প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬
সিলেটের জৈন্তাপুর সীমান্তে ১৯ বিজিবি’র বহুমুখী সেবা ও চোরাচালান প্রতিরোধে জনসচেতনতা বিষয়ক সভা
সাহেদুর রহমান( জৈন্তাপুর)
সিলেটের জৈন্তাপুর সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং সীমান্ত সুরক্ষায় জনসাধারণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ১৯ (বিজিবি) বহুমুখী সেবা ও চোরাচালান প্রতিরোধে জনসচেতনতা বিষয়ক সভা আলোর পথে অনুষ্ঠিত হয়েছে। (২৬ এপ্রিল) জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (১৯ বিজিবি)'র ব্যবস্থাপনায় জৈন্তাপুর উপজেলা হলরুমে এই জন সচেতনতামূলক সভা, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পেইন এবং ‘আলোর পথে’ শীর্ষক কারিগরি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
এতে সভাপতিত্ব করেন ১৯ বিজিবি'র অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ জুবায়ের আনোয়ার, (পিএসসি)। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজিবি সিলেট সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ সালাহউদ্দীন (পিএসসি)।
অনুষ্ঠানে বিজিবির কর্মকর্তাগণ সীমান্ত অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক বাস্তবতা সভায় বিশ্লেষণ তুলে ধরে বলেন সিলেটের বিভিন্ন সীমান্ত ও ভৌগোলিক অবস্থান এবং শিক্ষার অভাবের কারণে এলাকার সাধারণ মানুষ দীর্ঘকাল ধরে অবহেলিত রয়েছেন। প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও সঠিক দিকনির্দেশনার অভাবে সীমান্তবর্তী জনগণ অনেক সময় রাষ্ট্রের উন্নয়ন মূলক কর্মকাণ্ডের সুফল থেকে বঞ্চিত। ফলে এই সুযোগটিই গ্রহণ করে একটি বিশেষ মহল অবৈধ ব্যবসায়িক মুনাফার জন্য সহজ আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এবং সাধারণ মানুষের দারিদ্র্যকে পুঁজি করে মাদক পাচার, পণ্য চোরাচালান এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মতো বিপজ্জনক পথে ঠেলে দেয়। বিজিবি'র কর্মকর্তারা সাধারন মানুষকে সতর্ক করে বলেন, এই নেতিবাচক কার্যক্রম কেবল ব্যক্তির জীবনকেই ধ্বংস করে না, বরং পুরো সমাজ ও জাতীয় অর্থনীতিতে কালো ছায়া ফেলে। সীমান্তের এই সংকট নিরসনে কেবল কঠোর আইন প্রয়োগ নয়, বরং মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ এবং সচেতনতা বৃদ্ধিকে মূল হাতিয়ার হিসেবে চিহ্নিত করা প্রয়োজন। সভায় স্থানীয়দের কৃষি কাজ এবং বাগান করার মতো উৎপাদনশীল কাজে মনোনিবেশ করার আহ্বান জানানো হয়।
তারা নিজেদের জমিতে বৈধ উপায়ে আয় করতে পারবেন এবং আর্থিক বৈষম্য কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবেন। বিশেষ করে,'আলোর পথে' কারিগরি শিক্ষা প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় যুবকদের আলো তৈরির কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যা তাদের বেকারত্ব দূর করে এক নতুন পথ দেখাবে। সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় বিজিবির চ্যালেঞ্জগুলো সভায় গুরুত্বের সাথে আলোচনা করে বিজিবি'র কর্মকর্তারা বলেন, চোরাচালান ও মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে বিজিবি সদস্যদের প্রায় প্রতিকূল আবহাওয়া, ভৌগোলিক বাধা এবং চোরাকারবারীদের সশস্ত্র আক্রমণের সম্মুখীন হতে হয়। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিজিবি দিনরাত সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরীর মতো কাজ করে যাচ্ছে। জনগণ সহযোগিতা করলে বিজিবি সীমান্ত অপরাধ জিরো টলারেন্সে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে। একই সাথে সীমান্তে অবৈধ বালু ও পাথর উত্তোলন বন্ধে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিজিবির এই মানবিক উদ্যোগ কেবল নিরাপত্তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।
অনুষ্ঠানে দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে কয়েকশ দুস্থ মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ প্রদান করা হয়। দেশের অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ত্রাণ বিতরণ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সমন্বিতভাবে কাজ করার মাধ্যমে বিজিবি আজ কেবল একটি সীমান্তরক্ষী বাহিনী নয়, বরং সাধারণ মানুষের এক পরম বন্ধুতে পরিণত হয়েছে। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) পদ্মাসন সিংহ, জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা, জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (১৯ বিজিবি)সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ হুমায়ুন করীম, সিলেট জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোঃ রাসেলুর রহমান, সহকারী পুলিশ সুপার (কানাইঘাট সার্কেল) সালমান নূর আলম, জৈন্তাপুর মডেল থানা (অফিসার ইনচার্জ) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা, উপজেলা কৃৃষি অফিসার হুমায়ুন দিলদার, নিজপাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ইন্তাজ আলী, সীমান্ত ব্যাংক (পিএলসি) আখালিয়া, সিলেট শাখার ব্রাঞ্চ ম্যানেজার তারেক মাহমুদ, জৈন্তাপুর প্রেসক্লাব সভাপতি গোলাম সরওয়ার বেলাল, নিজপাট ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুস শহীদ শুক্রুর মেম্বার, জৈন্তাপুর প্রেসক্লাবের সদ্য বিদায়ী সভাপতি নূরুল ইসলাম, জৈন্তাপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি সাহেদুর রহমান, সংবাদকর্মী সাজ উদ্দিন সাজু সহ বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মী
প্রকাশক ও সম্পাদক: কামরুল হাসান জুলহাস
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।