প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৪ মে ২০২৬
আমি বাইচ্ছা থাকমু কিলা আমারে বিষ আইন্না দে
সিলেট এডিশন ডেস্ক
সিলেটে দুর্ঘটনায় নিহত ২ পুত্র
সিলেট সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৮ শ্রমিকের দুইজন বিশম্ভরপুর উপজেলার মুক্তিখলা গ্রামের দিনমজুর গফ্ফার মিয়ার ছেলে। গফ্ফার মিয়ার তিন ছেলে ও এক মেয়ে। ছোট ছেলে আলা উদ্দিন পাঁচ বছর আগে কুকুরের কামড়ে মারা গেছে। রবিবার সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেলো- অন্য দুই ছেলে আজির উদ্দিন (৩০) ও আমির উদ্দিন (২৮)। এই ঘটনায় পুত্রহীন হলেন গফ্ফার মিয়া। বিকালে দুর্ঘটনার খবর পাবার পর থেকে গফ্ফার মিয়া বার বার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। জ্ঞান ফিরলেই বলছিলেন, ‘আমি আর বাইচ্ছা থাকমু কিলা, আমারে বিষ আইন্না দেয়’। গফ্ফার মিয়ার চার সন্তানের অপর সন্তান রাজমিনা বেগম বাক প্রতিবন্ধী। রাজমিনাকে বিয়ে দিলেও এক সন্তান হবার পর স্বামী তাঁকে তালাক দিয়েছে। রাজমিনা সন্তানসহ বাবার সংসারেই আছে।
বিশম্ভরপুর উপজেলা সদরের পাশেই মুক্তিখলা গ্রাম। এই গ্রামের বসতবাড়ির সবচাইতে ভাঙাচোড়া আব্দুল গফ্ফারের ঘর। কোন রকমে ছোট্ট ঘরে অসুস্থ্য স্ত্রী শামছুন্নাহার, দুই পুত্র, পুত্রবধু, নাতি-নাতনি ও কন্যা নিয়ে মাথাগোঁজে থাকেন আব্দুল গফ্ফার। নিহত আজির উদ্দিনের দুই থেকে পাঁচ বছর বয়সি তিন সন্তান। আমির উদ্দিনকে এবার বিয়ে করানোর ইচ্ছে ছিল আব্দুল গফ্ফারের।
নিহত আজির ও আমিরের চাচাতো ভাই মুনসুর আলী বললেন, এলাকায় কাজ করলে টাকা পয়সা তেমন পাওয়া যায় না। আমার চাচী শামছুন্নাহার অসুস্থ, তার চিকিৎসায় খরচ লাগে। এবার হাওরের ধানও ডুবে গেছে। এজন্য তারা দুই ভাইই ঠিকাদারের সঙ্গে ঢালাইয়ের কাজ করতে সিলেটে যায়। বিকালে দুইজনের মারা যাবার সংবাদ পাবার পর চাচা ও চাচীর অবস্থা কী হয়েছে, সামনে না থাকলে বুঝা যাবে না। মুনসুর আলী বললেন, তাদের কী বলে শান্ত্বনা দেব, ভাষা আমাদের জানা নেই ভাই।
অন্যদিকে একই দুর্ঘটনায় নিহত দিরাইয়ের ফরিদুল ইসলামের (৩৫) স্বজনদের আহাজারিতে গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ফরিদুল ইসলাম দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া ইউনিয়নের নূর নগর গ্রামের নূর সালামের ছেলে। নিহত ফরিদুলের তিন সন্তান নাহিদ (১১), হামিদ (৯) ও নাইমা (৭) এর এখন কী হবে প্রশ্ন করে একই গ্রামের প্রতিবেশী ইউপি সদস্য শামছুল ইসলাম বললেন, এই দিনমজুরের পাশে সরকার দাঁড়াবে এটাই আশাকরি আমরা।
একই উপজেলার আরেক ৬০ বছর বয়সী শ্রমিক নুরুজ আলী ঋণের যন্ত্রণায় এলাকা ছেড়েছেন জানালেন এলাকার বিএনপি নেতা রজব আলী। তিনি বললেন, নুরুজ আলী মুলত বর্গাচাষী। তার দুই মেয়ে বিয়ে দিয়েছেন। তিন ছেলেকে নিয়ে পাওনাদারের যন্ত্রণায় এলাকা ছেড়েছেন নুরুজ। কৃষি কাজ করে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন নুরুজ আলী। এই উপজেলার আরও দুই নির্মাণ শ্রমিক রাজা মিয়া ও আফরুজ মিয়া গুরুতর আহত হয়েছেন এই দুর্ঘটনায়।
প্রকাশক ও সম্পাদক: কামরুল হাসান জুলহাস
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।