প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৮ মে ২০২৬
জৈন্তাপুরের চোরাই রুটে মানব পাচারের অভিযোগ:ব্যান্ডিজ করিমের বাসায় আটক- ১২
সিলেট এডিশন ডেস্ক
সিলেটের জৈন্তাপুর সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় গরু-মহিষ চোরাচালানের অন্যতম রুট হিসেবে পরিচিত। সন্ধ্যা নামলেই সীমান্ত পেরিয়ে অবাধে দেশে ঢোকে ভারতীয় পশু। স্থানীয়দের অভিযোগ, একই রুট এখন মানব পাচারেও ব্যবহৃত হচ্ছে। সম্প্রতি শিশু সহ ১২ বাংলাদেশি আটকের ঘটনায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
ঘটনাটি ঘটে জৈন্তাপুর সদরের উজানীনগর এলাকায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, চোরাকারবারি করিম আহমদ ওরফে “ব্যান্ডিজ করিম”-এর তিনতলা ভবনের নিচতলার একটি ফ্ল্যাটে কয়েকজন নারী-পুরুষকে রাখা হয়েছিল। খবর পেয়ে স্থানীয় জনতা বাসাটি ঘেরাও করলে পুলিশ গিয়ে এক শিশু সহ ১২ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
আটক ব্যক্তিদের বাড়ি সাতক্ষীরা সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায়। তারা বিভিন্ন সময় কাজের উদ্দেশ্যে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে গিয়েছিল বলে জানা গেছে। পরে দালালের মাধ্যমে জৈন্তাপুর সীমান্ত দিয়ে দেশে ফিরিয়ে আনা হয় তাদের। স্থানীয়দের দাবি, মানব পাচারকারী হানিফ আহমদ সীমান্তের ডিবির হাওর এলাকা ব্যবহার করে এসব লোকজনকে দেশে আনে এবং ব্যান্ডিজ করিম ও তার সহযোগীদের আশ্রয়ে জৈন্তাপুরে রাখে। হানিফের বাড়িও সীমান্তবর্তী এলাকায় বলে জানা গেছে।
জৈন্তাপুর থানার ওসি মাহবুবুর রহমান মোল্লা জানান, আটকরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক এবং অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে দেশে প্রবেশ করেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে বলে তিনি জানান। অভিযোগ অস্বীকার করে আব্দুল্লাহ নামের এক ব্যক্তি বলেন, মানব পাচারের সঙ্গে হানিফ আহমদ জড়িত, তাদের নয়। তার দাবি, হানিফের সঙ্গে বিরোধের জেরে একটি পক্ষ ঘটনাটি প্রকাশ্যে এনেছে। তিনি আরও জানান, করিম আহমদ বর্তমানে চিকিৎসার জন্য ভারতের গৌহাটিতে অবস্থান করছেন।
স্থানীয়দের মতে, জৈন্তাপুরের কয়েকটি সীমান্ত পথ দীর্ঘদিন ধরে চোরাচালান ও অবৈধ পারাপারের জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের অভিযানের মধ্যেও এসব রুট পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। সাম্প্রতিক এ ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় মানব পাচার চক্রের সক্রিয়তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক: কামরুল হাসান জুলহাস
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।