প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৮ অক্টোবর ২০২৫
সিলেটে সরকারী খাস জমি দখল ও বেচা-কেনার মহোৎসব চলছে
সিলেট এডিশন ডেস্ক
নিজস্ব প্রতিবেদক:: সিলেট সদর উপজেলার খাদিমনগর ইউনিয়ন পরিষদ এলাকা, খিদিরপুর, আঁটগাঁও, দেবপুর, বহর ও খাদিমনগর মৌজাসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় চলছে সরকারী খাস জমি দখল ও বিক্রির রমরমা বাণিজ্য। এসব এলাকাসহ সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ৩৪, ৩৫ ও ৩৬নং ওয়ার্ডে পাহাড়, বন, টিলা, চা বাগান, পতিত জমি, সাইল, ছড়া, নালা-খাল ও গোপাট দখল করে নির্মাণ করা হচ্ছে টিনের ঘর-বাড়ি ও বিল্ডিং।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দেবপুর মৌজা (জে.এল.নং ৯৬, ৮১), বহর মৌজা (জে.এল.নং ৭০) ও খাদিমনগর মৌজা (জে.এল.নং ৭১)-এর সরকারী খাস জমি অনুমোদন ছাড়াই প্রভাবশালী চক্র বেচা-বিক্রি করছে। এসব জমি চা বাগানের লিজকৃত ভূমি ও বনজ সম্পদ অন্তর্ভুক্ত হলেও তা কেটে ফেলে প্লট তৈরি ও দালান নির্মাণ চলছে।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারী এসব জমি দখলে জড়িত মোহাম্মদপুর এলাকার লিটন মিয়া, প্রদীপ, মো. জাহাঙ্গীর আলম (মলন মেম্বার), মিন্টু মোড়া, চিটু মোড়া, কুরেশ মোড়া, বুদন মোড়া, বাচ্চু মোড়া, মখলিছুর রহমান (সুরমা গেইট বাগানবাড়ি), আব্দুল কালাম আজাদ পাটোয়ারী (বর্তমান বাসিন্দা বহর কলোনি), আক্কাস আলী, কামরুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম, মানিক মিয়া, হুমায়ূন আহমেদ, সুজন মিয়া, আমিনুর রহমান, আনোয়ার হোসেন, আলাল মিয়া, কুদ্দুস মিয়া, মইনুদ্দিন, সেবুল মিয়া, আইয়ুব আলী, মহরীল উচমান আলী মহরীল, সাইফুল ইসলাম, হাতিম আলী, গাজী আনিছুর রহমান, তারেক রহমান, রাসনা মামুন চৌধুরী, করিম হাজারী, কয়েছ মিয়া, ইউনুছ আলীসহ আরও অনেকে। অপরাধীদেরকে সহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে সহকারী তশিলদার সুজন বাবুর বিরুদ্ধে।
অপরাধীরা সংগঠিতভাবে বিভিন্ন দাগের খাস জমি দখল করে স্টাম্পে বেচা-বিক্রি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অনুমোদন ছাড়াই পাহাড় কেটে, টিলা উজাড় করে তৈরি করা হচ্ছে ফাঁকা ওয়ালের ভবন ও টিনের ঘরবাড়ি।
চা বাগান কর্তৃপক্ষের ম্যানেজার ও মালিক নীনা আফজাল রশীদ চৌধুরী একাধিকবার প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করলেও দখলবাজদের কার্যক্রম বন্ধ হয়নি। এমনকি পুলিশ ও প্রশাসন অভিযান চালালেও স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।
জাতীয় ভেজাল প্রতিরোধ ফাউন্ডেশন ও অপরাধ বিচিত্রা সিলেট জেলা শাখা এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দখলবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে। তারা বলেন,“দুর্নীতি মুক্ত দেশ আমাদের স্বপ্ন। সরকারী খাস জমি দখল ও প্রাকৃতিক সম্পদ ধ্বংসকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।”
এ বিষয়ে সিলেট জেলা প্রশাসক, সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পরিবেশ অধিদপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক: কামরুল হাসান জুলহাস
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।