প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৮ মে ২০২৬
হাওড়পাড়ের কৃষকদের চোখে-মুখে চরম দুঃশ্চিন্তা আর হাহাকার
সিলেট এডিশন ডেস্ক
আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ পরেই ঈদুল আযহা। চারদিকে যখন উৎসবের আমেজ থাকার কথা, ঠিক তখনই হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার হাওড়পাড়ের কৃষকদের চোখে-মুখে চরম দুঃশ্চিন্তা আর হাহাকারের ছাপ। গত কয়েক সপ্তাহের টানা বৃষ্টিপাত ও আগাম বন্যায় তলিয়ে গেছে হাজারো কৃষকের সারা বছরের সম্বল সোনালী বোরো ধান। মাঠের ফসল ঘরে তোলার আগেই পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় ম্লান হয়ে গেছে শত শত পরিবারের ঈদের আনন্দ।
উপজেলার জলসুখা ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া গ্রামের কৃষক খালেদ মিয়া (৫০)। চলতি মৌসুমে অনেক আশা নিয়ে মেঘার চর বন্দে ৭ হাজার টাকা দরে ইজারা নিয়ে ৬ বিঘা জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছিলেন। কয়েক দিন আগেও তার মাঠজুড়ে ছিল সোনালী ধানের সমারোহ। স্বপ্ন ছিল, ধান বিক্রি করে সন্তানদের নতুন পোশাক কিনে দেবেন, ঈদের দিনে ঘরে ফিরনি-পায়েসের ঘ্রাণ ছুটবে। কিন্তু উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢল আর বৃষ্টির পানিতে চোখের সামনেই তলিয়ে গেছে তার স্বপ্নের ফসল।
খালেদ মিয়া আর্তনাদ করে বলেন, “ঋণ কইরা ক্ষেত করছিলাম। ভাবছিলাম ধান তুইলা ঋণ দিমো, আর স্বপ্ন আছিল ধান বেইচ্যা পোলাপানরে ঈদের কাপড় দিমু, ঘরে পিঠা-পায়েস অইবো। অখন (এখন) ঈদের আনন্দ তো দূরের কথা, সামনের দিনগুলোতে পরিবার নিয়া কী খাইয়া বাঁচমু হেই চিন্তায় চোখে ঘুম নাই।”
শুধু খালেদ মিয়াই নন, উৎসবের ঠিক আগমুহূর্তে এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় হাওড়পাড়ের জনপদকে এক বিষন্ন চাদরে ঢেকে দিয়েছে। যেখানে হাসিখুশি আনন্দ থাকার কথা ছিল, সেখানে এখন শত শত কৃষকের কেবলই হাহাকার আর দীর্ঘশ্বাস।
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় মোট ১৪ হাজার ৫৬০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ১ হাজার ৪৮০ হেক্টর জমির ধান সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে। কৃষি বিভাগের হিসাবমতে, হাওড়ে তলিয়ে যাওয়া এই ধানের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ কোটি টাকা।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা বলছেন, স্থানীয় কৃষি বিভাগ ও প্রশাসন ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ শুরু করলেও তাদের দরকার জরুরি সরকারি সহায়তা ও কৃষি ঋণ মওকুফ। তা না হলে তাদের ঘুরে দাড়ানো কঠিণ হয়ে পড়বে।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন হাওড় ঘুরে দেখা যায়, পচে যাওয়া ধানের গন্ধে বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। অনেক কৃষক বুক সমান পানিতে নেমে আধা-পাকা ধান কাটার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। কিন্তু সেই ধান গবাদি পশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহারেরও অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
সদর ইউনিয়নের কৃষক উছমান মিয়া জানান, ‘প্রায় দেড়শ বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করেছিলেন তিনি। মাত্র কুড়ি বিঘা ধান কাটার পরই বানের পানিতে তার ৮০ বিঘা জমি পানির নীচে তলিয়ে যায়৷ শ্রমিক সংকট আর বৈরী আবহাওয়ার কারনে আর ধান কাটতে পারেননি তিনি।’
প্রকাশক ও সম্পাদক: কামরুল হাসান জুলহাস
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।