শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্বপন-মান্নানের নেতৃত্বে বিছনাকান্দি-হাদারপাড়ে বালু মহালের নামে পাথর লুটের মহোৎসব


সিলেট এডিশন ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২ আগস্ট ২০২৬, ১১:১৬ পিএম

স্বপন-মান্নানের নেতৃত্বে বিছনাকান্দি-হাদারপাড়ে বালু মহালের নামে পাথর লুটের মহোৎসব
স্টাফ রিপোর্টার: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পর্যটন ও সীমান্ত এলাকা বিছনাকান্দি এবং হাদারপাড় বালু মহাল ইজারা নেওয়ার আড়ালে চলছে ব্যাপক পাথর ও বালু লুটপাটের মহোৎসব। স্থানীয় বিএনপি নেতা ও গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাহ আলম স্বপন এবং গোয়াইনঘাট উপজেলা তাতীদলের নেতা আব্দুল  মান্নানের নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে এ অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ইজারার শর্ত, পরিবেশ আইন এবং নির্ধারিত সীমানা উপেক্ষা করে শক্তিশালী ড্রেজার মেশিন বসিয়ে দিন-রাত নির্বিচারে পাথর ও বালু উত্তোলন করা হলেও স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।স্থানীয়দের অভিযোগ, হাদারপাড় বালু মহালের ইজারা নেওয়া হলেও সেই অনুমতির আড়ালে বিছনাকান্দি সীমান্ত এলাকা, মনরতল বাজারসহ ইজারাবহির্ভূত সংরক্ষিত স্থান থেকেও অবাধে পাথর ও বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। প্রতিদিন শত শত ট্রলার এবং একাধিক শক্তিশালী ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে নদীর তলদেশ কেটে পাথর ও বালু উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং পরিবেশের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।অভিযোগ রয়েছে, গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা কয়েকজন সাব-ইন্সপেক্টরকে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে 'ম্যানেজ' করেই সিন্ডিকেটটি দীর্ঘদিন ধরে নির্বিঘ্নে এ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ফলে স্থানীয়দের একের পর এক অভিযোগ, গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা সত্ত্বেও দৃশ্যমান কোনো অভিযান বা কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শত শত ট্রলার পাথর ও বালু বহন করে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাচ্ছে। নদীর তলদেশ গভীরভাবে খনন করায় নদীর গতিপথ পরিবর্তনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি নদীভাঙন বৃদ্ধি পাওয়ায় আশপাশের বসতবাড়ি, কৃষিজমি এবং ঐতিহ্যবাহী মনরতল বাজার হুমকির মুখে পড়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে পুরো এলাকাই ভয়াবহ পরিবেশগত বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।বিশেষ করে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র বিছনাকান্দির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, স্বচ্ছ পানির প্রবাহ, নদীর জীববৈচিত্র্য এবং সীমান্তঘেঁষা পাহাড়ি পরিবেশ বর্তমানে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। পর্যটকদের আকর্ষণের মূল কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই এলাকায় অবৈধ ড্রেজিং চলতে থাকলে বিছনাকান্দির পরিবেশগত ভারসাম্য স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।অভিযোগ উঠেছে, পুরো বিষয়টি সম্পর্কে অবগত থাকা সত্ত্বেও গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। একইভাবে পরিবেশ অধিদপ্তরেরও কার্যকর তৎপরতা না থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে। পরিবেশ রক্ষায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর এমন নীরবতা নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অবৈধ পাথর ও বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, ড্রেজার মেশিন জব্দ, ইজারার শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত এবং পুরো সিন্ডিকেটের কার্যক্রম বন্ধে জরুরি অভিযান পরিচালনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদপ্তর, সিলেট জেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগে বিছনাকান্দি ও হাদারপাড় এলাকায় অবৈধ উত্তোলন বন্ধের দাবি জানিয়েছেন তারা।তাদের ভাষ্য, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে শুধু বিছনাকান্দির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই নয়, নদী, জীববৈচিত্র্য, কৃষিজমি, বসতবাড়ি এবং আশপাশের জনপদও অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়বে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।এ ব্যপারে জানতে গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ এর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি। একই ব্যপারে জানতে শাহ আলম স্বপনের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে পাওয়া যায়নি।

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: /৫ ( ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

নগরীতে বাস্তবায়ন হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

নগরীতে বাস্তবায়ন হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

মহানগরীর মোগলাবাজার থানাধীন খালেরমুখ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১০ হাজার ইয়াবাসহ ৩জন গ্রেফতার

মহানগরীর মোগলাবাজার থানাধীন খালেরমুখ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১০ হাজার ইয়াবাসহ ৩জন গ্রেফতার

শাল্লার কান্দিগাঁও গ্রামের ঐতিহ্যবাহ নৌকা বাইচ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন এমপি নাছির উদ্দিন চৌধুরী

শাল্লার কান্দিগাঁও গ্রামের ঐতিহ্যবাহ নৌকা বাইচ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন এমপি নাছির উদ্দিন চৌধুরী

ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুই সেনাসদস্য নিহত

ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুই সেনাসদস্য নিহত

তালাশ টেলিভিশনে নারীকে শিকল পড়িয়ে হাটিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর তোলপাড়: কিশোরীকে নির্যাতনের ঘটনায় আটক ৩

তালাশ টেলিভিশনে নারীকে শিকল পড়িয়ে হাটিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর তোলপাড়: কিশোরীকে নির্যাতনের ঘটনায় আটক ৩

ওয়েস্ট ওয়ার্ল্ড শপিং সেন্টারে অগ্নিকাণ্ডস্থল পরিদর্শনে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ

ওয়েস্ট ওয়ার্ল্ড শপিং সেন্টারে অগ্নিকাণ্ডস্থল পরিদর্শনে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ

ইসিএ এলাকায় তাণ্ডবের বিরুদ্ধে অভিযান, ধ্বংস ১০ ড্রেজার ও ৬ এক্সকেভেটর

ইসিএ এলাকায় তাণ্ডবের বিরুদ্ধে অভিযান, ধ্বংস ১০ ড্রেজার ও ৬ এক্সকেভেটর

২১৭ কোটি টাকার রেল প্রকল্পে ধীরগতি, মেয়াদ শেষেও বাকি ৭৫ শতাংশ কাজ

২১৭ কোটি টাকার রেল প্রকল্পে ধীরগতি, মেয়াদ শেষেও বাকি ৭৫ শতাংশ কাজ

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান: শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে সেবা চালু

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান: শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে সেবা চালু

কনজিউমার রাইটস বাংলাদেশ-সিআরবি' সিলেট বিভাগীয় শাখার কার্যনির্বাহী কমিটির শপথ গ্রহণ

কনজিউমার রাইটস বাংলাদেশ-সিআরবি' সিলেট বিভাগীয় শাখার কার্যনির্বাহী কমিটির শপথ গ্রহণ

নগরীতে বাস্তবায়ন হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

নগরীতে বাস্তবায়ন হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

মহানগরীর মোগলাবাজার থানাধীন খালেরমুখ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১০ হাজার ইয়াবাসহ ৩জন গ্রেফতার

মহানগরীর মোগলাবাজার থানাধীন খালেরমুখ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১০ হাজার ইয়াবাসহ ৩জন গ্রেফতার

১৫ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতির সিলেট সফর, প্রস্তুতিমূলক সভায় মন্ত্রীর নির্দেশনা

১৫ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতির সিলেট সফর, প্রস্তুতিমূলক সভায় মন্ত্রীর নির্দেশনা

ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুই সেনাসদস্য নিহত

ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুই সেনাসদস্য নিহত

তালাশ টেলিভিশনে নারীকে শিকল পড়িয়ে হাটিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর তোলপাড়: কিশোরীকে নির্যাতনের ঘটনায় আটক ৩

তালাশ টেলিভিশনে নারীকে শিকল পড়িয়ে হাটিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর তোলপাড়: কিশোরীকে নির্যাতনের ঘটনায় আটক ৩

ইসিএ এলাকায় তাণ্ডবের বিরুদ্ধে অভিযান, ধ্বংস ১০ ড্রেজার ও ৬ এক্সকেভেটর

ইসিএ এলাকায় তাণ্ডবের বিরুদ্ধে অভিযান, ধ্বংস ১০ ড্রেজার ও ৬ এক্সকেভেটর

ভ্যান সরানো নিয়ে কথা-কাটাকাটি, পরে যুবককে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ

ভ্যান সরানো নিয়ে কথা-কাটাকাটি, পরে যুবককে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ

খাদিমনগরে সরকারি খাস জমিতে অ্যালুমিনিয়াম কারখানা স্থাপনের অভিযোগ

খাদিমনগরে সরকারি খাস জমিতে অ্যালুমিনিয়াম কারখানা স্থাপনের অভিযোগ

খাদিমনগরে খাস জমি দখলের অভিযোগ, পাহাড় কেটে গড়ে উঠছে প্লট

খাদিমনগরে খাস জমি দখলের অভিযোগ, পাহাড় কেটে গড়ে উঠছে প্লট

সিলেট সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৩৬ লাখ টাকার চোরাচালানি মালামাল জব্দ!

সিলেট সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৩৬ লাখ টাকার চোরাচালানি মালামাল জব্দ!

সিলেট এডিশন

শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


স্বপন-মান্নানের নেতৃত্বে বিছনাকান্দি-হাদারপাড়ে বালু মহালের নামে পাথর লুটের মহোৎসব

প্রকাশের তারিখ : ০২ আগস্ট ২০২৬

featured Image
স্টাফ রিপোর্টার: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পর্যটন ও সীমান্ত এলাকা বিছনাকান্দি এবং হাদারপাড় বালু মহাল ইজারা নেওয়ার আড়ালে চলছে ব্যাপক পাথর ও বালু লুটপাটের মহোৎসব। স্থানীয় বিএনপি নেতা ও গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাহ আলম স্বপন এবং গোয়াইনঘাট উপজেলা তাতীদলের নেতা আব্দুল  মান্নানের নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে এ অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ইজারার শর্ত, পরিবেশ আইন এবং নির্ধারিত সীমানা উপেক্ষা করে শক্তিশালী ড্রেজার মেশিন বসিয়ে দিন-রাত নির্বিচারে পাথর ও বালু উত্তোলন করা হলেও স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।স্থানীয়দের অভিযোগ, হাদারপাড় বালু মহালের ইজারা নেওয়া হলেও সেই অনুমতির আড়ালে বিছনাকান্দি সীমান্ত এলাকা, মনরতল বাজারসহ ইজারাবহির্ভূত সংরক্ষিত স্থান থেকেও অবাধে পাথর ও বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। প্রতিদিন শত শত ট্রলার এবং একাধিক শক্তিশালী ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে নদীর তলদেশ কেটে পাথর ও বালু উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং পরিবেশের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।অভিযোগ রয়েছে, গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা কয়েকজন সাব-ইন্সপেক্টরকে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে 'ম্যানেজ' করেই সিন্ডিকেটটি দীর্ঘদিন ধরে নির্বিঘ্নে এ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ফলে স্থানীয়দের একের পর এক অভিযোগ, গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা সত্ত্বেও দৃশ্যমান কোনো অভিযান বা কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শত শত ট্রলার পাথর ও বালু বহন করে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাচ্ছে। নদীর তলদেশ গভীরভাবে খনন করায় নদীর গতিপথ পরিবর্তনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি নদীভাঙন বৃদ্ধি পাওয়ায় আশপাশের বসতবাড়ি, কৃষিজমি এবং ঐতিহ্যবাহী মনরতল বাজার হুমকির মুখে পড়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে পুরো এলাকাই ভয়াবহ পরিবেশগত বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।বিশেষ করে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র বিছনাকান্দির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, স্বচ্ছ পানির প্রবাহ, নদীর জীববৈচিত্র্য এবং সীমান্তঘেঁষা পাহাড়ি পরিবেশ বর্তমানে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। পর্যটকদের আকর্ষণের মূল কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই এলাকায় অবৈধ ড্রেজিং চলতে থাকলে বিছনাকান্দির পরিবেশগত ভারসাম্য স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।অভিযোগ উঠেছে, পুরো বিষয়টি সম্পর্কে অবগত থাকা সত্ত্বেও গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। একইভাবে পরিবেশ অধিদপ্তরেরও কার্যকর তৎপরতা না থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে। পরিবেশ রক্ষায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর এমন নীরবতা নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অবৈধ পাথর ও বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, ড্রেজার মেশিন জব্দ, ইজারার শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত এবং পুরো সিন্ডিকেটের কার্যক্রম বন্ধে জরুরি অভিযান পরিচালনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদপ্তর, সিলেট জেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগে বিছনাকান্দি ও হাদারপাড় এলাকায় অবৈধ উত্তোলন বন্ধের দাবি জানিয়েছেন তারা।তাদের ভাষ্য, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে শুধু বিছনাকান্দির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই নয়, নদী, জীববৈচিত্র্য, কৃষিজমি, বসতবাড়ি এবং আশপাশের জনপদও অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়বে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।এ ব্যপারে জানতে গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ এর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি। একই ব্যপারে জানতে শাহ আলম স্বপনের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে পাওয়া যায়নি।

সিলেট এডিশন

প্রকাশক ও সম্পাদক:
কামরুল হাসান জুলহাস

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
স্বপন-মান্নানের নেতৃত্বে বিছনাকান্দি-হাদারপাড়ে বালু মহালের নামে পাথর লুটের মহোৎসব
0:00 / 0:00
1x