প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
ক্লিনক্লিন মিশনে’ এক সারিতে তিনজন
সিলেট এডিশন ডেস্ক
নিজস্ব সংবাদদাতা:: সিলেটের নবাগত জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম ও সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী পিপিএম সাবেক জননন্দিত মেয়র আরিফুল হককে সঙ্গে নিয়ে সিলেট নগরীর সর্বত্র ‘ক্লিন মিশন’ শুরু করেছেন।
সিলেটের দীর্ঘদিনের জঞ্জাল পরিষ্কার করতে মাঠে নেমেছেন নতুন ডিসি সারওয়ার আলম ও এসএমপি কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী। দুজনই প্রায় একই সময়ে সিলেটে যোগদান করেছেন এবং এসেই বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তারা প্রাজ্ঞ। সিলেটকে সুন্দর রাখতে কিছু দারুণ ‘মাস্টারপ্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছেন বলে মনে করছেন সিলেটবাসী।
সাদাপাথর সমস্যা থেকে শুরু করে নগরীর ফুটপাত দখলমুক্ত রাখাসহ কিছু দ্রুত সুফল ইতোমধ্যে ভোগ করতে শুরু করেছেন সিলেটের মানুষ। অনেকেই মনে করছেন, ‘ক্লিন মিশনে’ ডিসি সারওয়ার আলম ও এসএমপি কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরীর পাশে স্থানীয় অভিভাবক হিসেবে সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী মাঠে ও টেবিলে বুদ্ধি-সুপরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছেন। তাই সিলেটবাসী বিশ্বাস করছে, তারা যুগান্তকারী পরিবর্তনের পথে হাঁটছেন।
এসএমপি কমিশনারের অভিযান: মঙ্গলবার বিকেলে নগরীর সবকটি মোড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পুলিশ চেকপোস্ট বসিয়ে অবৈধ যানবাহন ও ব্যাটারিচালিত রিকশা আটকিয়ে বের করে দিচ্ছে। যেসব যানবাহনের কাগজপত্র নেই, সেগুলোর বিরুদ্ধে মামলা করা হচ্ছে। এতে ‘রোহিঙ্গা সিএনজি অটোরিকশা’ নগরীতে প্রবেশ করতে পারছে না এবং অটোরিকশার চাপ কমেছে।
এর আগে তিনি অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদ, অবৈধ যানবাহন প্রতিরোধ ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। সোমবার ঘোষণার পর থেকেই পুলিশ নগরীতে অভিযান শুরু করে। ফলে যত্রতত্র থাকা অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদ হয় এবং ফুটপাতে হকার বসেনি।
ডিসি সারওয়ার আলমের উদ্যোগ: ভালো কাজের জন্য দেশজুড়ে পরিচিত ছিলেন তিনি। সিলেটে যোগ দিয়েই সাদাপাথর লুট বন্ধে অভিনব কৌশল গ্রহণ করেন। পাথর পরিবহন, সরবরাহ ও মজুদ নিষিদ্ধ করেন, জড়িতদের তালিকা করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেন। এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-৯ বিএনপি নেতা সাহাব উদ্দিনকে আটক করে এবং বিভিন্ন স্থান থেকে লুট হওয়া পাথর উদ্ধার হয়।
তিনি সাবেক মেয়র আরিফুলকে সঙ্গে নিয়ে ঐতিহ্যবাহী কিনব্রিজ হকারমুক্ত করেন এবং সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অভিযান পরিচালনা করে চিকিৎসার পরিবেশ ফিরিয়ে আনেন।
আরিফুল হক চৌধুরীর ভূমিকা: অতীতে মন্ত্রী মরহুম এম সাইফুর রহমানের সহচর ছিলেন তিনি। মেয়র হিসেবে জনপ্রিয়তা অর্জনের পর এবার ডিসি সারওয়ার আলমের ডাকে আবারও নগর উন্নয়নে সহযোগিতা করছেন। হকারদের পুনর্বাসন, টার্মিনালের বিশৃঙ্খলা নিরসনসহ নানা উদ্যোগে তার অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো হচ্ছে।
গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী পিপিএম বলেন, “নগরবাসীর ভোগান্তি কমানো, যানজট নিরসন এবং দুর্ঘটনা রোধই এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য। অবৈধ যানবাহন সরাতে আমরা আগে সময় দিয়েছি, মাইকিংও করেছি। এরপরও যারা নির্দেশনা মানছে না, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
সিলেটের নতুন ডিসি মো. সারওয়ার আলম যোগদানের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেছিলেন, “বেশ কয়েকটা বিষয় আমার অগ্রাধিকার থাকবে। আইনশৃঙ্খলা, পরিবেশ, পর্যটন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য—এ বিষয়গুলো। সব কাজেই আমার অগ্রাধিকার থাকবে, তবে এ কয়েকটা কাজে আমার বিশেষ অগ্রাধিকার থাকবে।”
সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, “নতুন জেলা প্রশাসক ও এসএমপি কমিশনার দুজনই নগরবাসীর জন্য ভালো কিছু কাজ করছেন। যেকোনো ভালো উদ্যোগে তাদেরকে সহযোগিতা করার জন্য আমি নগরবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান করবো।”
প্রকাশক ও সম্পাদক: কামরুল হাসান জুলহাস
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।