প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬
চুনারুঘাট স্বাস্থ্যকেন্দ্র পুনরায় চালুর দাবীতে মানববন্ধন
সিলেট এডিশন ডেস্ক
নিজস্ব প্রতিবেদক:: হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার রাণীগাঁও ইউনিয়নের স্বাস্থ্য সেবা ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন জনবল সংকট ও অব্যবস্থাপনার কারণে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। সর্বশেষ একমাত্র কর্মরত ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার ভিজিটর (এফডব্লিউভি) মাতৃত্বকালীন ছুটিতে যাওয়ার পর কেন্দ্রটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন স্থানীয়রা। এই পরিস্থিতিতে কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের দাবিতে শুক্রবার স্থানীয় যুবসমাজ ও সচেতন নাগরিকদের উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, জনবহুল রাণীগাঁও ইউনিয়নের প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষের জন্য একমাত্র ভরসা এই স্বাস্থ্যকেন্দ্র। বাগান ও সমতল মিলিয়ে ১০টি ওয়ার্ডের এই ইউনিয়নে প্রায় ২৫ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত কেন্দ্রটি নামমাত্র চালু থাকলেও কখনোই পূর্ণাঙ্গ সেবা নিশ্চিত হয়নি।
নিয়ম অনুযায়ী এখানে মেডিকেল অফিসার (ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার), সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (স্যাকমো), মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট, ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার ভিজিটর (এফডব্লিউভি) এবং সহকারী ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার কর্মীসহ একাধিক জনবল থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে দীর্ঘদিন ধরে একজন এফডব্লিউভি দিয়েই কেন্দ্রটির কার্যক্রম চলছিল। গত ১৪ এপ্রিল ওই কর্মী মাতৃত্বকালীন ছুটিতে যাওয়ার পর কেন্দ্রটি সম্পূর্ণভাবে অচল হয়ে পড়ে। ফলে সাধারণ রোগী ছাড়াও গর্ভবতী নারী ও নবজাতকদের চিকিৎসা নিতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা।উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে মেডিকেল অফিসারের পদ বরাদ্দ থাকলেও সেখানে দীর্ঘদিন ধরে কেউ দায়িত্ব পালন করছেন না। অনুসন্ধানে জানা গেছে, কেন্দ্রটির ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় চিকিৎসকেরা সেখানে যোগ দিতে অনাগ্রহী।
এছাড়া কেন্দ্রের জমির একটি অংশ স্থানীয় প্রভাবশালীদের দখলে থাকায় নতুন ভবন নির্মাণের জন্য বরাদ্দ পাওয়া সত্ত্বেও তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এ অবস্থায় সামান্য অসুস্থতা নিয়েও রোগীদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটতে হচ্ছে, যা বিশেষ করে নারী ও শিশুদের জন্য বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করছে। মানববন্ধন থেকে বক্তারা দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ, পুরোনো ভবনের সংস্কার এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের মাধ্যমে কেন্দ্রটিতে পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের দাবি জানান।
প্রকাশক ও সম্পাদক: কামরুল হাসান জুলহাস
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।