উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় একটি অগ্নিসংযোগ মামলার তদন্ত ধামাচাপা দিতে তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা নানা কৌশল অবলম্বন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মামলার বাদী ফয়জুল ইসলাম দাবি করেছেন, তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা না দিয়ে উল্টো তাকে হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিশ্বনাথ উপজেলার ৫ নম্বর দৌলতপুর ইউনিয়নের উত্তর সিংড়াওলী গ্রামের মৃত রহমত আলীর ছেলে ফয়জুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও স্থানীয় সন্ত্রাসীদের ভয়ে এলাকায় বসবাস করতে পারছেন না। জীবিকার তাগিদে তিনি ঢাকায় চাকরি করেন এবং পরিবারের সদস্যদেরও গ্রামের বাড়িতে না রেখে সিলেট শহরে শ্বশুর বাড়িতে রাখেন।
ফয়জুল ইসলামের ভাষ্যমতে, গত ৬ নভেম্বর ২০২৫ রাতে মাকে দেখতে নিজ বাড়িতে গেলে রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে ঘুম থেকে উঠে দেখতে পান বাড়ির পাশে থাকা একটি ঘরে আগুন জ্বলছে। তিনি দাবি করেন, ঘটনাস্থল থেকে কাউছার, সামছুদ্দিনসহ কয়েকজনকে দৌড়ে পালিয়ে যেতে দেখেন।
পরে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদের সহায়তায় প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এতে মূল্যবান কাঠসহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি জানান।
ঘটনার পরদিন ফয়জুল ইসলাম লিখিত অভিযোগ নিয়ে বিশ্বনাথ থানায় গেলেও অভিযোগের চার দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যায়নি বলে অভিযোগ করেন। পরে ১২ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে তিনি সিলেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলা নং- ১০/২৫।
মামলাটি আদালত গ্রহণ করে সরেজমিন তদন্ত ও আলামত সংগ্রহ করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য বিশ্বনাথ থানাকে নির্দেশ দেন। তবে মামলার প্রায় সাত মাস অতিবাহিত হলেও এখনও আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন বাদী। এতে মামলার বিচারিক কার্যক্রমও এগোচ্ছে না।
ফয়জুল ইসলাম আরও দাবি করেন, এর আগে ২০১৪ ও ২০১৭ সালেও তার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছিল। সে সময় তিনি ন্যায়বিচার পাননি। তার অভিযোগ, অতীতের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই ২০২৫ সালের ঘটনাটি সংঘটিত হয়েছে।
মামলার এক সাক্ষী আরিফুল নেছার জানান, আগের ঘটনাগুলোর বিষয়ে তিনি অবগত থাকলেও সর্বশেষ অগ্নিসংযোগের ঘটনায় কারা জড়িত ছিলেন, তা নিশ্চিতভাবে বলতে পারবেন না। তবে আগুন লাগার সময় তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন জ্বলতে দেখেছেন।
অপর সাক্ষী ইন্তাজ আলীও জানান, তদন্তকারী কর্মকর্তার সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ হয়নি। তিনি বলেন, “আগুন কে দিয়েছে তা নিশ্চিত করে বলতে পারবো না। তবে ফয়জুলের বাড়িতে এ ধরনের ঘটনা একাধিকবার ঘটেছে।”
বাদীর অভিযোগ, তদন্তকারী কর্মকর্তা দ্বিতীয় সাক্ষীকে থানায় হাজির করা অথবা পুলিশের প্রস্তুত করা কাগজে স্বাক্ষর দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করছেন।ফয়জুল ইসলাম আরো অভিযোগ করেন তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য তার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় মামলাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে তদন্তে বিলম্ব করা হচ্ছে।
এদিকে মামলার আসামিদের পক্ষ থেকেও মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
অভিযোগ এবং প্রতিবেদন জমা না দেওয়ার বিষয়ে জানতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বিশ্বনাথ থানার এসআই জহিরুল ইসলাম এর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, বাদী বাড়ীতে থাকেনা, তাছাড়া এলাকায় তাহার বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ, তাহার মা বলেন সে পাগলামি করে কখন যে কি বলে জানিনা, তিনি আরো বলেন ফয়জুলের সাথে আলাপ হয়েছে, আগামী ১৫ তারিখ তাহার বাড়ীতে স্বাক্ষীদের উপস্থিত রাখার কথা রয়েছে। এরপরই প্রতিবেদন জমা দিবো।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং আদালতে দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন মামলার বাদী ফয়জুল ইসলাম।