প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৪ এপ্রিল ২০২৬
ফলোআপ থামছেই না গোয়াইনঘাটে ‘শ্যাম কালা’ সিন্ডিকেটের দাপট, চোরাচালান বাণিজ্য ও পুলিশ-বিজিবির নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ
সিলেট এডিশন ডেস্ক
নিজস্ব প্রতিবেদক:: সিলেটের গোয়াইনঘাটে বহুল আলোচিত ‘শ্যাম কালা’ সিন্ডিকেটকে ঘিরে একের পর এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে আসছে। স্থানীয়দের দাবি—এই চক্রের অবৈধ চোরাচালান বাণিজ্য যেমন থামছেই না, তেমনি পুলিশ ও বিজিবির নাম ভাঙিয়ে প্রকাশ্যে চলছে চাঁদাবাজি।
এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, কুখ্যাত চোরাকারবারি কালা মিয়া ওরফে ‘শ্যাম কালা’ ও তার সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তঘেঁষা এলাকায় অবৈধ পণ্য আনা-নেওয়ার সঙ্গে জড়িত। এসব কার্যক্রমে বাধা দিলে বা প্রতিবাদ জানালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উপর নেমে আসে নানামুখী নির্যাতন।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন,“যারা শ্যাম কালার বিরুদ্ধে কথা বলেছে, তাদেরকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়েছে। কখনো ডিবি পুলিশের ভয় দেখিয়ে, কখনো মিথ্যা মামলা দিয়ে, আবার কখনো তার লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে।”
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে—এই চক্রের সঙ্গে প্রশাসনের কিছু অসাধু সদস্যের সম্ভাব্য সখ্যতার অভিযোগ। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কালা মিয়া ওরফে ‘শ্যাম কালা’ তার ‘সলিড কালা’ নামের ফেসবুক প্রোফাইলে স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও একাধিক পুলিশ সদস্যের সঙ্গে অন্তরঙ্গ ছবি প্রকাশ্যে প্রদর্শন করছে। যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে তৈরি হয়েছে গভীর সন্দেহ ও ক্ষোভ।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে,“একজন কুখ্যাত চোরাকারবারি কীভাবে প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এমন ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলে—এটা এখন বড় প্রশ্ন। এর পেছনে কোনো প্রভাবশালী ছত্রছায়া রয়েছে কি না, তা জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত করা প্রয়োজন।”
এদিকে, এলাকাবাসী দ্রুত সময়ের মধ্যে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে শ্যাম কালা সিন্ডিকেটের অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
গোয়াইনঘাটের সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—“চোরাচালান আর চাঁদাবাজির এই দৌরাত্ম্য কবে থামবে? প্রশাসন কি সত্যিই নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখবে, নাকি সবকিছুই থেকে যাবে অদৃশ্য কোনো ছায়ার আড়ালে?”
প্রকাশক ও সম্পাদক: কামরুল হাসান জুলহাস
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।