শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

১হাজার ১শত টাকার ঔষধ ১২ হাজার টাকা সুনামগঞ্জ ফার্মেসীতে গলাকাটা বিল, লাইভারদের চাঁদাবাজি ওসমানী হাসপাতালে সক্রিয় দালাল ঘুমিয়ে আছে প্রশাসন 


সিলেট এডিশন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৫ অক্টোবর ২০২৫, ০৭:২৪ পিএম

১হাজার ১শত টাকার ঔষধ ১২ হাজার টাকা সুনামগঞ্জ ফার্মেসীতে গলাকাটা বিল, লাইভারদের চাঁদাবাজি ওসমানী হাসপাতালে সক্রিয় দালাল ঘুমিয়ে আছে প্রশাসন 
নিজস্ব প্রতিবেদক:: সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ রোড এলাকায় ফার্মেসী ব্যবসার আড়ালে গড়ে উঠেছে এক সংঘবদ্ধ দালাল ও চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট। রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও তথাকথিত ফেসবুক লাইভারদের মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ উঠেছে “সুনামগঞ্জ ফার্মেসী” নামের এক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওসমানী মেডিকেল কলেজের ভেতরে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে গিয়ে কিছু দালাল রোগীর স্বজনদের ম্যানেজ করে সুনামগঞ্জ ফার্মেসীতে নিয়ে আসে। প্রথমে কম দামে ওষুধ বিক্রি দেখিয়ে তাদের আস্থা অর্জন করা হয়, পরে গোপনে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হয়। এভাবে বহু রোগীর স্বজন প্রতারিত হয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এ সিন্ডিকেটের মূল হোতা হিসেবে অভিযোগ উঠেছে সুনামগঞ্জ ফার্মেসীর মালিক সুমন শিকদারের বিরুদ্ধে। তিনি একসময় ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং পূর্বে একটি হত্যা মামলার আসামি বলেও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে। কারাভোগের পর বিধান কুমার সাহার পরামর্শে ও সহযোগিতায় ফার্মেসী ব্যবসা শুরু করেন। বর্তমানে তার নিয়ন্ত্রণে ম্যানেজার কামরুল, সায়েম, বাপ্পি, জহির,মাজহারুল, জালাল, বাবলু-২, লাভলু, লিটন, মানিকসহ ১০–১৫ জন দালাল, যারা মেডিকেল কলেজের ভেতরে সক্রিয়ভাবে রোগীদের ফার্মেসীতে নিয়ে আসে। এমনকি প্রতি দালালের জন্য দৈনিক ৩ শত টাকা পুলিশের একটি অংশকে বখরা দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ৯ সেপ্টেম্বর রাতে সুনামগঞ্জ ফার্মেসীতে ওষুধের অতিরিক্ত মূল্য আদায় নিয়ে উত্তেজনা দেখা দেয়। ওই সময় ফেসবুক লাইভার — মাছুম আহমদ, জালাল জয়, তুহিন আহমদ, জাহাঙ্গীর আলম রাসেল প্রমুখ — ঘটনাস্থলে গিয়ে লাইভ প্রচার শুরু করেন। লাইভে ফার্মেসী কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত দাম নেওয়ার কথা স্বীকার করে। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই পরিস্থিতি মোড় নেয় অন্যদিকে। অভিযোগ অনুযায়ী, ফার্মেসীর মালিক তার অপরাধ ধামাচাপা দিতে এই লাইভারদের টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেন। প্রথমে ৩৬ হাজার টাকা দাবি করা হলেও শেষ পর্যন্ত ২৩ হাজার টাকায় সমঝোতা হয়। পরবর্তীতে ফার্মেসী কর্তৃপক্ষ সাপ্তাহিক বাংলার মাটি পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক ফারুক আহমদ চৌধুরী ফোন করে মাধ্যম বানিয়ে ওই অর্থ মাছুম এর কাছে প্রদান করলে লাইভাররা নিউজ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে চলে যায়। তবে দুই দিন পরই Bangladesh Online Media ও আরও কয়েকটি ফেসবুক পেজে ঘটনাটি বিকৃতভাবে প্রচার করা হয়। এতে সাংবাদিক ফারুক আহমদ চৌধুরী ও তার ছেলে আরমান আহমদকে অন্যায়ভাবে জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হয়। এ বিষয়ে জানতে ফারুক আহমদ চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন “আমার বা আমার ছেলের এই ঘটনায় কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। বরং আমি ঘটনাটি তদন্তের জন্য প্রেসক্লাব ও প্রশাসনকে অবহিত করেছি। যারা টাকা নিয়েছে, তারাই এখন অপপ্রচার চালিয়ে নিজেদের দোষ ঢাকতে চাইছে।” তিনি আরও জানান, সুমন শিকদার তার এলাকায় বসবাসকারী হওয়ায় ভাইসুলভ সম্পর্ক ছিল। তবে কোনো আর্থিক বা পারিবারিক সম্পর্ক নেই। তিনি দাবি করেন, পুরো ঘটনাটি উদ্দেশ্যমূলকভাবে সাজানো হয়েছে যাতে লাইভারদের চাঁদাবাজি প্রকাশ না পায়। অন্যদিকে, সুনামগঞ্জ ফার্মেসীর মালিক সুমন শিকদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফেসবুক লাইভার মাছুম আহমদ ফোনে প্রথমে টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করলেও পরে ভিডিও প্রকাশের পর মুছে দেওয়ার অনুরোধ জানান বলে কল রেকর্ড থেকে জানাযায়। এ ঘটনায় সিলেটের সাংবাদিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। প্রেসক্লাবের একাধিক সদস্য জানিয়েছেন, কিছু ব্যক্তি “ফেসবুক সাংবাদিক” পরিচয়ে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে, যা প্রকৃত সাংবাদিকতার সঙ্গে সম্পূর্ণ বিরোধী। তারা প্রশাসনের কাছে এসব লাইভার ও ফার্মেসী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে, স্থানীয় সচেতন নাগরিকরাও বলেন, “ওসমানী মেডিকেল কলেজের আশেপাশে দালাল সিন্ডিকেট বহুদিন ধরে সক্রিয়। প্রশাসন চাইলে সহজেই এদের চিহ্নিত করতে পারবে।” তারা হাসপাতালের রোগী ও স্বজনদের হয়রানি বন্ধে এলাকাটিতে নিয়মিত নজরদারি জোরদারের দাবি জানান। এই ঘটনার তদন্ত না হওয়ায় ফার্মেসী ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণহীন কার্যক্রম ও ফেসবুক লাইভারদের বেআইনি কর্মকাণ্ড নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপই পারে এই নৈরাজ্য বন্ধ করে ওসমানী মেডিকেল এলাকার সেবাপ্রদানকারীদের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে।

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: /৫ ( ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

নগরীতে বাস্তবায়ন হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

নগরীতে বাস্তবায়ন হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

মহানগরীর মোগলাবাজার থানাধীন খালেরমুখ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১০ হাজার ইয়াবাসহ ৩জন গ্রেফতার

মহানগরীর মোগলাবাজার থানাধীন খালেরমুখ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১০ হাজার ইয়াবাসহ ৩জন গ্রেফতার

শাল্লার কান্দিগাঁও গ্রামের ঐতিহ্যবাহ নৌকা বাইচ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন এমপি নাছির উদ্দিন চৌধুরী

শাল্লার কান্দিগাঁও গ্রামের ঐতিহ্যবাহ নৌকা বাইচ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন এমপি নাছির উদ্দিন চৌধুরী

ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুই সেনাসদস্য নিহত

ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুই সেনাসদস্য নিহত

তালাশ টেলিভিশনে নারীকে শিকল পড়িয়ে হাটিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর তোলপাড়: কিশোরীকে নির্যাতনের ঘটনায় আটক ৩

তালাশ টেলিভিশনে নারীকে শিকল পড়িয়ে হাটিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর তোলপাড়: কিশোরীকে নির্যাতনের ঘটনায় আটক ৩

ওয়েস্ট ওয়ার্ল্ড শপিং সেন্টারে অগ্নিকাণ্ডস্থল পরিদর্শনে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ

ওয়েস্ট ওয়ার্ল্ড শপিং সেন্টারে অগ্নিকাণ্ডস্থল পরিদর্শনে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ

ইসিএ এলাকায় তাণ্ডবের বিরুদ্ধে অভিযান, ধ্বংস ১০ ড্রেজার ও ৬ এক্সকেভেটর

ইসিএ এলাকায় তাণ্ডবের বিরুদ্ধে অভিযান, ধ্বংস ১০ ড্রেজার ও ৬ এক্সকেভেটর

২১৭ কোটি টাকার রেল প্রকল্পে ধীরগতি, মেয়াদ শেষেও বাকি ৭৫ শতাংশ কাজ

২১৭ কোটি টাকার রেল প্রকল্পে ধীরগতি, মেয়াদ শেষেও বাকি ৭৫ শতাংশ কাজ

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান: শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে সেবা চালু

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান: শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে সেবা চালু

কনজিউমার রাইটস বাংলাদেশ-সিআরবি' সিলেট বিভাগীয় শাখার কার্যনির্বাহী কমিটির শপথ গ্রহণ

কনজিউমার রাইটস বাংলাদেশ-সিআরবি' সিলেট বিভাগীয় শাখার কার্যনির্বাহী কমিটির শপথ গ্রহণ

নগরীতে বাস্তবায়ন হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

নগরীতে বাস্তবায়ন হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

মহানগরীর মোগলাবাজার থানাধীন খালেরমুখ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১০ হাজার ইয়াবাসহ ৩জন গ্রেফতার

মহানগরীর মোগলাবাজার থানাধীন খালেরমুখ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১০ হাজার ইয়াবাসহ ৩জন গ্রেফতার

১৫ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতির সিলেট সফর, প্রস্তুতিমূলক সভায় মন্ত্রীর নির্দেশনা

১৫ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতির সিলেট সফর, প্রস্তুতিমূলক সভায় মন্ত্রীর নির্দেশনা

ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুই সেনাসদস্য নিহত

ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুই সেনাসদস্য নিহত

তালাশ টেলিভিশনে নারীকে শিকল পড়িয়ে হাটিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর তোলপাড়: কিশোরীকে নির্যাতনের ঘটনায় আটক ৩

তালাশ টেলিভিশনে নারীকে শিকল পড়িয়ে হাটিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর তোলপাড়: কিশোরীকে নির্যাতনের ঘটনায় আটক ৩

ইসিএ এলাকায় তাণ্ডবের বিরুদ্ধে অভিযান, ধ্বংস ১০ ড্রেজার ও ৬ এক্সকেভেটর

ইসিএ এলাকায় তাণ্ডবের বিরুদ্ধে অভিযান, ধ্বংস ১০ ড্রেজার ও ৬ এক্সকেভেটর

ভ্যান সরানো নিয়ে কথা-কাটাকাটি, পরে যুবককে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ

ভ্যান সরানো নিয়ে কথা-কাটাকাটি, পরে যুবককে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ

খাদিমনগরে সরকারি খাস জমিতে অ্যালুমিনিয়াম কারখানা স্থাপনের অভিযোগ

খাদিমনগরে সরকারি খাস জমিতে অ্যালুমিনিয়াম কারখানা স্থাপনের অভিযোগ

খাদিমনগরে খাস জমি দখলের অভিযোগ, পাহাড় কেটে গড়ে উঠছে প্লট

খাদিমনগরে খাস জমি দখলের অভিযোগ, পাহাড় কেটে গড়ে উঠছে প্লট

সিলেট সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৩৬ লাখ টাকার চোরাচালানি মালামাল জব্দ!

সিলেট সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৩৬ লাখ টাকার চোরাচালানি মালামাল জব্দ!

সিলেট এডিশন

শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


১হাজার ১শত টাকার ঔষধ ১২ হাজার টাকা সুনামগঞ্জ ফার্মেসীতে গলাকাটা বিল, লাইভারদের চাঁদাবাজি ওসমানী হাসপাতালে সক্রিয় দালাল ঘুমিয়ে আছে প্রশাসন 

প্রকাশের তারিখ : ২৫ অক্টোবর ২০২৫

featured Image
নিজস্ব প্রতিবেদক:: সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ রোড এলাকায় ফার্মেসী ব্যবসার আড়ালে গড়ে উঠেছে এক সংঘবদ্ধ দালাল ও চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট। রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও তথাকথিত ফেসবুক লাইভারদের মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ উঠেছে “সুনামগঞ্জ ফার্মেসী” নামের এক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওসমানী মেডিকেল কলেজের ভেতরে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে গিয়ে কিছু দালাল রোগীর স্বজনদের ম্যানেজ করে সুনামগঞ্জ ফার্মেসীতে নিয়ে আসে। প্রথমে কম দামে ওষুধ বিক্রি দেখিয়ে তাদের আস্থা অর্জন করা হয়, পরে গোপনে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হয়। এভাবে বহু রোগীর স্বজন প্রতারিত হয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এ সিন্ডিকেটের মূল হোতা হিসেবে অভিযোগ উঠেছে সুনামগঞ্জ ফার্মেসীর মালিক সুমন শিকদারের বিরুদ্ধে। তিনি একসময় ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং পূর্বে একটি হত্যা মামলার আসামি বলেও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে। কারাভোগের পর বিধান কুমার সাহার পরামর্শে ও সহযোগিতায় ফার্মেসী ব্যবসা শুরু করেন। বর্তমানে তার নিয়ন্ত্রণে ম্যানেজার কামরুল, সায়েম, বাপ্পি, জহির,মাজহারুল, জালাল, বাবলু-২, লাভলু, লিটন, মানিকসহ ১০–১৫ জন দালাল, যারা মেডিকেল কলেজের ভেতরে সক্রিয়ভাবে রোগীদের ফার্মেসীতে নিয়ে আসে। এমনকি প্রতি দালালের জন্য দৈনিক ৩ শত টাকা পুলিশের একটি অংশকে বখরা দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ৯ সেপ্টেম্বর রাতে সুনামগঞ্জ ফার্মেসীতে ওষুধের অতিরিক্ত মূল্য আদায় নিয়ে উত্তেজনা দেখা দেয়। ওই সময় ফেসবুক লাইভার — মাছুম আহমদ, জালাল জয়, তুহিন আহমদ, জাহাঙ্গীর আলম রাসেল প্রমুখ — ঘটনাস্থলে গিয়ে লাইভ প্রচার শুরু করেন। লাইভে ফার্মেসী কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত দাম নেওয়ার কথা স্বীকার করে। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই পরিস্থিতি মোড় নেয় অন্যদিকে। অভিযোগ অনুযায়ী, ফার্মেসীর মালিক তার অপরাধ ধামাচাপা দিতে এই লাইভারদের টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেন। প্রথমে ৩৬ হাজার টাকা দাবি করা হলেও শেষ পর্যন্ত ২৩ হাজার টাকায় সমঝোতা হয়। পরবর্তীতে ফার্মেসী কর্তৃপক্ষ সাপ্তাহিক বাংলার মাটি পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক ফারুক আহমদ চৌধুরী ফোন করে মাধ্যম বানিয়ে ওই অর্থ মাছুম এর কাছে প্রদান করলে লাইভাররা নিউজ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে চলে যায়। তবে দুই দিন পরই Bangladesh Online Media ও আরও কয়েকটি ফেসবুক পেজে ঘটনাটি বিকৃতভাবে প্রচার করা হয়। এতে সাংবাদিক ফারুক আহমদ চৌধুরী ও তার ছেলে আরমান আহমদকে অন্যায়ভাবে জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হয়। এ বিষয়ে জানতে ফারুক আহমদ চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন “আমার বা আমার ছেলের এই ঘটনায় কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। বরং আমি ঘটনাটি তদন্তের জন্য প্রেসক্লাব ও প্রশাসনকে অবহিত করেছি। যারা টাকা নিয়েছে, তারাই এখন অপপ্রচার চালিয়ে নিজেদের দোষ ঢাকতে চাইছে।” তিনি আরও জানান, সুমন শিকদার তার এলাকায় বসবাসকারী হওয়ায় ভাইসুলভ সম্পর্ক ছিল। তবে কোনো আর্থিক বা পারিবারিক সম্পর্ক নেই। তিনি দাবি করেন, পুরো ঘটনাটি উদ্দেশ্যমূলকভাবে সাজানো হয়েছে যাতে লাইভারদের চাঁদাবাজি প্রকাশ না পায়। অন্যদিকে, সুনামগঞ্জ ফার্মেসীর মালিক সুমন শিকদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফেসবুক লাইভার মাছুম আহমদ ফোনে প্রথমে টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করলেও পরে ভিডিও প্রকাশের পর মুছে দেওয়ার অনুরোধ জানান বলে কল রেকর্ড থেকে জানাযায়। এ ঘটনায় সিলেটের সাংবাদিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। প্রেসক্লাবের একাধিক সদস্য জানিয়েছেন, কিছু ব্যক্তি “ফেসবুক সাংবাদিক” পরিচয়ে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে, যা প্রকৃত সাংবাদিকতার সঙ্গে সম্পূর্ণ বিরোধী। তারা প্রশাসনের কাছে এসব লাইভার ও ফার্মেসী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে, স্থানীয় সচেতন নাগরিকরাও বলেন, “ওসমানী মেডিকেল কলেজের আশেপাশে দালাল সিন্ডিকেট বহুদিন ধরে সক্রিয়। প্রশাসন চাইলে সহজেই এদের চিহ্নিত করতে পারবে।” তারা হাসপাতালের রোগী ও স্বজনদের হয়রানি বন্ধে এলাকাটিতে নিয়মিত নজরদারি জোরদারের দাবি জানান। এই ঘটনার তদন্ত না হওয়ায় ফার্মেসী ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণহীন কার্যক্রম ও ফেসবুক লাইভারদের বেআইনি কর্মকাণ্ড নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপই পারে এই নৈরাজ্য বন্ধ করে ওসমানী মেডিকেল এলাকার সেবাপ্রদানকারীদের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে।

সিলেট এডিশন

প্রকাশক ও সম্পাদক:
কামরুল হাসান জুলহাস

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
১হাজার ১শত টাকার ঔষধ ১২ হাজার টাকা সুনামগঞ্জ ফার্মেসীতে গলাকাটা বিল, লাইভারদের চাঁদাবাজি ওসমানী হাসপাতালে সক্রিয় দালাল ঘুমিয়ে আছে প্রশাসন 
0:00 / 0:00
1x