উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ০৪নং লেঙ্গুড়া ইউনিয়নের নিয়াগুল এলাকায় দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ, পরকীয়া অভিযোগ, তালাক এবং মামলা-পাল্টা মামলাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনায় রোকেয়া বেগম (৬৫) বাদি হয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গোয়াইনঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ থেকে ১১ বছর আগে সৌদি প্রবাসী এবাদুর রহমানের সঙ্গে একই এলাকার রাজিনা বেগমের ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক বিবাহ সম্পন্ন হয়। তাদের সংসারে দুই কন্যা ও এক পুত্র সন্তান রয়েছে। তবে বিয়ের পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ ও অশান্তি লেগেই ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। বাদীপক্ষের দাবি, একপর্যায়ে রাজিনা বেগমের সঙ্গে স্থানীয় যুবক বদরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে পারিবারিক অস্থিরতা আরও তীব্র আকার ধারণ করে। পরবর্তীতে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে রোকিয়া বেগম আদালতে মামলা দায়ের করেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।অভিযোগে আরও বলা হয়, পরবর্তীতে সৌদি প্রবাসী এবাদুর রহমান বিদেশ থেকেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে রাজিনা বেগমকে তালাক প্রদান করেন। তালাকের পর থেকেই উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ আরও বেড়ে যায় এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রোকিয়া বেগম অভিযোগ করেন, তালাকের পর বিবাদীপক্ষ সংঘবদ্ধ হয়ে তার বসতবাড়িতে থাকা বিভিন্ন মালামাল, আসবাবপত্র ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। পাশাপাশি ধারালো অস্ত্র প্রদর্শন করে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ অবস্থায় তিনি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৪৪ ধারায় আবেদন করেন।অন্যদিকে, রাজিনা বেগমও পাল্টা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন বলে জানা গেছে। তিনি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১০৭/১১৭(সি) ধারায় মামলা দায়েরের পাশাপাশি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে পৃথক অভিযোগ দায়ের করেছেন। সর্বশেষ গত ২৩ মে ২০২৬ সকাল আনুমানিক ৮টা ৩০ মিনিটের দিকে নিয়াগুল এলাকায় রোকিয়া বেগমের বসতবাড়িতে নতুন করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময় বিবাদীপক্ষের লোকজন বসতবাড়িতে প্রবেশ করে ঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র জোরপূর্বক নিয়ে যায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে একটি আলমিরা, নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার, কাপড়চোপড়, রান্নার সরঞ্জাম ও গুরুত্বপূর্ণ পারিবারিক নথিপত্র লুটপাটের অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় বাধা দিতে গেলে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদানের অভিযোগও উঠেছে। ঘটনাটি এলাকায় আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান, অভিযোগ টি গ্রহণ করেননি, তিনি বলেন আপনারা কোর্টের অর্ডার নিয়ে আসেন আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব। এ ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিরোধের স্থায়ী সমাধান এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার দাবি জানিয়েছেন।