প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬
সিলেটে ছাত্রদলের কমিটি গঠনের তোড়জোর
সিলেট এডিশন ডেস্ক
স্টাফ রিপোর্টার : দীর্ঘ ৭ বছর পর সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। শীঘ্রই কমিটি হতে যাচ্ছে এমন খবরে কেন্দ্রে লবিংয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন অন্তত ২ ডজন ছাত্রনেতা। পতিত আওয়ামী সরকারের আমলে নিজেদের ত্যাগ, তৎপরতা ও হয়রানীর ফিরিস্তি তুলে ধরছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে। এছাড়া অনেকেই নিজ পছন্দের ছাত্রনেতাকে নিয়ে নানা লেখা ও পোষ্টার শেয়ার করে সিনিয়র ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের নজর কাড়ার চেষ্টা করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিগত সময়ে সিলেট বিএনপি অঙ্গ-সংগঠনে গ্রুপিং থাকলেও সদ্য অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনের পর গ্রুপিং অনেকটাই কমে গেছে। আভ্যন্তরীণ কোন্দল থাকলেও তা বাইরে প্রকাশ হচ্ছেনা। তবে সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির কয়েকজন সিনিয়র নেতা নিজ বলয়ের প্রার্থীকে কমিটিতে আনতে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, কমিটি কখন হবে সেটা এখনো অনিশ্চিত। এছাড়া কত সদস্য বিশিষ্ট কমিটি হবে সেটা নিয়ে কেন্দ্রে আলোচনা চলছে। একটি সূত্র জানিয়েছে আপাতত ৫ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটির ব্যাপারে আলোচনা চলছে। সেটা হয়তো ১১ কিং ১৯ সদস্য বিশিষ্ট হতে পারে। আবার অন্য একটি সূত্র বলছে আপাতত সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকসহ ৫ সদস্য থেকে শুরু করে ১১ কিংবা ১৯ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়েও কেন্দ্রে আলোচনা চলছে। তবে এখনো কোন চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
জানা গেছে, সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা নিয়ে এখন চায়ের টেবিল থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সর্বত্রই বইছে আলোচনার ঝড়। পদপ্রত্যাশী নেতাদের অনুসারীরা ফেসবুক ও অন্যান্য মাধ্যমে নিজ নিজ নেতার যোগ্যতা ও ত্যাগের কথা তুলে ধরে চালাচ্ছেন জোর প্রচারণা। দলের হাইকমান্ডের সুদৃষ্টি পেতে চলছে ব্যাপক লবিং ও তৎপরতা।
সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য আলোচনায় রয়েছেন- আব্দুস সামাদ লস্কর মুমিন, আজহার আলি অনিক, রুবেল ইসলাম, জাবেদুর রহমান (গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধা), জহিরুল ইসলাম আলাল, আফজাল হোসেন, জয়নাল আবেদীন রাহেল, আবুল হোসেন, মাহমুদল হাসান সাগর, শহীদুল ইসলাম অপু, মাহবুব হোসেন, তানবীর আহমদ খান, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মুর্শেদ, আকিরুল ইসলাম জিসান, শাহান আল মাহমুদ ও আবু সাঈদ মো: সাকিবসহ অন্তত ২ ডজন ছাত্রনেতা।
নতুন কমিটিতে নিজেদের পছন্দের নেতাদের দেখতে মুখিয়ে আছেন তৃণমূলের কর্মীরা। ফেসবুকের নিউজফিড দখল করে রেখেছেন প্রার্থীরা। বিগত দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে কার কী ভূমিকা ছিল, কে কতবার কারাবরণ করেছেন—তার খতিয়ান তুলে ধরছেন কর্মীরা।
সাধারণ নেতাকর্মীদের মতে, বিগত দিনের রাজপথের লড়াকু সৈনিক, ত্যাগী এবং মেধাবী নেতৃত্ব নির্বাচন করলে ছাত্রদল আরও শক্তিশালী হবে। বিশেষ করে যারা হামলা-মামলা উপেক্ষা করে সংগঠনকে ধরে রেখেছেন, তাদেরই যেন মূল্যায়ন করা হয় এমনটাই প্রত্যাশা তৃণমূলের।
দলের নীতি-নির্ধারণী পর্যায় থেকে আভাস পাওয়া গেছে, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি ও সাংগঠনিক দক্ষতার বিচারে একটি শক্তিশালী কমিটি উপহার দেওয়া হবে, যা আগামী দিনে সিলেটের ছাত্র রাজনীতিতে নতুন প্রাণসঞ্চার করবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ১৩ জুন ২ বছর মেয়াদী সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের আংশিক পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। এরপর সর্বশেষ ২০২০ সালের ২ ফেব্রুয়ারী ৩২১ সদস্যের জেলা ও ২৬৬ সদস্যের মহানগর পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেন ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদেও তৎকালিন সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল। এরপর থেকে একাধিক বার উদ্যোগ নিলেও নতুন কমিটি আসেনি।
আগামীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশব্যাপী বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগি সংগঠন পূনর্গঠনের উদ্যোগ নিচ্ছে বিএনপি। এতে গঠন হতে পারে সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের কমিটিও। সেই লক্ষ্যে নিজ নিজ লবিংয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন সিলেটের ২ ডজনেরও বেশী ছাত্রদল নেতা।
প্রকাশক ও সম্পাদক: কামরুল হাসান জুলহাস
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।