প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০১ এপ্রিল ২০২৬
তাহিরপুরে ঘরের ধরনায় ওড়না পেঁচিয়ে এক যুবককের রহস্যময় মৃত্যু; পরিবারের দাবি হত্যার পর লাশ ঝুলিয়ে রাখে প্রতিপক্ষ
সিলেট এডিশন ডেস্ক
প্রতিনিধি, তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ):: সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলায় বসত ঘরের ভিতর বাঁশের ধারনায় গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলানো অবস্থায় শেমল মিয়া(২৩) নামের এক যুবকের রক্তমাখা লাশ উদ্ধার করে তাহিরপুর থানা পুলিশ। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে এটা হত্যা না আত্নহত্যা এ নিয়ে দেখা নিয়েছে ধুম্রজাল। এ দিকে নিহত শেমলের পরিবারের দাবি করছে রাতের কোন একসময় ঘরে একা পেয়ে শেমলকে হত্যার পর আত্নহত্যা বলে চালিয়ে দিতেই গলায় ওড়না পেঁচিয়ে লাশ ঘরের ধারনায় ঝুলিয়ে রাখে প্রতিপক্ষ একই গ্রামের মৃত বশির মিয়ার ছেলে আসুক মিয়া(৩৮) ও তার লোকজন এমন অভিযোগ তার পরিবারের।
এ ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল ৩১ মার্চ মঙ্গলবার দিবাগত-রাত উপজেলার উত্তর বাদাঘাট ইউনিয়নের নোয়াগাও গ্রামের। নিহত শেমল মিয়া নোয়াগাও গ্রামের মৃত রফিকুল হকের ছেলে।
খবর পেয়ে বুধবার সকাল ১১ টায় তাহিরপুর থানার উপপরিদর্শক এস আই মোহাম্মদ আলী ঘটনাস্থলে এসে বসতঘরের বাঁশের ধারনায় থেকে নিহত শেমলের লাশ ঝুলানো অবস্থায় লাশ উদ্ধার করে। লাশের সুরত হাল রিপোর্ট তৈরি করে থানায় নিয়ে যায়।
পরে দুপুর ১২ টায় ওসি আমিনুর রহমান ও তাহিরপুর সার্কেল এসপি প্রণাম দে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এর সত্যতা নিশ্চিত করে এস আই মোহাম্মদ আলী বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে নিহতের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশের বাম পায়ের রক্ত লাগাসহ একটি আঁচিলের দা আছে। এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজনের মধ্যে চলছে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড়। তুলছেন নানান প্রশ্ন।
নিহত শেমলের ফুফাতো ভাই এমরান আহমদ জানান, গ্রামের ৪০ জন যুবক মিলে আমাদের একটা সংগঠন আছে। সংগঠনের সভাপতি আসুকের ভাই কবির(৪৫)। ওই সংগঠনের ১৫ হাজার টাকা সংগঠনের কাউকে কিছু না বলে কবির মসজিদে দিয়া দেয়। এই কথা জনতে চাইলে আমার বড় মামা আজিজুর রহমান ও তার ছেলেদের সাথে কথা কাটাকাটি হয় কবির ও আসুকের। এরই জের ধরে গত ১৩ মার্চ প্রতিপক্ষ নোয়াগাও গ্রমের বশির মেম্ভারের ছেলে আসুক মিয়া, কবির মিয়া ও তার ভাই ভাতিজা আত্নীয় স্বজন ২০/২৫ জনের একটি গ্রুপ দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে আজিজুর রহমানের বাড়িতে হামলা চালায়। পরে এ ঘটনায় আজিজুর রহমানের ছেলে আকিক মিয়া(৪০) বাদী হয়ে তাহিরপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগও দায়ের করে। এরই জের ধরে গত দুইদিন পূর্বে আজিজুরের ছেলে নাজমুল (২২) এর সাথে আসুকের চাচাতো ভাই সৈয়দ আলী ছেলে গোলাম আহমদ (২৩) ফেইসবুক মেসেঞ্জারে দুজনের গালাগালি হয়। পরে গতকাল মঙ্গলবার রাতে ১০ টার দিকে আসুক ও কবিরের নেতৃত্বে গোলাম আহমদসহ তার আত্নীয় স্বজনরা দেশে অস্ত্র নিয়ে আবারও আমাদের বাড়িতে হামলা চালায়। এর সময় দুই পক্ষের সংঘর্ষ জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে আজিজুর রহমান তালুকদার (৬৫) তার ছেলে, সেলিম (৩২), সারোয়ার হোসেন (৩০), তোফাজ্জল (২৭), নাজমুল (২০) ও আজিজুর রহমানের ভাগ্না তৌফিক মিয়া (৪২) গুরুতর আহত হয়। অপরদিকে আসুক মিয়ার পক্ষে ইসলাম উদ্দিনের ছেলে মইফুল (২০), সাদেক(৩০), শাহ আলম (২৭) ও মুসলিম উদ্দিন (৬৫) তার রবি আওয়াল(৩৫), সৈয়দ আলী ছেলে
গোলাম আহমেদ (২৫)সহ দুপক্ষের ১২ জন আহত। আহতদের মধ্যে সেলিম ও তোফাজ্জলকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ও তৌফিক ও আজিজুর রহমানকে সিলেট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এই সংঘর্ষের পরপরে আসুকের চাচাতো ভাই গোলাম আহমদ আজিজুর রহমান তালুকদারের পক্ষের যেকোনো একজনকে রাতের মধ্যেই মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে ফেইসবুকে লাইভ করে। পরে সকালে আজিজুর রহমান তালুকদার ভাতিজা শেমলের বসত ঘরের ধরনায় ওড়না দিয়ে পেঁচানো রক্তাক্ত অবস্থায় শ্যামলের লাশ দেখতে পায়। পরে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে সকালে তার লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যা।
নিহতের স্ত্রী সুমা আক্তার (২০) জানায়, আমার চাচা শশুর এর সাথে আসুক ও তার ভাই ভাতিজার সাথে জগড়া হইছে রাতে। এ সময় আমার স্বামী জগড়া ফিরাইছে। পরে রাতে এলাকার লোকজন আইয়া থামাইয়া যাওয়ার পর হেরা (আসুকের লোকজন) দাও লাঠি নিয়ে আমাদের বাড়ির সামনে ঘুরাঘুরি করতাছে। এই ভয়ে আমার স্বামীর এই কোলের বাচ্চাডারে দিয়ে মামা শ্বশুরের বাড়ি পাঠাই দিছে। রাতে মামা শ্বশুরে বাড়ি থাকছি। সকালে শুনি আমার স্বামী গলায় ওড়না দিয়া ঘরের ধরনায় মধ্যে ঝুলালই। আমি আর কিছু করতাম পারি না।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত কবিরের মুঠো ফোন ০১৭২৮-৬৬৪৩ ৫৮ নাম্বারে একাধিকবার ফোন করে বন্ধ পাওয়ায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
ওসি আমিনুর রহমান বলেন, লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়েছে। লাশের ময়না তদন্ত রিপোর্ট আসার পর বলা যাবে এটা হত্যা না আত্মহত্যা।
প্রকাশক ও সম্পাদক: কামরুল হাসান জুলহাস
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।