উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীত করার দীর্ঘদিনের দাবি আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। যানবাহনের ক্রমবর্ধমান চাপ, নিয়মিত দুর্ঘটনা এবং জনদুর্ভোগ সত্ত্বেও প্রকল্পটির প্রয়োজনীয়তা নেই—এমন যুক্তিতে চার লেন উন্নয়ন প্রস্তাব বাতিল করেছে পরিকল্পনা কমিশন। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়ককে ঘিরে নতুন করে দেখা দিয়েছে হতাশা ও ক্ষোভ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক চার লেনে উন্নীত করার একটি প্রকল্প প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠায়। তবে একই বছরের মধ্যেই কমিশন প্রকল্পটিকে বর্তমান বাস্তবতায় অনুপযোগী উল্লেখ করে ফেরত পাঠায়। কমিশনের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, বিদ্যমান ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও সড়ক কাঠামোর সঙ্গে প্রকল্পটির যথেষ্ট সামঞ্জস্য নেই। তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন—যে সড়কে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে, যেখানে প্রায়ই প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে, সেখানে কীভাবে চার লেন প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করা হয়?
সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মোহাম্মদ আহাদ উল্লাহ জানিয়েছেন, আপাতত পুরো সড়ক চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে না। তবে শহরের ট্রাফিক পয়েন্ট থেকে হাসন তোরণ এবং শান্তিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ কার্যালয় থেকে সদরপুর ব্রিজ পর্যন্ত দুটি অংশে চার লেনের কাজ চলছে। তার ভাষায়, “পরিকল্পনা কমিশন প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়নি। তবে স্থানীয় জনগণের দাবির বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ভবিষ্যতে নতুন সরকারের কাছে পুনরায় বিষয়টি উপস্থাপন করা হবে।”
পরিবহন মালিক, শ্রমিক ও সড়ক নিরাপত্তা কর্মীরা বলছেন, সড়কটির বর্তমান অবস্থা আর যানবাহনের চাপ সামাল দেওয়ার মতো নয়। দুই লেনের এই মহাসড়কে প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে যানজট, বাড়ছে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঝুঁকি।
‘নিরাপদ সড়ক চাই’-এর সাধারণ সম্পাদক আবু হানিফ বলেন, “সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক এখন উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অন্যতম ব্যস্ত রুটে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। চার লেনে উন্নীত করা এখন আর বিলাসিতা নয়, এটি জননিরাপত্তার দাবি।”
একই সুরে কথা বলেছেন সুনামগঞ্জ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নূরুল হক। তিনি বলেন, “এই সড়ক শুধু যাত্রী পরিবহনের জন্য নয়, ব্যবসা-বাণিজ্যেরও গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও নিরাপদ যোগাযোগ নিশ্চিত করতে দ্রুত চার লেন প্রকল্প বাস্তবায়ন জরুরি।”
সচেতন মহলের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় সমীক্ষা, পরিকল্পনা ও রাজনৈতিক অগ্রাধিকারের অভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সুযোগ হারিয়েছে। তাদের মতে, বিগত সরকারের দায়িত্বহীনতা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয়হীনতার কারণেই গুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামো উন্নয়ন উদ্যোগটি আলোর মুখ দেখেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত হলে শুধু দুর্ঘটনা কমবে না, বরং পর্যটন, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আঞ্চলিক অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে হাওরাঞ্চল ও সীমান্তবর্তী এলাকার সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগ আরও সহজ হবে।
যে সড়ককে ঘিরে প্রতিদিন হাজারো মানুষের জীবন-জীবিকা, সেই সড়কের উন্নয়ন প্রকল্প প্রয়োজনীয় নয়—পরিকল্পনা কমিশনের এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে এখন নানা মহলে প্রশ্ন উঠছে। স্থানীয়দের দাবি, দুর্ঘটনায় আরও প্রাণহানি ঘটার আগেই সরকারকে নতুন করে প্রকল্পটি মূল্যায়ন করে দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে।