শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সিলেট মহানগরীর লামাবাজারে জুয়ার বখরার অদৃশ্য সাম্রাজ্য বেপরোয়া জুয়ার আসরে জিম্মি ফাঁড়ি পুলিশ?


সিলেট এডিশন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:২২ পিএম

সিলেট মহানগরীর লামাবাজারে জুয়ার বখরার অদৃশ্য সাম্রাজ্য বেপরোয়া জুয়ার আসরে জিম্মি ফাঁড়ি পুলিশ?
নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেট মহানগরীর উত্তর সুরমার লামাবাজার এলাকায় প্রকাশ্যেই গড়ে উঠেছে জুয়া ও মাদক নির্ভর একটি শক্তিশালী অপরাধ সাম্রাজ্য। দিনের পর দিন শিলং তীর, জান্ডিমুন্ডু ও বিভিন্ন অনলাইন–অফলাইন জুয়ার বোর্ড চালু থাকলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর কোনো তৎপরতা চোখে পড়ছে না। বরং স্থানীয়দের অভিযোগ—এই অপরাধের পেছনে রয়েছে পুলিশের একটি অংশের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ‘বখরা নির্ভর সখ্য’। ঘাসিটুলা, মোকাম বাজার, কানিশাইল, কেয়াঘাট, বাগবাড়ী, কুয়ারপাড়, রিকাবীবাজার, পাঠানটুলাসহ বিস্তীর্ণ এলাকা এখন কার্যত জুয়ার ‘ওপেন জোনে’ পরিণত হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে—এতগুলো স্পটে প্রকাশ্যে জুয়া চললে পুলিশ কি সত্যিই জানে না, নাকি জানার পরও না দেখার ভান করছে? স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উত্তর সুরমার ঘাসিটুলা মোকাম বাজার এলাকায় বড় মসজিদের সামনে সুরমা নদীর পাড়ে দীর্ঘদিন ধরে জুয়ারী মুন্নার নেতৃত্বে প্রতিদিন বসছে বেপরোয়া জুয়ার আসর। শিলং তীর ও জান্ডিমুন্ডুর মাধ্যমে প্রতিদিন হাতবদল হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা জানান, “এই জুয়ার বোর্ড পুলিশ দেখেও দেখে না। কারণ উপরের লাইন ঠিক আছে।”তাঁদের অভিযোগ, লামাবাজার পুলিশ ফাঁড়ির একটি অংশের প্রত্যক্ষ মদদেই মুন্না নির্বিঘ্নে এই জুয়ার প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব অবৈধ জুয়া ও মাদক স্পট থেকে লামাবাজার ফাঁড়ির নামে সপ্তাহে লক্ষাধিক টাকা বখরা নিয়মিত আদায় করা হয়। অভিযোগ রয়েছে—এই অর্থ সংগ্রহের দায়িত্বে রয়েছেন সাবেক আইসির ঘনিষ্ঠ একজন সোর্স, যাহা বর্তমান আইসিকেও সহযোগিতা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, “যেখানে বখরা আসে নিয়মিত, সেখানে অভিযান আসবে কীভাবে?” এক ফাঁড়ি, অসংখ্য জুয়ার বোর্ড—নামও জানা খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লামাবাজার ফাঁড়ির আওতায় আরও যেসব জুয়ার বোর্ড সক্রিয় সেগুলো হলো- শামিমাবাদ খান সেন্টারের সামনে — জুয়ারী আলম, মনিকা সিনেমা হল সংলগ্ন কলোনি — জুয়ারী আনু, বাগবাড়ী ব্রিজের পাশে — জুয়ারী শিমুল, ঘাসিটুলা মরাটিলা মাদরাসা গলি — জুয়ারী রাসেল, কুয়ারপাড় (ভিতরের পয়েন্ট) টিকরপাড়া গলি — জুয়ারী বাবর/শামীম,রিকাবীবাজার নূরী রেস্টুরেন্ট সংলগ্ন গলিতেও একটি জুয়ার বোর্ড রয়েছে, নবাব রোড আজাদ সেন্টারের সামনে সেলিম ওরফে কালো সেলিমের বোর্ড, কুয়ারপাড় হাওর — জুয়ারী জহির, খুলিয়াপাড়া — জুয়ারী আসাদ-সালাম, সেঞ্চুরি দোকানে — শিমুলের বোর্ড, হোটেল আল- সফিকে ম্যানেজার জুয়ার বোর্ড চালায়, কানিশাইল কেয়াঘাট — জুয়ারী আলম, পাঠানটুলা শ্রাবনীর সামনে কুত্তা জুনেদ ও রণি, এতগুলো নির্দিষ্ট নাম ও স্থান থাকা সত্ত্বেও পুলিশের ‘অজ্ঞতার’ দাবি কতটা বিশ্বাসযোগ্য—সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। শুধু জুয়া নয়, এলাকাবাসীর অভিযোগ—ঘাসিটুলা ও কানিশাইল এলাকায় জসিম নামের এক ব্যক্তি প্রকাশ্যে ইয়াবা ব্যবসা চালাচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, লামাবাজার ফাঁড়ির নামে প্রতিদিন ৫০০ টাকা করে ম্যানেজ দেওয়ায় মাদকের বিরুদ্ধেও নেই কোনো কার্যকর অভিযান। এছাড়া মদনমোহন কলেজের উত্তরপাশের গলিতে ডুঙ্গা সেলিম ও শুকুর আলী নামের দুই মাদক ব্যবসায়ীর দৌরাত্ম্য নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ক্ষোভ: যুব সমাজ ধ্বংস, পুলিশ ব্যস্ত বখরায়। “লামাবাজার এখন অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল। যুব সমাজ ধ্বংস হচ্ছে, আর পুলিশ বখরার হিসাব মেলাচ্ছে।” তাঁরা অবিলম্বে যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান, ডিবি পুলিশের স্বাধীন তদন্ত এবং এসএমপি কমিশনারের সরাসরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। বখরার অভিযোগ প্রসঙ্গে লামাবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আক্কাস আলী এর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “জুয়া ও মাদকের বিষয়ে আমাদের জিরো টলারেন্স। আমি মাত্র যোগ দিয়েছি। নির্দিষ্ট তথ্য দিলে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেবো। কেউ আমার নাম ব্যবহার করে সুবিধা নিলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” নির্দিষ্ট স্থান, নির্দিষ্ট নাম, নির্দিষ্ট অঙ্ক—সবকিছু প্রকাশ্যে উঠে আসার পরও যদি জুয়ার বোর্ড বন্ধ না হয়, তবে প্রশ্ন একটাই—আইন কি এখানে কার্যকর, নাকি বখরার টাকায় আইন নিজেই জিম্মি?  

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: /৫ ( ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

নগরীতে বাস্তবায়ন হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

নগরীতে বাস্তবায়ন হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

মহানগরীর মোগলাবাজার থানাধীন খালেরমুখ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১০ হাজার ইয়াবাসহ ৩জন গ্রেফতার

মহানগরীর মোগলাবাজার থানাধীন খালেরমুখ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১০ হাজার ইয়াবাসহ ৩জন গ্রেফতার

শাল্লার কান্দিগাঁও গ্রামের ঐতিহ্যবাহ নৌকা বাইচ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন এমপি নাছির উদ্দিন চৌধুরী

শাল্লার কান্দিগাঁও গ্রামের ঐতিহ্যবাহ নৌকা বাইচ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন এমপি নাছির উদ্দিন চৌধুরী

ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুই সেনাসদস্য নিহত

ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুই সেনাসদস্য নিহত

তালাশ টেলিভিশনে নারীকে শিকল পড়িয়ে হাটিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর তোলপাড়: কিশোরীকে নির্যাতনের ঘটনায় আটক ৩

তালাশ টেলিভিশনে নারীকে শিকল পড়িয়ে হাটিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর তোলপাড়: কিশোরীকে নির্যাতনের ঘটনায় আটক ৩

ওয়েস্ট ওয়ার্ল্ড শপিং সেন্টারে অগ্নিকাণ্ডস্থল পরিদর্শনে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ

ওয়েস্ট ওয়ার্ল্ড শপিং সেন্টারে অগ্নিকাণ্ডস্থল পরিদর্শনে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ

ইসিএ এলাকায় তাণ্ডবের বিরুদ্ধে অভিযান, ধ্বংস ১০ ড্রেজার ও ৬ এক্সকেভেটর

ইসিএ এলাকায় তাণ্ডবের বিরুদ্ধে অভিযান, ধ্বংস ১০ ড্রেজার ও ৬ এক্সকেভেটর

২১৭ কোটি টাকার রেল প্রকল্পে ধীরগতি, মেয়াদ শেষেও বাকি ৭৫ শতাংশ কাজ

২১৭ কোটি টাকার রেল প্রকল্পে ধীরগতি, মেয়াদ শেষেও বাকি ৭৫ শতাংশ কাজ

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান: শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে সেবা চালু

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান: শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে সেবা চালু

কনজিউমার রাইটস বাংলাদেশ-সিআরবি' সিলেট বিভাগীয় শাখার কার্যনির্বাহী কমিটির শপথ গ্রহণ

কনজিউমার রাইটস বাংলাদেশ-সিআরবি' সিলেট বিভাগীয় শাখার কার্যনির্বাহী কমিটির শপথ গ্রহণ

নগরীতে বাস্তবায়ন হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

নগরীতে বাস্তবায়ন হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

মহানগরীর মোগলাবাজার থানাধীন খালেরমুখ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১০ হাজার ইয়াবাসহ ৩জন গ্রেফতার

মহানগরীর মোগলাবাজার থানাধীন খালেরমুখ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১০ হাজার ইয়াবাসহ ৩জন গ্রেফতার

১৫ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতির সিলেট সফর, প্রস্তুতিমূলক সভায় মন্ত্রীর নির্দেশনা

১৫ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতির সিলেট সফর, প্রস্তুতিমূলক সভায় মন্ত্রীর নির্দেশনা

ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুই সেনাসদস্য নিহত

ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুই সেনাসদস্য নিহত

তালাশ টেলিভিশনে নারীকে শিকল পড়িয়ে হাটিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর তোলপাড়: কিশোরীকে নির্যাতনের ঘটনায় আটক ৩

তালাশ টেলিভিশনে নারীকে শিকল পড়িয়ে হাটিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর তোলপাড়: কিশোরীকে নির্যাতনের ঘটনায় আটক ৩

ইসিএ এলাকায় তাণ্ডবের বিরুদ্ধে অভিযান, ধ্বংস ১০ ড্রেজার ও ৬ এক্সকেভেটর

ইসিএ এলাকায় তাণ্ডবের বিরুদ্ধে অভিযান, ধ্বংস ১০ ড্রেজার ও ৬ এক্সকেভেটর

ভ্যান সরানো নিয়ে কথা-কাটাকাটি, পরে যুবককে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ

ভ্যান সরানো নিয়ে কথা-কাটাকাটি, পরে যুবককে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ

খাদিমনগরে সরকারি খাস জমিতে অ্যালুমিনিয়াম কারখানা স্থাপনের অভিযোগ

খাদিমনগরে সরকারি খাস জমিতে অ্যালুমিনিয়াম কারখানা স্থাপনের অভিযোগ

খাদিমনগরে খাস জমি দখলের অভিযোগ, পাহাড় কেটে গড়ে উঠছে প্লট

খাদিমনগরে খাস জমি দখলের অভিযোগ, পাহাড় কেটে গড়ে উঠছে প্লট

সিলেট সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৩৬ লাখ টাকার চোরাচালানি মালামাল জব্দ!

সিলেট সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৩৬ লাখ টাকার চোরাচালানি মালামাল জব্দ!

সিলেট এডিশন

শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সিলেট মহানগরীর লামাবাজারে জুয়ার বখরার অদৃশ্য সাম্রাজ্য বেপরোয়া জুয়ার আসরে জিম্মি ফাঁড়ি পুলিশ?

প্রকাশের তারিখ : ৩১ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image
নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেট মহানগরীর উত্তর সুরমার লামাবাজার এলাকায় প্রকাশ্যেই গড়ে উঠেছে জুয়া ও মাদক নির্ভর একটি শক্তিশালী অপরাধ সাম্রাজ্য। দিনের পর দিন শিলং তীর, জান্ডিমুন্ডু ও বিভিন্ন অনলাইন–অফলাইন জুয়ার বোর্ড চালু থাকলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর কোনো তৎপরতা চোখে পড়ছে না। বরং স্থানীয়দের অভিযোগ—এই অপরাধের পেছনে রয়েছে পুলিশের একটি অংশের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ‘বখরা নির্ভর সখ্য’। ঘাসিটুলা, মোকাম বাজার, কানিশাইল, কেয়াঘাট, বাগবাড়ী, কুয়ারপাড়, রিকাবীবাজার, পাঠানটুলাসহ বিস্তীর্ণ এলাকা এখন কার্যত জুয়ার ‘ওপেন জোনে’ পরিণত হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে—এতগুলো স্পটে প্রকাশ্যে জুয়া চললে পুলিশ কি সত্যিই জানে না, নাকি জানার পরও না দেখার ভান করছে? স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উত্তর সুরমার ঘাসিটুলা মোকাম বাজার এলাকায় বড় মসজিদের সামনে সুরমা নদীর পাড়ে দীর্ঘদিন ধরে জুয়ারী মুন্নার নেতৃত্বে প্রতিদিন বসছে বেপরোয়া জুয়ার আসর। শিলং তীর ও জান্ডিমুন্ডুর মাধ্যমে প্রতিদিন হাতবদল হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা জানান, “এই জুয়ার বোর্ড পুলিশ দেখেও দেখে না। কারণ উপরের লাইন ঠিক আছে।”তাঁদের অভিযোগ, লামাবাজার পুলিশ ফাঁড়ির একটি অংশের প্রত্যক্ষ মদদেই মুন্না নির্বিঘ্নে এই জুয়ার প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব অবৈধ জুয়া ও মাদক স্পট থেকে লামাবাজার ফাঁড়ির নামে সপ্তাহে লক্ষাধিক টাকা বখরা নিয়মিত আদায় করা হয়। অভিযোগ রয়েছে—এই অর্থ সংগ্রহের দায়িত্বে রয়েছেন সাবেক আইসির ঘনিষ্ঠ একজন সোর্স, যাহা বর্তমান আইসিকেও সহযোগিতা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, “যেখানে বখরা আসে নিয়মিত, সেখানে অভিযান আসবে কীভাবে?” এক ফাঁড়ি, অসংখ্য জুয়ার বোর্ড—নামও জানা খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লামাবাজার ফাঁড়ির আওতায় আরও যেসব জুয়ার বোর্ড সক্রিয় সেগুলো হলো- শামিমাবাদ খান সেন্টারের সামনে — জুয়ারী আলম, মনিকা সিনেমা হল সংলগ্ন কলোনি — জুয়ারী আনু, বাগবাড়ী ব্রিজের পাশে — জুয়ারী শিমুল, ঘাসিটুলা মরাটিলা মাদরাসা গলি — জুয়ারী রাসেল, কুয়ারপাড় (ভিতরের পয়েন্ট) টিকরপাড়া গলি — জুয়ারী বাবর/শামীম,রিকাবীবাজার নূরী রেস্টুরেন্ট সংলগ্ন গলিতেও একটি জুয়ার বোর্ড রয়েছে, নবাব রোড আজাদ সেন্টারের সামনে সেলিম ওরফে কালো সেলিমের বোর্ড, কুয়ারপাড় হাওর — জুয়ারী জহির, খুলিয়াপাড়া — জুয়ারী আসাদ-সালাম, সেঞ্চুরি দোকানে — শিমুলের বোর্ড, হোটেল আল- সফিকে ম্যানেজার জুয়ার বোর্ড চালায়, কানিশাইল কেয়াঘাট — জুয়ারী আলম, পাঠানটুলা শ্রাবনীর সামনে কুত্তা জুনেদ ও রণি, এতগুলো নির্দিষ্ট নাম ও স্থান থাকা সত্ত্বেও পুলিশের ‘অজ্ঞতার’ দাবি কতটা বিশ্বাসযোগ্য—সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। শুধু জুয়া নয়, এলাকাবাসীর অভিযোগ—ঘাসিটুলা ও কানিশাইল এলাকায় জসিম নামের এক ব্যক্তি প্রকাশ্যে ইয়াবা ব্যবসা চালাচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, লামাবাজার ফাঁড়ির নামে প্রতিদিন ৫০০ টাকা করে ম্যানেজ দেওয়ায় মাদকের বিরুদ্ধেও নেই কোনো কার্যকর অভিযান। এছাড়া মদনমোহন কলেজের উত্তরপাশের গলিতে ডুঙ্গা সেলিম ও শুকুর আলী নামের দুই মাদক ব্যবসায়ীর দৌরাত্ম্য নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ক্ষোভ: যুব সমাজ ধ্বংস, পুলিশ ব্যস্ত বখরায়। “লামাবাজার এখন অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল। যুব সমাজ ধ্বংস হচ্ছে, আর পুলিশ বখরার হিসাব মেলাচ্ছে।” তাঁরা অবিলম্বে যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান, ডিবি পুলিশের স্বাধীন তদন্ত এবং এসএমপি কমিশনারের সরাসরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। বখরার অভিযোগ প্রসঙ্গে লামাবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আক্কাস আলী এর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “জুয়া ও মাদকের বিষয়ে আমাদের জিরো টলারেন্স। আমি মাত্র যোগ দিয়েছি। নির্দিষ্ট তথ্য দিলে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেবো। কেউ আমার নাম ব্যবহার করে সুবিধা নিলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” নির্দিষ্ট স্থান, নির্দিষ্ট নাম, নির্দিষ্ট অঙ্ক—সবকিছু প্রকাশ্যে উঠে আসার পরও যদি জুয়ার বোর্ড বন্ধ না হয়, তবে প্রশ্ন একটাই—আইন কি এখানে কার্যকর, নাকি বখরার টাকায় আইন নিজেই জিম্মি?  

সিলেট এডিশন

প্রকাশক ও সম্পাদক:
কামরুল হাসান জুলহাস

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
সিলেট মহানগরীর লামাবাজারে জুয়ার বখরার অদৃশ্য সাম্রাজ্য বেপরোয়া জুয়ার আসরে জিম্মি ফাঁড়ি পুলিশ?
0:00 / 0:00
1x