শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এবার তদন্তের আওতায় রক্ষীবাহিনীর অপরাধ


সিলেট এডিশন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১২:৫১ পিএম

এবার তদন্তের আওতায় রক্ষীবাহিনীর অপরাধ
রাজনৈতিক দল হিসাবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সব মানবতাবিরোধী অপরাধ ও সন্ত্রাসের অভিযোগের তদন্ত চলছে। স্বাধীন বাংলাদেশে প্রতিপক্ষকে দমনে রক্ষীবাহিনী গঠন থেকে শুরু করে দলটির সব ধরনের অপরাধ তদন্তের আওতায় আনার কাজ শুরু হয়েছে। রক্ষীবাহিনীর অপরাধের তদন্ত ছাড়াও ২০০৬ সালে রাজধানীর পল্টনে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের লগি-বৈঠার হামলায় নির্মমভাবে নিহত বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের হত্যার ঘটনার তদন্তও হচ্ছে। তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হলে আওয়ামী লীগের প্রণয়ন করা ট্রাইব্যুনাল আইনের বিধান অনুযায়ী দলটি নিষিদ্ধসহ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে। ট্রাইব্যুনাল সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ২ নম্বর ধারা সংশোধন করে ‘অরগানাইজেশন’ বা ‘সংগঠন’ শব্দটি যুক্ত করে ২০১৩ সালে। এখন এই আইনেই রাজনৈতিক দল হিসাবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের লক্ষ্যে এগোচ্ছে সরকার। রাজনৈতিক দল হিসাবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত চলমান আছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার সমন্বয়ক (কো-অর্ডিনেটর) আনসার উদ্দিন খান পাঠান। তিনি বলেন, জার্মানিসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন নাৎসি বাহিনী নৃশংস অত্যাচার চালিয়েছিল, ১৯৪৫-৪৬ সালে নুরেমবার্গ ট্রাইব্যুনালে নাৎসি বাহিনীর বিচার করা হয়। তাদের দলও নিষিদ্ধ হয়। স্বাধীন বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের দ্বারা যত অপরাধ কর্মকাণ্ড হয়েছে তারও তদন্ত হচ্ছে। বিশেষ করে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে রক্ষীবাহিনী গঠন, ১৯৭৫ সালে ক্রসফায়ারে বিপ্লবী সিরাজ শিকদার হত্যা থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগ আমলের সব অপরাধ তদন্তের আওতায় আসছে। আনসার উদ্দিন খান পাঠান বলেন, একটা গণতান্ত্রিক দলের প্রতি মানুষের যে প্রত্যাশা থাকে সেটার ব্যত্যয় আওয়ামী লীগ কখন কখন ঘটিয়েছে, তা শুরু থেকে এখন পর্যন্ত আমরা দেখার চেষ্টা করছি। বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর, তাই আমরা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি। কবে নাগাদ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনেক দিনের ঘটনা, একটু সময় লাগতে পারে। বিদ্যমান ট্রাইব্যুনাল আইনেই আওয়ামী লীগের বিচার করা সম্ভব। বিচারে অপরাধ প্রমাণিত হলে নিষিদ্ধ হতে পারে দলটি। জানা যায়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় রাজনৈতিক দল হিসাবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছিল জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম)। আবেদনটি তদন্ত সংস্থায় আসার পর একটি টিম তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। চলতি বছরের ৮ এপ্রিল সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত ব্যক্তি বা সত্তার কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার বিধান যুক্ত করে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ অনুমোদন করে জাতীয় সংসদ। অন্যদিকে ২০২৫ সালের ১০ মে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন সংশোধন করে অধ্যাদেশ জারি করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এতে কোনো রাজনৈতিক দল, তার অঙ্গসংগঠন বা সমর্থক গোষ্ঠীকে শাস্তি দিতে পারবেন ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা অভিযোগ থেকে জানা যায়, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ বা ‘ক্রসফায়ার’র নামে অন্তত ১ হাজার ৯২৬ জন বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে নিহত হওয়ার এ হিসাব বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) কাছেও রয়েছে। এছাড়া জাতিসংঘের প্রতিবেদনে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে এক হাজার ৪০০ জন নিহত হয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। জুলাই হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড ও ২৫ হাজার ছাত্র-জনতাকে আহত করার নির্দেশদাতা হিসাবে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে দমন করতে রক্ষীবাহিনীকে ব্যবহার করা হয়েছিল। এই দমন-পীড়নে প্রায় ৩০ হাজার রাজনৈতিক কর্মী ও মানুষ নিহত হন। তোফায়েল আহমেদ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব এবং আওয়ামী লীগের যুবসংগঠনের শীর্ষ নেতা হওয়ায় তাকে রক্ষী বাহিনীর বিষয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ তার বিভিন্ন বই ও নিবন্ধে উল্লেখ করেছেন, রক্ষীবাহিনীর হাতে বহু মানুষ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন। ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে প্রাথমিক অভিযোগ পাওয়া গেলে দলটির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার সুযোগ আছে। সংগঠন হিসাবে আওয়ামী লীগের বিচার হবে কি হবে না, সে বিষয়ে সংস্থা তদন্ত হচ্ছে। তদন্ত করার পর যদি সংগঠন হিসাবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে প্রাথমিক অভিযোগ পাওয়া যায়, তাহলে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর হিসাবে প্রতিবেদন প্রাপ্তি সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার সুযোগ আছে। সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, ২০২৫ সাল থেকে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্তের প্রক্রিয়া চলমান ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিদ্যমান আইনেই আওয়ামী লীগের বিচার করা সম্ভব। তিনি বলেন, দলকে তো আর সাজা দেওয়া যাবে না। কিন্তু দলকে কী ধরনের সাজা দেওয়া যাবে তা ট্রাইব্যুনালের সংশোধিত আইনে বলা আছে। যেমন, দল নিষিদ্ধ করা, নিবন্ধন বা লাইসেন্স স্থগিত করা; অথবা সম্পত্তি জব্দ করার নির্দেশনা ইস্যু করা। সূত্র: যুগান্তর

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: /৫ ( ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

নগরীতে বাস্তবায়ন হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

নগরীতে বাস্তবায়ন হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

মহানগরীর মোগলাবাজার থানাধীন খালেরমুখ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১০ হাজার ইয়াবাসহ ৩জন গ্রেফতার

মহানগরীর মোগলাবাজার থানাধীন খালেরমুখ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১০ হাজার ইয়াবাসহ ৩জন গ্রেফতার

শাল্লার কান্দিগাঁও গ্রামের ঐতিহ্যবাহ নৌকা বাইচ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন এমপি নাছির উদ্দিন চৌধুরী

শাল্লার কান্দিগাঁও গ্রামের ঐতিহ্যবাহ নৌকা বাইচ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন এমপি নাছির উদ্দিন চৌধুরী

ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুই সেনাসদস্য নিহত

ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুই সেনাসদস্য নিহত

তালাশ টেলিভিশনে নারীকে শিকল পড়িয়ে হাটিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর তোলপাড়: কিশোরীকে নির্যাতনের ঘটনায় আটক ৩

তালাশ টেলিভিশনে নারীকে শিকল পড়িয়ে হাটিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর তোলপাড়: কিশোরীকে নির্যাতনের ঘটনায় আটক ৩

ওয়েস্ট ওয়ার্ল্ড শপিং সেন্টারে অগ্নিকাণ্ডস্থল পরিদর্শনে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ

ওয়েস্ট ওয়ার্ল্ড শপিং সেন্টারে অগ্নিকাণ্ডস্থল পরিদর্শনে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ

ইসিএ এলাকায় তাণ্ডবের বিরুদ্ধে অভিযান, ধ্বংস ১০ ড্রেজার ও ৬ এক্সকেভেটর

ইসিএ এলাকায় তাণ্ডবের বিরুদ্ধে অভিযান, ধ্বংস ১০ ড্রেজার ও ৬ এক্সকেভেটর

২১৭ কোটি টাকার রেল প্রকল্পে ধীরগতি, মেয়াদ শেষেও বাকি ৭৫ শতাংশ কাজ

২১৭ কোটি টাকার রেল প্রকল্পে ধীরগতি, মেয়াদ শেষেও বাকি ৭৫ শতাংশ কাজ

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান: শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে সেবা চালু

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান: শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে সেবা চালু

কনজিউমার রাইটস বাংলাদেশ-সিআরবি' সিলেট বিভাগীয় শাখার কার্যনির্বাহী কমিটির শপথ গ্রহণ

কনজিউমার রাইটস বাংলাদেশ-সিআরবি' সিলেট বিভাগীয় শাখার কার্যনির্বাহী কমিটির শপথ গ্রহণ

নগরীতে বাস্তবায়ন হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

নগরীতে বাস্তবায়ন হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

মহানগরীর মোগলাবাজার থানাধীন খালেরমুখ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১০ হাজার ইয়াবাসহ ৩জন গ্রেফতার

মহানগরীর মোগলাবাজার থানাধীন খালেরমুখ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১০ হাজার ইয়াবাসহ ৩জন গ্রেফতার

১৫ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতির সিলেট সফর, প্রস্তুতিমূলক সভায় মন্ত্রীর নির্দেশনা

১৫ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতির সিলেট সফর, প্রস্তুতিমূলক সভায় মন্ত্রীর নির্দেশনা

ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুই সেনাসদস্য নিহত

ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুই সেনাসদস্য নিহত

তালাশ টেলিভিশনে নারীকে শিকল পড়িয়ে হাটিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর তোলপাড়: কিশোরীকে নির্যাতনের ঘটনায় আটক ৩

তালাশ টেলিভিশনে নারীকে শিকল পড়িয়ে হাটিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর তোলপাড়: কিশোরীকে নির্যাতনের ঘটনায় আটক ৩

ইসিএ এলাকায় তাণ্ডবের বিরুদ্ধে অভিযান, ধ্বংস ১০ ড্রেজার ও ৬ এক্সকেভেটর

ইসিএ এলাকায় তাণ্ডবের বিরুদ্ধে অভিযান, ধ্বংস ১০ ড্রেজার ও ৬ এক্সকেভেটর

ভ্যান সরানো নিয়ে কথা-কাটাকাটি, পরে যুবককে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ

ভ্যান সরানো নিয়ে কথা-কাটাকাটি, পরে যুবককে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ

খাদিমনগরে সরকারি খাস জমিতে অ্যালুমিনিয়াম কারখানা স্থাপনের অভিযোগ

খাদিমনগরে সরকারি খাস জমিতে অ্যালুমিনিয়াম কারখানা স্থাপনের অভিযোগ

খাদিমনগরে খাস জমি দখলের অভিযোগ, পাহাড় কেটে গড়ে উঠছে প্লট

খাদিমনগরে খাস জমি দখলের অভিযোগ, পাহাড় কেটে গড়ে উঠছে প্লট

সিলেট সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৩৬ লাখ টাকার চোরাচালানি মালামাল জব্দ!

সিলেট সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৩৬ লাখ টাকার চোরাচালানি মালামাল জব্দ!

সিলেট এডিশন

শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


এবার তদন্তের আওতায় রক্ষীবাহিনীর অপরাধ

প্রকাশের তারিখ : ২৮ আগস্ট ২০২৬

featured Image
রাজনৈতিক দল হিসাবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সব মানবতাবিরোধী অপরাধ ও সন্ত্রাসের অভিযোগের তদন্ত চলছে। স্বাধীন বাংলাদেশে প্রতিপক্ষকে দমনে রক্ষীবাহিনী গঠন থেকে শুরু করে দলটির সব ধরনের অপরাধ তদন্তের আওতায় আনার কাজ শুরু হয়েছে। রক্ষীবাহিনীর অপরাধের তদন্ত ছাড়াও ২০০৬ সালে রাজধানীর পল্টনে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের লগি-বৈঠার হামলায় নির্মমভাবে নিহত বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের হত্যার ঘটনার তদন্তও হচ্ছে। তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হলে আওয়ামী লীগের প্রণয়ন করা ট্রাইব্যুনাল আইনের বিধান অনুযায়ী দলটি নিষিদ্ধসহ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে। ট্রাইব্যুনাল সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ২ নম্বর ধারা সংশোধন করে ‘অরগানাইজেশন’ বা ‘সংগঠন’ শব্দটি যুক্ত করে ২০১৩ সালে। এখন এই আইনেই রাজনৈতিক দল হিসাবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের লক্ষ্যে এগোচ্ছে সরকার। রাজনৈতিক দল হিসাবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত চলমান আছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার সমন্বয়ক (কো-অর্ডিনেটর) আনসার উদ্দিন খান পাঠান। তিনি বলেন, জার্মানিসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন নাৎসি বাহিনী নৃশংস অত্যাচার চালিয়েছিল, ১৯৪৫-৪৬ সালে নুরেমবার্গ ট্রাইব্যুনালে নাৎসি বাহিনীর বিচার করা হয়। তাদের দলও নিষিদ্ধ হয়। স্বাধীন বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের দ্বারা যত অপরাধ কর্মকাণ্ড হয়েছে তারও তদন্ত হচ্ছে। বিশেষ করে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে রক্ষীবাহিনী গঠন, ১৯৭৫ সালে ক্রসফায়ারে বিপ্লবী সিরাজ শিকদার হত্যা থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগ আমলের সব অপরাধ তদন্তের আওতায় আসছে। আনসার উদ্দিন খান পাঠান বলেন, একটা গণতান্ত্রিক দলের প্রতি মানুষের যে প্রত্যাশা থাকে সেটার ব্যত্যয় আওয়ামী লীগ কখন কখন ঘটিয়েছে, তা শুরু থেকে এখন পর্যন্ত আমরা দেখার চেষ্টা করছি। বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর, তাই আমরা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি। কবে নাগাদ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনেক দিনের ঘটনা, একটু সময় লাগতে পারে। বিদ্যমান ট্রাইব্যুনাল আইনেই আওয়ামী লীগের বিচার করা সম্ভব। বিচারে অপরাধ প্রমাণিত হলে নিষিদ্ধ হতে পারে দলটি। জানা যায়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় রাজনৈতিক দল হিসাবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছিল জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম)। আবেদনটি তদন্ত সংস্থায় আসার পর একটি টিম তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। চলতি বছরের ৮ এপ্রিল সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত ব্যক্তি বা সত্তার কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার বিধান যুক্ত করে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ অনুমোদন করে জাতীয় সংসদ। অন্যদিকে ২০২৫ সালের ১০ মে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন সংশোধন করে অধ্যাদেশ জারি করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এতে কোনো রাজনৈতিক দল, তার অঙ্গসংগঠন বা সমর্থক গোষ্ঠীকে শাস্তি দিতে পারবেন ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা অভিযোগ থেকে জানা যায়, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ বা ‘ক্রসফায়ার’র নামে অন্তত ১ হাজার ৯২৬ জন বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে নিহত হওয়ার এ হিসাব বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) কাছেও রয়েছে। এছাড়া জাতিসংঘের প্রতিবেদনে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে এক হাজার ৪০০ জন নিহত হয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। জুলাই হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড ও ২৫ হাজার ছাত্র-জনতাকে আহত করার নির্দেশদাতা হিসাবে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে দমন করতে রক্ষীবাহিনীকে ব্যবহার করা হয়েছিল। এই দমন-পীড়নে প্রায় ৩০ হাজার রাজনৈতিক কর্মী ও মানুষ নিহত হন। তোফায়েল আহমেদ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব এবং আওয়ামী লীগের যুবসংগঠনের শীর্ষ নেতা হওয়ায় তাকে রক্ষী বাহিনীর বিষয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ তার বিভিন্ন বই ও নিবন্ধে উল্লেখ করেছেন, রক্ষীবাহিনীর হাতে বহু মানুষ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন। ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে প্রাথমিক অভিযোগ পাওয়া গেলে দলটির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার সুযোগ আছে। সংগঠন হিসাবে আওয়ামী লীগের বিচার হবে কি হবে না, সে বিষয়ে সংস্থা তদন্ত হচ্ছে। তদন্ত করার পর যদি সংগঠন হিসাবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে প্রাথমিক অভিযোগ পাওয়া যায়, তাহলে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর হিসাবে প্রতিবেদন প্রাপ্তি সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার সুযোগ আছে। সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, ২০২৫ সাল থেকে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্তের প্রক্রিয়া চলমান ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিদ্যমান আইনেই আওয়ামী লীগের বিচার করা সম্ভব। তিনি বলেন, দলকে তো আর সাজা দেওয়া যাবে না। কিন্তু দলকে কী ধরনের সাজা দেওয়া যাবে তা ট্রাইব্যুনালের সংশোধিত আইনে বলা আছে। যেমন, দল নিষিদ্ধ করা, নিবন্ধন বা লাইসেন্স স্থগিত করা; অথবা সম্পত্তি জব্দ করার নির্দেশনা ইস্যু করা। সূত্র: যুগান্তর

সিলেট এডিশন

প্রকাশক ও সম্পাদক:
কামরুল হাসান জুলহাস

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
এবার তদন্তের আওতায় রক্ষীবাহিনীর অপরাধ
0:00 / 0:00
1x