প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৬ মে ২০২৬
সড়ক ও গার্ডওয়ালে ধস, দূর্ভোগে সাধারণ মানুষ
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার হামরকোনা গ্রামের কাছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি সড়ক ও পার্শ্ববর্তী গাড ওয়াল ধসে পড়েছে| স্থানীয়দের অভিযোগ ঠিকাদার অপরিকল্পিত ও নিম্নমানের কাজ করার ফলে অল্প দিনের ব্যবধানে রাস্তাটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে| এতে স্থানীয় জনসাধারণ ও শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন|
অন্যদিকে বর্ষার মৌসুম আসায় অতিবৃষ্টি ও ঢলের পানির তীব্র স্রোতে সড়কটি ভেঙে গেলে বন্যাকবলিত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন আশপাশ গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ|
সওজ ও স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, সিলেট-ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়কের পুরাতন অংশ কুশিয়ারা নদীর বদ্ধ ফিশারির তীরঘেঁষে হামরকোনা ও দাউদপুর গ্রামের মধ্য দিয়ে চলে গিয়ে বর্তমান মহাসড়কের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে| ১৯৭৭ সালে রাস্তাটি বানের পানির তীব্র স্রোতের চাপে ভেঙে যায়| তখন প্রায় এক কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিম দিকে ব্রাহ্মণগ্রাম পয়েন্ট থেকে সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক ঘুরিয়ে নেওয়া হয়|
পরে সওজের রাস্তার পুরাতন অংশ মেরামত করে দেয়| ফলে হামরকোনা, দাউদপুর, নাদামপুর, শেখহাটি, ব্রাহ্মণগ্রাম, মোবারকপুরসহ আরও কয়েকটি গ্রামের মানুষ রাস্তা দিয়ে চলাচল করেন| এরপর থেকে ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে একাধিকবার রাস্তাটিতে মাটি ভরাট ও ইট সলিংয়ের উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়| কিন্তু প্রতি বছর বর্ষা এলেই স্রোতের দাপটে সড়কে ভাঙন দেখা দেয়| এতে বানকবলিত হতেন স্থানীয়রা|
পরবর্তী সময়ে ভুক্তভোগী মানুষের আবেদনে গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দু’দফা সওজ বিভাগ সড়কটি সংস্কার, নদী অংশে বল্লী দেওয়া ও গার্ডওয়াল নির্মাণে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়| দুই কিস্তিতে সওজ টাকা বরাদ্দ দেয় ৯০ লাখ ও এক কোটি ২৭ লাখ টাকা| সে সময় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ নেতার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যেনতেনভাবে কাজ করে বিল উঠিয়ে নেয়| তখন ¯ে^চ্ছাসেবক লীগের এক স্থানীয় নেতা মোবাইলে লাইভ করে নিম্নমানের কাজের ফিরিস্তি দেন| এ খবর পেয়ে তৎকালীন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হুমকি দিয়ে সেই পোস্ট সরাতে বাধ্য করেন|
ভুক্তভোগী হামরকোনা গ্রামের প্রবাসে থাকা রুবেল আহমদ জানান, গত বছর বর্ষার সময় সড়কের সংস্কারকাজ ও গার্ড ওয়াল নির্মাণের এক বছর না যেতেই ধসে পড়তে শুরু করে| তখন ব্যক্তিগত অর্থায়নে তিনি বাঁশ পুঁতে ধস ঠেকাতে চেষ্টা করেন| এ বছর ফের অতিবৃষ্টি শুরু হলে ফুঁসে ওঠে বদ্ধ ফিশারি| ধসে পড়ে গার্ডওয়াল ও পাকা সড়ক| এ সময় নদীভাঙনে মানুষের মাঝে বন্যা আতঙ্ক বিরাজ করে| পানি কিছু নেমে গেলেও সড়ক ধসে পড়া থামছে না| সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য ও দাউদপুর গ্রামের অধিবাসী আবুল হোসেন জানান, এই উন্নয়ন কার্যক্রম যখন সম্পন্ন হয় তখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন ছিল| ঠিকাদার ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা|
মৌলভীবাজার সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কায়সার হামিদ বলেন, বিভিন্ন ধাপে হামরকোনা-দাউদপুর অংশের উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে| সড়কের পাশ অনেক গভীর হওয়ায় গার্ডওয়াল ও পাকা সড়কের অংশ বিশেষ ধসে পড়েছে| পাউবোর সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে|
প্রকাশক ও সম্পাদক: কামরুল হাসান জুলহাস
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।