উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেট নগরীর মাছিমপুর এলাকায় বিএনপির একটি প্রতিবাদ মিছিলে হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার বিচার ও তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী সিলেট সিলেট মহানগর কৃষকদল ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক আলী আরশাদ খান। ঘটনার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং মামলার দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
জানা যায়, ২০২৫ সালের ১১ এপ্রিল রাতে মাছিমপুর এলাকায় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের একটি প্রতিবাদ মিছিলে গুলিবর্ষণ, ককটেল বিস্ফোরণ ও সশস্ত্র হামলার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় দুই দিন পর কোতোয়ালী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। কোতোয়ালি থানার মামলা নং-১৮/২৫। মামলায় ৩৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করা হয়।
মামলায় আসামীরা হলেন:- আবুল কালাম দিপু, শারমিন আক্তার রুমি, আব্দুল হান্নান, মঞ্জু আহমদ, অপি, অমি, রিপা বেগম, সোমাইয়া বেগম,টিপু আহমদ, মারুফ আহমদ অপু, মামুন মিয়া, গিয়াড উদ্দিন, শাহজাহান, সানোয়ার হোসেন মঞ্জু,সায়েক আহমদ, রাজ উদ্দিন রাজ, সালেহ আহমদ,সৈয়দ সুমন, বাবলা, অনিক, ফয়জুল ইসলাম মকু, আব্দুল করিম রাসেল,মোহাম্মদ আলী, অমি, রিমন, জুবেল মিয়া, তপু, মান্না, মহসিন, আবজল, মোজাক্কির আহমদ, মুন্না, নিজামুল মুলক, রাসেল, আব্দুল্লাহ আল মামুন, মো: নাসির উদ্দিন নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৪০/৫০ জন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সিলেট ল’ কলেজের সামনে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ওই রাতে মাছিমপুর এলাকায় একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি সুরমা নদীর উত্তরপাড় এলাকায় পৌঁছালে দুই দিক থেকে ঘিরে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়, হামলাকারীরা আগ্নেয়াস্ত্র, ককটেল ও দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। এতে মিছিলে থাকা নেতাকর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন এবং অন্তত ২৫ জন আহত হন। বাদী আলী আরশাদ খান নিজেও মাথা, চোখ ও পায়ে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন বলে মামলায় উল্লেখ করেছেন।
তবে ঘটনার তদন্ত নিয়ে নানা প্রশ্নও সামনে এসেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় আশপাশে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শী ও ব্যবসায়ীদের বক্তব্য এবং পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে কী ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে, তা এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র বা বিস্ফোরকের কোনো আলামত উদ্ধার হয়েছে কি না, সে বিষয়েও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে মামলার বাদী সিলেট সিলেট মহানগর কৃষকদল ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক আলী আরশাদ খান বলেন, “ঘটনার ১৫ মাস অতিবাহিত হলেও পুলিশ এখনো মূল আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি। মাঝে মাঝে লোক দেখানো অভিযান চালিয়ে দায় শেষ করছে। অথচ এটি সিলেটের বহুল আলোচিত একটি ঘটনা, যা স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছিল।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে চলাফেরা করছে, কিন্তু পুলিশ তাদের খুঁজে পাচ্ছে না। বরং মামলা দায়েরের পর থেকে আমি নিজেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। বিভিন্ন সময়ে মোবাইল ফোনে আমাকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।”
বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মামলার কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। এতে ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে আমি শঙ্কিত।”
ঘটনার তদন্ত ও বিচারিক অগ্রগতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে নানা প্রশ্ন থাকলেও মামলার বাদী দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।