প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৮ এপ্রিল ২০২৬
ফ্যামেক্স এসোসিয়েটসের ‘তেলেসমাতি’ কারবার: ওয়ার্ক পারমিট ও স্পাউস ভিসার নামে ২০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
সিলেট এডিশন ডেস্ক
নিজস্ব প্রতিবেদক:: সিলেটে ‘বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন’ এখন অনেকের কাছে আতঙ্কের নাম। আর সেই আতঙ্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে কথিত প্রতিষ্ঠান ফ্যামেক্স এসোসিয়েটস। অভিযোগ উঠেছে—যুক্তরাজ্যে (লন্ডন) ওয়াক পারমিট ও স্পাউস ভিসা পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শতাধিক মানুষের কাছ থেকে প্রায় ২০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, সিলেট বিভাগের বিভিন্ন উপজেলা থেকে সহজ-সরল মানুষদের টার্গেট করে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে এই প্রতারণা চালিয়ে আসছে। প্রতিজনের কাছ থেকে ২০ লাখ, ২৫ লাখ এমনকি ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে ‘নিশ্চিত ভিসা’ দেওয়ার আশ্বাসে। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলেও কেউই ভিসা পাননি; বরং অনেকের সঙ্গে যোগাযোগও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
এই চক্রের সঙ্গে জড়িত হিসেবে নাম উঠে এসেছে মোশাররফ হোসেন হামদান ও মুস্তাফিজুর রহমান সামী নামে দুই ছাত্রলীগ নেতার। অভিযোগ রয়েছে, সিলেটের উপশহর ডি ব্লকে অফিস করে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও তাদের বিরুদ্ধে এখনো কার্যকর কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
একাধিক ভুক্তভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা আমাদের জমি-জমা বিক্রি করে টাকা দিয়েছি। এখন না পাচ্ছি বিদেশ যাওয়ার সুযোগ, না পাচ্ছি আমাদের কষ্টার্জিত অর্থ। উল্টো হুমকির মুখে আছি।”
ভুক্তভোগীরা আরও জানান, প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দেওয়ার পরও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় তারা চরম হতাশা ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাদের ভাষায়, “অপরাধীদের কাছে আমরা সম্পূর্ণ অসহায়।”
প্রতারনার বিষয়ে জানতে ফ্যামেক্স এসোসিয়েট এর স্বত্ত্বাধীকারী মুস্তাফিজুর রহমান সামী ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোশাররফ হোসেন হামদান এর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তাদের দুটি নাম্বার বন্ধ থাকায় তাদের কোন বক্তব্য পাওয়া যায় নাই।
এদিকে সচেতন মহলের প্রশ্ন—এত বড় অংকের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ থাকার পরও কেন সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না? বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এই ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও প্রতারিতদের টাকা ফেরত নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা। ক্রমশ
প্রকাশক ও সম্পাদক: কামরুল হাসান জুলহাস
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।