প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৭ মে ২০২৬
মেয়াদ শেষ, চুক্তি নেই, তবুও চলছে বিনোদিনী নগর মাতৃসদন
সিলেট এডিশন ডেস্ক
সিসিকের মৌখিক অনুমতিতে ৫ মাস ধরে ‘অবৈধ’ কার্যক্রম, প্রশ্নে জননিরাপত্তা
হাসান জুলহাস :: সিলেট নগরীর প্রাণকেন্দ্র ধোপাদিঘীর পাড়ে অবস্থিত বিনোদিনী নগর মাতৃসদন কেন্দ্রকে ঘিরে উঠেছে গুরুতর অনিয়ম ও অবৈধ পরিচালনার অভিযোগ| সরকারের স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন আরবান হেলথ সার্ভিস প্রকল্পের এই প্রতিষ্ঠানটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কোনো বৈধ লিখিত চুক্তি ছাড়াই গত প্রায় পাঁচ মাস ধরে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এনজিও ‘সীমান্তিক’| এতে জননিরাপত্তা, সেবার বৈধতা এবং দায়বদ্ধতা নিয়ে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের প্রশ্ন| সুত্রে জানা যায়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের আরবান হেলথ সার্ভিস প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত এ মাতৃসদন কেন্দ্র বাস্তবায়ন করে সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক)|
২০২০ সালের ১ জুলাই টেন্ডারের মাধ্যমে ৫ বছরের জন্য প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনার দায়িত্ব পায় এনজিও সীমান্তিক। সেই চুক্তির মেয়াদ শেষ হয় ২০২৫ সালের ৩০ জুন।
পরবর্তীতে সীমান্তিকের লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে সিসিক সাময়িকভাবে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু সেই সময়সীমাও পেরিয়ে গেলেও নতুন কোনো চুক্তি বা বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই এখনও প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে সিসিক নগর ভবনে যোগাযোগ করা হলে প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন,“এখানে মিথ্যা বলার কিছু নেই। সীমান্তিকের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২৫ সালের ৩০ জুন। পরে তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে কোনো লিখিত ডকুমেন্ট ছাড়া মৌখিকভাবে চলছে।”
তিনি আরও জানান, আগে মাতৃসদনের তিন দিনের প্যাকেজ ছিল ১২ হাজার টাকা, যা বর্তমানে বাড়িয়ে ১৬ হাজার টাকা করা হয়েছে। এছাড়া ওয়ার্ডের বেড ভাড়া দৈনিক ২০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ওষুধের ব্যয়ও রোগীকেই বহন করতে হচ্ছে।
খরচ বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আগে সিটি কর্পোরেশন থেকে মাসিক কিছু খরচ দেওয়া হতো। এখন তা দেওয়া হয় না। তাই ডাক্তার-কর্মচারীদের বেতন দিতে খরচ বাড়ানো হয়েছে।” সিসিক থেকে বর্তমানে কোনো আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয় কি না—এমন প্রশ্নে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “না, সিসিক থেকে এখন কোনো খরচ দেওয়া হয় না।”
এদিকে সীমান্তিকের পরিচালক পারভেজ আলম মুঠোফোনে জানান, “সিসিকের সঙ্গে সমন্বয় করেই আমরা চালাচ্ছি। খরচের অর্ধেক সিসিক দেওয়ার কথা।”
তবে প্রশ্ন উঠেছে—যেখানে সিসিকের সঙ্গে সীমান্তিকের কোনো বৈধ লিখিত চুক্তিই নেই, সেখানে প্রতিষ্ঠানটিতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা, চিকিৎসা জটিলতা কিংবা রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটলে দায় নেবে কে? সীমান্তিক, নাকি সিসিক?
এদিকে সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে থাকা আরবান হেলথ প্রকল্প স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সিসিক প্রশাসক আনুষ্ঠানিকভাবে বিনোদিনী নগর মাতৃসদন কেন্দ্র সিলেটের সিভিল সার্জনের কাছে হস্তান্তর করেন। কিন্তু হস্তান্তরের পরও রবিবার (১৭ মে) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সীমান্তিক এনজিও আগের মতোই কেন্দ্রটির কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
সিলেটের সিভিল সার্জন ডা: নাছির উদ্দিন এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমরা শুধু ভবন বুঝে পেয়েছি ভবনের লজিস্টিক বুঝে পাইনি, এক সপ্তাহের মধ্যেই আশা করি বুঝে পাবো। অবৈধভাবে ৫ মাস যাবৎ চলছে, এবিষয়ে তিনি বলেন কাগজপত্র দেখে অবৈধ হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অবৈধভাবে ৫ মাস যাবৎ চলছে, এবিষয়ে তিনি বলেন কাগজপত্র দেখে অবৈধ হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে| এ ঘটনায় সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে—সরকারি নির্দেশনা ও প্রশাসনিক হস্তান্তরের পরও কীভাবে একটি এনজিও লিখিত অনুমোদন ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছে? আর এই ‘মৌখিক অনুমতি’র আড়ালে চলছে না তো নতুন কোনো অনিয়মের খেল?
প্রকাশক ও সম্পাদক: কামরুল হাসান জুলহাস
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।