শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শাল্লার কৃষকরা জীবন যুদ্ধে দিশেহারা


সিলেট এডিশন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:১৮ পিএম

শাল্লার কৃষকরা জীবন যুদ্ধে দিশেহারা
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় মানুষের জীবিকার প্রধান মাধ্যম হচ্ছে সোনালী ফসল ধান। এখন ধান কাটার মহোৎসব চলছে এবং জমি থেকে ধান গোলায় তুলতে সব বয়সী পুরুষ ও নারী মিলে ব্যস্ততায় দিন কাটাচ্ছে কিন্তু কৃষক-কৃষাণীর মনে নেই আনন্দ। কেননা বিভিন্ন দুর্যোগ ও অপরিকল্পিতভাবে হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণে অতিবৃষ্টিতে হাওরে জমানো পানি নিষ্কাসনের ব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধতায় হাওরের নিচু জমি তলিয়ে যায়। আবার শিলাবৃষ্টির কারণে কিছু হাওরে জমির ধান নষ্ট হয়েছে। অন্য বছরের তুলনায় মেশিন ও শ্রমিক দিয়ে ধান কর্তন, মাড়াই করতে দ্বিগুণ খরচ হচ্ছে। এবং রোদের অভাবে মাড়াই করা ধান ও বন শুকাতে না পারায় এতে পচনধরা শুরু হবে। এছাড়াও ধানের মূল্য পর্যাপ্ত না থাকায় কৃষকদের অবস্থা একেবারে মরার উপর খাঁড়ার ঘাঁ। আবার বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে ঘোষণা করা হয় নদীতে পানি বৃদ্ধি ও আগাম বন্যার আশঙ্কা থাকায় হাওরে ৮০% ধান পাকা হলেই কর্তনের জন্য এলাকায় মাইকিং করে কৃষকদের জানানো হয়েছে। এনিয়ে কৃষকরা দুশ্চিন্তায় পড়ে অপরিপক্ক ধান অনেকেই কাটতেছে। এব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড শাল্লা শাখার সেকশন কর্মকর্তা ওবায়দুল হক জানান, আমাদের নির্দেশনা মোতাবেক কাজ করছি এবং কৃষকদের ফসল গোলায় উত্তোলন না হওয়া পর্যন্ত হাওর রক্ষা বাঁধে সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ে থাকব। অন্যদিকে কৃষকদের মন্তব্য, যাদের নিজের জমি তারা কিছুটা স্বস্তি পাবে কিন্তু যারা অন্যের জমি ইজারা নিয়ে ফসল করছে তাদের কোনো লাভ হবে না। প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি কৃত্রিম দুর্যোগের কারণে সংকট আরো দেখা দিয়েছে। যেমন অপরিকল্পিত বাঁধের জন্য হাওরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি এবং জ্বালানি তেলের অভাবে কৃষি যন্ত্রপাতি চালানো ব্যাহত হচ্ছে। এরমধ্যে ধানেরও মূল্য কম। তবে সরকার যদি ধানের মূল্য বাড়িয়ে দিত তাহলে মোটামুটি কৃষকের ঘাটতি একটু হলেও পূরণ হইত। কৃষি অফিসের তথ্যমতে, এবছর শাল্লা উপজেলায় ২১ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে ধান আবাদ করা হয়েছে। এর থেকে ধান উৎপাদন হবে প্রায় ১ লক্ষ ৪৩ হাজার ৩৬৮ মেট্রিক টন ও চাল উৎপাদন প্রায় ৯৫ হাজার ৫৭৯ মেট্রিক টন। যার বাজার মূল্য প্রায় ৫১৬.১২ কোটি টাকা। তবে জলাবদ্ধতায় প্রায় ৪ হাজার ৩৪০ হেক্টর জমি, শিলাবৃষ্টি ও অতিবৃষ্টিতে আক্রান্ত প্রায় ৭৭১ হেক্টর জমি এবং শিলাবৃষ্টি ও অতিবৃষ্টিতে চূড়ান্ত ক্ষতিগ্রস্থ জমি প্রায় ১৬৭ হেক্টর। কিন্তু ধানের ফলন ভাল হলেও দুর্যোগের কারণে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উৎপাদনের লক্ষমাত্রা অর্জন নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। এবিষয়ে কৃষি কর্মকর্তা শুভজিত রায় বলেন, আমরা সার্বক্ষণিক কৃষকদের পাশে থেকে বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা করছি। কিছু জমিতে জলাবদ্ধতার কারনে মেশিন দিয়ে ধান কর্তন সম্ভব না বিধায় আগাম বন্যা প্রতিরোধে শ্রমিক দিয়ে ধান কর্তনের জন্য বিভিন্ন জেলা থেকে শ্রমিক সংগ্রহ হচ্ছে। জ্বালানি সংকটে ধান কাটার ও মাড়াই মেশিন যেন বন্ধ না থাকে সে ব্যাপারে আমরা জ্বালানির ব্যবস্থা রেখেছি। আশা করি মে মাসের ৭ তারিখের মধ্যে শাল্লার সম্পূর্ণ হাওরে ধান কর্তন শেষ হবে। এবং যে সমস্ত ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে সেগুলো তালিকা করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট দেওয়া হয়েছে। ভারাক্রান্ত মনে কৃষক আব্দুস শহীদ জানান, আমি ৩০ কেয়ার জমি করছি শিলাবৃষ্টিতে যেমন কিছুটা ক্ষতি হইছে এরমধ্যে হাওরে বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে কিছু ধান ক্ষেত। ভাল বছরে যে জমি দুই থেকে আড়াই হাজার টাকায় কেটে মাঠে আনা যেত। সেইম জমি এইবার চার থেকে পাঁচ হাজার টাকায় কেটে এবং অতিরিক্ত খরচে নৌকা ও ট্রলিতে মাঠে আনতে হচ্ছে। এরপরে শ্রমিক ঠিকমতে পাওয়া যাচ্ছেনা। জলাবদ্ধতা, ডিজেল ও প্রট্রোল সমস্যার কারণে মেশিন দিয়ে সব জমি কাটা যাচ্ছেনা, আবার জমি কেটে মেশিনে মাড়াই করতে চার্জ নিচ্ছে বেশি তবে কিছুটা সিন্ডিকেট তারা করে। অন্যবছর প্রতি মণ ধান বিক্রি হইছে ৮শ- ৯শ টাকা এইবার ৬শ-৭শ টাকার বেশি নয়। নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে, উপজেলা প্রশাসন থেকে মাইকিংয়ের কথা শুনে ভয়ে অনেকে আধা পাকা ধান কাটছে। আসলে সব কিছু হিসাব করলে কিচ্ছুই থাকেনা। মূলত পূর্বপুরুষরা জমি করেছেন এইজন্য আমরা জমি করতে হচ্ছে। সত্যি বলতে হাওরবাসীর কৃষকরা জীবনযুদ্ধে দিশেহারা। যদিও উপজেলা প্রশাসনের লোক গুরুত্ব দিয়ে হাওরে তদারকি করছেন। পাশাপাশি আপনাদের লেখনিতে কৃষকদের বাস্তব চিত্র উপস্থাপন করলে সরকারের উচ্চপর্যায়ে দৃষ্টিগোচর হলে হয়তোবা কৃষকরাও কিছুটা উপকৃত হবে। সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও হাওর রক্ষা বাঁধ (পিআইসি) কমিটির সভাপতি পিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, ধান কাটার এখন মহোৎসব চলছে। কৃষক, সাধারণ মানুষ সবাই সচেষ্ট আছেন। আমাদের উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ সার্বক্ষণিক মাঠে থেকে কৃষকদের পাশে রয়েছি। জ্বালানি সংকটে যেন কোনো মেশিন বন্ধ না থাকে এব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া আছে। এবং হাওর রক্ষা বাঁধ কমিটির সংশ্লিষ্ট সবাইকে বলা হয়েছে নদীতে পানি বৃদ্ধি কারণে যদি কোথাও বাঁধের অসংগতি পরিলক্ষিত হয় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে আমরা প্রস্তুত আছি।

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: /৫ ( ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

নগরীতে বাস্তবায়ন হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

নগরীতে বাস্তবায়ন হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

মহানগরীর মোগলাবাজার থানাধীন খালেরমুখ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১০ হাজার ইয়াবাসহ ৩জন গ্রেফতার

মহানগরীর মোগলাবাজার থানাধীন খালেরমুখ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১০ হাজার ইয়াবাসহ ৩জন গ্রেফতার

শাল্লার কান্দিগাঁও গ্রামের ঐতিহ্যবাহ নৌকা বাইচ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন এমপি নাছির উদ্দিন চৌধুরী

শাল্লার কান্দিগাঁও গ্রামের ঐতিহ্যবাহ নৌকা বাইচ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন এমপি নাছির উদ্দিন চৌধুরী

ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুই সেনাসদস্য নিহত

ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুই সেনাসদস্য নিহত

তালাশ টেলিভিশনে নারীকে শিকল পড়িয়ে হাটিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর তোলপাড়: কিশোরীকে নির্যাতনের ঘটনায় আটক ৩

তালাশ টেলিভিশনে নারীকে শিকল পড়িয়ে হাটিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর তোলপাড়: কিশোরীকে নির্যাতনের ঘটনায় আটক ৩

ওয়েস্ট ওয়ার্ল্ড শপিং সেন্টারে অগ্নিকাণ্ডস্থল পরিদর্শনে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ

ওয়েস্ট ওয়ার্ল্ড শপিং সেন্টারে অগ্নিকাণ্ডস্থল পরিদর্শনে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ

ইসিএ এলাকায় তাণ্ডবের বিরুদ্ধে অভিযান, ধ্বংস ১০ ড্রেজার ও ৬ এক্সকেভেটর

ইসিএ এলাকায় তাণ্ডবের বিরুদ্ধে অভিযান, ধ্বংস ১০ ড্রেজার ও ৬ এক্সকেভেটর

২১৭ কোটি টাকার রেল প্রকল্পে ধীরগতি, মেয়াদ শেষেও বাকি ৭৫ শতাংশ কাজ

২১৭ কোটি টাকার রেল প্রকল্পে ধীরগতি, মেয়াদ শেষেও বাকি ৭৫ শতাংশ কাজ

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান: শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে সেবা চালু

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান: শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে সেবা চালু

কনজিউমার রাইটস বাংলাদেশ-সিআরবি' সিলেট বিভাগীয় শাখার কার্যনির্বাহী কমিটির শপথ গ্রহণ

কনজিউমার রাইটস বাংলাদেশ-সিআরবি' সিলেট বিভাগীয় শাখার কার্যনির্বাহী কমিটির শপথ গ্রহণ

নগরীতে বাস্তবায়ন হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

নগরীতে বাস্তবায়ন হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

মহানগরীর মোগলাবাজার থানাধীন খালেরমুখ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১০ হাজার ইয়াবাসহ ৩জন গ্রেফতার

মহানগরীর মোগলাবাজার থানাধীন খালেরমুখ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১০ হাজার ইয়াবাসহ ৩জন গ্রেফতার

১৫ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতির সিলেট সফর, প্রস্তুতিমূলক সভায় মন্ত্রীর নির্দেশনা

১৫ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতির সিলেট সফর, প্রস্তুতিমূলক সভায় মন্ত্রীর নির্দেশনা

ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুই সেনাসদস্য নিহত

ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুই সেনাসদস্য নিহত

তালাশ টেলিভিশনে নারীকে শিকল পড়িয়ে হাটিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর তোলপাড়: কিশোরীকে নির্যাতনের ঘটনায় আটক ৩

তালাশ টেলিভিশনে নারীকে শিকল পড়িয়ে হাটিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর তোলপাড়: কিশোরীকে নির্যাতনের ঘটনায় আটক ৩

ইসিএ এলাকায় তাণ্ডবের বিরুদ্ধে অভিযান, ধ্বংস ১০ ড্রেজার ও ৬ এক্সকেভেটর

ইসিএ এলাকায় তাণ্ডবের বিরুদ্ধে অভিযান, ধ্বংস ১০ ড্রেজার ও ৬ এক্সকেভেটর

ভ্যান সরানো নিয়ে কথা-কাটাকাটি, পরে যুবককে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ

ভ্যান সরানো নিয়ে কথা-কাটাকাটি, পরে যুবককে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ

খাদিমনগরে সরকারি খাস জমিতে অ্যালুমিনিয়াম কারখানা স্থাপনের অভিযোগ

খাদিমনগরে সরকারি খাস জমিতে অ্যালুমিনিয়াম কারখানা স্থাপনের অভিযোগ

খাদিমনগরে খাস জমি দখলের অভিযোগ, পাহাড় কেটে গড়ে উঠছে প্লট

খাদিমনগরে খাস জমি দখলের অভিযোগ, পাহাড় কেটে গড়ে উঠছে প্লট

সিলেট সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৩৬ লাখ টাকার চোরাচালানি মালামাল জব্দ!

সিলেট সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৩৬ লাখ টাকার চোরাচালানি মালামাল জব্দ!

সিলেট এডিশন

শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


শাল্লার কৃষকরা জীবন যুদ্ধে দিশেহারা

প্রকাশের তারিখ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬

featured Image
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় মানুষের জীবিকার প্রধান মাধ্যম হচ্ছে সোনালী ফসল ধান। এখন ধান কাটার মহোৎসব চলছে এবং জমি থেকে ধান গোলায় তুলতে সব বয়সী পুরুষ ও নারী মিলে ব্যস্ততায় দিন কাটাচ্ছে কিন্তু কৃষক-কৃষাণীর মনে নেই আনন্দ। কেননা বিভিন্ন দুর্যোগ ও অপরিকল্পিতভাবে হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণে অতিবৃষ্টিতে হাওরে জমানো পানি নিষ্কাসনের ব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধতায় হাওরের নিচু জমি তলিয়ে যায়। আবার শিলাবৃষ্টির কারণে কিছু হাওরে জমির ধান নষ্ট হয়েছে। অন্য বছরের তুলনায় মেশিন ও শ্রমিক দিয়ে ধান কর্তন, মাড়াই করতে দ্বিগুণ খরচ হচ্ছে। এবং রোদের অভাবে মাড়াই করা ধান ও বন শুকাতে না পারায় এতে পচনধরা শুরু হবে। এছাড়াও ধানের মূল্য পর্যাপ্ত না থাকায় কৃষকদের অবস্থা একেবারে মরার উপর খাঁড়ার ঘাঁ। আবার বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে ঘোষণা করা হয় নদীতে পানি বৃদ্ধি ও আগাম বন্যার আশঙ্কা থাকায় হাওরে ৮০% ধান পাকা হলেই কর্তনের জন্য এলাকায় মাইকিং করে কৃষকদের জানানো হয়েছে। এনিয়ে কৃষকরা দুশ্চিন্তায় পড়ে অপরিপক্ক ধান অনেকেই কাটতেছে। এব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড শাল্লা শাখার সেকশন কর্মকর্তা ওবায়দুল হক জানান, আমাদের নির্দেশনা মোতাবেক কাজ করছি এবং কৃষকদের ফসল গোলায় উত্তোলন না হওয়া পর্যন্ত হাওর রক্ষা বাঁধে সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ে থাকব। অন্যদিকে কৃষকদের মন্তব্য, যাদের নিজের জমি তারা কিছুটা স্বস্তি পাবে কিন্তু যারা অন্যের জমি ইজারা নিয়ে ফসল করছে তাদের কোনো লাভ হবে না। প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি কৃত্রিম দুর্যোগের কারণে সংকট আরো দেখা দিয়েছে। যেমন অপরিকল্পিত বাঁধের জন্য হাওরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি এবং জ্বালানি তেলের অভাবে কৃষি যন্ত্রপাতি চালানো ব্যাহত হচ্ছে। এরমধ্যে ধানেরও মূল্য কম। তবে সরকার যদি ধানের মূল্য বাড়িয়ে দিত তাহলে মোটামুটি কৃষকের ঘাটতি একটু হলেও পূরণ হইত। কৃষি অফিসের তথ্যমতে, এবছর শাল্লা উপজেলায় ২১ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে ধান আবাদ করা হয়েছে। এর থেকে ধান উৎপাদন হবে প্রায় ১ লক্ষ ৪৩ হাজার ৩৬৮ মেট্রিক টন ও চাল উৎপাদন প্রায় ৯৫ হাজার ৫৭৯ মেট্রিক টন। যার বাজার মূল্য প্রায় ৫১৬.১২ কোটি টাকা। তবে জলাবদ্ধতায় প্রায় ৪ হাজার ৩৪০ হেক্টর জমি, শিলাবৃষ্টি ও অতিবৃষ্টিতে আক্রান্ত প্রায় ৭৭১ হেক্টর জমি এবং শিলাবৃষ্টি ও অতিবৃষ্টিতে চূড়ান্ত ক্ষতিগ্রস্থ জমি প্রায় ১৬৭ হেক্টর। কিন্তু ধানের ফলন ভাল হলেও দুর্যোগের কারণে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উৎপাদনের লক্ষমাত্রা অর্জন নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। এবিষয়ে কৃষি কর্মকর্তা শুভজিত রায় বলেন, আমরা সার্বক্ষণিক কৃষকদের পাশে থেকে বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা করছি। কিছু জমিতে জলাবদ্ধতার কারনে মেশিন দিয়ে ধান কর্তন সম্ভব না বিধায় আগাম বন্যা প্রতিরোধে শ্রমিক দিয়ে ধান কর্তনের জন্য বিভিন্ন জেলা থেকে শ্রমিক সংগ্রহ হচ্ছে। জ্বালানি সংকটে ধান কাটার ও মাড়াই মেশিন যেন বন্ধ না থাকে সে ব্যাপারে আমরা জ্বালানির ব্যবস্থা রেখেছি। আশা করি মে মাসের ৭ তারিখের মধ্যে শাল্লার সম্পূর্ণ হাওরে ধান কর্তন শেষ হবে। এবং যে সমস্ত ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে সেগুলো তালিকা করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট দেওয়া হয়েছে। ভারাক্রান্ত মনে কৃষক আব্দুস শহীদ জানান, আমি ৩০ কেয়ার জমি করছি শিলাবৃষ্টিতে যেমন কিছুটা ক্ষতি হইছে এরমধ্যে হাওরে বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে কিছু ধান ক্ষেত। ভাল বছরে যে জমি দুই থেকে আড়াই হাজার টাকায় কেটে মাঠে আনা যেত। সেইম জমি এইবার চার থেকে পাঁচ হাজার টাকায় কেটে এবং অতিরিক্ত খরচে নৌকা ও ট্রলিতে মাঠে আনতে হচ্ছে। এরপরে শ্রমিক ঠিকমতে পাওয়া যাচ্ছেনা। জলাবদ্ধতা, ডিজেল ও প্রট্রোল সমস্যার কারণে মেশিন দিয়ে সব জমি কাটা যাচ্ছেনা, আবার জমি কেটে মেশিনে মাড়াই করতে চার্জ নিচ্ছে বেশি তবে কিছুটা সিন্ডিকেট তারা করে। অন্যবছর প্রতি মণ ধান বিক্রি হইছে ৮শ- ৯শ টাকা এইবার ৬শ-৭শ টাকার বেশি নয়। নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে, উপজেলা প্রশাসন থেকে মাইকিংয়ের কথা শুনে ভয়ে অনেকে আধা পাকা ধান কাটছে। আসলে সব কিছু হিসাব করলে কিচ্ছুই থাকেনা। মূলত পূর্বপুরুষরা জমি করেছেন এইজন্য আমরা জমি করতে হচ্ছে। সত্যি বলতে হাওরবাসীর কৃষকরা জীবনযুদ্ধে দিশেহারা। যদিও উপজেলা প্রশাসনের লোক গুরুত্ব দিয়ে হাওরে তদারকি করছেন। পাশাপাশি আপনাদের লেখনিতে কৃষকদের বাস্তব চিত্র উপস্থাপন করলে সরকারের উচ্চপর্যায়ে দৃষ্টিগোচর হলে হয়তোবা কৃষকরাও কিছুটা উপকৃত হবে। সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও হাওর রক্ষা বাঁধ (পিআইসি) কমিটির সভাপতি পিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, ধান কাটার এখন মহোৎসব চলছে। কৃষক, সাধারণ মানুষ সবাই সচেষ্ট আছেন। আমাদের উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ সার্বক্ষণিক মাঠে থেকে কৃষকদের পাশে রয়েছি। জ্বালানি সংকটে যেন কোনো মেশিন বন্ধ না থাকে এব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া আছে। এবং হাওর রক্ষা বাঁধ কমিটির সংশ্লিষ্ট সবাইকে বলা হয়েছে নদীতে পানি বৃদ্ধি কারণে যদি কোথাও বাঁধের অসংগতি পরিলক্ষিত হয় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে আমরা প্রস্তুত আছি।

সিলেট এডিশন

প্রকাশক ও সম্পাদক:
কামরুল হাসান জুলহাস

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
শাল্লার কৃষকরা জীবন যুদ্ধে দিশেহারা
0:00 / 0:00
1x