প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৯ মে ২০২৬
প্রশাসনের নাকের ডগায় ৩ গুদামে অবৈধ বাণিজ্য—দায় নেবে কে?
সিলেট এডিশন ডেস্ক
স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট: সিলেট নগরীর লালদীঘির পাড় এলাকায় অবস্থিত হকার্স মার্কেটের তিনটি গোপন গুদামঘরে ভারতীয় চকলেট, কসমেটিকস ও জিরাসহ বিভিন্ন অবৈধ পণ্য মজুদ ও বাজারজাতের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, “অদৃশ্য কারণে” এসব গুদামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো অভিযান হচ্ছে না, ফলে গুদামগুলো চোরাকারবারিদের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, লালদীঘির পাড়ের নতুন হকার্স মার্কেটের ২ নম্বর গলির ১০ নম্বর দোকান ‘মাদানী এন্টারপ্রাইজ’-এর স্বত্বাধিকারী মো. শরীফ আহমদ এসব গুদাম ভাড়া নিয়ে পণ্য সংরক্ষণ করছেন। তিনি জকিগঞ্জ উপজেলার মাত্রাগ্রামের মো. সিরাজুল ইসলামের ছেলে বলে জানা গেছে। এ কাজে তাকে তার ছোট ভাই তালহা ও দোকানের কর্মচারী তুহিন সহযোগিতা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
হকার্স মার্কেটের ১ম গেট দিয়ে ঢুকে ২য় তলায় ফুলের দোকানের বিপরীত পাশে একটি গুদামঘর। একই লাইনে দুইটি দোকান পর আরেকটি ফুলের দোকানের পাশের গুদামঘর। একই লাইনের সামনের দিকে ময়লা ফেলার স্থানের সামনে অবস্থিত আরেকটি গুদামঘর। এসব গুদামে ভারতীয় চকলেট, কসমেটিকস ও জিরাসহ বিভিন্ন পণ্য সংরক্ষণ করা হয় এবং সেগুলো সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পাঠানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সূত্রের দাবি, স্থানীয় কিছু যুবদল নেতা ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মীদের নেতৃত্বে রাতের আঁধারে এসব পণ্য গুদামে আনা হয়। অভিযোগ রয়েছে, শরীফ আহমদ নিজেকে সিলেট জেলা বিএনপির এক নেতা ও প্রশাসনের এক কর্মকর্তার আত্মীয় পরিচয় দিয়ে প্রভাব খাটাচ্ছেন এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে দাবি করেন যে প্রশাসন তার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বপক্ষে স্বাধীনভাবে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, অবৈধভাবে আমদানি করা পণ্য কমদামে বাজারজাত হওয়ায় বৈধ ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। একই মার্কেটের এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রশাসনকে “ম্যানেজ” করেই এ ব্যবসা চালানো হচ্ছে—এমন ধারণা ব্যবসায়ীদের মধ্যে রয়েছে।
বিষয়টি জানতে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ-এর কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. মাইনুল জাকিরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অভিযুক্ত শরীফ আহমদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
প্রকাশক ও সম্পাদক: কামরুল হাসান জুলহাস
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।