শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জৈন্তাপুর সীমান্তে ‘সিও লাইন’ দিয়ে চোরাইপথে আসছে গরু-মহিষ  বাজারের চালানে বৈধতার অভিযোগ


সিলেট এডিশন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৭ মার্চ ২০২৬, ০৮:৫৯ পিএম

জৈন্তাপুর সীমান্তে ‘সিও লাইন’ দিয়ে চোরাইপথে আসছে গরু-মহিষ  বাজারের চালানে বৈধতার অভিযোগ

ত্রিশাধিক পয়েন্ট দিয়ে প্রতিদিন প্রবেশ হাজারো গরু-মহিষ, সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশের অভিযোগ জৈন্তাপুর (সিলেট)প্রতিনিধি:: সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার সীমান্তজুড়ে ‘সিও লাইন’ ব্যবস্থার মাধ্যমে ভারতীয় গরু-মহিষ চোরাচালান চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, অন্তত ৩০টির বেশি পয়েন্ট দিয়ে এসব গরু-মহিষ প্রবেশ করে উপজেলার বিভিন্ন বাজারে পৌঁছাচ্ছে এবং পরে বাজার ইজারাদারের চালানের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হচ্ছে। সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯ বিজিবির আওতাধীন জৈন্তাপুর রাজবাড়ী, গোয়াবাড়ী ও লালাখাল বিওপি এলাকার ঘিলাতৈল, ফুলবাড়ী, টিপরাখলা, করিমটিলা, কমলাবাড়ী, ভিতরগোল, গোয়াবাড়ী, হর্নি, বাইরাখেল, গরুরঘাট, মাঝেরবিল, জালিয়াখলা, নয়াগ্রাম ও কালিঞ্জিবাড়ীসহ অন্তত ১৫টি পয়েন্ট দিয়ে গরু-মহিষ প্রবেশ করছে।

একইভাবে ৪৮ বিজিবির ডিবিরহাওর, মিনাটিলা ও শ্রীপুর বিওপির আওতাধীন ডিবিরহাওর, আসামপাড়া (রিভার্স পিলার), রাজা বিজয় সিংহের সমাধী এলাকা, লাম্বাটিলা, কেন্দ্রী হাওর, কাঠালবাড়ী, মিলাটিলা, শ্রীপুর চা-বাগানসহ আরও অন্তত ১৫টি পয়েন্ট দিয়ে চোরাচালান কার্যক্রম চলছে বলে জানা গেছে।

চোরাচালান চক্রের একাধিক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সীমান্ত দিয়ে গরু-মহিষ আনতে হলে সংশ্লিষ্ট লাইনের সাথে পূর্বনির্ধারিত চুক্তি করতে হয়। চুক্তি ছাড়া কোনোভাবেই পণ্য প্রবেশ সম্ভব নয়। তারা জানান, বড় গরু প্রতি প্রায় ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং ছোট গরু প্রতি প্রায় ১ হাজার ৫০০ টাকা ‘সাদামাল’ হিসেবে দিতে হয়। এছাড়া ‘কালোমাল’ হিসেবে মহিষের জোড়া প্রতি প্রায় ৭ হাজার টাকা দিতে হয়।

তাদের দাবি, লাইনের টাকা পরিশোধ করা হলে পণ্য আটক হওয়ার ঝুঁকি থাকে না। তবে মাঝে মাঝে অভিযান কার্যক্রম দেখাতে কিছু গরু-মহিষ আটক দেখানো হয়, যাকে সংশ্লিষ্টরা ‘সিজার’ বলে উল্লেখ করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি চারদিন ধরে ‘সিও লাইন’ সক্রিয় থাকায় চোরাচালান বেড়েছে। বিশেষ করে জৈন্তাপুর রাজবাড়ী ও গোয়াবাড়ী বিওপি এলাকার পয়েন্টগুলো বাজারের নিকটবর্তী হওয়ায় (অর্ধ কিলোমিটার থেকে দেড় কিলোমিটার) চোরাকারবারীদের কাছে বেশি জনপ্রিয়।

অন্যদিকে ৪৮ বিজিবির আওতাধীন এলাকা দিয়ে প্রবেশ করা গরু-মহিষ হাওর ও নদীপথ পেরিয়ে পাশবর্তী গোয়াইনঘাট উপজেলার আনন্দ বাজার, মঞ্জিলতলা ও পাঁচসেউতী বাজারে পৌঁছে। সেখান থেকে দরবস্ত, কোওর ও লাফনাউট বাজারে সরবরাহ করা হয়। স্থানীয়রা জানান, জৈন্তাপুর উপজেলায় উল্লেখযোগ্য কোনো গরু-মহিষ বা দুগ্ধ খামার নেই। তারপরও প্রতিদিন হাজার হাজার গরু-মহিষ বিভিন্ন বাজারে বিক্রি হচ্ছে, যা চোরাচালানের ইঙ্গিত দেয়।

অভিযোগ রয়েছে, কিছু ব্যক্তি ‘সিও লাইন’ পরিচালনার সাথে জড়িত থেকে নিয়মিত টাকা উত্তোলন করছেন। তাদের মধ্যে আব্দুল মালেক, আব্দুল করিম (বেন্ডিজ করিম), শরিফ আহমদ, মো. হানিফ, রহিম উদ্দিন, শংকর দাশ ও আমান মিয়ার নাম স্থানীয় ব্যবসায়ীরা উল্লেখ করেছেন।

এদিকে সংশ্লিষ্টরা জানান, জিরোপয়েন্ট এলাকায় পুলিশের প্রবেশ সীমিত এবং গরু-মহিষ জব্দের পর তাৎক্ষণিক নিলাম প্রক্রিয়ার জটিলতার কারণে পুলিশ ততটা আগ্রহী নয়।

জৈন্তাপুর উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি বদরুল আলম শাওন বলেন, “প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতায় সীমান্ত দিয়ে অবাধে চোরাচালান হচ্ছে। আমরা দ্রুত এটি বন্ধের দাবি জানাই।”

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাফিজ বলেন, “বর্তমানে জৈন্তাপুরে যেভাবে চোরাচালান চলছে, তা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে।”

এ বিষয়ে ১৯ ও ৪৮ বিজিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।

জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুবুল রহমান মোল্লা বলেন, “আমরা নিয়মিত অভিযান চালিয়ে চোরাচালান পণ্য আটক করছি। তবে সীমান্ত ঘেঁষা পথগুলো ছোট হওয়ায় চোরাকারবারীরা দ্রুত পণ্য বাজারে ঢুকিয়ে ফেলে। তারপর বাজার থেকে গরু-মহিষ জব্দ করার আইনি সুযোগ কম থাকে। তারপরও আমরা চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।”

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: /৫ ( ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

নগরীতে বাস্তবায়ন হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

নগরীতে বাস্তবায়ন হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

মহানগরীর মোগলাবাজার থানাধীন খালেরমুখ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১০ হাজার ইয়াবাসহ ৩জন গ্রেফতার

মহানগরীর মোগলাবাজার থানাধীন খালেরমুখ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১০ হাজার ইয়াবাসহ ৩জন গ্রেফতার

শাল্লার কান্দিগাঁও গ্রামের ঐতিহ্যবাহ নৌকা বাইচ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন এমপি নাছির উদ্দিন চৌধুরী

শাল্লার কান্দিগাঁও গ্রামের ঐতিহ্যবাহ নৌকা বাইচ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন এমপি নাছির উদ্দিন চৌধুরী

ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুই সেনাসদস্য নিহত

ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুই সেনাসদস্য নিহত

তালাশ টেলিভিশনে নারীকে শিকল পড়িয়ে হাটিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর তোলপাড়: কিশোরীকে নির্যাতনের ঘটনায় আটক ৩

তালাশ টেলিভিশনে নারীকে শিকল পড়িয়ে হাটিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর তোলপাড়: কিশোরীকে নির্যাতনের ঘটনায় আটক ৩

ওয়েস্ট ওয়ার্ল্ড শপিং সেন্টারে অগ্নিকাণ্ডস্থল পরিদর্শনে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ

ওয়েস্ট ওয়ার্ল্ড শপিং সেন্টারে অগ্নিকাণ্ডস্থল পরিদর্শনে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ

ইসিএ এলাকায় তাণ্ডবের বিরুদ্ধে অভিযান, ধ্বংস ১০ ড্রেজার ও ৬ এক্সকেভেটর

ইসিএ এলাকায় তাণ্ডবের বিরুদ্ধে অভিযান, ধ্বংস ১০ ড্রেজার ও ৬ এক্সকেভেটর

২১৭ কোটি টাকার রেল প্রকল্পে ধীরগতি, মেয়াদ শেষেও বাকি ৭৫ শতাংশ কাজ

২১৭ কোটি টাকার রেল প্রকল্পে ধীরগতি, মেয়াদ শেষেও বাকি ৭৫ শতাংশ কাজ

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান: শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে সেবা চালু

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান: শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে সেবা চালু

কনজিউমার রাইটস বাংলাদেশ-সিআরবি' সিলেট বিভাগীয় শাখার কার্যনির্বাহী কমিটির শপথ গ্রহণ

কনজিউমার রাইটস বাংলাদেশ-সিআরবি' সিলেট বিভাগীয় শাখার কার্যনির্বাহী কমিটির শপথ গ্রহণ

নগরীতে বাস্তবায়ন হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

নগরীতে বাস্তবায়ন হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

মহানগরীর মোগলাবাজার থানাধীন খালেরমুখ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১০ হাজার ইয়াবাসহ ৩জন গ্রেফতার

মহানগরীর মোগলাবাজার থানাধীন খালেরমুখ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১০ হাজার ইয়াবাসহ ৩জন গ্রেফতার

১৫ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতির সিলেট সফর, প্রস্তুতিমূলক সভায় মন্ত্রীর নির্দেশনা

১৫ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতির সিলেট সফর, প্রস্তুতিমূলক সভায় মন্ত্রীর নির্দেশনা

ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুই সেনাসদস্য নিহত

ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুই সেনাসদস্য নিহত

তালাশ টেলিভিশনে নারীকে শিকল পড়িয়ে হাটিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর তোলপাড়: কিশোরীকে নির্যাতনের ঘটনায় আটক ৩

তালাশ টেলিভিশনে নারীকে শিকল পড়িয়ে হাটিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর তোলপাড়: কিশোরীকে নির্যাতনের ঘটনায় আটক ৩

ইসিএ এলাকায় তাণ্ডবের বিরুদ্ধে অভিযান, ধ্বংস ১০ ড্রেজার ও ৬ এক্সকেভেটর

ইসিএ এলাকায় তাণ্ডবের বিরুদ্ধে অভিযান, ধ্বংস ১০ ড্রেজার ও ৬ এক্সকেভেটর

ভ্যান সরানো নিয়ে কথা-কাটাকাটি, পরে যুবককে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ

ভ্যান সরানো নিয়ে কথা-কাটাকাটি, পরে যুবককে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ

খাদিমনগরে সরকারি খাস জমিতে অ্যালুমিনিয়াম কারখানা স্থাপনের অভিযোগ

খাদিমনগরে সরকারি খাস জমিতে অ্যালুমিনিয়াম কারখানা স্থাপনের অভিযোগ

খাদিমনগরে খাস জমি দখলের অভিযোগ, পাহাড় কেটে গড়ে উঠছে প্লট

খাদিমনগরে খাস জমি দখলের অভিযোগ, পাহাড় কেটে গড়ে উঠছে প্লট

সিলেট সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৩৬ লাখ টাকার চোরাচালানি মালামাল জব্দ!

সিলেট সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৩৬ লাখ টাকার চোরাচালানি মালামাল জব্দ!

সিলেট এডিশন

শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


জৈন্তাপুর সীমান্তে ‘সিও লাইন’ দিয়ে চোরাইপথে আসছে গরু-মহিষ  বাজারের চালানে বৈধতার অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ১৭ মার্চ ২০২৬

featured Image

ত্রিশাধিক পয়েন্ট দিয়ে প্রতিদিন প্রবেশ হাজারো গরু-মহিষ, সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশের অভিযোগ জৈন্তাপুর (সিলেট)প্রতিনিধি:: সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার সীমান্তজুড়ে ‘সিও লাইন’ ব্যবস্থার মাধ্যমে ভারতীয় গরু-মহিষ চোরাচালান চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, অন্তত ৩০টির বেশি পয়েন্ট দিয়ে এসব গরু-মহিষ প্রবেশ করে উপজেলার বিভিন্ন বাজারে পৌঁছাচ্ছে এবং পরে বাজার ইজারাদারের চালানের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হচ্ছে। সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯ বিজিবির আওতাধীন জৈন্তাপুর রাজবাড়ী, গোয়াবাড়ী ও লালাখাল বিওপি এলাকার ঘিলাতৈল, ফুলবাড়ী, টিপরাখলা, করিমটিলা, কমলাবাড়ী, ভিতরগোল, গোয়াবাড়ী, হর্নি, বাইরাখেল, গরুরঘাট, মাঝেরবিল, জালিয়াখলা, নয়াগ্রাম ও কালিঞ্জিবাড়ীসহ অন্তত ১৫টি পয়েন্ট দিয়ে গরু-মহিষ প্রবেশ করছে।

একইভাবে ৪৮ বিজিবির ডিবিরহাওর, মিনাটিলা ও শ্রীপুর বিওপির আওতাধীন ডিবিরহাওর, আসামপাড়া (রিভার্স পিলার), রাজা বিজয় সিংহের সমাধী এলাকা, লাম্বাটিলা, কেন্দ্রী হাওর, কাঠালবাড়ী, মিলাটিলা, শ্রীপুর চা-বাগানসহ আরও অন্তত ১৫টি পয়েন্ট দিয়ে চোরাচালান কার্যক্রম চলছে বলে জানা গেছে।

চোরাচালান চক্রের একাধিক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সীমান্ত দিয়ে গরু-মহিষ আনতে হলে সংশ্লিষ্ট লাইনের সাথে পূর্বনির্ধারিত চুক্তি করতে হয়। চুক্তি ছাড়া কোনোভাবেই পণ্য প্রবেশ সম্ভব নয়। তারা জানান, বড় গরু প্রতি প্রায় ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং ছোট গরু প্রতি প্রায় ১ হাজার ৫০০ টাকা ‘সাদামাল’ হিসেবে দিতে হয়। এছাড়া ‘কালোমাল’ হিসেবে মহিষের জোড়া প্রতি প্রায় ৭ হাজার টাকা দিতে হয়।

তাদের দাবি, লাইনের টাকা পরিশোধ করা হলে পণ্য আটক হওয়ার ঝুঁকি থাকে না। তবে মাঝে মাঝে অভিযান কার্যক্রম দেখাতে কিছু গরু-মহিষ আটক দেখানো হয়, যাকে সংশ্লিষ্টরা ‘সিজার’ বলে উল্লেখ করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি চারদিন ধরে ‘সিও লাইন’ সক্রিয় থাকায় চোরাচালান বেড়েছে। বিশেষ করে জৈন্তাপুর রাজবাড়ী ও গোয়াবাড়ী বিওপি এলাকার পয়েন্টগুলো বাজারের নিকটবর্তী হওয়ায় (অর্ধ কিলোমিটার থেকে দেড় কিলোমিটার) চোরাকারবারীদের কাছে বেশি জনপ্রিয়।

অন্যদিকে ৪৮ বিজিবির আওতাধীন এলাকা দিয়ে প্রবেশ করা গরু-মহিষ হাওর ও নদীপথ পেরিয়ে পাশবর্তী গোয়াইনঘাট উপজেলার আনন্দ বাজার, মঞ্জিলতলা ও পাঁচসেউতী বাজারে পৌঁছে। সেখান থেকে দরবস্ত, কোওর ও লাফনাউট বাজারে সরবরাহ করা হয়। স্থানীয়রা জানান, জৈন্তাপুর উপজেলায় উল্লেখযোগ্য কোনো গরু-মহিষ বা দুগ্ধ খামার নেই। তারপরও প্রতিদিন হাজার হাজার গরু-মহিষ বিভিন্ন বাজারে বিক্রি হচ্ছে, যা চোরাচালানের ইঙ্গিত দেয়।

অভিযোগ রয়েছে, কিছু ব্যক্তি ‘সিও লাইন’ পরিচালনার সাথে জড়িত থেকে নিয়মিত টাকা উত্তোলন করছেন। তাদের মধ্যে আব্দুল মালেক, আব্দুল করিম (বেন্ডিজ করিম), শরিফ আহমদ, মো. হানিফ, রহিম উদ্দিন, শংকর দাশ ও আমান মিয়ার নাম স্থানীয় ব্যবসায়ীরা উল্লেখ করেছেন।

এদিকে সংশ্লিষ্টরা জানান, জিরোপয়েন্ট এলাকায় পুলিশের প্রবেশ সীমিত এবং গরু-মহিষ জব্দের পর তাৎক্ষণিক নিলাম প্রক্রিয়ার জটিলতার কারণে পুলিশ ততটা আগ্রহী নয়।

জৈন্তাপুর উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি বদরুল আলম শাওন বলেন, “প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতায় সীমান্ত দিয়ে অবাধে চোরাচালান হচ্ছে। আমরা দ্রুত এটি বন্ধের দাবি জানাই।”

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাফিজ বলেন, “বর্তমানে জৈন্তাপুরে যেভাবে চোরাচালান চলছে, তা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে।”

এ বিষয়ে ১৯ ও ৪৮ বিজিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।

জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুবুল রহমান মোল্লা বলেন, “আমরা নিয়মিত অভিযান চালিয়ে চোরাচালান পণ্য আটক করছি। তবে সীমান্ত ঘেঁষা পথগুলো ছোট হওয়ায় চোরাকারবারীরা দ্রুত পণ্য বাজারে ঢুকিয়ে ফেলে। তারপর বাজার থেকে গরু-মহিষ জব্দ করার আইনি সুযোগ কম থাকে। তারপরও আমরা চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।”


সিলেট এডিশন

প্রকাশক ও সম্পাদক:
কামরুল হাসান জুলহাস

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
জৈন্তাপুর সীমান্তে ‘সিও লাইন’ দিয়ে চোরাইপথে আসছে গরু-মহিষ  বাজারের চালানে বৈধতার অভিযোগ
0:00 / 0:00
1x