিবাদ চলুক—কারণ ওসমানী মেডিকেল এখন সিলেটের মাটির কলঙ্কে পরিণত হচ্ছে!

সিলেট এডিশন

প্রকাশক ও সম্পাদক:
কামরুল হাসান জুলহাস

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
সিলেটের মাটিকে কলঙ্কিত করতে এই ওসমানী মেডিকেলই যথেষ্ট!
0:00 / 0:00
1x