প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
খাদিম টি এস্টেটের জমি দখল ও বেপরোয়া চাঁদাবাজি
সিলেট এডিশন ডেস্ক
নিজস্ব সংবাদদাতা :: সিলেট নগরীর শাহপরান থানার খাদিম এলাকায় সরকারি খাস জমি ও খাদিম টি এস্টেটের লিজকৃত জমি দখল, স্টাম্পে বিক্রি ও চাঁদাবাজি দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। স্থানীয় প্রভাবশালীদের আশ্রয়ে একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে জাল দলিল তৈরি করে জমি দখল ও বিক্রির ব্যবসা চালাচ্ছে।
এই দখলবাণিজ্যের নেতৃত্বে রয়েছেন খাদিম টি এস্টেটের সাবেক দুর্নীতিবাজ ম্যানেজার শামীম, তার সহযোগী লিটন ও অন্যরা। তারা সরকারি পাহাড়-টিলা কেটে রাতের আঁধারে গাছ চুরি এবং স্টাম্পে জমি বিক্রি করছে। জমি দখলের পর এসব জায়গা থেকে চাঁদাবাজি করছে সাদ্দাম গং।
সাম্প্রতিক ঘটনা
গত ৩০ আগস্ট সকালে শামীমের নির্দেশে মিলাদ আহমদ, শুকুর আলী, প্রদীপ বুনাজী ও কানাই গোয়ালা বাগানের সাইনবোর্ড সরানোর চেষ্টা করে। এসময় পাহারাদার জালু বাধা দিলে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। পরে ম্যানেজার আতিকুর রহমান আতিক বাদী হয়ে শাহপরান থানায় (জিডি নং ১৫০০/২৫) সাধারণ ডায়েরি করেন।
অন্যদিকে মোহাম্মদপুরের সাদ্দাম নামের এক ব্যক্তি বাগান কর্তৃপক্ষের কাছে নিয়মিত চাঁদা দাবি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে ২০২৪ সালেও চাঁদাবাজির মামলা (সি আর মামলা নং ৪২৪/২৪) রয়েছে।
দীর্ঘদিনের দখলবাণিজ্য
১৯৮৫ সাল থেকেই খাদিম টি এস্টেটের জমি দখল শুরু হয়। প্রথমে সাবেক ম্যানেজার শামীমের সময় স্থানীয়রা জাল দলিল তৈরি করে বসতি গড়ে তোলে। এরপর একাধিক রাজনৈতিক নেতার ছত্রছায়ায় দখলদাররা পাহাড় টিলা কেটে প্লট তৈরি, ঘর-বাড়ি নির্মাণ ও জমি বিক্রি অব্যাহত রাখে।
বর্তমানে সরকারি লিজভুক্ত হলেও (২০১২–২০৩২ পর্যন্ত নীনা আফজাল রশীদের নামে), বাগানের বিশাল অংশ দখলে রয়েছে প্রভাবশালী মহলের। ম্যানেজার আতিকুর রহমান আতিক একাধিকবার থানায় অভিযোগ দিলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
দখলদার চক্রের সঙ্গে জড়িত
শামীম, লিটন, ছাত্তার চৌকিদারসহ বাগানের কিছু শ্রমিক ও স্থানীয় ক্যাডারদের নাম উঠে এসেছে। তাদের বিরুদ্ধে পাহাড় কাটা, খাস জমি দখল, অবৈধ বিক্রি ও নিয়মিত চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক: কামরুল হাসান জুলহাস
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।