শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফলোআপ সংবাদ প্রকাশের পর চোরাই মোবাইলের গডফাদার শহীদ বেসামাল, পুলিশের ভূমিকা রহস্যময় তদবিরে সাংবাদিক


সিলেট এডিশন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৩ অক্টোবর ২০২৫, ০৬:০৬ পিএম

ফলোআপ সংবাদ প্রকাশের পর চোরাই মোবাইলের গডফাদার শহীদ বেসামাল, পুলিশের ভূমিকা রহস্যময় তদবিরে সাংবাদিক
নিজস্ব প্রতিবেদক:: মোবাইল সম্রাট শহীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনলাইন ও প্রিন্ট মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশের পর চোরাই মোবাইলের গডফাদার শহীদ এখন বেসামাল, পুলিশের ভূমিকা রহস্যময় তদবিরে ব্যস্ত সাংবাদিকরা। শহীদ তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের পর বেসামাল হয়ে বিভিন্ন লোক দিয়ে পত্রিকার সম্পাদকে ফোন করে প্রতিবাদ ছাপানোর কথা বলে। প্রতিবাদ না ছাপালে মামলার হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ফোনের তালিকায় রয়েছে বিভিন্ন সাংবাদিকের নাম। সিলেটের বিভিন্ন অনলাইন ও প্রিন্ট মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশের পরও এসএমপির পুলিশের পক্ষ থেকে কোন আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। স্থানীয়রা বলছেন পুলিশের ভূমিকা প্রশ্ন বিদ্ধ! স্থানীয়দের অভিযোগ শহীদুল ইসলাম ওরফে মোবাইল শহীদ যা এখন পালসার শহীদ নামে পরিচিত। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সিলেট এলাকায় ছিনতাই ও চোরাই মোবাইল সংগ্রহ, আইএমইআই বদল করে বাজারজাতকরণ এবং সীমান্ত পথে ভারতে মোবাইল পাচারের সঙ্গে জড়িত। তিনি করিম উল্লাহ মার্কেট ও অন্যান্য জায়গায় মোবাইলের দোকান চালান সেই আড়ালে চলছে অবৈধ ব্যাবসা বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়—শহীদ মৌলভীবাজার জেলার সনকাঁপন গ্রামের মৃত নীল মিয়ার ছেলে। বর্তমানে তিনি দক্ষিণ সুরমা এলাকার শীববাড়ীতে স্থায়ী বসতি স্থাপন করেছেন ও জমি খরিদ করে আলিশান বাড়ি বানিয়ে পরিবারসহ থাকছেন। অতীতে কদমতলী ও পুলেরমুখ এলাকায় বসবাস ও ছোটখাট ব্যবসা করলেও পরে মোবাইল চোরাচালানির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে এক বিশাল সিন্ডিকেট গঠন করেছে বলে অভিযোগ। স্থানীয়দের বিবরণে দোকানের আড়ালে চোরাই মোবাইলের ব্যবসা চালানো হয়। মার্কেট-আধারিত এই ব্যবসার মাধ্যমে গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, কানাইঘাট, জকিগঞ্জ, বিয়ানীবাজারসহ সীমান্ত এলাকাগুলো থেকে চোরাচালানের মোবাইল সংগ্রহ ও বিক্রি করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে বর্ণিত পদ্ধতিতে চক্রগুলো প্রথমে উদ্ধারযোগ্যতা কমাতে মোবাইলটি বন্ধ করে, সিম ফেলে, ফোন ‘ফ্ল্যাশ’ (সফটওয়্যার রাইট) করে এবং প্রয়োজন হলে আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন করে ফেলেন। এর ফলে মোবাইল ট্র্যাক করা দুরূহ হয়ে পড়ে এবং মূল্যবান ফোনগুলো বিদেশে পাঠানো হয়—এই ধরনের চর্চার কারণেই উদ্ধারবহুলতা কমছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। শহীদের বিরুদ্ধে সিলেট কোতোয়ালী ও বিভিন্ন থানায় চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, হত্যা, চোরাচালানসহ মোট ৮টি মামলা সচল রয়েছে, তার মধ্যে ১টি মামলা গ্রেফতারি পরোয়ানা আছে। পুলিশ সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ এর অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) জানান, “মোবাইল যদি সচল থাকে আমরা শতভাগ উদ্ধার করার চেষ্টা করি; কিন্তু ফোন ফ্ল্যাশ বা আইএমইআই পরিবর্তন হলে তদন্ত জটিল হয়ে পড়ে।” তিনি আরও বলেছেন, মোবাইল শহীদ ও সিন্ডিকেট সম্পর্কে সূত্র পেলে তারা তা যাচাই-বাছাই করবে এবং হাত কতো লম্বা তা দেখব বলে উল্লেখ করেছেন। শহীদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পরও প্রশাসনিক কোন তৎপরতা চোখে পড়েনি। সিলেট মহানগরীর কদমতলী, বাসটার্মিনাল, বন্দরবাজার, হুমায়ুন চত্ত্বর, রেলওয়ে স্টেশন, ঢোপাদিঘীর পাড়, তালতলা, শেখঘাট, টিলাগড়, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কাজিরবাজার, মেজরটিলা, শিবগঞ্জ, মদিনামার্কেট, রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, নর্থইস্ট মেডিকেল কলেজসহ শহরের বহু গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে, ফাঁকা রাস্তা, অফিস-আদালত ও বাসাবাড়ি থেকে মোবাইল ছিনতাই বা চুরি হচ্ছে অনেক সময় মোবাইলের তথ্য থাকায় ব্যবহারকারীরা দিশাহারা হয়ে পড়েন। স্থানীয়দের দাবি মোবাইল সম্রাট শহীদ কয়েক বছরের মধ্যে প্রচুর সম্পদ অর্জন করেছেন তার মধ্যে মৌলভীবাজারে নিজের বাড়ী করতে ৭০ লক্ষ টাকা খরচ করেছেন।এছাড়াও সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শীববাড়ী জৈনপুরে জমি কিনে যে বাড়ী নির্মান করেছেন তার ব্যায় হয়েছে দেড় কোটি টাকা। করিম উল্লাহ মাকেটে শহীদের ৬ টি দোকানের পজিশন কেনা রয়েছে, যাহার বর্তমান বাজার মূল্য ৩ কোটি টাকা, জালালপুর, গহরপুর, সিলাম এই তিনটি দোকানের জামানত ও মালামাল আছে ২ কোটি টাকা, করিম উল্লাহ মার্কেটের ২য় তলায় তার একটি দোকান রয়েছে সেই দোকানে চোরাচালান মালসহ ৩ কোটি টাকার পণ্য রয়েছে। দোকাটি সে নিজে চালায়না, অন্য মানুষ দিয়ে পরিচালনা করছে, কারণ মাকেট কর্তৃপক্ষ তাকে কয়েকমাস আগে নিষেধ করে। এছাড়াও বন্দরবাজার সিটিহার্ট মার্কেটে ও হুমায়ুন চত্ত্বরের দুটি দোকান তাহার দুই ভাই চালায় ঐ দুটি দোকানে ২ কোটি টাকার পণ্য রয়েছে। তাহার ব্যাংক ব্যলেন্স সম্পর্কে জানা যায়নি। স্থানীয় অভিযোগ ও ধারনা সে অর্ধশতকোটি টাকার মালিক। সংবাদ প্রকাশের পর মোবাইল গডফাদার শহীদ রিপোর্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করে দেখা করেন, এসময় সংবাদটি ফেলে দিতে অনুরোধ করে বলেন তিনি এক হাজার পরিবারের ভরণপোষণ করেন। ভরণ পোষনের টাকা কোথা থেকে আসে জিজ্ঞেস করলে তিনি প্রতিবেদককে কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। এরপর মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন অনেক মিথ্যা মামলা ছিলো, এখন দুটি মামলা আছে তার মধ্যে একটি ২০২৩ সালের কাজির বাজার ব্রিজে আলী হত্যা মামলা, সেটাও মিথ্যা মামলা বলে দাবী করেন। কিভাবে মিথ্যা মামলা হলো জানতে চাইলে বলেম চুরি যাওয়া একটি মোবাইলের সুত্র নিয়ে সোবহানীঘাট ফাঁড়ি পুলিশ তাকে আটক করেছিলো।এরপর পুলিশের সাথে বড় অংকের টাকার কন্টাক্ট করে বের হয়েছিলেন। তখন কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ ছিলেন আলী মাহমুদ। পুলিশ চুরির বিষয় প্রমান করতে না পাড়ায় পুলিশ টাকা ফেরৎ দেয়। এই আক্রোশে আলী মাহমুদ তাকে হত্যা মামলার আসামী করেন বলে দাবী করেন। তিনি অনেক সাংবাদিককে সহযোগিতা করেন বলেও উল্লেখ করেন। পরবর্তীতে থাকবে মোবাইল সম্রাট শহীদ ও তার ভাইদের দোকান নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন।

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: /৫ ( ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

নগরীতে বাস্তবায়ন হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

নগরীতে বাস্তবায়ন হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

মহানগরীর মোগলাবাজার থানাধীন খালেরমুখ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১০ হাজার ইয়াবাসহ ৩জন গ্রেফতার

মহানগরীর মোগলাবাজার থানাধীন খালেরমুখ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১০ হাজার ইয়াবাসহ ৩জন গ্রেফতার

শাল্লার কান্দিগাঁও গ্রামের ঐতিহ্যবাহ নৌকা বাইচ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন এমপি নাছির উদ্দিন চৌধুরী

শাল্লার কান্দিগাঁও গ্রামের ঐতিহ্যবাহ নৌকা বাইচ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন এমপি নাছির উদ্দিন চৌধুরী

ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুই সেনাসদস্য নিহত

ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুই সেনাসদস্য নিহত

তালাশ টেলিভিশনে নারীকে শিকল পড়িয়ে হাটিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর তোলপাড়: কিশোরীকে নির্যাতনের ঘটনায় আটক ৩

তালাশ টেলিভিশনে নারীকে শিকল পড়িয়ে হাটিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর তোলপাড়: কিশোরীকে নির্যাতনের ঘটনায় আটক ৩

ওয়েস্ট ওয়ার্ল্ড শপিং সেন্টারে অগ্নিকাণ্ডস্থল পরিদর্শনে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ

ওয়েস্ট ওয়ার্ল্ড শপিং সেন্টারে অগ্নিকাণ্ডস্থল পরিদর্শনে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ

ইসিএ এলাকায় তাণ্ডবের বিরুদ্ধে অভিযান, ধ্বংস ১০ ড্রেজার ও ৬ এক্সকেভেটর

ইসিএ এলাকায় তাণ্ডবের বিরুদ্ধে অভিযান, ধ্বংস ১০ ড্রেজার ও ৬ এক্সকেভেটর

২১৭ কোটি টাকার রেল প্রকল্পে ধীরগতি, মেয়াদ শেষেও বাকি ৭৫ শতাংশ কাজ

২১৭ কোটি টাকার রেল প্রকল্পে ধীরগতি, মেয়াদ শেষেও বাকি ৭৫ শতাংশ কাজ

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান: শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে সেবা চালু

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান: শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে সেবা চালু

কনজিউমার রাইটস বাংলাদেশ-সিআরবি' সিলেট বিভাগীয় শাখার কার্যনির্বাহী কমিটির শপথ গ্রহণ

কনজিউমার রাইটস বাংলাদেশ-সিআরবি' সিলেট বিভাগীয় শাখার কার্যনির্বাহী কমিটির শপথ গ্রহণ

নগরীতে বাস্তবায়ন হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

নগরীতে বাস্তবায়ন হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

মহানগরীর মোগলাবাজার থানাধীন খালেরমুখ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১০ হাজার ইয়াবাসহ ৩জন গ্রেফতার

মহানগরীর মোগলাবাজার থানাধীন খালেরমুখ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১০ হাজার ইয়াবাসহ ৩জন গ্রেফতার

১৫ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতির সিলেট সফর, প্রস্তুতিমূলক সভায় মন্ত্রীর নির্দেশনা

১৫ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতির সিলেট সফর, প্রস্তুতিমূলক সভায় মন্ত্রীর নির্দেশনা

ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুই সেনাসদস্য নিহত

ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুই সেনাসদস্য নিহত

তালাশ টেলিভিশনে নারীকে শিকল পড়িয়ে হাটিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর তোলপাড়: কিশোরীকে নির্যাতনের ঘটনায় আটক ৩

তালাশ টেলিভিশনে নারীকে শিকল পড়িয়ে হাটিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর তোলপাড়: কিশোরীকে নির্যাতনের ঘটনায় আটক ৩

ইসিএ এলাকায় তাণ্ডবের বিরুদ্ধে অভিযান, ধ্বংস ১০ ড্রেজার ও ৬ এক্সকেভেটর

ইসিএ এলাকায় তাণ্ডবের বিরুদ্ধে অভিযান, ধ্বংস ১০ ড্রেজার ও ৬ এক্সকেভেটর

ভ্যান সরানো নিয়ে কথা-কাটাকাটি, পরে যুবককে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ

ভ্যান সরানো নিয়ে কথা-কাটাকাটি, পরে যুবককে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ

খাদিমনগরে সরকারি খাস জমিতে অ্যালুমিনিয়াম কারখানা স্থাপনের অভিযোগ

খাদিমনগরে সরকারি খাস জমিতে অ্যালুমিনিয়াম কারখানা স্থাপনের অভিযোগ

খাদিমনগরে খাস জমি দখলের অভিযোগ, পাহাড় কেটে গড়ে উঠছে প্লট

খাদিমনগরে খাস জমি দখলের অভিযোগ, পাহাড় কেটে গড়ে উঠছে প্লট

সিলেট সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৩৬ লাখ টাকার চোরাচালানি মালামাল জব্দ!

সিলেট সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৩৬ লাখ টাকার চোরাচালানি মালামাল জব্দ!

সিলেট এডিশন

শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ফলোআপ সংবাদ প্রকাশের পর চোরাই মোবাইলের গডফাদার শহীদ বেসামাল, পুলিশের ভূমিকা রহস্যময় তদবিরে সাংবাদিক

প্রকাশের তারিখ : ২৩ অক্টোবর ২০২৫

featured Image
নিজস্ব প্রতিবেদক:: মোবাইল সম্রাট শহীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনলাইন ও প্রিন্ট মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশের পর চোরাই মোবাইলের গডফাদার শহীদ এখন বেসামাল, পুলিশের ভূমিকা রহস্যময় তদবিরে ব্যস্ত সাংবাদিকরা। শহীদ তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের পর বেসামাল হয়ে বিভিন্ন লোক দিয়ে পত্রিকার সম্পাদকে ফোন করে প্রতিবাদ ছাপানোর কথা বলে। প্রতিবাদ না ছাপালে মামলার হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ফোনের তালিকায় রয়েছে বিভিন্ন সাংবাদিকের নাম। সিলেটের বিভিন্ন অনলাইন ও প্রিন্ট মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশের পরও এসএমপির পুলিশের পক্ষ থেকে কোন আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। স্থানীয়রা বলছেন পুলিশের ভূমিকা প্রশ্ন বিদ্ধ! স্থানীয়দের অভিযোগ শহীদুল ইসলাম ওরফে মোবাইল শহীদ যা এখন পালসার শহীদ নামে পরিচিত। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সিলেট এলাকায় ছিনতাই ও চোরাই মোবাইল সংগ্রহ, আইএমইআই বদল করে বাজারজাতকরণ এবং সীমান্ত পথে ভারতে মোবাইল পাচারের সঙ্গে জড়িত। তিনি করিম উল্লাহ মার্কেট ও অন্যান্য জায়গায় মোবাইলের দোকান চালান সেই আড়ালে চলছে অবৈধ ব্যাবসা বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়—শহীদ মৌলভীবাজার জেলার সনকাঁপন গ্রামের মৃত নীল মিয়ার ছেলে। বর্তমানে তিনি দক্ষিণ সুরমা এলাকার শীববাড়ীতে স্থায়ী বসতি স্থাপন করেছেন ও জমি খরিদ করে আলিশান বাড়ি বানিয়ে পরিবারসহ থাকছেন। অতীতে কদমতলী ও পুলেরমুখ এলাকায় বসবাস ও ছোটখাট ব্যবসা করলেও পরে মোবাইল চোরাচালানির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে এক বিশাল সিন্ডিকেট গঠন করেছে বলে অভিযোগ। স্থানীয়দের বিবরণে দোকানের আড়ালে চোরাই মোবাইলের ব্যবসা চালানো হয়। মার্কেট-আধারিত এই ব্যবসার মাধ্যমে গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, কানাইঘাট, জকিগঞ্জ, বিয়ানীবাজারসহ সীমান্ত এলাকাগুলো থেকে চোরাচালানের মোবাইল সংগ্রহ ও বিক্রি করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে বর্ণিত পদ্ধতিতে চক্রগুলো প্রথমে উদ্ধারযোগ্যতা কমাতে মোবাইলটি বন্ধ করে, সিম ফেলে, ফোন ‘ফ্ল্যাশ’ (সফটওয়্যার রাইট) করে এবং প্রয়োজন হলে আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন করে ফেলেন। এর ফলে মোবাইল ট্র্যাক করা দুরূহ হয়ে পড়ে এবং মূল্যবান ফোনগুলো বিদেশে পাঠানো হয়—এই ধরনের চর্চার কারণেই উদ্ধারবহুলতা কমছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। শহীদের বিরুদ্ধে সিলেট কোতোয়ালী ও বিভিন্ন থানায় চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, হত্যা, চোরাচালানসহ মোট ৮টি মামলা সচল রয়েছে, তার মধ্যে ১টি মামলা গ্রেফতারি পরোয়ানা আছে। পুলিশ সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ এর অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) জানান, “মোবাইল যদি সচল থাকে আমরা শতভাগ উদ্ধার করার চেষ্টা করি; কিন্তু ফোন ফ্ল্যাশ বা আইএমইআই পরিবর্তন হলে তদন্ত জটিল হয়ে পড়ে।” তিনি আরও বলেছেন, মোবাইল শহীদ ও সিন্ডিকেট সম্পর্কে সূত্র পেলে তারা তা যাচাই-বাছাই করবে এবং হাত কতো লম্বা তা দেখব বলে উল্লেখ করেছেন। শহীদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পরও প্রশাসনিক কোন তৎপরতা চোখে পড়েনি। সিলেট মহানগরীর কদমতলী, বাসটার্মিনাল, বন্দরবাজার, হুমায়ুন চত্ত্বর, রেলওয়ে স্টেশন, ঢোপাদিঘীর পাড়, তালতলা, শেখঘাট, টিলাগড়, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কাজিরবাজার, মেজরটিলা, শিবগঞ্জ, মদিনামার্কেট, রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, নর্থইস্ট মেডিকেল কলেজসহ শহরের বহু গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে, ফাঁকা রাস্তা, অফিস-আদালত ও বাসাবাড়ি থেকে মোবাইল ছিনতাই বা চুরি হচ্ছে অনেক সময় মোবাইলের তথ্য থাকায় ব্যবহারকারীরা দিশাহারা হয়ে পড়েন। স্থানীয়দের দাবি মোবাইল সম্রাট শহীদ কয়েক বছরের মধ্যে প্রচুর সম্পদ অর্জন করেছেন তার মধ্যে মৌলভীবাজারে নিজের বাড়ী করতে ৭০ লক্ষ টাকা খরচ করেছেন।এছাড়াও সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শীববাড়ী জৈনপুরে জমি কিনে যে বাড়ী নির্মান করেছেন তার ব্যায় হয়েছে দেড় কোটি টাকা। করিম উল্লাহ মাকেটে শহীদের ৬ টি দোকানের পজিশন কেনা রয়েছে, যাহার বর্তমান বাজার মূল্য ৩ কোটি টাকা, জালালপুর, গহরপুর, সিলাম এই তিনটি দোকানের জামানত ও মালামাল আছে ২ কোটি টাকা, করিম উল্লাহ মার্কেটের ২য় তলায় তার একটি দোকান রয়েছে সেই দোকানে চোরাচালান মালসহ ৩ কোটি টাকার পণ্য রয়েছে। দোকাটি সে নিজে চালায়না, অন্য মানুষ দিয়ে পরিচালনা করছে, কারণ মাকেট কর্তৃপক্ষ তাকে কয়েকমাস আগে নিষেধ করে। এছাড়াও বন্দরবাজার সিটিহার্ট মার্কেটে ও হুমায়ুন চত্ত্বরের দুটি দোকান তাহার দুই ভাই চালায় ঐ দুটি দোকানে ২ কোটি টাকার পণ্য রয়েছে। তাহার ব্যাংক ব্যলেন্স সম্পর্কে জানা যায়নি। স্থানীয় অভিযোগ ও ধারনা সে অর্ধশতকোটি টাকার মালিক। সংবাদ প্রকাশের পর মোবাইল গডফাদার শহীদ রিপোর্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করে দেখা করেন, এসময় সংবাদটি ফেলে দিতে অনুরোধ করে বলেন তিনি এক হাজার পরিবারের ভরণপোষণ করেন। ভরণ পোষনের টাকা কোথা থেকে আসে জিজ্ঞেস করলে তিনি প্রতিবেদককে কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। এরপর মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন অনেক মিথ্যা মামলা ছিলো, এখন দুটি মামলা আছে তার মধ্যে একটি ২০২৩ সালের কাজির বাজার ব্রিজে আলী হত্যা মামলা, সেটাও মিথ্যা মামলা বলে দাবী করেন। কিভাবে মিথ্যা মামলা হলো জানতে চাইলে বলেম চুরি যাওয়া একটি মোবাইলের সুত্র নিয়ে সোবহানীঘাট ফাঁড়ি পুলিশ তাকে আটক করেছিলো।এরপর পুলিশের সাথে বড় অংকের টাকার কন্টাক্ট করে বের হয়েছিলেন। তখন কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ ছিলেন আলী মাহমুদ। পুলিশ চুরির বিষয় প্রমান করতে না পাড়ায় পুলিশ টাকা ফেরৎ দেয়। এই আক্রোশে আলী মাহমুদ তাকে হত্যা মামলার আসামী করেন বলে দাবী করেন। তিনি অনেক সাংবাদিককে সহযোগিতা করেন বলেও উল্লেখ করেন। পরবর্তীতে থাকবে মোবাইল সম্রাট শহীদ ও তার ভাইদের দোকান নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন।

সিলেট এডিশন

প্রকাশক ও সম্পাদক:
কামরুল হাসান জুলহাস

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ফলোআপ সংবাদ প্রকাশের পর চোরাই মোবাইলের গডফাদার শহীদ বেসামাল, পুলিশের ভূমিকা রহস্যময় তদবিরে সাংবাদিক
0:00 / 0:00
1x