প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৪ মে ২০২৬
কোম্পানীগঞ্জে ম্যাজিস্ট্রেটের উপর হামলা আহত ৪
মনোয়ার পারভেজ, কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি:
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে অবৈধ বালু উত্তোলন ঠেকাতে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ম্যাজিস্ট্রেটের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে । হামলাকারীদের ইটপাটকেলের আঘাতে উপজেলা প্রশাসনের চার কর্মচারী আহত হয়েছেন। গতকাল রোববার রাত আটটার দিকে উপজেলার ধলাই ব্রিজের নিচে এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশের সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বালু লুট ও হামলার ঘটনায় উপজেলা তাতীদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সহ চার জনকে আটক করে ১ বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন কোম্পানীগঞ্জের কলাবাড়ী এলাকার মো. তেরা মিয়া (৫৫), দক্ষিণ কলাবাড়ীর মো. মাসুক (৪৫), উত্তর কলাবাড়ীর মো. গিয়াস (৩০) ও পারুয়া মাঝপাড়া এলাকার মো. মিসছবাহ উদ্দিন (২০)। অভিযান সূত্রে জানা গেছে, ধলাই ব্রিজের নিচে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রবিন মিয়ার নেতৃত্বে এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলাশ তালুকদারসহ প্রশাসনের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত একটি ট্রাক্টর জব্দ করা হয়।
ট্রাক্টরের মালিক ও সেতুর নিচ থেকে সংঘবদ্ধ বালুপাথর লুটপাটকারী ২০০ থেকে ৩০০ লোক একত্র হয়ে আভিযানিক দলের উপর হামলা চালায়। এতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর গাড়ি চালক নাসিম, উপজেলা প্রশাসনের সেচ্ছাসেবী মঈন উদ্দিন, তারেক, নাজিম ও আমান মিয়া আহত হোন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও কিছুটা আঘাতপ্রাপ্ত হোন। পরে মোবাইল কোর্টে থাকা আনসার সদস্য চার রাউন্ড গুলি ছোড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এসময় আভিযানিক দল ৬ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন। এদের মধ্যে একজন পথচারী ও একজন সেলুনের কর্মচারী থাকায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। চারজনকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক সাজা দেওয়া হয়।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, আটক চারজনের মধ্যে ৩ জন উপজেলা তাতীদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। অন্যজন বালুপাথর উত্তোলনের শ্রমিক। আটককৃতরা হলেন উপজেলা তাতীদলের যুগ্ম আহ্বায়ক তাজ উদ্দিন ও মাসুক মিয়া এবং সদস্য গিয়াস উদ্দিন। তাদের বাড়ি উত্তর কলাবাড়ি গ্রামে। আর শ্রমিক মিসবাহ উদ্দিনের বাড়ি পাড়ুয়া গ্রামে। তাদের প্রত্যেককে ১ বছর করে জেল দেওয়া হয়েছে। এদিকে রাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আহতদের মধ্যে মঈন উদ্দিনের হাতে ফ্র্যাকচার ধরা পড়ায় তার হাতে ব্যান্ডেজ দেওয়া হয়েছে।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলাশ তালুকদার জানান ধলাই সেতু রক্ষায় সন্ধ্যার সময় সেতুর পিলারের নিচ থেকে বালুপাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করার জন্য আমরা নদীপথে সেখানে যাই। এসময় বেশ কয়েকটি ট্রাক্টর সেখানে বালুপাথর লোড করছিল। আমাদের নৌকা দেখার সাথে সাথে কয়েকটি ট্রাক্টর পালিয়ে যায়। আমরা সেতুর নিচে নৌকা থেকে নামা মাত্র আমাদের উপর শতাধিক মানুষ হামলা চালায়। এসময় আমাদের ৫ জন আহত হোন। তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৪ রাউন্ড গুলি ছুঁড়েন আনসার সদস্য।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) সুজন চন্দ্র জানান আটক ৪ জনকে কোর্টে পাঠানো হয়েছে। তবে হামলার ঘটনায় মামলার বিষয়ে ইউএনও মহোদয় এখনো আমাদের কিছু জানাননি।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিন মিয়া জানান, ঘটনার সাথে জড়িত ৪ জনকে আটক করে এক বছরের জেল দেওয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া হামলার বিষয়ে নিয়মিত মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক: কামরুল হাসান জুলহাস
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।