প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১১ অক্টোবর ২০২৫
সুনাই নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন আবারও সক্রিয় সিন্ডিকেট..!
সিলেট এডিশন ডেস্ক
স্টাফ রিপোর্টার▪️ সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার সীমান্তবর্তী ভারতের বাইরং ও শান্ত প্রকৃতির সুনাই নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন লুটপাট বানিজ্য চলছে। নদীর পূর্বপাড়ে কোম্পানীগঞ্জ ছনবাড়ী সড়কের নীচ থেকে প্রতিদিন ও রাতে সরকারী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ছনবাড়ী গ্রাম এলাকা থেকে অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকার বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। প্রতিদিন শতাধিক ট্রাক্টর ও ট্রাক,ট্রলি বারকি নৌকা ও স্টিল নৌকা সহ বালুবাহী গাড়ি দিয়ে নদী থেকে বালু পরিবহণ করছে একটি অসাধু সিন্ডিকেট চক্র। যত্রতত্র বালু উত্তোলনের ফলে চলমান সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড সোনাই নদী ব্রিজ, নির্মাণাধীন ছাতক রোপওয়ে কোম্পানী হুমকির মুখে পড়বে বলে সচেতন মহল মনে করছে।সেই সাথে নদীর তীরবর্তী গ্রামের মানুষের বসতভিটা ও আবাদি জমি ছনবাড়ী সড়ক ভাঙনের সম্মুখীন হয়ে পড়বে। প্রশাসনের লোকজন দেখেও না দেখার ভান করে থাকায় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সরেজমিনে ছাতকের নোয়াকুট বর্ডারগার্ড (বিজিবি) ক্যাম্পের সামনে ও পূর্বপাড় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ছনবাড়ী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়,অবস্থা অনেকটা মগের মুল্লুকের মতো। নিজের ইচ্ছা মতো বালু উত্তোলন করছে।
অসহায় সচেতন গ্রামবাসী কিন্তু কারও যেন কিছু বলার নেই। আরও জানাযায় এই লীজ বহির্ভূত বালু উত্তোলনের মাধ্যমে একদল মানুষ অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকা কামাচ্ছে, আর অন্যদিকে সরকারের কয়েকশ কোটি টাকার উন্নয়ন সেচ প্রকল্প রাবার ডাম্প,সুনাই নদী ব্রীজ,
নদীর তীরে বসবাসকারী স্কুল, মাদ্রাসা,বাজার,
হুমকির মুখে পড়ছে। ছাতকের নোয়াকুট বিজিবি ক্যাম্পের সামনে থাকা বালুর স্টক কার দেখে জানতে চাইলে কেউ মুখ খোলেনি উল্টো বলে বিজিবিকে জিজ্ঞেস করুন। বিজিবির ভুমিকা ও রহস্যময়..! এদিক ড্রেজার ও ভেকু দিয়ে যত্রতত্রভাবে বালু উত্তোলন করলে নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয় এবং নদীর পাড় ভেঙে যায়। অর্থাৎ নদী থেকে বালু উত্তোলনের ফলে প্রকৃতিরও ভারসাম্যের ক্ষতি হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, গুটিকয়েক লোকের স্বার্থসিদ্ধির জন্য এভাবে সর্বনাশ মেনে নেওয়া যায় না। এ ক্ষতি রোধ করতে হবে। তাদের দাবি, অবিলম্বে এই অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করে দোষী ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। প্রশাসনের কেউ এই চক্রের সঙ্গে জড়িত থেকে সুযোগ-সুবিধা নিচ্ছে কি না, সেটা তদন্ত করে বের করতে হবে। সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়। ছাতকের ইসলামপুর ইউনিয়ন পতিত আওয়ামীলীগের নেতা আব্দুল জব্বার খোকন,
সাইফুল ইসলাম, মনিরুজ্জামান(সান্ডুল) কামরুল ইসলাম,আছদ্দর আলী,সাইদ আলম,আবুল বশর,কালা মিয়া, জালিয়ারপাড় গ্রামের ইসমাইল আলী, ইয়াকুব আলী,বৈশাকান্দির রফিক মিয়া,কামরুজ্জামান,
ছনবাড়ী গ্রামের মখলিছ আলী,মুক্তার আলী, মাছুম মিয়া,গাংপাড় নোয়াকুটের মখলিছ, জাহাঙ্গীর, ছৈয়দুর, ইকবালের নেতৃত্ব একটি চক্র সুনাই নদীতে অবৈধভাবে শ্রমিক দিয়ে অবাধে বালু তুলে কোটি টাকার অবৈধ ব্যবসা করছেন। আর এই বালু উত্তোলনে তারা সরকারের কাছ থেকে কোনো অনুমতিও লীজ নেননি। অবাধে এই বালু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট চক্রটি দীর্ঘদিন যাবত নদী থেকে প্রতিদিন বালু তুলছে। এসব বালু বিক্রি করছে বিভিন্ন এলাকায়। বালু তোলার ফলে ছনবাড়ী সড়কের জলাবদ্ধতার সৃষ্টি ও নদী ভাঙনের হুমকির মুখে পড়বে। এবং এভাবে বালু তোলা অব্যাহত থাকলে ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।ও প্রতিদিন (ট্রাক্টর) ও ট্রাকে করে অবৈধভাবে বালু পরিবহনের কারণে রাস্তার মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। সেই সাথে নদী তীরবর্তী এলাকার লোকজনের জমি দখল করে ট্রাক গাড়ি দিয়ে বালু উত্তোলন এর অভিযোগও রয়েছে। বালু ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা সবাই প্রভাবশালী বলে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন তাদের বিরুদ্ধে কোথাও কোনো অভিযোগ দিতেও সাহস পাচ্ছেন না। দিন রাতে শতাধিক বালুবাহী গাড়ি দিয়ে নদী থেকে বালু পরিবহন করা হচ্ছে।
এলাকাবাসী জানান,একটি স্থান থেকে প্রতিদিন বালু বিক্রি হয় লক্ষাধিক টাকার। এ হিসেবে শুধুমাত্র বাইরং ও সুনাই নদী থেকে ৭ মাস বালুর ব্যবসা চললে বছরে দুই কোটি টাকার উপরে বালু বিক্রি করে এই সিন্ডিকেট চক্রটি। এমনকি তারা ছাতক থানার ও কোম্পানীগঞ্জ থানার পুলিশকে ম্যানেজ করে আবারও এই বালুর ব্যবসা চালু করেছে অভিযোগ ওঠেছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, নোয়াকুট ও ছনবাড়ী সড়কে অন্তত ৮টি স্থানে প্রভাবশালী বালুখেকো সিন্ডিকেট প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ চাঁদা দিয়ে বালুর ব্যবসা চালাচ্ছে চক্রটি ও প্রতিরাতে বিভিন্ন অংকের চাঁদা তুলছেন। এছাড়াও পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন, কিছু (বখরাদার) সাংবাদিকসহ নোয়াকুট ও ছনবাড়ী বাইরং-সুনাই নদীতে গিয়ে বালু উত্তোলনকারী সিন্ডিকেটের কাছ থেকে চাঁদা নিয়ে আসার তথ্য পাওয়া গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয়রা বলেন, এই বালু লুটপাট সিন্ডিকেট চক্র কাঁচা টাকার বিনিময়ে অনেক নিরীহ মানুষের নামে নিউজ পোর্টাল পত্র পত্রিকায় নিউজ প্রকাশ করে ও ক্ষান্ত নন। আর কোনোভাবেই বন্ধ হচ্ছে না এই বালু উত্তোলন।
এবিষয়ে ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি সফিকুল ইসলাম খান বলেন লিজ বহির্ভূত সুনাই নদী থেকে অবৈধভাবে যারা বালু উত্তোলন করছে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি রতন শেখ এর বক্তব্য যানতে চাইলে তিনি বলেন আমি কোম্পানীগঞ্জ থানায় নতুন যোগদান করেছি। তবে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রকাশক ও সম্পাদক: কামরুল হাসান জুলহাস
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।