সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

রাস্তা সরকারি, বাণিজ্য ব্যক্তিগত—হুমায়ুন রশীদ চত্বরে তেলেসমাতি কারবার! সওজ বলছে অবৈধ


মিজানুর রহমান:
স্টাফ রিপোর্টার:
প্রকাশিত: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১৫ পিএম
পাঠক: ১৭৩ জন
প্রিন্ট ফটোকার্ড

রাস্তা সরকারি, বাণিজ্য ব্যক্তিগত—হুমায়ুন রশীদ চত্বরে  তেলেসমাতি কারবার! সওজ বলছে অবৈধ

সিলেটের দক্ষিণ সুরমার গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হুমায়ুন রশীদ চত্বর। প্রতিদিন হাজারো যানবাহন ও মানুষের চলাচলে ব্যস্ত থাকে এই এলাকা। অথচ এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের জায়গা ঘিরে বসানো হয়েছে একের পর এক দোকান। সরকারি সড়কের জায়গায় দোকান বসিয়ে জামানত ও দৈনিক ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। তিনটি মার্কেটের সামনে রয়েছে ২৭টি দোকান। এসব দোকান থেকে প্রতিদিন আদায় হচ্ছে হাজার হাজার টাকা। অভিযোগ অনুযায়ী, মাসে এই অর্থের পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে কয়েক লাখ টাকা। সরকারি সম্পত্তি ব্যবহার করে কারা চালাচ্ছেন এই বাণিজ্য? আর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা কী?

অনুসন্ধানে জানা যায়, হুমায়ুন রশীদ চত্বর এলাকায় আহমেদ অ্যান্ড ব্রাদার্স মার্কেটের সামনে ৯টি, মুজিব ম্যানশন মার্কেটের সামনে ৯টি এবং চাঁদ ম্যানশনের সামনে আরও ৯টি দোকান বসানো হয়েছে। সব মিলিয়ে দোকানের সংখ্যা ২৭টি। অভিযোগ রয়েছে, এসব দোকান বসানোর বিপরীতে প্রতিটি দোকান থেকে ১৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত জামানত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিদিন আদায় করা হচ্ছে ২০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া।

দোকানপ্রতি গড়ে ৪০০ টাকা দৈনিক ভাড়া হিসাবে ২৭টি দোকান থেকে প্রতিদিন আদায় হয় ১০ হাজার ৮০০ টাকা। সেই হিসাবে মাসে ৩ লাখ ২৪ হাজার টাকা। সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ ভাড়ার হিসাবে মাসিক আদায়ের পরিমাণ ১ লাখ ৬২ হাজার থেকে ৪ লাখ ৮৬ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। তবে এই অর্থ কারা আদায় করছেন, এর কোনো লিখিত হিসাব রয়েছে কি না এবং অর্থের কোনো অংশ সরকারি কোষাগারে জমা হয় কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

দোকানিদের সঙ্গে কথা বলে দৈনিক ভাড়া আদায়ের তথ্যের সত্যতা পাওয়া গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চা-দোকানি জানান, প্রতিদিন দোকানভাড়া বাবদ ৩০০ টাকা দিতে হয়। দোকান নেওয়ার সময় জামানত দিয়েছেন ১৫ হাজার টাকা।
অন্যদিকে, এক কলা ব্যবসায়ী জানান, প্রতিদিন ২০০ টাকা ভাড়া দিতে হয়। ভাড়া না দিলে সেখানে ব্যবসা করা সম্ভব হয় না। তবে জামানতের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানান।

দোকানিদের এসব বক্তব্য সরকারি সড়কের জায়গায় দোকান বসানো এবং নিয়মিত অর্থ আদায়ের অভিযোগকে আরও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে সরকারি সড়কের জায়গায় এসব দোকান বসিয়ে বাণিজ্য চললেও কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। মাঝেমধ্যে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান পরিচালিত হলেও কিছুদিন পর আবারও ফিরে আসে আগের চিত্র। ফলে সরকারি জায়গা দখল করে ব্যক্তিগতভাবে অর্থ উপার্জনের এই ব্যবস্থা কীভাবে বছরের পর বছর টিকে আছে, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এদিকে সড়কের জায়গায় দোকান বসানোর কারণে পথচারীদের চলাচল ও যানবাহনের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশমুখে এমন স্থাপনা জনদুর্ভোগ বাড়ানোর পাশাপাশি সড়কের শৃঙ্খলা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে।

এ বিষয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাই রাফিন সরকার মুঠোফোনে এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘এটা আমাদের অধীনে না, সওজের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।’

অন্যদিকে, সিলেট সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খায়রুল বাশার মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন মুঠোফোনে বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণ অবৈধ। ডিসি সাহেবের সঙ্গে কথা বলে উচ্ছেদের ব্যবস্থা করব।’ সওজের নির্বাহী প্রকৌশলীর বক্তব্যে দোকানগুলোর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন আরও স্পষ্ট হয়েছে। তবে উচ্ছেদ কবে নাগাদ করা হবে এবং দীর্ঘদিন ধরে কীভাবে এসব দোকান পরিচালিত হচ্ছে, তার কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

সরকারি সড়কের জায়গা কি ব্যক্তিগত বাণিজ্যের উৎস হতে পারে? কার অনুমতিতে এসব দোকান বসানো হয়েছে? দোকানপ্রতি জামানত ও দৈনিক ভাড়া বাবদ আদায় করা অর্থের হিসাব কোথায়? 

এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো অমীমাংসিত। সচেতন মহলের দাবি, হুমায়ুন রশীদ চত্বরের দোকানগুলোর অবস্থান, সড়কের সীমানা, বরাদ্দ বা অনুমোদনের নথি এবং অর্থ আদায়ের বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি সড়কের জায়গা দখলমুক্ত করে জনসাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে হবে।

জনগণের চলাচলের জন্য নির্মিত সরকারি সড়ক যদি ব্যক্তিগত আয়ের উৎসে পরিণত হয়, তাহলে রাষ্ট্রীয় সম্পত্তির সুরক্ষা দেবে কে? হুমায়ুন রশীদ চত্বরের ২৭ দোকানের এই বাণিজ্য এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষায়।


এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

লিজ থেকে মামলা, মামলা থেকে দখল—বহর মৌজার খাস জমির গল্প

লিজ থেকে মামলা, মামলা থেকে দখল—বহর মৌজার খাস জমির গল্প

বহর-খাদিমনগরে চা-বাগান ও খাস ভূমি নিয়ে দখল-বেচাকেনার অভিযোগ

বহর-খাদিমনগরে চা-বাগান ও খাস ভূমি নিয়ে দখল-বেচাকেনার অভিযোগ

মুক্তিযোদ্ধাদের প্লটেও থাবা, টিলা কেটে চলছে স্থাপনা নির্মাণ

মুক্তিযোদ্ধাদের প্লটেও থাবা, টিলা কেটে চলছে স্থাপনা নির্মাণ

সিলেটে আদালতে মামলা চলমান, তবুও খাস জমি দখল ও স্ট্যাম্পে বেচাকেনার অভিযোগ খোকনের বিরুদ্ধে ‎

সিলেটে আদালতে মামলা চলমান, তবুও খাস জমি দখল ও স্ট্যাম্পে বেচাকেনার অভিযোগ খোকনের বিরুদ্ধে ‎

ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ: আশ্বাসে মেলেনি সমাধান, শহীদ মিনারে কর্মসূচি

ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ: আশ্বাসে মেলেনি সমাধান, শহীদ মিনারে কর্মসূচি

শাল্লার কান্দিগাঁও গ্রামের ঐতিহ্যবাহ নৌকা বাইচ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন এমপি নাছির উদ্দিন চৌধুরী

শাল্লার কান্দিগাঁও গ্রামের ঐতিহ্যবাহ নৌকা বাইচ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন এমপি নাছির উদ্দিন চৌধুরী

ওয়েস্ট ওয়ার্ল্ড শপিং সেন্টারে অগ্নিকাণ্ডস্থল পরিদর্শনে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ

ওয়েস্ট ওয়ার্ল্ড শপিং সেন্টারে অগ্নিকাণ্ডস্থল পরিদর্শনে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ

২১৭ কোটি টাকার রেল প্রকল্পে ধীরগতি, মেয়াদ শেষেও বাকি ৭৫ শতাংশ কাজ

২১৭ কোটি টাকার রেল প্রকল্পে ধীরগতি, মেয়াদ শেষেও বাকি ৭৫ শতাংশ কাজ

মহানগরীর মোগলাবাজার থানাধীন খালেরমুখ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১০ হাজার ইয়াবাসহ ৩জন গ্রেফতার

মহানগরীর মোগলাবাজার থানাধীন খালেরমুখ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১০ হাজার ইয়াবাসহ ৩জন গ্রেফতার

দক্ষিণ সুরমার সিলামে রাসেল হত্যা: ২২ জনের নাম উল্লেখ করে মায়ের মামলা

দক্ষিণ সুরমার সিলামে রাসেল হত্যা: ২২ জনের নাম উল্লেখ করে মায়ের মামলা

দক্ষ যুব গড়ব দেশ সবার জন্য বাংলাদেশ,  জৈন্তাপুরে জাতীয় যুব দিবস পালিত, যুব ঋণের চেক ও সম্মাননা স্মারক  বিতরণ

দক্ষ যুব গড়ব দেশ সবার জন্য বাংলাদেশ, জৈন্তাপুরে জাতীয় যুব দিবস পালিত, যুব ঋণের চেক ও সম্মাননা স্মারক বিতরণ

সিলেটে ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের সাহসী অভিযাত্রায় ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

সিলেটে ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের সাহসী অভিযাত্রায় ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

সিলেটে এক্সিলেন্ট গ্রুপের স্টার সেলিব্রেশন অ্যান্ড বিজনেস অপরচুনিটি সামিট অনুষ্ঠিত

সিলেটে এক্সিলেন্ট গ্রুপের স্টার সেলিব্রেশন অ্যান্ড বিজনেস অপরচুনিটি সামিট অনুষ্ঠিত

৩২ বছরের শিক্ষকতা জীবনের ইতি,আবেগঘন আয়োজনে অধ্যক্ষ আব্দুছ শহীদকে বিদায় সংবর্ধনা

৩২ বছরের শিক্ষকতা জীবনের ইতি,আবেগঘন আয়োজনে অধ্যক্ষ আব্দুছ শহীদকে বিদায় সংবর্ধনা

শাল্লা উপজেলায় নিজগাঁও গ্রামে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১, এলাকায় উত্তেজনা

শাল্লা উপজেলায় নিজগাঁও গ্রামে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১, এলাকায় উত্তেজনা

সিলেট সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী জাঙ্গাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ‘শতবর্ষ পূর্তি উদযাপন’ উপলক্ষে এক প্রচার র‌্যালি

সিলেট সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী জাঙ্গাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ‘শতবর্ষ পূর্তি উদযাপন’ উপলক্ষে এক প্রচার র‌্যালি

সিলেটে সাংবাদিকদের ‘ঐক্যবদ্ধসমাবেশ’ থেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কঠোর হুশিয়ারী

সিলেটে সাংবাদিকদের ‘ঐক্যবদ্ধসমাবেশ’ থেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কঠোর হুশিয়ারী

কানাইঘাট সীমান্তে বিজিবির অভিযান, ১৬ লাখ টাকার অবৈধ পণ্য জব্দ

কানাইঘাট সীমান্তে বিজিবির অভিযান, ১৬ লাখ টাকার অবৈধ পণ্য জব্দ

আলোচনায় ফিফটি ফাইভ পার্সেন্ট! ‘লুজার’ ছকে ‘উজাড়’ যাদুকাটা

আলোচনায় ফিফটি ফাইভ পার্সেন্ট! ‘লুজার’ ছকে ‘উজাড়’ যাদুকাটা

মাদক বিরোধের জেরে শাল্লায় বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট

মাদক বিরোধের জেরে শাল্লায় বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট

সিলেট এডিশন

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬


রাস্তা সরকারি, বাণিজ্য ব্যক্তিগত—হুমায়ুন রশীদ চত্বরে তেলেসমাতি কারবার! সওজ বলছে অবৈধ

প্রকাশের তারিখ : ১২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

সিলেটের দক্ষিণ সুরমার গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হুমায়ুন রশীদ চত্বর। প্রতিদিন হাজারো যানবাহন ও মানুষের চলাচলে ব্যস্ত থাকে এই এলাকা। অথচ এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের জায়গা ঘিরে বসানো হয়েছে একের পর এক দোকান। সরকারি সড়কের জায়গায় দোকান বসিয়ে জামানত ও দৈনিক ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। তিনটি মার্কেটের সামনে রয়েছে ২৭টি দোকান। এসব দোকান থেকে প্রতিদিন আদায় হচ্ছে হাজার হাজার টাকা। অভিযোগ অনুযায়ী, মাসে এই অর্থের পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে কয়েক লাখ টাকা। সরকারি সম্পত্তি ব্যবহার করে কারা চালাচ্ছেন এই বাণিজ্য? আর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা কী?

অনুসন্ধানে জানা যায়, হুমায়ুন রশীদ চত্বর এলাকায় আহমেদ অ্যান্ড ব্রাদার্স মার্কেটের সামনে ৯টি, মুজিব ম্যানশন মার্কেটের সামনে ৯টি এবং চাঁদ ম্যানশনের সামনে আরও ৯টি দোকান বসানো হয়েছে। সব মিলিয়ে দোকানের সংখ্যা ২৭টি। অভিযোগ রয়েছে, এসব দোকান বসানোর বিপরীতে প্রতিটি দোকান থেকে ১৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত জামানত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিদিন আদায় করা হচ্ছে ২০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া।

দোকানপ্রতি গড়ে ৪০০ টাকা দৈনিক ভাড়া হিসাবে ২৭টি দোকান থেকে প্রতিদিন আদায় হয় ১০ হাজার ৮০০ টাকা। সেই হিসাবে মাসে ৩ লাখ ২৪ হাজার টাকা। সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ ভাড়ার হিসাবে মাসিক আদায়ের পরিমাণ ১ লাখ ৬২ হাজার থেকে ৪ লাখ ৮৬ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। তবে এই অর্থ কারা আদায় করছেন, এর কোনো লিখিত হিসাব রয়েছে কি না এবং অর্থের কোনো অংশ সরকারি কোষাগারে জমা হয় কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

দোকানিদের সঙ্গে কথা বলে দৈনিক ভাড়া আদায়ের তথ্যের সত্যতা পাওয়া গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চা-দোকানি জানান, প্রতিদিন দোকানভাড়া বাবদ ৩০০ টাকা দিতে হয়। দোকান নেওয়ার সময় জামানত দিয়েছেন ১৫ হাজার টাকা।
অন্যদিকে, এক কলা ব্যবসায়ী জানান, প্রতিদিন ২০০ টাকা ভাড়া দিতে হয়। ভাড়া না দিলে সেখানে ব্যবসা করা সম্ভব হয় না। তবে জামানতের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানান।

দোকানিদের এসব বক্তব্য সরকারি সড়কের জায়গায় দোকান বসানো এবং নিয়মিত অর্থ আদায়ের অভিযোগকে আরও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে সরকারি সড়কের জায়গায় এসব দোকান বসিয়ে বাণিজ্য চললেও কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। মাঝেমধ্যে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান পরিচালিত হলেও কিছুদিন পর আবারও ফিরে আসে আগের চিত্র। ফলে সরকারি জায়গা দখল করে ব্যক্তিগতভাবে অর্থ উপার্জনের এই ব্যবস্থা কীভাবে বছরের পর বছর টিকে আছে, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এদিকে সড়কের জায়গায় দোকান বসানোর কারণে পথচারীদের চলাচল ও যানবাহনের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশমুখে এমন স্থাপনা জনদুর্ভোগ বাড়ানোর পাশাপাশি সড়কের শৃঙ্খলা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে।

এ বিষয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাই রাফিন সরকার মুঠোফোনে এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘এটা আমাদের অধীনে না, সওজের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।’

অন্যদিকে, সিলেট সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খায়রুল বাশার মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন মুঠোফোনে বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণ অবৈধ। ডিসি সাহেবের সঙ্গে কথা বলে উচ্ছেদের ব্যবস্থা করব।’ সওজের নির্বাহী প্রকৌশলীর বক্তব্যে দোকানগুলোর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন আরও স্পষ্ট হয়েছে। তবে উচ্ছেদ কবে নাগাদ করা হবে এবং দীর্ঘদিন ধরে কীভাবে এসব দোকান পরিচালিত হচ্ছে, তার কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

সরকারি সড়কের জায়গা কি ব্যক্তিগত বাণিজ্যের উৎস হতে পারে? কার অনুমতিতে এসব দোকান বসানো হয়েছে? দোকানপ্রতি জামানত ও দৈনিক ভাড়া বাবদ আদায় করা অর্থের হিসাব কোথায়? 

এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো অমীমাংসিত। সচেতন মহলের দাবি, হুমায়ুন রশীদ চত্বরের দোকানগুলোর অবস্থান, সড়কের সীমানা, বরাদ্দ বা অনুমোদনের নথি এবং অর্থ আদায়ের বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি সড়কের জায়গা দখলমুক্ত করে জনসাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে হবে।

জনগণের চলাচলের জন্য নির্মিত সরকারি সড়ক যদি ব্যক্তিগত আয়ের উৎসে পরিণত হয়, তাহলে রাষ্ট্রীয় সম্পত্তির সুরক্ষা দেবে কে? হুমায়ুন রশীদ চত্বরের ২৭ দোকানের এই বাণিজ্য এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষায়।



সিলেট এডিশন

প্রকাশক ও সম্পাদক:
কামরুল হাসান জুলহাস

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
রাস্তা সরকারি, বাণিজ্য ব্যক্তিগত—হুমায়ুন রশীদ চত্বরে তেলেসমাতি কারবার! সওজ বলছে অবৈধ
0:00 / 0:00
1x