প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১০ এপ্রিল ২০২৬
গায়েবী স্বর্নের মূর্তির ফাঁদে প্রতারণা: লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ সুফিয়ান চক্রের বিরুদ্ধে জিডি
সিলেট এডিশন ডেস্ক
নিজস্ব প্রতিবেদক:: সিলেটের জৈন্তাপুরে স্বর্নের মূর্তির প্রলোভন দেখিয়ে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ধাপে ধাপে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. ইমরান আহমদ জৈন্তাপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেছেন।
সাধারণ ডায়রী সুত্রে জানা যায়, বিগত ১৫ নভেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে সুমন নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে প্রতারক চক্রের সদস্য ক্বারী মাও. সুফিয়ান আহমদ এর সাথে পরিচয় হয় ইমরান আহমদের। এর পরে ভন্ড প্রতারক সুফিয়ান দক্ষিণ সুরমার জালালপুরে ইমরানের কেনা নতুন বাড়ী দেখতে যায় । পরদিন সুফিয়ান আহমদ মোবাইল ফোনে সহজ সরল ইমরানকে বলে জালালপুর দক্ষিণ মাঝপাড়ার বাড়ীটিতে গায়েবী স্বর্নের মূর্তি রয়েছে বলে প্রলোভন দেখায় এবং সেটি উত্তোলনের জন্য ৩০ লক্ষ টাকা দাবি করে। প্রথমে ২০ লক্ষ টাকা এবং স্বর্নের মূর্তি বুঝিয়ে দেওয়ার পর আরো ১০ লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা। এই কথায় ইমরান আহমদ রাজী হয়।
পরবর্তীতে বিভিন্ন অজুহাতে সুফিয়ান চক্র ৪/৫ দফায় সহজ-সরল মাওলানা ইমরান আহমদ এর কাছ থেকে প্রায় ১৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়।
কিন্তু প্রতিশ্রুত স্বর্নের মূর্তি তো দূরের কথা, কোনো কিছুই বুঝিয়ে না দিয়ে উল্টো নানা ভয়ভীতি ও চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। এরপর তিনি বুঝতে পারেন তিনি প্রতারিত হচ্ছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এক পর্যায়ে তাকে আরো টাকা দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়। টাকা না দিলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন ভুক্তভোগী।
এরপর ঐ চক্রের এক সদস্য ইমরান আহমদকে স্বর্ণের মুর্তির কিছু ছবি দেখিয়ে বলে আপনি জৈন্তাপুর উপজেলার ছিকনাগুল ঠাকুরের মাটি গ্রামে এসে আপনার স্বর্ণের মুর্তি নিয়ে যান। তাদের কথা বিশ্বাস করে ইমরান আহমদ গত ০৪/০২/২০২৬ইং তারিখে চিকনাগুল, শুক্রবাড়ী বাজার, ঠাকুরের মাটি নামক গ্রামে গেলে, সেখানে তাকে আটকিয়ে আরো ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। এরপর ভূক্তভোগীর কয়েকজন বন্ধু-বান্ধব খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাকে উদ্ধার করে।
এরপর গত ০৫/০২/২০২৬ ইং তারিখে ভূক্তভোগী ইমরান আহমদ বাদী হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখ করে জৈন্তাপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়রী দায়ের করেন। বিবাদীরা হলো (১) সুফিয়ান আহমদ, পিতা-ময়না মেছাব, সাং- নিজগ্রাম শুক্রবাড়ী বাজার, ঠাকুরের মাঠি চিকনাগুল, জৈন্তাপুর,(২) সুমন আহমদ, পিতা-রিয়াজ মিয়া, সাং- নয়াসড়ক,(৩) সানোয়ার আহমদ,পিতা- সালেহ আহমদ, সাং-মুর্তি, জালালপুর, দক্ষিণ সুরমা,সিলেট,(৪) মাহবুবুর রহমান, পিতা- ফয়জুলবাড়ী, সাং- মির্জাপুর হরগৌরি, মোগলাবাজার, দক্ষিণ সুরমা,সিলেট। তারা সবাই জৈন্তাপুর, সিলেট সদর ও দক্ষিণ সুরমা এলাকার বাসিন্দা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী ইমরান আহমদ বলেন, “আমি সর্বস্বান্ত হয়ে গেছি। প্রতারকরা পরিকল্পিতভাবে আমাকে ফাঁদে ফেলে আমার কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এখন তারা উল্টো হুমকি দিচ্ছে।”
তারা দীর্ঘদিন ধরে একই কৌশলে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়রা বলছেন, স্বর্নের মূর্তি, গুপ্তধন কিংবা অলৌকিক সম্পদের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা নতুন কিছু নয়। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারির অভাবে এমন চক্র দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বর্নের মূর্তি বা গুপ্তধনের গল্প আসলে একটি পুরনো প্রতারণার কৌশল। এই চক্রগুলো সাধারণ মানুষের লোভ ও সরলতাকে পুঁজি করে ধাপে ধাপে টাকা আদায় করে থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের প্রলোভনে পা না দিয়ে সন্দেহজনক কোনো প্রস্তাব পেলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা উচিত।
প্রকাশক ও সম্পাদক: কামরুল হাসান জুলহাস
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।