প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬
খাস জমিতে অবৈধ স্থাপনা, প্রশ্নের মুখে প্রশাসনের ভূমিকা
স্টাফ রিপোর্টার:
সিলেট নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সরকারি খাস জমি ও চা বাগানের লিজকৃত ভূমিতে অবৈধ দখল ও স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে সিলেট সদর উপজেলার খাদিমনগর ও আশপাশের এলাকায় দিনের পর দিন পাহাড়, টিলা, বনভূমি ও পতিত জমি দখল করে গড়ে তোলা হচ্ছে বসতঘর, টিনশেড ও বহুতল ভবন।
অভিযোগ রয়েছে, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ৩৪, ৩৫ ও ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডভুক্ত খাদিমনগর, বহর মৌজা (জে এল নং-৭০), খাদিমনগর মৌজা (জে এল নং-৭১) এবং দেবপুর মৌজার (জে এল নং-৯৬৮১) বিস্তীর্ণ এলাকায় সরকারি খাস জমি, চা বাগানের জায়গা ও পরিবেশ সংরক্ষিত ভূমি দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এসব জমিতে কোনো প্রকার অনুমোদন ছাড়াই প্রভাবশালী একটি চক্র দেয়াল তুলে প্লট তৈরি করছে এবং তা বিক্রিও করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে পাহাড় ও টিলা কেটে ভূমি সমতল করে সেখানে বসতবাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে।
কয়েক মাস আগে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একটি উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হলেও তা ছিল আংশিক—এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। অভিযানে কয়েকটি ঘর উচ্ছেদ করা হলেও অধিকাংশ অবৈধ স্থাপনা এখনো বহাল রয়েছে।
এ সময় অভিযানে জড়িত থাকার অভিযোগে মোজাম্মেল হোসেন লিটন, শামীম কুরেশিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠানো হয়। তবে আরও বেশ কয়েকজন আসামি এখনো পলাতক বলে জানা গেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, নিম্নোক্ত এলাকাগুলোতে অবৈধ দখল ও নির্মাণ কার্যক্রম বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে—
খাদিমপাড়া ২নং রোড সংলগ্ন এলাকা ৯নং উপজাতি কুলি বস্তি সংলগ্ন অঞ্চল উত্তর মোহাম্মদপুর ফাতেমানগর চাঁনপুরী বস্তি এলাকা বিআইডিসি বহর কলোনি ও পুকুরপাড় এলাকা ৩নং উপজাতি কুলি বস্তির পাশবর্তী এলাকা এসব স্থানে খাস জমি ও চা বাগানের জায়গা দখল করে ঘরবাড়ি নির্মাণ ও বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পরিবেশবিদদের মতে, পাহাড় ও টিলা কেটে এভাবে বসতি স্থাপন অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে ভয়াবহ পরিবেশগত বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। এতে ভূমিধস, জলাবদ্ধতা ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, উচ্ছেদ অভিযান যদি সঠিকভাবে পরিচালিত না হয়, তাহলে দখলদার চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে। তাই দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অবৈধ স্থাপনা সম্পূর্ণ উচ্ছেদের দাবি জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে সিলেট জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সংশ্লিষ্ট পরিবেশ অধিদপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
প্রকাশক ও সম্পাদক: কামরুল হাসান জুলহাস
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।