প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৩ মে ২০২৬
জাফলংয়ে আতঙ্কের ছায়া: হত্যা মামলার আসামি মামুন পারভেজ প্রকাশ্যে, প্রশ্নের মুখে প্রশাসন
সিলেট এডিশন ডেস্ক
নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেটের সীমান্তবর্তী পর্যটন এলাকা জাফলং—প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত এই অঞ্চলে এখন ভর করেছে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা। ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের শাসনের অবসান ঘটলেও, স্থানীয়দের দাবি—জাফলংয়ের বাস্তব চিত্র এখনো বদলায়নি। বিশেষ করে ২নং পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নে একাধিক হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ও আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা মামুন পারভেজের প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নাকের ডগায় মামুন পারভেজ প্রকাশ্যে চলাফেরা করলেও তাকে গ্রেফতারে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই। বিষয়টি নিয়ে সুশীল সমাজ ও সাধারণ জনগণের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের প্রশ্ন—একাধিক গুরুতর মামলার আসামি কীভাবে প্রকাশ্যে দাপট দেখিয়ে বেড়ায়?
অনুসন্ধানে জানা যায়, সাবেক এক প্রভাবশালী এমপির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত মামুন পারভেজ আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রভাব খাটিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদ দখল করেন। চেয়ারম্যান হওয়ার পর ইউনিয়ন পরিষদকে তিনি ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র দাবি করে, ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করতেন, যেখানে মাদক ব্যবসা ও চোরাচালান সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালিত হতো। এছাড়া জাফলং সীমান্তের পাথর ও বালু মহাল, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পসহ বিভিন্ন খাত থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অল্প সময়েই তিনি বিপুল সম্পদের মালিক বনে গেছেন বলেও দাবি স্থানীয়দের।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গুম ও হত্যার অভিযোগে মামুন পারভেজের বিরুদ্ধে ৩০ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে সিলেট কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয় (মামলা নম্বর: ৫০/৫৮৭)। এছাড়া গোয়াইনঘাট থানায় তার বিরুদ্ধে আরও একটি হত্যা মামলা রয়েছে (জিআর ১৯১/২৪)।
গুরুতর এসব মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হওয়া সত্ত্বেও তাকে গ্রেফতার না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা।
অভিযোগ রয়েছে, জুলাই আন্দোলনের সময় সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলায় নেতৃত্ব দেন মামুন পারভেজ। কোতোয়ালি ও শাহপরাণসহ বিভিন্ন এলাকায় তার নেতৃত্বে সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।
৫ই আগস্টের পর কিছুদিন আত্মগোপনে থাকলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করলে তিনি আবার এলাকায় ফিরে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ।
এ বিষয়ে সিলেটের পুলিশ সুপার (এসপি) জানান,
“আসামি যত প্রভাবশালীই হোক, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। তার অবস্থান সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলেই গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।”
জাফলংয়ের সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরাজ করছে চরম উদ্বেগ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন,
“সরকার পরিবর্তন হয়েছে শুনি, কিন্তু আমাদের এলাকায় এখনো মামুনের দাপট। সে প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করলে আমরা নিরাপদ থাকব কীভাবে?”
স্থানীয় সচেতন মহল, ছাত্র-জনতা ও ব্যবসায়ীরা দ্রুত মামুন পারভেজকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান বন্ধ ও শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এটি জরুরি।
জাফলংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন ও সীমান্ত অঞ্চলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের দাবি। হত্যা মামলার আসামির প্রকাশ্য উপস্থিতি শুধু প্রশাসনের সক্ষমতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে না, বরং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও তৈরি করছে গভীর শঙ্কা।
প্রকাশক ও সম্পাদক: কামরুল হাসান জুলহাস
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।