প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩১ মে ২০২৬
সত্য উন্মোচন : রানিয়ার ছয় সন্তান আর বেঁচে নেই
সিলেট এডিশন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক: সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের শাসনামলে নিখোঁজ হওয়া ডেন্টিস্ট ও সাবেক দাবা চ্যাম্পিয়ন রানিয়া আল আব্বাসির ছয় সন্তানের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে সিরিয়ার নিখোঁজদের জন্য তৈরি করা জাতীয় কমিশন ‘এনসিএমপি’। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
শনিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে কমিশন জানায়, দীর্ঘ তদন্ত, তথ্য-যাচাই ও বিভিন্ন সূত্রের বিশ্লেষণের ভিত্তিতে তারা ‘উচ্চমাত্রার পেশাদার নিশ্চয়তা’ নিয়ে বলতে পারছে যে রানিয়া আল-আব্বাসির সন্তানরা আর জীবিত নেই।
২০১৩ সালের মার্চে রাজধানী দামেস্কের নিজ বাড়ি থেকে রানিয়া, তার স্বামী আবদুল রহমান ইয়াসিন এবং তাদের ৩ থেকে ১৫ বছর বয়সী ছয় সন্তানকে সরকারি বাহিনী আটক করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এর পর থেকেই তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। বছরের পর বছর ধরে শিশুদের ভাগ্য অজানা থাকায় তারা সিরিয়ার গুম ও নিখোঁজ হওয়া হাজারো শিশুর প্রতীকে পরিণত হয়েছিল।
রানিয়ার ভাই হাসান আল-আব্বাসি এক ভিডিও বার্তায় জানান, পরিবার অবশেষে কিছু ভিডিও ফুটেজ দেখতে সক্ষম হয়েছে, যা ২০১৩ সালের দামেস্কের কুখ্যাত তাদামন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত প্রধান সন্দেহভাজনের কাছ থেকে পাওয়া যায়। তিনি বলেন, ভিডিওর একপর্যায়ে অন্ধকার একটি কক্ষে কয়েকজন শিশুকে ‘সন্ত্রাসবাদের বড় অর্থদাতা’ বলে অভিযুক্ত করা হচ্ছিল।
তবে রানিয়া আল-আব্বাসী ও তার স্বামী আবদুল রহমান ইয়াসিনের পরিণতি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে অজানা। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার ধারণা, তারাও নিহত হয়েছেন, তবে তাদের মরদেহ এখনো উদ্ধার হয়নি। এদিকে সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তদন্তে এমন প্রমাণ পাওয়া গেছে যা সাবেক আসাদ সরকারের কুখ্যাত কর্মকর্তা আমজাদ ইউসুফকে শিশুদের হত্যার সঙ্গে যুক্ত করে।
আমজাদ ইউসুফ ২০১৩ সালের তাদামন গণহত্যার অন্যতম অভিযুক্ত ব্যক্তি। ২০২২ সালে প্রকাশিত ভিডিওতে তাকে চোখ বাঁধা বন্দিদের গুলি করে হত্যা করতে দেখা যায়, যা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ ও আসাদ পরিবারের দীর্ঘ শাসনামলে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা ৩ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নতুন সরকার গঠনের পর এইসব গুম ও নিখোঁজের ঘটনা তদন্তে বিশেষ কমিশন কাজ করছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক: কামরুল হাসান জুলহাস
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।