শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মারামারি’ বলে দায় সারছে পুলিশ? জৈন্তাপুরে যুবক অপহরণের অভিযোগে তোলপাড়


সিলেট এডিশন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২২ আগস্ট ২০২৬, ০৮:১৫ পিএম

মারামারি’ বলে দায় সারছে পুলিশ? জৈন্তাপুরে যুবক অপহরণের অভিযোগে তোলপাড়
জৈন্তাপুর প্রতিনিধি: সিলেটের জৈন্তাপুরে ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে শামীম আহমদ (২৮) নামে এক যুবককে অপহরণ করে একটি বাড়িতে আটকে রেখে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় একদিন নিখোঁজ থাকার পর গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ‎ এ ঘটনায় শামীমের বাবা ইরফান আলী (৭০) জৈন্তাপুর মডেল থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে ছেলেকে অপহরণ, আটকে রেখে নির্যাতন ও হত্যার উদ্দেশ্যে হামলার দাবি করা হয়েছে। ‎ ‎থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বাউরভাগ মল্লিফৌদ গ্রামের ইরফান আলীর ছেলে শামীম আহমদের সঙ্গে কয়েকজনের ব্যবসায়িক বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। অভিযোগকারীর দাবি, ঘটনার আগে প্রায় ১০ থেকে ১৫ দিন ধরে শামীমকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। ‎ গত ১৫ আগস্ট বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে শামীম বাড়ি থেকে জৈন্তাপুর বাজারের উদ্দেশ্যে বের হন। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। ‎ পরদিন স্থানীয়দের মাধ্যমে পরিবার জানতে পারে, আগের রাত আনুমানিক ১১টার দিকে জৈন্তাপুর বাসস্টেশন এলাকার নুরানী রেস্টুরেন্টের সামনে সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক থেকে কয়েকজন শামীমকে ধরে নিয়ে যায়। অভিযোগে দাবি করা হয়, তাকে হাত-মুখ বেঁধে টেনে নিয়ে আমীর আলী নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে আটকে রেখে মারধর করা হয়। ‎অভিযোগে আরও বলা হয়, স্থানীয়ভাবে কয়েক দফা চেষ্টা করেও পরিবারের সদস্যরা শামীমকে উদ্ধার করতে পারেননি। পরে বিষয়টি থানায় লিখিতভাবে জানানো হয়। ‎ ‎অভিযোগের পরবর্তী ঘটনায় নতুন প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের দাবি, ১৬ আগস্ট রাত আনুমানিক ১১টার দিকে অপহরণকারীরা শামীমকে গরুবাজারের সামনে ফেলে চলে যায়। পরে পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হওয়ায় ১৭ আগস্ট তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ‎ পরিবারের দাবি, শামীমের শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা, ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং কারা তাকে কোথায় আটকে রেখেছিল—তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে, একজন ব্যক্তি নিখোঁজ হওয়ার পর তাকে একটি বাড়িতে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ থানায় জানানো হলেও তাকে উদ্ধারে পুলিশের কার্যকর তৎপরতা কেন দৃশ্যমান হলো না? ‎ অভিযোগকারী পরিবারের দাবি, স্থানীয়ভাবে উদ্ধারের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর তারা পুলিশের দ্বারস্থ হন। অথচ শামীমকে পরে আহত অবস্থায় রাস্তায় ফেলে যাওয়ার পর পথচারীদের মাধ্যমে উদ্ধার করতে হয়েছে। ‎ এ বিষয়ে জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মাহবুবুর রহমান মোল্লার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “একটা মারামারির অভিযোগ ছিল, আমরা তদন্ত করছি।” ‎ তবে পরিবারের লিখিত অভিযোগে শুধু মারামারি নয়—অপহরণ, আটকে রাখা, মারধর এবং হত্যার উদ্দেশ্যের মতো গুরুতর অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে পুলিশের তদন্তের ধরন ও কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীর স্বজনরা। ‎ ‎এদিকে অভিযোগে নাম থাকা ব্যক্তিদের স্থানীয় প্রভাব ও পুলিশের সঙ্গে কথিত যোগাযোগ নিয়েও এলাকায় নানা আলোচনা রয়েছে। অভিযোগকারীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, অভিযুক্তদের কেউ কেউ এলাকায় চোরাকারবারের সঙ্গে জড়িত এবং তারা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী। ‎ আরও গুরুতর অভিযোগ হলো—‘লাইনম্যান’ হিসেবে পরিচিত তরিকুলের মাধ্যমে এসআই শওকত মাসুদ ও এএসআই গোলাম কিবরিয়ার কাছে কথিত মাসোহারা পৌঁছানোর এবং থানার ওসিকে দৈনিক বিপুল অঙ্কের টাকা দেওয়ার একটি অভিযোগ স্থানীয়ভাবে রয়েছে। ‎ তবে পুলিশের বিরুদ্ধে টাকা গ্রহণ, নির্দিষ্ট কর্মকর্তাদের নামে মাসোহারা নেওয়া কিংবা প্রতিদিন তিন লাখ টাকা দেওয়ার অভিযোগের পক্ষে কোনো স্বাধীন প্রমাণ এই প্রতিবেদকের হাতে পাওয়া যায়নি। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বক্তব্যও এ বিষয়ে জানা জরুরি। ‎ ‎একজন যুবক নিখোঁজ হওয়ার পর তাকে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ, পরে আহত অবস্থায় রাস্তায় ফেলে যাওয়ার ঘটনা এবং থানায় অভিযোগের পর পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে ‘মারামারি’ হিসেবে উল্লেখ করা—সব মিলিয়ে ঘটনাটি ঘিরে একাধিক প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ‎ অভিযোগে কামাল আহমদ (৪০), শাহিন আহমদ (৩৬), আমীর আলী (৩৬), রিপন আহমদ (৪৫), হানিফ আহমদ (৪০) ও এনাম আহমদ (৩৫)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ‎ ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে শামীমকে কোথা থেকে, কারা এবং কেন তুলে নিয়ে গিয়েছিল, কোথায় আটকে রাখা হয়েছিল এবং তার ওপর কী ধরনের নির্যাতন চালানো হয়েছে—এসব বিষয় উদঘাটন করতে হবে। একই সঙ্গে পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা কথিত অর্থ লেনদেনের অভিযোগও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। অভিযোগ সত্য হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং অভিযোগ মিথ্যা হলে দায়ীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। ‎ এখন দেখার বিষয়—জৈন্তাপুরের এই ঘটনাকে পুলিশ নিছক ‘মারামারি’ হিসেবে তদন্ত করে শেষ করবে, নাকি অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগের গভীরে গিয়ে প্রকৃত ঘটনা এবং এর পেছনের নেপথ্য শক্তিগুলোও সামনে আনবে।  

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: /৫ ( ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

নগরীতে বাস্তবায়ন হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

নগরীতে বাস্তবায়ন হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

মহানগরীর মোগলাবাজার থানাধীন খালেরমুখ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১০ হাজার ইয়াবাসহ ৩জন গ্রেফতার

মহানগরীর মোগলাবাজার থানাধীন খালেরমুখ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১০ হাজার ইয়াবাসহ ৩জন গ্রেফতার

শাল্লার কান্দিগাঁও গ্রামের ঐতিহ্যবাহ নৌকা বাইচ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন এমপি নাছির উদ্দিন চৌধুরী

শাল্লার কান্দিগাঁও গ্রামের ঐতিহ্যবাহ নৌকা বাইচ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন এমপি নাছির উদ্দিন চৌধুরী

ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুই সেনাসদস্য নিহত

ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুই সেনাসদস্য নিহত

তালাশ টেলিভিশনে নারীকে শিকল পড়িয়ে হাটিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর তোলপাড়: কিশোরীকে নির্যাতনের ঘটনায় আটক ৩

তালাশ টেলিভিশনে নারীকে শিকল পড়িয়ে হাটিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর তোলপাড়: কিশোরীকে নির্যাতনের ঘটনায় আটক ৩

ওয়েস্ট ওয়ার্ল্ড শপিং সেন্টারে অগ্নিকাণ্ডস্থল পরিদর্শনে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ

ওয়েস্ট ওয়ার্ল্ড শপিং সেন্টারে অগ্নিকাণ্ডস্থল পরিদর্শনে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ

ইসিএ এলাকায় তাণ্ডবের বিরুদ্ধে অভিযান, ধ্বংস ১০ ড্রেজার ও ৬ এক্সকেভেটর

ইসিএ এলাকায় তাণ্ডবের বিরুদ্ধে অভিযান, ধ্বংস ১০ ড্রেজার ও ৬ এক্সকেভেটর

২১৭ কোটি টাকার রেল প্রকল্পে ধীরগতি, মেয়াদ শেষেও বাকি ৭৫ শতাংশ কাজ

২১৭ কোটি টাকার রেল প্রকল্পে ধীরগতি, মেয়াদ শেষেও বাকি ৭৫ শতাংশ কাজ

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান: শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে সেবা চালু

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান: শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে সেবা চালু

কনজিউমার রাইটস বাংলাদেশ-সিআরবি' সিলেট বিভাগীয় শাখার কার্যনির্বাহী কমিটির শপথ গ্রহণ

কনজিউমার রাইটস বাংলাদেশ-সিআরবি' সিলেট বিভাগীয় শাখার কার্যনির্বাহী কমিটির শপথ গ্রহণ

নগরীতে বাস্তবায়ন হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

নগরীতে বাস্তবায়ন হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

মহানগরীর মোগলাবাজার থানাধীন খালেরমুখ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১০ হাজার ইয়াবাসহ ৩জন গ্রেফতার

মহানগরীর মোগলাবাজার থানাধীন খালেরমুখ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১০ হাজার ইয়াবাসহ ৩জন গ্রেফতার

১৫ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতির সিলেট সফর, প্রস্তুতিমূলক সভায় মন্ত্রীর নির্দেশনা

১৫ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতির সিলেট সফর, প্রস্তুতিমূলক সভায় মন্ত্রীর নির্দেশনা

ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুই সেনাসদস্য নিহত

ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুই সেনাসদস্য নিহত

তালাশ টেলিভিশনে নারীকে শিকল পড়িয়ে হাটিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর তোলপাড়: কিশোরীকে নির্যাতনের ঘটনায় আটক ৩

তালাশ টেলিভিশনে নারীকে শিকল পড়িয়ে হাটিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর তোলপাড়: কিশোরীকে নির্যাতনের ঘটনায় আটক ৩

ইসিএ এলাকায় তাণ্ডবের বিরুদ্ধে অভিযান, ধ্বংস ১০ ড্রেজার ও ৬ এক্সকেভেটর

ইসিএ এলাকায় তাণ্ডবের বিরুদ্ধে অভিযান, ধ্বংস ১০ ড্রেজার ও ৬ এক্সকেভেটর

ভ্যান সরানো নিয়ে কথা-কাটাকাটি, পরে যুবককে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ

ভ্যান সরানো নিয়ে কথা-কাটাকাটি, পরে যুবককে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ

খাদিমনগরে সরকারি খাস জমিতে অ্যালুমিনিয়াম কারখানা স্থাপনের অভিযোগ

খাদিমনগরে সরকারি খাস জমিতে অ্যালুমিনিয়াম কারখানা স্থাপনের অভিযোগ

খাদিমনগরে খাস জমি দখলের অভিযোগ, পাহাড় কেটে গড়ে উঠছে প্লট

খাদিমনগরে খাস জমি দখলের অভিযোগ, পাহাড় কেটে গড়ে উঠছে প্লট

সিলেট সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৩৬ লাখ টাকার চোরাচালানি মালামাল জব্দ!

সিলেট সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৩৬ লাখ টাকার চোরাচালানি মালামাল জব্দ!

সিলেট এডিশন

শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


মারামারি’ বলে দায় সারছে পুলিশ? জৈন্তাপুরে যুবক অপহরণের অভিযোগে তোলপাড়

প্রকাশের তারিখ : ২২ আগস্ট ২০২৬

featured Image
জৈন্তাপুর প্রতিনিধি: সিলেটের জৈন্তাপুরে ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে শামীম আহমদ (২৮) নামে এক যুবককে অপহরণ করে একটি বাড়িতে আটকে রেখে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় একদিন নিখোঁজ থাকার পর গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ‎ এ ঘটনায় শামীমের বাবা ইরফান আলী (৭০) জৈন্তাপুর মডেল থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে ছেলেকে অপহরণ, আটকে রেখে নির্যাতন ও হত্যার উদ্দেশ্যে হামলার দাবি করা হয়েছে। ‎ ‎থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বাউরভাগ মল্লিফৌদ গ্রামের ইরফান আলীর ছেলে শামীম আহমদের সঙ্গে কয়েকজনের ব্যবসায়িক বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। অভিযোগকারীর দাবি, ঘটনার আগে প্রায় ১০ থেকে ১৫ দিন ধরে শামীমকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। ‎ গত ১৫ আগস্ট বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে শামীম বাড়ি থেকে জৈন্তাপুর বাজারের উদ্দেশ্যে বের হন। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। ‎ পরদিন স্থানীয়দের মাধ্যমে পরিবার জানতে পারে, আগের রাত আনুমানিক ১১টার দিকে জৈন্তাপুর বাসস্টেশন এলাকার নুরানী রেস্টুরেন্টের সামনে সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক থেকে কয়েকজন শামীমকে ধরে নিয়ে যায়। অভিযোগে দাবি করা হয়, তাকে হাত-মুখ বেঁধে টেনে নিয়ে আমীর আলী নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে আটকে রেখে মারধর করা হয়। ‎অভিযোগে আরও বলা হয়, স্থানীয়ভাবে কয়েক দফা চেষ্টা করেও পরিবারের সদস্যরা শামীমকে উদ্ধার করতে পারেননি। পরে বিষয়টি থানায় লিখিতভাবে জানানো হয়। ‎ ‎অভিযোগের পরবর্তী ঘটনায় নতুন প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের দাবি, ১৬ আগস্ট রাত আনুমানিক ১১টার দিকে অপহরণকারীরা শামীমকে গরুবাজারের সামনে ফেলে চলে যায়। পরে পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হওয়ায় ১৭ আগস্ট তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ‎ পরিবারের দাবি, শামীমের শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা, ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং কারা তাকে কোথায় আটকে রেখেছিল—তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে, একজন ব্যক্তি নিখোঁজ হওয়ার পর তাকে একটি বাড়িতে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ থানায় জানানো হলেও তাকে উদ্ধারে পুলিশের কার্যকর তৎপরতা কেন দৃশ্যমান হলো না? ‎ অভিযোগকারী পরিবারের দাবি, স্থানীয়ভাবে উদ্ধারের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর তারা পুলিশের দ্বারস্থ হন। অথচ শামীমকে পরে আহত অবস্থায় রাস্তায় ফেলে যাওয়ার পর পথচারীদের মাধ্যমে উদ্ধার করতে হয়েছে। ‎ এ বিষয়ে জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মাহবুবুর রহমান মোল্লার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “একটা মারামারির অভিযোগ ছিল, আমরা তদন্ত করছি।” ‎ তবে পরিবারের লিখিত অভিযোগে শুধু মারামারি নয়—অপহরণ, আটকে রাখা, মারধর এবং হত্যার উদ্দেশ্যের মতো গুরুতর অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে পুলিশের তদন্তের ধরন ও কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীর স্বজনরা। ‎ ‎এদিকে অভিযোগে নাম থাকা ব্যক্তিদের স্থানীয় প্রভাব ও পুলিশের সঙ্গে কথিত যোগাযোগ নিয়েও এলাকায় নানা আলোচনা রয়েছে। অভিযোগকারীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, অভিযুক্তদের কেউ কেউ এলাকায় চোরাকারবারের সঙ্গে জড়িত এবং তারা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী। ‎ আরও গুরুতর অভিযোগ হলো—‘লাইনম্যান’ হিসেবে পরিচিত তরিকুলের মাধ্যমে এসআই শওকত মাসুদ ও এএসআই গোলাম কিবরিয়ার কাছে কথিত মাসোহারা পৌঁছানোর এবং থানার ওসিকে দৈনিক বিপুল অঙ্কের টাকা দেওয়ার একটি অভিযোগ স্থানীয়ভাবে রয়েছে। ‎ তবে পুলিশের বিরুদ্ধে টাকা গ্রহণ, নির্দিষ্ট কর্মকর্তাদের নামে মাসোহারা নেওয়া কিংবা প্রতিদিন তিন লাখ টাকা দেওয়ার অভিযোগের পক্ষে কোনো স্বাধীন প্রমাণ এই প্রতিবেদকের হাতে পাওয়া যায়নি। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বক্তব্যও এ বিষয়ে জানা জরুরি। ‎ ‎একজন যুবক নিখোঁজ হওয়ার পর তাকে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ, পরে আহত অবস্থায় রাস্তায় ফেলে যাওয়ার ঘটনা এবং থানায় অভিযোগের পর পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে ‘মারামারি’ হিসেবে উল্লেখ করা—সব মিলিয়ে ঘটনাটি ঘিরে একাধিক প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ‎ অভিযোগে কামাল আহমদ (৪০), শাহিন আহমদ (৩৬), আমীর আলী (৩৬), রিপন আহমদ (৪৫), হানিফ আহমদ (৪০) ও এনাম আহমদ (৩৫)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ‎ ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে শামীমকে কোথা থেকে, কারা এবং কেন তুলে নিয়ে গিয়েছিল, কোথায় আটকে রাখা হয়েছিল এবং তার ওপর কী ধরনের নির্যাতন চালানো হয়েছে—এসব বিষয় উদঘাটন করতে হবে। একই সঙ্গে পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা কথিত অর্থ লেনদেনের অভিযোগও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। অভিযোগ সত্য হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং অভিযোগ মিথ্যা হলে দায়ীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। ‎ এখন দেখার বিষয়—জৈন্তাপুরের এই ঘটনাকে পুলিশ নিছক ‘মারামারি’ হিসেবে তদন্ত করে শেষ করবে, নাকি অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগের গভীরে গিয়ে প্রকৃত ঘটনা এবং এর পেছনের নেপথ্য শক্তিগুলোও সামনে আনবে।  

সিলেট এডিশন

প্রকাশক ও সম্পাদক:
কামরুল হাসান জুলহাস

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
মারামারি’ বলে দায় সারছে পুলিশ? জৈন্তাপুরে যুবক অপহরণের অভিযোগে তোলপাড়
0:00 / 0:00
1x