প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৯ অক্টোবর ২০২৫
সিলেটের উত্তর সুরমায় জুয়ার রাজ্যে বেপরোয়া তিন কুতুব সাইফুল,শরীফ ও কামাল
সিলেট এডিশন ডেস্ক
নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেটের নবাগত পুলিশ কমিশনার যখন জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে জিরটলারেন্স নীতি ঘোষনা করেছেন তখন ফাঁড়ি পুলিশের কিছু দূর্ণীতিবাজ কর্মকর্তার সহযোগিতায় উত্তর সুরমায় চলছে তিন কুতুবের বেপরোয়া রামরাজত্ব।
৩ (তিন) কুতুবের একজন সিলেটের অন্যতম আলোচিত জুয়াড়ী ফায়কুল ইসলাম ওরফে সাইফুল।তিনি নগরীর সোবহানীঘাট কাঁচাবাজারের পিছনের গলিতে দিনে রাতে জান্ডুমুন্ড, শীলংতীর নামক অনলাইন জুয়ার রমরমা প্রতারণা করে যাচ্ছেন। তাহার এই প্রতারণাকে সহযোগিতা করছে সোবহানীঘাট ফাঁড়ি পুলিশের আইসি এসআই আবুবকর সিদ্দিকী ও দূর্ণীতিবাজ টু আইসি এস আই দীপরাজ। সাইফুলের জুয়ার বোর্ড থেকে সোবহানীঘাট ফাঁড়ি পুলিশকে সপ্তাহে ৭ হাজার টাকা দেওয়া হয় বলে বিশ্বস্থ একটি সুত্র নিশ্চিত করেছে। এছাড়াও মহৎ পেশা সাংবাদিকতার পরিচয়ে কিছু হলুদ সাংবাদিক এবং রাজনৈতিক চাঁদাবাজরা বখরার বিনিময়ে জুয়ার অপকর্ম পরিচালনা করতে উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছে।
আরেকজন জুয়ারী শরীফ সে নগরীর অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক কেন্দ্র কালীঘাট বস্তাপট্টিতে মেইন রোডের সাথে একটি বিল্ডিংয়ের ছাদে অবৈধ জুয়ার প্রতারণা দেদারসে চালিয়ে যাচ্ছে। শরীফ মহানগর যুবদল নেতার পরিচয়ে দীর্ঘদিন থেকে এই অপকর্ম করলেও থেকেছেন ধধরাছোঁয়ার বাহিরে। তিনিও বন্দরবাজার ফাঁড়ি পুলিশের আইসি এসআই মিজান এর সহযোগিতায় জুয়ার প্রতারণা চালিয়ে প্রতিদিন লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। শরীফের বোর্ড থেকে বন্দরবাজার ফাঁড়ি পুলিশের নামে সপ্তাহে ৫ হাজার টাকা আদায় হচ্ছে। সেখানেও বখরা পায় জাতির বিবেক হিসেবে পরিচিত হলুদ সাংবাদিকরা
আরেকজন সোবহানীঘাট পুলিশ ফাঁড়ির নাকের ডগায় পূর্ব উত্তর কর্ণারে যতরপুর রোডে কালভার্ট সংলগ্ব দোকানে বসে কামাল নামের এক জুয়ারী আরেকটি শীলংতীর নামক অনলাইন জুয়ার রমরমা ব্যবসা করছে। জুয়ারী কামাল সোবহানীঘাট ফাঁড়ি পুলিশকে সপ্তাহে ৭ হাজার টাকা দিচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে।
সোবহানীঘাট ফাঁড়ি পুলিশের অধীনস্থ কাঁচাবাজারের পিছনে রামকৃষ্ণ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সম্মূখ থেকে চালিবন্দর রাস্তা পর্যন্ত হেটে হেটে রাজু নামের এক জুয়ারী মোবাইলের মাধ্যমে শীলংতীর নামক জুয়ার টাকা সংগ্রহ করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। জুয়ারী রাজুর কাছ থেকে সপ্তাহে ১ হাজার ২ শত টাকা ফাঁড়ির নামে আদায় করা হচ্ছে।
এসব জুয়ার বোর্ড থেকে ডিবি'র সোর্স পরিচয়ে সানী নামের এক ব্যক্তি সাপ্তাহিক বখরা আদায় করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ফলে একদিকে যেমন পুলিশ কমিশনারের মহত উদ্যোগ ও নির্দেশ বাস্তবায়ন হচ্ছেনা। অন্যদিকে খেটে খাওয়া সাধরণ মানুষ প্রতারণার শিকার হয়ে খালিহাতে বাসায় ফিরছে। যার কারণে পরিবারে ঝগড়া বিবাদ সৃষ্টি বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে। পরিবারের বিশৃঙ্খলা কমাতে সাধারণ জুয়ারীরা জড়িয়ে পড়ছে চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ মূলক কর্মকান্ডে।
এব্যাপারে জানতে সোবহানীঘাট ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ এস আই আবুবক্কর সিদ্দিকীর মুঠোফোনে যোগাযোগ করে কাঁচাবাজারে সাইফুল ও কামালের জুয়ার বোর্ড সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি "সিলেট এডিশন"কে বলেন বিষয়টি আমার জানা নেই, তবে এখনই অভিষান দিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি।
শরীফ জুয়ার ব্যাপারে জানতে ববন্দরবাজার ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ এস আই মিজানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তাহার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কিন্তু সচেতন মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, এসব জুয়ার বোর্ড ও জুয়াড়ীদের বিরুদ্ধে এ্যাকশনে যেতে পুলিশের পাশা-পাশি যৌথবাহিনীর হহস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
প্রকাশক ও সম্পাদক: কামরুল হাসান জুলহাস
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।