প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৫ মে ২০২৬
দৃষ্টিনন্দন বাস টার্মিনালে আছে ভোগান্তি
সিলেট এডিশন ডেস্ক
সিলেট নগরীর কদমতলী এলাকায় পুরনো বাস টার্মিনালের জায়গায়ই সিলেট সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধানে ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে প্রায় ৬৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে দৃষ্টিনন্দন নতুন বাস টার্মিনাল। সিলেটের ঐতিহ্য আসাম টাইপ বাড়ি আর আলী আমজদের ঘড়ি- এই দুই ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার সঙ্গে আধুনিক স্থাপত্যশৈলীর সমন্বয় ঘটিয়ে নির্মিত হয়েছে এ টার্মিনাল। সিলেটের ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মিশেলে নির্মিত অসাধারণ এ স্থাপনা দেশের সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক বাস টার্মিনাল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। কিন্তু আধুনিকতার ছোঁয়া লাগলেও সেই আগের ভোগান্তি থেকে সাধারণ যাত্রী ও পথচারীরা রেহাই পাননি আজও।
টার্মিনালের ভেতরে গাড়ি রাখার সুযোগ সুবিধা থাকলেও অর্ধেক গাড়িই টার্মিনালের বাইরে সড়কের পাশে পার্কিং করে রাখা হয়। এই টার্মিনাল থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতিদিন শত শত গাড়ি চলাচল করে। কিনব্রিজ থেকে কদমতলী বাস টার্মিনাল পর্যন্ত সড়কের দুই পাশ, বিপণি বিতান গুলোর সামনে, রেলস্টেশনের খোলা অংশজুড়ে পার্কিং করে রাখা হয় শত শত বাস। ফলে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত যানজট এখানকার স্বাভাবিক চিত্র। প্রতিদিন হাজার হাজার সাধারণ মানুষ সহ স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা চরম ঝুঁকি ও দুর্ভোগের মধ্যে চলাচল করে থাকেন।
সরেজমিন টার্মিনাল এলাকা ঘুরে দুর্ভোগের নানা চিত্র দেখা গেছে। টার্মিনালের সামন থেকে শুরু করে আশপাশে সড়কের দু’পাশেই সারি সারি বাস রাখা। ঢাকা-সিলেট রুটের বিভিন্ন ধরনের অভিজাত ও সাধারণ বাসের পাশাপাশি কোচ, মিনিবাসসহ নানা আকারের বাসের সারি। ওই এলাকায় যেসব দোকান পাঠের সামনে খোলা জায়গা আছে, সবখানেই বাস রাখা। পাশেই সিলেট রেলস্টেশন। স্টেশনের প্রবেশ পথের দুই পাশেও বড় বড় বাসের সারি। যেখানে সেখানে গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। ছোট ছোট রাস্তা বন্ধ করে ফেলা হয়েছে। একদিক থেকে গাড়ি এলে আরেক দিক দিয়ে যেতে পারছে না। সব খানেই যেন বানিয়ে ফেলা হয়েছে টার্মিনাল।
এব্যাপারে স্থানীয় জনসাধারণ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যেখানে সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে ওয়ার্কশপ। ওয়ার্কশপের গাড়িগুলো রাস্তার পাশে ফেলে রাখা হয়েছে। এমনকি গাড়ি ভেতরে না নিয়ে রাস্তার পাশেই কাজ করা হচ্ছে। টার্মিনালের আশপাশেই রয়েছে মাইক্রোবাস স্ট্যান্ড। এ ছাড়া এলাকাজুড়েই গড়ে তোলা হয়েছে সিএনজি অটোরিকশার স্ট্যান্ড। সব মিলিয়ে পুরো দক্ষিণ সুরমা যেন একটা টার্মিনালে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি হাজার হাজার মানুষ চরম ঝুঁকি ও দুর্ভোগের মধ্যে চলাচল করে।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সিলেট জেলার সভাপতি ময়নুল ইসলামের সাথে কথা বললে তিনি জানান, আমাদের গাড়ীর সংখ্যা ৮শ থেকে ৯শ। আর টার্মিনালের ভেতরে ২৫০ থেকে ৩শ গাড়ী রাখা যায়। বাকি গাড়ীগুলো টার্মিনালের পাশে রাস্তায় রাখতে হয়। টার্মিনালের ভেতরে গাড়ী রাখার জন্য জায়গা বাড়ানোর ব্যাপারে আমরা সিলেট সিটি কর্পোরেশনকে অবগত করে রেখেছি।
প্রকাশক ও সম্পাদক: কামরুল হাসান জুলহাস
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।