শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সরকারি গাছ কি বিক্রি হচ্ছে পানির দরে? ছাতকে ২ হাজার গাছ কর্তন নিয়ে তদন্তের দাবি


হাকিম ফারুক আহমদ নোমান:
প্রকাশিত: ২৮ আগস্ট ২০২৬, ০১:৫৮ পিএম

সরকারি গাছ কি বিক্রি হচ্ছে পানির দরে? ছাতকে ২ হাজার গাছ কর্তন নিয়ে তদন্তের দাবি

সড়ক প্রশস্তকরণের জন্য সুনামগঞ্জের ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলার বিভিন্ন সড়কের দুই পাশে থাকা প্রায় দুই হাজার গাছ কাটার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বন বিভাগের অনুমোদন ও ইজারার ভিত্তিতে এসব গাছ কর্তন করা হলেও গাছের প্রকৃত বাজারমূল্য, ইজারা প্রক্রিয়া, অনুমোদিত সীমানা, গাছের সংখ্যা এবং কর্তন ও পরিবহন প্রক্রিয়া নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও অভিযোগ উঠেছে।

বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়কের বিভিন্ন অংশে ২০০২ ও ২০০৩ সালে রেন্টি, মেহগনি, আকাশমনি, জাম, পিটালী, অর্জুন, ছাতিয়ান, জারুল, গামার, করই, চাম্বল, বাবলা ও কদমসহ বিভিন্ন প্রজাতির শত শত গাছ রোপণ করা হয়েছিল।

স্থানীয় গাছ ব্যবসায়ীদের দাবি, প্রায় ২৫ বছর বয়সী এসব গাছের প্রতিটির বাজারমূল্য ১০ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা কিংবা তারও বেশি হতে পারে। তবে ইজারা মূল্যের হিসাবে কোনো কোনো গাছের মূল্য মাত্র ২ থেকে ৩ হাজার টাকা নির্ধারণ হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের। স্থানীয়দের দাবি, অনেক ক্ষেত্রে একটি গাছের শুধু ডালপালার মূল্যও ইজারা মূল্যের চেয়ে বেশি হতে পারে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়কের বিভিন্ন অংশে কয়েকটি লটে গাছ কর্তনের অনুমতি দেওয়া হয়। এর মধ্যে হাসনাবাদ থেকে তাজপুর পর্যন্ত গাছ কর্তন করা হয়েছে। তবে ওই অংশে কতটি গাছ কাটা হয়েছে এবং সেগুলোর মূল্য কত ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিতে পারেননি স্থানীয় বনবিট কর্মকর্তা কেবিএম ফেরদৌস।

সর্বশেষ গত ১০ আগস্ট তকিপুর মসজিদ থেকে তাজপুর পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় ৪৩৪টি গাছ কাটার অনুমতি দেওয়া হয়। এ লটের ইজারা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এছাড়া হাসনাবাদ থেকে ছাতক পর্যন্ত আরও ৭০২টি গাছের একটি লটের কর্তন প্রক্রিয়াও শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে বন বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো কোনো স্থানে অনুমোদিত সীমানার বাইরে গাছ কাটা হয়েছে। এছাড়া রাতে গাছ কর্তন ও পরিবহন এবং ইজারার বিভিন্ন শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগও উঠেছে। সরেজমিনে তাজপুর থেকে গোবিন্দগঞ্জ পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে গাছ কাটার চিত্র দেখা গেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

এদিকে ছাতক-দোয়ারাবাজার সড়কের কারুলগাঁও-বেতুরা অংশে দুটি লটে আরও ৯২টি গাছ কাটার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। চারটি লটেরই সর্বোচ্চ দরদাতা সুনামগঞ্জের সুমন আহমদ হওয়ায় ইজারা প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, টেন্ডার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিপুল মূল্যের গাছ তুলনামূলক কম দামে নিলামে দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগের পক্ষে সংশ্লিষ্টরা কোনো প্রামাণ্য নথি উপস্থাপন করেননি।

তকিপুর-তাজপুর লটের গাছের ইজারা, মূল্য নির্ধারণ ও নিলাম প্রক্রিয়া নিয়ে গত ২৭ আগস্ট ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ‘হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন কমিটি’ নামে একটি সামাজিক সংগঠন। সংগঠনটির পক্ষ থেকে গাছের প্রকৃত মূল্য, সংখ্যা, কাঠের পরিমাণ এবং নিলাম প্রক্রিয়া নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

দোয়ারাবাজারের কারুলগাঁও-বেতুরা সড়কের গাছ কর্তন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, সড়ক প্রশস্তকরণের জন্য গাছ কাটার প্রয়োজনীয়তা দেখানো হলেও ওই এলাকায় গাছ কাটার আগেই সড়কের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। ফলে রাস্তা প্রশস্তকরণের যুক্তিতে গাছ কর্তনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

তবে চারটি লটের ইজারাদার সুমন আহমদ ইজারা পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে রাতে গাছ কর্তন, পরিবহন কিংবা ইজারা সীমানার বাইরে গাছ কাটার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, নির্ধারিত নিয়ম মেনেই কাজ করা হচ্ছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে কাজ শেষ করতে বিলম্ব হতে পারে। সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুর রহমানের সরকারি মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন না ধরায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ছাতক বনবিট কর্মকর্তা কেবিএম ফেরদৌস বলেন, কাগজপত্রে কিছু ভুল রয়েছে। মার্কিং মূলত গোবিন্দগঞ্জ পয়েন্ট পর্যন্তই করা হয়েছে। ইজারা সংক্রান্ত বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দেখেন। কর্তনের ক্ষেত্রে কোনো শর্ত ভঙ্গের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দোয়ারাবাজারের গাছ কর্তন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওয়ার্ক অর্ডার পেতে বিলম্ব হওয়ায় রাস্তার নির্মাণকাজ আগে সম্পন্ন হয়ে গেছে।

স্থানীয়দের দাবি, গাছের প্রকৃত সংখ্যা, প্রজাতি, বয়স ও বাজারমূল্য, অনুমোদিত কর্তনসীমা এবং টেন্ডার ও ইজারা প্রক্রিয়া নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা হলে সরকারি রাজস্বের কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রকৃত চিত্র উঠে আসবে।

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: /৫ ( ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

নগরীতে বাস্তবায়ন হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

নগরীতে বাস্তবায়ন হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

মহানগরীর মোগলাবাজার থানাধীন খালেরমুখ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১০ হাজার ইয়াবাসহ ৩জন গ্রেফতার

মহানগরীর মোগলাবাজার থানাধীন খালেরমুখ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১০ হাজার ইয়াবাসহ ৩জন গ্রেফতার

শাল্লার কান্দিগাঁও গ্রামের ঐতিহ্যবাহ নৌকা বাইচ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন এমপি নাছির উদ্দিন চৌধুরী

শাল্লার কান্দিগাঁও গ্রামের ঐতিহ্যবাহ নৌকা বাইচ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন এমপি নাছির উদ্দিন চৌধুরী

ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুই সেনাসদস্য নিহত

ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুই সেনাসদস্য নিহত

তালাশ টেলিভিশনে নারীকে শিকল পড়িয়ে হাটিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর তোলপাড়: কিশোরীকে নির্যাতনের ঘটনায় আটক ৩

তালাশ টেলিভিশনে নারীকে শিকল পড়িয়ে হাটিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর তোলপাড়: কিশোরীকে নির্যাতনের ঘটনায় আটক ৩

ওয়েস্ট ওয়ার্ল্ড শপিং সেন্টারে অগ্নিকাণ্ডস্থল পরিদর্শনে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ

ওয়েস্ট ওয়ার্ল্ড শপিং সেন্টারে অগ্নিকাণ্ডস্থল পরিদর্শনে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ

ইসিএ এলাকায় তাণ্ডবের বিরুদ্ধে অভিযান, ধ্বংস ১০ ড্রেজার ও ৬ এক্সকেভেটর

ইসিএ এলাকায় তাণ্ডবের বিরুদ্ধে অভিযান, ধ্বংস ১০ ড্রেজার ও ৬ এক্সকেভেটর

২১৭ কোটি টাকার রেল প্রকল্পে ধীরগতি, মেয়াদ শেষেও বাকি ৭৫ শতাংশ কাজ

২১৭ কোটি টাকার রেল প্রকল্পে ধীরগতি, মেয়াদ শেষেও বাকি ৭৫ শতাংশ কাজ

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান: শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে সেবা চালু

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান: শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে সেবা চালু

কনজিউমার রাইটস বাংলাদেশ-সিআরবি' সিলেট বিভাগীয় শাখার কার্যনির্বাহী কমিটির শপথ গ্রহণ

কনজিউমার রাইটস বাংলাদেশ-সিআরবি' সিলেট বিভাগীয় শাখার কার্যনির্বাহী কমিটির শপথ গ্রহণ

নগরীতে বাস্তবায়ন হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

নগরীতে বাস্তবায়ন হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

মহানগরীর মোগলাবাজার থানাধীন খালেরমুখ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১০ হাজার ইয়াবাসহ ৩জন গ্রেফতার

মহানগরীর মোগলাবাজার থানাধীন খালেরমুখ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১০ হাজার ইয়াবাসহ ৩জন গ্রেফতার

১৫ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতির সিলেট সফর, প্রস্তুতিমূলক সভায় মন্ত্রীর নির্দেশনা

১৫ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতির সিলেট সফর, প্রস্তুতিমূলক সভায় মন্ত্রীর নির্দেশনা

ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুই সেনাসদস্য নিহত

ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুই সেনাসদস্য নিহত

তালাশ টেলিভিশনে নারীকে শিকল পড়িয়ে হাটিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর তোলপাড়: কিশোরীকে নির্যাতনের ঘটনায় আটক ৩

তালাশ টেলিভিশনে নারীকে শিকল পড়িয়ে হাটিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর তোলপাড়: কিশোরীকে নির্যাতনের ঘটনায় আটক ৩

ইসিএ এলাকায় তাণ্ডবের বিরুদ্ধে অভিযান, ধ্বংস ১০ ড্রেজার ও ৬ এক্সকেভেটর

ইসিএ এলাকায় তাণ্ডবের বিরুদ্ধে অভিযান, ধ্বংস ১০ ড্রেজার ও ৬ এক্সকেভেটর

ভ্যান সরানো নিয়ে কথা-কাটাকাটি, পরে যুবককে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ

ভ্যান সরানো নিয়ে কথা-কাটাকাটি, পরে যুবককে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ

খাদিমনগরে সরকারি খাস জমিতে অ্যালুমিনিয়াম কারখানা স্থাপনের অভিযোগ

খাদিমনগরে সরকারি খাস জমিতে অ্যালুমিনিয়াম কারখানা স্থাপনের অভিযোগ

খাদিমনগরে খাস জমি দখলের অভিযোগ, পাহাড় কেটে গড়ে উঠছে প্লট

খাদিমনগরে খাস জমি দখলের অভিযোগ, পাহাড় কেটে গড়ে উঠছে প্লট

সিলেট সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৩৬ লাখ টাকার চোরাচালানি মালামাল জব্দ!

সিলেট সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৩৬ লাখ টাকার চোরাচালানি মালামাল জব্দ!

সিলেট এডিশন

শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সরকারি গাছ কি বিক্রি হচ্ছে পানির দরে? ছাতকে ২ হাজার গাছ কর্তন নিয়ে তদন্তের দাবি

প্রকাশের তারিখ : ২৮ আগস্ট ২০২৬

featured Image

সড়ক প্রশস্তকরণের জন্য সুনামগঞ্জের ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলার বিভিন্ন সড়কের দুই পাশে থাকা প্রায় দুই হাজার গাছ কাটার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বন বিভাগের অনুমোদন ও ইজারার ভিত্তিতে এসব গাছ কর্তন করা হলেও গাছের প্রকৃত বাজারমূল্য, ইজারা প্রক্রিয়া, অনুমোদিত সীমানা, গাছের সংখ্যা এবং কর্তন ও পরিবহন প্রক্রিয়া নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও অভিযোগ উঠেছে।

বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়কের বিভিন্ন অংশে ২০০২ ও ২০০৩ সালে রেন্টি, মেহগনি, আকাশমনি, জাম, পিটালী, অর্জুন, ছাতিয়ান, জারুল, গামার, করই, চাম্বল, বাবলা ও কদমসহ বিভিন্ন প্রজাতির শত শত গাছ রোপণ করা হয়েছিল।

স্থানীয় গাছ ব্যবসায়ীদের দাবি, প্রায় ২৫ বছর বয়সী এসব গাছের প্রতিটির বাজারমূল্য ১০ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা কিংবা তারও বেশি হতে পারে। তবে ইজারা মূল্যের হিসাবে কোনো কোনো গাছের মূল্য মাত্র ২ থেকে ৩ হাজার টাকা নির্ধারণ হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের। স্থানীয়দের দাবি, অনেক ক্ষেত্রে একটি গাছের শুধু ডালপালার মূল্যও ইজারা মূল্যের চেয়ে বেশি হতে পারে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়কের বিভিন্ন অংশে কয়েকটি লটে গাছ কর্তনের অনুমতি দেওয়া হয়। এর মধ্যে হাসনাবাদ থেকে তাজপুর পর্যন্ত গাছ কর্তন করা হয়েছে। তবে ওই অংশে কতটি গাছ কাটা হয়েছে এবং সেগুলোর মূল্য কত ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিতে পারেননি স্থানীয় বনবিট কর্মকর্তা কেবিএম ফেরদৌস।

সর্বশেষ গত ১০ আগস্ট তকিপুর মসজিদ থেকে তাজপুর পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় ৪৩৪টি গাছ কাটার অনুমতি দেওয়া হয়। এ লটের ইজারা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এছাড়া হাসনাবাদ থেকে ছাতক পর্যন্ত আরও ৭০২টি গাছের একটি লটের কর্তন প্রক্রিয়াও শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে বন বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো কোনো স্থানে অনুমোদিত সীমানার বাইরে গাছ কাটা হয়েছে। এছাড়া রাতে গাছ কর্তন ও পরিবহন এবং ইজারার বিভিন্ন শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগও উঠেছে। সরেজমিনে তাজপুর থেকে গোবিন্দগঞ্জ পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে গাছ কাটার চিত্র দেখা গেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

এদিকে ছাতক-দোয়ারাবাজার সড়কের কারুলগাঁও-বেতুরা অংশে দুটি লটে আরও ৯২টি গাছ কাটার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। চারটি লটেরই সর্বোচ্চ দরদাতা সুনামগঞ্জের সুমন আহমদ হওয়ায় ইজারা প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, টেন্ডার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিপুল মূল্যের গাছ তুলনামূলক কম দামে নিলামে দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগের পক্ষে সংশ্লিষ্টরা কোনো প্রামাণ্য নথি উপস্থাপন করেননি।

তকিপুর-তাজপুর লটের গাছের ইজারা, মূল্য নির্ধারণ ও নিলাম প্রক্রিয়া নিয়ে গত ২৭ আগস্ট ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ‘হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন কমিটি’ নামে একটি সামাজিক সংগঠন। সংগঠনটির পক্ষ থেকে গাছের প্রকৃত মূল্য, সংখ্যা, কাঠের পরিমাণ এবং নিলাম প্রক্রিয়া নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

দোয়ারাবাজারের কারুলগাঁও-বেতুরা সড়কের গাছ কর্তন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, সড়ক প্রশস্তকরণের জন্য গাছ কাটার প্রয়োজনীয়তা দেখানো হলেও ওই এলাকায় গাছ কাটার আগেই সড়কের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। ফলে রাস্তা প্রশস্তকরণের যুক্তিতে গাছ কর্তনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

তবে চারটি লটের ইজারাদার সুমন আহমদ ইজারা পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে রাতে গাছ কর্তন, পরিবহন কিংবা ইজারা সীমানার বাইরে গাছ কাটার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, নির্ধারিত নিয়ম মেনেই কাজ করা হচ্ছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে কাজ শেষ করতে বিলম্ব হতে পারে। সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুর রহমানের সরকারি মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন না ধরায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ছাতক বনবিট কর্মকর্তা কেবিএম ফেরদৌস বলেন, কাগজপত্রে কিছু ভুল রয়েছে। মার্কিং মূলত গোবিন্দগঞ্জ পয়েন্ট পর্যন্তই করা হয়েছে। ইজারা সংক্রান্ত বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দেখেন। কর্তনের ক্ষেত্রে কোনো শর্ত ভঙ্গের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দোয়ারাবাজারের গাছ কর্তন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওয়ার্ক অর্ডার পেতে বিলম্ব হওয়ায় রাস্তার নির্মাণকাজ আগে সম্পন্ন হয়ে গেছে।

স্থানীয়দের দাবি, গাছের প্রকৃত সংখ্যা, প্রজাতি, বয়স ও বাজারমূল্য, অনুমোদিত কর্তনসীমা এবং টেন্ডার ও ইজারা প্রক্রিয়া নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা হলে সরকারি রাজস্বের কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রকৃত চিত্র উঠে আসবে।

সিলেট এডিশন

প্রকাশক ও সম্পাদক:
কামরুল হাসান জুলহাস

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
সরকারি গাছ কি বিক্রি হচ্ছে পানির দরে? ছাতকে ২ হাজার গাছ কর্তন নিয়ে তদন্তের দাবি
0:00 / 0:00
1x