প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৭ মে ২০২৬
উজানের ঢল ও টানা বর্ষণে সিলেটে বন্যার শঙ্কা
সিলেট এডিশন ডেস্ক
স্টাফ রিপোর্টার :: ভারতের মেঘালয় রাজ্যে টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও সিলেটে কয়েকদিন ধরে অব্যাহত বর্ষণের কারণে বিভাগের নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। এতে আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সিলেটে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও আবহাওয়া বিভাগ। তবে সম্ভাব্য বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলেও আশ্বস্ত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সিলেট বিভাগে আগামী কয়েকদিন মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে। একই সময়ে ভারতের উজানের মেঘালয়েও ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। ফলে পাহাড়ি ঢল নেমে সিলেটের নদ-নদীগুলোর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
মেঘালয়ের দৈনিক আবহাওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সোহরা (চেরাপুঞ্জি) এলাকায় সর্বোচ্চ ৭২ দশমিক ২ মিলিমিটার, শিলংয়ে ২১ দশমিক ৬ মিলিমিটার এবং বারাপানিতে ১৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মেঘালয়ের সোহরা ও খাসি পাহাড় অঞ্চলের বৃষ্টি সরাসরি সিলেটের নদ-নদীর প্রবাহকে প্রভাবিত করে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল সুরমা, কুশিয়ারা, সারিগোয়াইন, পিয়াইনসহ বিভিন্ন নদীর পানি অল্প সময়ের মধ্যে বাড়িয়ে তোলে, যা আকস্মিক বন্যার পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২৬ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত মেঘালয় ও সিলেট অঞ্চলে বজ্রসহ বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। কোথাও কোথাও ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়ার পাশাপাশি ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট জেলায় সর্বোচ্চ ১১১ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস। এছাড়া হবিগঞ্জে ৮২ মিলিমিটার, সুনামগঞ্জে ৬৫ মিলিমিটার এবং মৌলভীবাজারে ৪৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে বলে জানিয়েছে পাউবো।
মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুর ৩টার সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, সিলেট অঞ্চলের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে পানি ১১ দশমিক ০ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে, যেখানে বিপৎসীমা ১২ দশমিক ৭৫ মিটার। একই নদীর সিলেট পয়েন্টে পানি রয়েছে ৮ দশমিক ৪৭ মিটার, বিপৎসীমা ১০ দশমিক ৮০ মিটার।
কুশিয়ারা নদীর অমলশীদ পয়েন্টে পানি ১২ দশমিক ৬৪ মিটার, শেওলায় ১০ দশমিক ৪৩ মিটার, ফেঞ্চুগঞ্জে ৮ দশমিক ৬১ মিটার এবং শেরপুরে ৭ দশমিক ৪৮ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া সারিগোয়াইন নদীর সারিঘাট, পিয়াইন নদীর জাফলং ও গোয়াইনঘাট পয়েন্টেও পানি বাড়ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উজানের ঢল ও স্থানীয় ভারী বৃষ্টিপাত একসঙ্গে চলতে থাকলে সীমান্তবর্তী নিচু এলাকা, হাওরাঞ্চল ও নদীতীরবর্তী গ্রামগুলোতে জলাবদ্ধতা এবং স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল মুঈদ বলেন, “সিলেটে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকবে। উজান থেকে নেমে আসা পানির কারণে নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণও হতে পারে।”
অন্যদিকে সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ দাস বলেন, “ভারতের উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ি ঢল সিলেট অঞ্চলের নদীগুলোতে এসে পড়ছে। একই সঙ্গে সিলেটেও টানা বৃষ্টি হচ্ছে। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “সম্ভাব্য বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হবে না। পানি দ্রুত নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।”
প্রকাশক ও সম্পাদক: কামরুল হাসান জুলহাস
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।